Home Blog Page 23

হোয়াইট হাউসের কাছে গাজা যুদ্ধবিরোধী ‘রেড লাইন’ বিক্ষোভ

0

হোয়াইট হাউসের কাছে শনিবার হাজার হাজার লোক গাজায় চলমান যুদ্ধের বিরুদ্ধে ‘রেড লাইন’ বিক্ষোভ করেছে।

তারা হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের রক্তক্ষয়ী হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সহনশীলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলির বাহিনীর হাতে নিহত ফিলিস্তিনীদের নাম লেখা দীর্ঘ ব্যানার বহন করছিল।

এদিকে ইসরায়েল গাজা যুদ্ধে দ্বিমুখো নীতির জন্যে সমালোচিত হচ্ছেন বাইডেন।

গত মে মাসে হোয়াইট হাউস বলেছিল, রাফায় ইসরায়েলি হামলা ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করেনি।এর দুই মাস আগে বাইডেন রাফায় ‘রেড লাইন’ অতিক্রম না করতে ইসায়েলকে সতর্ক করেছিল।

ভার্জিনিয়ার ২৫ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী জায়েদ মাহদাবি বলেছেন, ‘আমি বাইডেনের কোন কথাই আর বিশ্বাস করি না। বাইডেনের রেড লাইনের বিষয়টি তার ভন্ডামি ও কাপুরুষতা।’

নার্সিং সহকারী তালা ম্যাককিনি(২৫) বলেছেন, ‘আমরা সবাই আশা করি এটি শিগগীরই বন্ধ হয়ে যাবে। তবে স্পষ্টত আমাদ্রে প্রেসিডেন্ট দেশের সাথে যেসব কথা বলেছেন তা মনে চলছেন না। এটা আপত্তিজনক।’

বিক্ষোভে অংশ নেয়া সকলেই প্রায় লাল পোশাক পরেছিল। তাদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনী পতাকা। তারা বলছিল, ‘বাইডেনের রেড লাইন মিথ্যা’ এবং শিশুদের ওপর বোমা হামলা চালানো আত্মরক্ষা নয়।’

এদিকে এই বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর পাঁচ মাস বাকী। নির্বাচনে বাইডেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোমুখি হচ্ছেন। মুসলিম ও তরুণ ভোটারদের কারণে চাপে রয়েছেন বাইডেন।

তাই এবারের মার্কিন নির্বাচনকে গণতন্ত্রের অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

ম্যাককিনি বলেন, ‘এটি খুবই হতাশাজনক যে আমাদের এমন একজন প্রেসিডেন্ট যিনি কথা রাখেন না। আমি তৃতীয় পক্ষকে ভোট দেব।’

রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত দুই অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলা : নিহত ২৬

0

ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত লুগানস্ক ও খেরসন অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেক মানুষ। এর মধ্যে খেরসন অঞ্চলে হামলায় ২২ জন ও লুগানস্ক অঞ্চলে হামলায় ৪ জন নিহত হয়েছেন।

আজ শনিবার (৮ জুন) বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রুশ-নিয়ন্ত্রিত লুগানস্ক এবং খেরসন অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেক মানুষ।

খেরসনের রাশিয়ান নিযুক্ত কর্তৃপক্ষের প্রধান ভ্লাদিমির সালদো টেলিগ্রামে লিখেছেন, হামলায় দক্ষিণ খেরসন অঞ্চলের সাদোভ গ্রামের একটি দোকান ধ্বংস হয়ে গেছে। এ সময় সেখানে অনেক দর্শনার্থী এবং কর্মচারী ছিলেন। পরে পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করতে ছুটে আসার পরপরই সেখানে একটি হিমারস ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে মোট ২২ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে শুক্রবার লুগানস্কে রুশ-নিযুক্ত কর্মকর্তারা জানান, লুগানস্কের পূর্ব অঞ্চলে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন নিহত এবং আরও ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়।

মস্কো-সমর্থিত অঞ্চলের সরকার টেলিগ্রামে বলেছে, হামলার পর সেখানকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের একটি অংশ ধসে পড়ে। নিহত চারজনই বেসামরিক ব্যক্তি। তাদের মরদেহ মৃতদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে সরানো হয়েছে।

প্রতারণায় জড়িত হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ধর্মমন্ত্রী

