Home Blog Page 13

জুনইে ঢাকায় আসতে চলেছেন নরন্দ্রে মোদি

0

কথা ছিল জুনের শেষে বা আগামী জুলাইয়ের শুরুতে ভারতের নতুন সরকারের আমলে প্রথম বিদেশি অতিথি হিসেবে ভারত সফরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু পরিকল্পনায় শেষ মুহূর্তে কিছু রদবদল এনে এখন ভাবা হচ্ছে, বরং নরেন্দ্র মোদিই জুনের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফরে যেতে পারেন।

সেটা হলে প্রধানমন্ত্রিত্বের নতুন মেয়াদে এটা হবে নরেন্দ্র মোদির প্রথম কোনও দেশে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০১৫ ও ২০২১ সালের পর এটা হবে তার তৃতীয় বাংলাদেশ সফর।

এর একটা প্রধান কারণ হলো, তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শেখ হাসিনা সদ্যই দিল্লি ঘুরে গেলেন। যদিও এটাকে সৌজন্য সফর বলাই বেশি সমীচীন, তারপরও ঢাকা চাইছে এবার বরং নরেন্দ্র মোদিই ঢাকা আসুন।

তা ছাড়া শেষবার যে দ্বিপক্ষীয় সফর হয়েছিল ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে, তখন শেখ হাসিনাই দিল্লিতে এসেছিলেন। এরপর গত বছরের সেপ্টেম্বরেও জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে তিনি দিল্লিতে আসেন, যদিও সেটা ঠিক দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল না।

কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুযায়ী আসলে পরের দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীরই বাংলাদেশ যাওয়ার কথা। যদিও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে হাসিনা-মোদির আমলে প্রোটোকলের বাইরে গিয়েও বহু পদক্ষেপ নেওয়ার নজির আছে, এ ক্ষেত্রে কিন্তু ঢাকা চাইছে নরেন্দ্র মোদিই বরং বাংলাদেশে আসুন।

দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার যে একান্ত বৈঠক হয়েছে, সেখানেই এই সফরের জন্য আমন্ত্রণপত্র তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পেরেছে।

তবে সেই প্রস্তাবিত সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি– যদিও জুনের শেষ দিকে কোনও একটা বা দুটো তারিখ নিয়েই ভাবনাচিন্তা চলছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী মোদি শেষবারের মতো বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন ২০২১ সালের মার্চে, যা ছিল সোয়া তিন বছর আগে। চলতি জুনে ঢাকায় গেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০১৫ ও ২০২১ সালের পর এটা হবে তার তৃতীয় বাংলাদেশ সফর।

এর আগে গত মাসেই (মে) ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিনয় মোহন কোয়াটরা ঢাকায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার হাতে ভারত সফর করার আমন্ত্রণপত্র তুলে দিয়ে আসেন।

ভারতে তখন নির্বাচন চলছে পুরোদমে, নির্বাচনের মাঝপথে বা নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এভাবে কোনও বিদেশি নেতাকে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনা বিরল হলেও, শেখ হাসিনার জন্য তার ব্যতিক্রম ঘটাতেও ভারত দ্বিধা করেনি।

আর তার কারণও ছিল খুব সহজ, জুলাইয়ে শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত চীন সফরের আগেই যেন হাসিনা ভারতে ঘুরে যান এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বকে একটা বার্তা দেওয়া যায়, ভারতের দিক থেকে সেই তাগিদটা ছিল স্পষ্ট।

এখন যদি নরেন্দ্র মোদি সত্যিই চলতি জুনে বাংলাদেশ সফরে যান, তাহলে শেখ হাসিনার পরবর্তী ভারত সফর (যে আমন্ত্রণ তিনি ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছেন) বেশ কয়েক মাস অন্তত পিছিয়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু শেখ হাসিনার চীন সফরের আগেই যে ভারত ও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্তরে একটি দ্বিপক্ষীয় সফর সে ক্ষেত্রে হয়ে যাবে, তাতে কোনও ভুল নেই। শুধু দিল্লির বদলে বৈঠকগুলো হবে ঢাকায়, এই যা!

অবশেষে পণ্যবোঝাই জাহাজ গেল সেন্টমার্টিনে

0

চাল, ডাল, পেঁয়াজ, তেলসহ নানা ধরনের ভোগ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে বার আউলিয়া নামে একটি জাহাজ।

আজ শুক্রবার (১৪ জুন) দুপুরে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে জাহাজটি যাত্রা করে। জাহাজটিতে করে কিছুসংখ্যক যাত্রীও গেছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন জানান, দ্বীপের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজটি পাঠানো হয়েছে। এটি বঙ্গোপসাগর দিয়ে টেকনাফ পৌঁছে ঘোলারচর হয়ে সেন্টমার্টিন পৌঁছাবে। পণ্যসামগ্রীর পাশাপাশি কক্সবাজারে আটকা পড়া সেন্টমার্টিনের ২ শতাধিক বাসিন্দাও এ জাহাজে করে ফিরছেন।

বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, এমভি বার আউলিয়া জাহাজে তোলা হচ্ছে চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ নানা ধরনের ভোজ্যপণ্য। একই সঙ্গে কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়া সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারাও জড়ো হচ্ছেন নিজ এলাকায় ফেরার জন্য।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, চাল, ডাল, তেল, লবণ, কাঁচা শাক-সবজি সবকিছুই শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। আজ এসব খাদ্যপণ্য নিয়ে যাচ্ছি।

জাহাজটির কক্সবাজারের ইনচার্জ হোসাইন ইসলাম জানান, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াতকারী নৌযান লক্ষ্য গুলিবর্ষণের কারণে নৌযান বন্ধ থাকায় দ্বীপে খাদ্যপণ্য সংকট হচ্ছে। গত বুধবার প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে জাহাজটি পণ্য নিয়ে দ্বীপে যাচ্ছে। এটি প্রশাসন যতদিন চলাচল করতে বলবেন ততদিন যাত্রা করবে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহ সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দ্বীপটিতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। অবশেষে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কক্সবাজার থেকে খাদ্যপণ্য নিয়ে জাহাজ আসছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারে আটকে পড়া বাসিন্দারাও ফিরছেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের জেটি ঘাট থেকে ৩টি ট্রলারযোগে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের নিরাপত্তায় অন্তত তিন শতাধিক মানুষ টেকনাফের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বিকেল ৩টার দিকে ট্রলারগুলো টেকনাফের মুন্ডারডেইল সাগর উপকূলে পৌঁছে। কিন্তু সাগরের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এসব ট্রলার থেকে লোকজনকে সরাসরি কুলে ওঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। পরে কয়েকটি ডিঙি নৌকা করে তাদের কুলে আনা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে কানাডা

0

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে এই পরিস্থিতির পরিণতি মোকাবেলা করার জন্য কানাডাকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে দেশটির ‘পলিসি হরাইজনস’ নামের কানাডা সরকারের দূরদর্শিতা নির্ণয় কেন্দ্র।

সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে জানিয়েছে, কানাডিয়ান পলিসি হরাইজনস এর ‘দিগন্তের প্রতিবন্ধকতা’ শিরোনামের বসন্তকালীন প্রতিবেদনে ৩৭ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মতাদর্শগত পার্থক্য বাড়তে থাকে এবং গণতন্ত্র দুর্বল হয় তাহলে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে পরিচালিত করবে।

এ প্রতিবেদনের গবেষণায় আরও বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যান্য পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে যেমন স্থানীয়ভাবে জৈবিক অস্ত্রের ব্যবহার ও দুর্ভিক্ষ।