0

ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, এ বছর যেসব এজেন্সি হজযাত্রীদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে বা ভোগান্তিতে ফেলেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ শনিবার (৮ জুন) সকাল ৯টার দিকে সৌদি আরবে হজ ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে যাওয়ার আগে রাজধানীর বিমানবন্দরের আশকোনা হজ ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিগত দিনে কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সির অব্যবস্থাপনার জন্য তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। এবার হজ ব্যবস্থাপনায় আমরা কিন্তু কোনো ভোগান্তি পাইনি। যখন ভোগান্তির কথা বলা হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের ৮৫ শতাংশ ভিসা সম্পন্ন হয়ে গেছে। এদিকে ভারত, পাকিস্তান ইন্দোনেশিয়া, তাদের ভিসা সম্পন্ন হওয়ার হার ছিল ৪৯ শতাংশ, ৫১ শতাংশ ও ৫৯ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশের হার ছিল ৬০ শতাংশ। অন্যান্য দেশের ভিসা বন্ধ হলেও বাংলাদেশের হজযাত্রীদের ভিসা এক সেকেন্ডের জন্য বন্ধ হয়নি।

এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যেসব এজেন্সি ও ব্যাংক হজ যাত্রীদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও যোগ করেন মন্ত্রী।

কবে নাগাদ ট্রাভেল এজেন্সি ও ব্যাংকের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়ে হজযাত্রীরা নির্বিঘ্নে হজ পালনে যেতে পারবেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, এবার হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকের মাধ্যমে হজযাত্রীদের ভোগান্তিতে পরার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি সঠিক ছিল। গতবছর দুই জায়গাতে সমস্যা হয়েছিল, আমরা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তা সমাধান করেছিলাম। শেষের দিকে এসে একটি ব্যাংকে প্রবলেম (সমস্যা) হওয়া সত্ত্বেও আমরা এক দিনের মধ্যে তা সমাধান করেছি।

তিনি বলেন, যেসব ব্যাংক হজযাত্রীদের ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে সেসব ব্যাংক ও এজেন্সির তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। যার অপরাধ যতটুকু তার শাস্তিও ততটুকু হবে।

ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার হজযাত্রী মক্কায় পৌঁছে গেছেন। বাকি ১৫ হাজার হজযাত্রী ১২ জুনের মধ্যে পৌঁছে যাবেন। এ সময় সবার কাছে দোয়া চান ধর্মমন্ত্রী।

পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ জুন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট ৯ মে ও শেষ ফ্লাইট ১০ জুন। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ২০ জুন আর শেষ ফিরতি ফ্লাইট ২২ জুলাই।

ইউরোর আগে আইসল্যান্ডের কাছে হারল ইংল্যান্ড

0

আইসল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলের অস্বস্তিকর হার দিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি শেষ করেছে ইংল্যান্ড। এই ম্যাচের মাধ্যমে ইংলিশ বস গ্যারেথ সাউথগেটকে এই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে- আদৌ তার দল টুর্নামেন্ট ফেবারিট কিনা।

তারপরও ইউরোর অন্যতম ফেবারিট দল হিসেবে জার্মানী উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাবে ইংল্যান্ড। কিন্তু ওয়েম্বলিতে গতকাল শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আত্মবিশ^াস ঠিখ রাখাটাই ছিল মূল লক্ষ্য, যা সাউথগেট শিষ্যরা অর্জন করতে পারেনি।

জন ডাগার থ্রোটেইনসনের প্রথমার্ধের গোলে ইংল্যান্ডকে ভালভাবে বিদায় জানাতে পারেনি সমর্থকরা। এমনকি বিরতির সময় ও ম্যাচ শেষে সমর্থকদের দুয়ো ধ্বনিও শুনতে হয়েছে কেন, ফোডেন, পালমারদের।

বিশ^ র‌্যাঙ্কিংয়ের ৭২তম স্থানে থাকা আইসল্যান্ড ইউরোর চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। কোল পালমার, এন্থনি গর্ডন, কোবি মেইনুকে ইউরোর মূল একাদশে খেলানোর আগ্রহ থেকেই সাউথগেট গতকাল তার মূল একাদশ সাজিয়েছিলেন। কিন্তু ইংলিশ বসকে হয়তো নতুন করে আবারও দল নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