এই প্রতিবেদন উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা পলিটিকো জানিয়েছে, আমাদের প্রতিবেশী দেশ কানাডা আমাদের বাড়িতে সহিংস ঘটনা ঘটবে বলে আশঙ্কা করছে। এটা চিন্তার বিষয়, কানাডার রিপোর্ট চমকপ্রদ! এটা রিপাবলিকান বা ডেমোক্রেটিক পার্টির কোনো কল্পনাপ্রসূত প্রতিবেদন নয়।

পলিটিকো জানিয়েছে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জি ৭ শীর্ষ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধে ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনার গুঞ্জন শুরু হয় এবং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার ফলে এই গুজব তীব্র হয়।

যুদ্ধবিরতি বিলম্বের জন্য হামাসকে দোষারোপ বাইডেনের

0

ইসরায়েলি হেলিকপ্টার বৃহস্পতিবার রাফাতে হামলা চালিয়েছে। বাসিন্দারা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আরেকটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হামাসকে ‘সবচেয়ে বড় বাধা’ উল্লেখ করার পরপরই হামাস যোদ্ধারা দক্ষিণ গাজান শহরের রাস্তায় দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করছে।

ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তেও উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। হামাসের মিত্র হিজবুল্লাহর সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে আরও আক্রমণ এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ভাগ্য নিয়ে ব্যাপক শঙ্কা এবং মে মাসের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী ওই মাসেই রাফাহতে স্থল অভিযান শুরু করে।

বৃহস্পতিবার রাফাহ শহরের পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক আগুন লেগেছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

বাসিন্দাদের একজন এএফপিকে বলেছেন, ‘ইসরায়েলি কামান এবং যুদ্ধজাহাজ ছাড়াও যুদ্ধবিমান, অ্যাপাচি (হেলিকপ্টার) এবং কোয়াডকপ্টার থেকে খুব তীব্র গোলাবর্ষণ হচ্ছিল। যার সবগুলোই রাফাহ শহরের পশ্চিমে আঘাত করছিল।’

হামাস বলেছে, তাদের যোদ্ধারা মিশরের সাথে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সীমান্তের কাছে শহরের রাস্তায় ইসরায়েলি সেনাদের সাথে লড়াই করছে।

ইতালিতে একটি জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে,বাইডেন গাজা যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির বিষয়ে একটি চুক্তিতে হামাসকে ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাধা’ বলে অভিহিত করেছেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছি যা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, জি-৭ এবং ইসরায়েলিদের দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাধা হল হামাস এতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেছে যদিও তারা অনুরূপ কিছু জমা দিয়েছে।’

তিনি বলেছিলেন, ‘এটি ফলপ্রসূ হয় কি না, তা দেখার বিষয়।’

হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযানে গাজায় কমপক্ষে ৩৭ হাজার ২৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

ইসরায়েল যখন রাফাতে স্থল অভিযান শুরু করে তখন একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা স্থগিত হয়ে যায়। কিন্তু মে মাসের শেষের দিকে বাইডেন একটি চুক্তি সুরক্ষিত করার জন্য একটি নতুন প্রচেষ্টা শুরু করেছিলেন।

সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করে একটি মার্কিন খসড়া প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎস বলেছেন, জি-৭ নেতারা ‘প্রয়োজনীয় সম্মতি দেওয়ার জন্য বিশেষ করে হামাসকে আহ্বান জানিয়েছেন।’

মঙ্গলবার গভীর রাতে মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিশরকে জবাব দিয়েছে হামাস। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, হামাসের প্রস্তাবিত কিছু সংশোধনী ‘কাজযোগ্য এবং কিছু নয়’।

তিনি এই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য সফরে ছিলেন। হামাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ওসামা হামদান বলেছেন, হামাস ‘একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সৈন্যদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার’ চেয়েছে। এই দাবিগুলো ইসরায়েল বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুদ্ধ গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করেছে, হাসপাতালগুলো পরিষেবার বাইরে এবং জাতিসংঘের দুর্ভিক্ষের সতর্কতা জারি রয়েছে।

জাতিসংঘের একটি তদন্ত বুধবার উপসংহারে পৌঁছেছে যে যুদ্ধের সময়ে ইসরায়েল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গাজায় তীব্র অপুষ্টির জন্য পাঁচ বছরের কম বয়সী ৮ হাজার শিশুর চিকিৎসা করা হয়েছে।

যেহেতু বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা রবিবার থেকে ঈদুল আযহা উদযাপনের প্রস্ততি নিচ্ছেন, বাস্তুচ্যুত গাজান উম্মে থায়ের নাসির বলেন, এই অনুষ্ঠানের জন্য ‘আমাদের প্রস্ততির কিছু নেই’।

উত্তর গাজার বেইত লাহিয়াতে তিনি বলেন, ‘শিশুরা তাদের বাবাকে জামাকাপড় কিনতে বলে’ কিন্তু মৌলিক পণ্য থেকে খেলনা পর্যন্ত যেকোনো কিছুর দাম সাধ্যের বাইরে।

তিনি বলেন, ‘তাদের বাবা এগুলো কোথা থেকে কিনবেন? তিনি আট মাস ধরে বেকার এবং এক তাঁবু থেকে অন্য তাঁবুতে চলে যাচ্ছেন, তাদের খারার জোগানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’

অন্য এক বাস্তুচ্যুত গাজান ফাদি নাসির এএফপি’কে বলেছেন, ‘সাধারণ সময়ে’ বাড়ি এবং রাস্তাগুলো উৎসবের জন্য সজ্জিত করা হয়। তবে ‘আজ আমাদের আর একটি বাড়িও নেই এবং সাজানোর কিছু নেই’। তিনি আরও বলেন, ঈদের কোনো অনুভূতি নেই।

গাজা যুদ্ধের পতন নিয়মিতভাবে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে অনুভূত হয়, যেখানে মারাত্মক আন্তঃসীমান্ত গোলা বিনিময় বৃদ্ধি পেয়েছে।

হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা ইসরায়েলের হামলায় একজন কমান্ডার নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে রকেট এবং ড্রোন দিয়ে ইসরায়েলে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, বেশিরভাগ উৎক্ষেপণ বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অন্যরা আগুন জ্বালিয়েছে।

পরে, লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইসরায়েলি ‘যুদ্ধবিমানগুলো দেশটির দক্ষিণে একটি বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়’, এতে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং সাতজন আহত হয়।

ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন বলেছেন,সম্ভাব্য‘যুদ্ধের সম্প্রসারণ শুধুমাত্র লেবাননের জন্য নয়, সমগ্র অঞ্চলের জন্যই একটি বিপদ’।

হুথির ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কার্গো জাহাজের নাবিক গুরুতর আহত

0

এডেন সাগরে একটি কার্গো জাহাজ লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে এক নাবিক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। পরে আমেরিকান বাহিনীর সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এ জানিয়েছে।

হুথিরা ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে বিভিন্ন জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে এবং তারা বলেছে, তারা গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি প্রকাশ করছে।

হুথিদের এমন হামলায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করলেও এক্ষেত্রে হতাহতের ঘটনা বিরল।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হুথিদের হামলায় পালাউয়ান পতাকাবাহী এম/ভি ভার্বেনা নামের জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। এতে একজন বেসামরিক নাবিক গুরুতর আহত হয়েছে। ক্রুরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। জাহাজটির মালিক হচ্ছেন ইউক্রেনের নাগরিক।’
খবর এএফপি

দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আপস করবেন না শেখ হাসিনা : নানক

0

দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শেখ হাসিনা কোনো আপস করবেন না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

নানক বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শেখ হাসিনা কোনো আপস করবেন না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দুর্নীতিকে না বলে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এবং উন্নয়নের সরকার। বিএনপি এই সরকারকে শত্রু মনে করে। কারণ এই সরকার বিএনপির বন্ধু একাত্তরের মানবতাবিরোধী ওই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে এবং বিচারের রায় কার্যকর করেছে।