ম্যাচ শেষে সাউথগেট বলেছেন, ‘আমাদের ভাল করতেই হবে। সঠিক সময়ে আমরা সেভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারিনি। এই ম্যাচে কিছু কিছু প্রশ্ন উঠেছে যার উত্তর আমরা দিতে পারিনি। এটা অবশ্যই একটি হতাশাজনক পারফরমেন্স। আমরা যথেষ্ঠ পরিমানে নিজেদের প্রমানে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু তারপরও মনে হচ্ছে টুর্নামেন্টের আগে আমাদের ভাল একটি শিক্ষা হলো। এর প্রয়োজন ছিল। আমি আত্মবিশ^াসী আজকের থেকে মূল পর্বে অবশ্যই আমরা ভাল খেলবো। সবাই বলছে টুর্ণামেন্টের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে আমরা ইউরোতে খেলতে যাচ্ছি। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাস্তবতা একটু ভিন্ন।’

সাউথগেটের জন্য একটি দুশ্চিন্তার বিষয় হলো জন স্টোনস বিরতির পর আর মাঠে ফিরতে পারেননি। ইংলিশ এই সেন্টার-ব্যাককে নিয়ে ইউরোর কথা মাথায় রেখে সাউথগেটও হয়তো ঝুঁকি নিতে চাননি। সাউথগেট বলেছেন, ‘আশা করছি সম্ভবত সে ঠিক আছে। আমরা কোন সুযোগ নিতে চাইনি।’

আগামী ১৬ জুন গেলসেনকার্চেনে গ্রুপ-সি’র প্রথম ম্যাচে সার্বিয়ার বিপক্ষে সম্ভবত এই একাদশ নিয়েই মাঠে নামবেন সাউথগেট। অনেকটা কাছাকাছি দলেরই ইঙ্গিত দিয়েছে ইংলিশ বস। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহাম যোগ দিলে দলের শক্তি নিঃসন্দেহে বাড়বে।

গত সাত ম্যাচের মাত্র দুটিতে কোন গোল হজম না করা ইংলিশ রক্ষনভাগকে নিয়ে সাউথগেটের মূল দুশ্চিন্তা। তিনি বলেন, ‘বল ছাড়া নিজেদের পজিশনে আমাদের আরো ভাল করতে হবে। আরও বেশি সমন্বিত পারফরমেন্স দেখতে হবে। টুর্নামেন্টের আগে খেলোয়াড়রা ইনজুরি নিয়েও শঙ্কায় ছিল। সে কারনেই কালকের ম্যাচে তারা কোন ঝুঁকি নিতে চায়নি। আমরা এই বাস্তবতা গোপান করতে চাচ্ছিনা। দলে বেশ কিছু শারিরিক ইস্যু রয়েছে। আমাদের শান্ত থাকতে হবে। ফলাফল নিয়ে কোন যুক্তি দিলে চলবে না। দ্রুতই সবকিছুর সমাধান করে মাঠে নামতে হবে।’

এর আগেবৃহস্পতিবার সাউথগেট তার চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল থেকে বাদ দিয়েছেন জ্যাক গ্রীলিশ, জেমন ম্যাডিসন ও ইনজুরিতে থাকা হ্যারি ম্যাগুয়েরেকে। সাউথগেটের এই সিদ্ধান্ত সঠিক কিনা তা আগামী একমাস জার্মানীতে পারফরমেন্সের উপরই নির্ভর করবে। তবে ম্যাগুয়েরের অনুপস্থিতি বিশেষ করে দলকে দারুনভাবে ভোগাবে। সেন্ট্রার ডিফেন্সে স্টোনসের সাথে ম্যাগুয়েরের পরিবর্তে মার্ক গুয়েহি আছেন। কিন্তু এই জুটি কাল শুরুতে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে এজরি কোনসা মাঠে নেমে কিছু প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছেন।

২০১৬ সালে রয় হজসনের ইংল্যান্ডকে ইউরো শেষ ষোলতে পরাজিত করেছিল আইসল্যান্ড। এখনো পর্যন্ত তাদের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় জয় হয়ে আছে।

পদত্যাগ করতে পারেন ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রী গ্যান্টজ

0

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলি যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় মতবিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। এর জেরে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও যুদ্ধকালীন মন্ত্রী বেনি গ্যান্টজ।

শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমনটিই দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের ওপর থেকে তার দলের সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বেনি গ্যান্টজ এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি দেবেন।

ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএএন বলছে, প্রধানমন্ত্রী বেনঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার যুদ্ধপরবর্তী পরিকল্পনা অনুমোদন না করার কারণে গ্যান্টজ পদত্যাগ করছেন।