এ সময় নানক বলেন, তারেক রহমান হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন। লন্ডনে রাজপ্রাসাদে থেকে উপভোগ করছেন। আর বিএনপি নেতাকর্মীদের ভুলভ্রান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তারেককে তালাক দিয়ে রাজনীতিতে ফিরে আসেন। নয়তো আপনাদের ধ্বংস অনিবার্য।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জনগণের সমর্থন না পেয়ে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা নতুন করে ষড়যন্ত্রের পথ খুঁজছে।

আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে নানক বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ সারা দেশের আনাচে-কানাচে জেলা, উপজেলায়, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। জানান দিতে হবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৭৫ বছরে পূর্ণতা করেছে।

আবারও পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে ইরান : আইএইএ

0

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) দাবি করেছে, আবারও ইরান তার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। বৃহস্পতিবার তারা এই অভিযোগ এনেছে। এক সপ্তাহ আগে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার সঙ্গে তেহরানের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে একটি প্রস্তাব পাস করে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার বোর্ড অফ গভর্নরস। এর পরই বৃহস্পতিবার ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অভিযোগ তুলল সংস্থাটি।

জাতিসংঘের পরমাণু বিষয়ক নজরদারি বোর্ডের আনা প্রস্তাবের পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরান তাদের দুটি ভূগর্ভস্থ অঞ্চলে ইউরেনিয়ামের পরিশোধন প্রক্রিয়া সম্প্রসারিত করেছে বলে কূটনীতিকরা দাবি করেছেন।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ৩৫টি দেশের বোর্ড অফ গভর্নরসের আনা এই ধরনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ইরান কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং ১৮ মাস আগের এক প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় তারা ইউরেনিয়ামকে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় উন্নীত করেছে (যা অস্ত্রে ব্যবহারের জন্য প্রায় উপযোগী)। পাশাপাশি সে দেশ ঘোষণা করেছে যে, এই কর্মসূচি আরও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে।

পাঁচজন কূটনীতিক বলেছেন, ইরান এবার তাদের ভূগর্ভস্থলে সেন্ট্রিফিউজের আরও ক্যাসকেড প্রতিস্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে। এই যন্ত্রগুলো ইউরেনিয়ামকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করে। তবে কোন ধরনের সেন্ট্রিফিউজ যোগ করা হচ্ছে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি কূটনীতিকরা। তবে তাদের মধ্যে একজন কূটনীতিক বলেছেন, ইরান এখনই ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের উৎপাদন বাড়াবে না। ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধি বা মান ৯০ শতাংশ হলে তা অস্ত্রে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে।

এই কূটনীতিকদের তিনজন বলেছেন, ইরানের অগ্রগতির দিকে নজরদারি করা আইএইএ পরিদর্শকরা সদস্য দেশগুলোর কাছে বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন পেশ করার পরিকল্পনা করেন।

আইএইএ এটাও দাবি করেছে, তেহরান উল্লেখযোগ্যভাবে তার পারমাণবিক কর্মসূচি বৃদ্ধি করেছে এবং এখন বেশ কয়েকটি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য তাদের যথেষ্ট উপাদান রয়েছে।
খবর এনডিটিভি

মোস্তাফিজের প্রশংসায় ভারতের সাবেক ক্রিকেটার

0

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। সে ম্যাচে ৪ ওভার বল করে ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন টাইগার এই পেসার। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটিতে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হারতে হয়েছে টাইগারদের। সে ম্যাচেও মোস্তাফিজ ছিলেন কার্যকর, ৪ ওভার বল করে কোনো উইকেট না পেলেও রান দিয়েছিলেন ১৮।

এদিকে গতকাল নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ডাচদের বিপক্ষে এই ম্যাচে টাইগারদের জয়ে দারুণ অবদান রেখেছেন মোস্তাফিজ। ৪ ওভার বল করে নিয়েছেন ১ উইকেট, তবে ছিলেন বেশ কৃপণ, রান দিয়েছেন কেবল ১২।

বিশ্বকাপে মোস্তাফিজের এমন বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার পার্থিব প্যাটেল। বিশ্বকাপ নিয়ে ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক অনুষ্ঠানে পার্থিব বলেন, ‘সে দারুণ বোলিং করেছে, আপনি তার বোলিংয়ে অনেক উন্নতির ছাপ দেখতে পারবেন। আমার মনে হয় সে যখন ২০১৬-১৭ সালে খেলেছে, তখন তার দ্রুতগতির ডেলিভারিগুলো ছিল ঘণ্টায় ১৪০-১৪৫ এবং সে যখন স্লোয়ার মারতো সেগুলো ১১০ কিংবা ১১৫ হতো, গতির দিক থেকে অনেক পার্থক্য ছিল।’

কিন্তু পরের তিন বছরে তিনি ব্যাটারদের কাছে নিজের কৌশল লুকোতে পারেননি জানিয়ে পার্থিব আরও বলেন, ‘পরের তিন বছরে তার দ্রুতগতির ডেলিভারিগুলো ঘণ্টায় ১৩০-১৩৫ কিলোমিটার এবং স্লোয়ার সবসময় ১১৫-১২০ ছিল। এজন্য গতির বৈচিত্র্য দিয়ে খুব বেশি ব্যাটারদের বোকা বানাতে পারতো না। এখন তার অভিজ্ঞতা এবং চেন্নাইয়ের হয়ে খেলে উইকেটকে ভালোভাবে ব্যবহার করছে, অ্যাঙ্গেলটা খুব ভালোভাবে ব্যবহার করছে, সেই সঙ্গে সে পিচও বুঝতে শিখে গেছে। সে স্মার্ট বোলার হয়ে গেছে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে মোস্তাফিজের দারুণ কোউশলি বোলিং নিয়ে পার্থিব বলেন, ‘সেটার বড় উদাহরণ হচ্ছে সে যেভাবে নিউ ইয়র্কে বোলিং করেছে। সে একমাত্র বোলার যে কিনা ইয়র্কার মারার চেষ্টা করেনি। আমরা হারিস রউফ, আর্শদীপসহ আরও অনেক বোলারকে ইয়র্কার মারার চেষ্টা করতে দেখেছি। কিন্তু সে ইয়র্কার করেনি। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৮তম ওভারে সে খুব সম্ভবত ১ রান দিয়েছিল।’

তবে চেন্নাইয়ের হয়ে আইপিএল খেলা তাঁর জন্য কাজে দিয়েছে জানিয়ে পার্থিব আরও বলেন, ‘চেন্নাইয়ের হয়ে খেলা এবং নিজের লিমিটেশন সম্পর্কে বুঝতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ। সে জানে তার ফিটনেস কখনই তাকে ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করতে এলাউ করবে না। যে কারণে সে আবারও তার সেরা পারফরম্যান্সে ফিরতে পেরেছে।’

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল হাসপাতাল পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

0

গাজীপুরের কাশিমপুরে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শুক্রবার (১৪ জুন) সকালে হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজে পরিদর্শনে যান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস ইউং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী কাশিমপুরে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালের কাউন্টারে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। পরে হাসপাতাল পরিচালনা বোর্ডের সদস্য, চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন : স্বাচ্ছন্দ্যে ট্রেনে উঠছেন যাত্রীরা

0

ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। সড়ক আর নৌপথের মতো ট্রেনেও উপচেপড়া ভিড়। তৃতীয় দিনের মতো ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে আজ। গত ৪ জুন যারা অগ্রিম টিকিট ক্রয় করেছিলেন তারা আজ ভ্রমণ করতে পারছেন। এছাড়া ট্রেনের সাধারণ শ্রেণির মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন থেকে দেওয়া হচ্ছে।

সাধারণত ঈদ এলেই ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় থাকে। সেই কারণে নিজ গন্তব্যের ট্রেনে উঠতে খুব বেগ পোহাতে হয়। রীতিমতো যুদ্ধ করে ট্রেনে উঠতে পারলেও অতিরিক্ত ভিড়ে নিজের সিট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না অনেকে।

তবে, এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা রেলওয়ে রেলস্টেশনের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। অন্যান্য ঈদে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই রেলওয়ে স্টেশনে যে পরিমাণ ভিড় থাকে এবং যে পরিমাণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, এবার তার ছিটেফোঁটাও নেই। ফলে স্বাচ্ছন্দে ট্রেনে উঠতে পারছেন যাত্রীরা। এতে করে বেশ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তারা।

শুক্রবার (১৪ জুন) সকালে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত ঈদুল ফিতরের মতো এবারও প্ল্যাটফর্ম এলাকায় যেন কোনো টিকিটবিহীন ব্যক্তি প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যার ফলে ঢাকা স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম এলাকায় অবাঞ্ছিত কোনো মানুষকে দেখা যায়নি। এতে স্টেশনের প্লাটফর্ম এলাকার পরিবেশ অনেকটাই ভালো।

ঈদযাত্রায় ট্রেনের যাত্রীদের যেন কোনো ভোগান্তিতে না পড়তে হয়, সেজন্য প্লাটফর্ম এলাকায় প্রবেশের মুখে ‍র‌্যাব, পুলিশ এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে। প্লাটফর্মে প্রবেশের মুখে ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনারদের (টিটিই) দেখা গেছে যাত্রীদের টিকিট চেক করতে। তবে, এবার টিকিটের সঙ্গে এনআইডি মেলাতে দেখা যায়নি। যাদের টিকিট নেই, তারা ১-৬ নম্বর কাউন্টারে গিয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। তারপর যাত্রীরা পরিচ্ছন্ন একটি পরিবেশের মধ্য দিয়ে প্ল্যাটফর্ম হয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যের ট্রেনে উঠছেন।

নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট পরে ৯টা ১৫ মিনিটে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে গেছে রংপুর এক্সপ্রেস। ওই ট্রেনের পীরগাছাগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে যতটা কষ্ট হয়েছে, ততটা কষ্ট ট্রেনে চড়তেও হয়নি। রিকশা থেকে নামার পর ট্রেন পর্যন্ত পায়ে হেঁটে এসেছি। আগে প্লাটফর্ম এলাকায় মানুষের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হোঁচট খেতে হতো, এবার কারো সঙ্গে ধাক্কা পর্যন্ত লাগেনি। প্ল্যাটফর্মে এসে দেখলাম ট্রেন দাঁড়ানো আছে। ট্রেনে উঠতেও তেমন কোনো ভিড় ছিল না। ‌ সুন্দরভাবে নিজের আসন খুঁজে পেয়েছি। এমন ব্যবস্থাপনা থাকলে রেলওয়ে ভালো করবে।

জামালপুর এক্সপ্রেস প্রেমের যাত্রী গোলাম সারওয়ার বলেন, ট্রেনে টিকিট কাটার পরেও কয়েক বছর আগে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করতে খুব কষ্ট হতো। প্লাটফর্ম এলাকায় হাজার হাজার মানুষের ভিড় থাকতো, ট্রেনে নিজের সিট পর্যন্ত যাওয়া যেত না। গত দুই বছর যাবত এই ভোগান্তি লাঘব হয়েছে। টিকিট সংগ্রহ করতে অনেক কষ্ট হলেও অন্তত নিজের আসনে যেতে না পারার দুঃখটা লাঘব হয়েছে। আসলে স্টেশন এরিয়া এমনই থাকা উচিত। বাইরের কোনো মানুষ থাকবে না, টিকিটসহ যাত্রী ছাড়া।

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময় ছেড়ে গেছে। এখন আর প্রথম দিনের মতো ট্রেনে কোনো বিলম্ব নাই।