গত মাসে এক টেলিভিশন ভাষণে গ্যান্টজ হুমকি দিয়েছেলেন, গাজা নিয়ে যুদ্ধপরবর্তী পরিকল্পনা অনুমোদন না দিলে তিনি পদত্যাগ করবেন। তিনি এ জন্য ৮ জুন সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি নেতানিয়াহু।

এর আগে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় যুদ্ধ শেষে অবরুদ্ধ গাজায় শাসনের জন্য ছয় দফা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন বেনি গ্যান্টজ। গ্যান্টজের ছয় দফায় হামাসের পতন, ইসরায়েলি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করেন।

বিমান দুর্ঘটনায় অ্যাপোলো ৮-এর নভোচারীর মৃত্যু

0

বিমান দুর্ঘটনায় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নভোচারী উইলিয়াম অ্যান্ডার্স মারা গেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার ওয়াশিংটনের সান হুয়ান দ্বীপপুঞ্জে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

অ্যান্ডার্সের ছেলে গ্রেগরি অ্যান্ডার্স মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘খবরটি পেয়ে আমরা খুব বিধ্বস্ত এবং একজন মহান বৈমানিককে হারিয়ে শোকাহত।’

উইলিয়াম অ্যান্ডার্স ১৯৬৮ সালে অ্যাপোলো-৮ মহাকাশযানের সদস্য ছিলেন। তা বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

সান হুয়ান কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জোন্স দ্বীপের উপকূলে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তাদের ডেসপ্যাচ সেন্টার একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন পায়, এতে বলা হয়, পুরোনো মডেলের একটি বিমান উত্তর থেকে দক্ষিণে উড়ছিল, তারপর জোন্স আইল্যান্ডের উত্তর প্রান্তের কাছে পানিতে পড়ে ডুবে যায়।উদ্ধারকারী বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধানের পর উইলিয়াম অ্যান্ডার্সের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড।

অ্যাপোলো ৮ মহাকাশযানের সদস্য অ্যান্ডার্স মহাকাশ থেকে ঐতিহাসিক আর্থরাইজের ছবিটি তোলার জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। ৫৫ বছর আগে তোলা ওই ছবিতে মহাকাশের বিস্তীর্ণ অন্ধকারের বিপরীতে উজ্জ্বল নীল পৃথিবীর দৃশ্য ধারণ করেছিলেন। ছবির সামনের অংশে চাঁদের পৃষ্ঠ দেখা যায়। তার সেই বিখ্যাত ছবির একটি আসল সংস্করণ ২০২২ সালে কোপেনহেগেন নিলামে ১১ হাজার ৮০০ ইউরোতে বিক্রি করা হয়।

অ্যান্ডার্স ১৯৬৪ সালে নাসার নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সালে জেমিনি-১১ মিশন এবং ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ ফ্লাইটের ব্যাকআপ পাইলট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

অ্যান্ডার্সের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে নাসার প্রশাসক বিল নেলসন শুক্রবার এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, ‘অ্যান্ডার্স মানুষের জন্য চমৎকার উপহার দিয়ে গেছেন। তিনি চাঁদের নিকটবর্তী স্থানে উড্ডয়নের সময় কিছু অসাধারণ ছবি তুলেছেন। যা একজন নভোচারীর কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

অ্যান্ডার্স ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস কাউন্সিলের নির্বাহী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭০-এর দশকে এক বছর নরওয়েতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

অর্থনেতিক সংকটকালে এই বাজেট গণমুখী ও বাস্তবসম্মত : কাদের

0

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গত ৬ জুন জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনা সরকারের অর্থমন্ত্রী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন। অর্থনেতিক সংকটকালে এই বাজেট গণমুখী, বাস্তবসম্মত।

আজ শনিবার (৮ জুন) দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

অপ্রদর্শিত অর্থ মূল ধারা অর্থাৎ ব্যাংকে আনার ব্যবস্থা করতে বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেকের হাতের গোপন টাকা উদ্ধার করতে বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যায়, অবৈধ কাজের শাস্তি মওকুফের সুযোগ নেই। অপ্রদর্শিত অর্থ মূল ধারা অর্থাৎ ব্যাংকে আনার ব্যবস্থা করতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ।

অপর এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ আছে স্বীকার করি। সে চ্যালেঞ্জ অতিক্রমের জন্য কাজ শুরু করেছি। অনেক চ্যালেঞ্জের মতো এই চ্যালেঞ্জও অতিক্রম করবো। দ্রব্যমূল্য, ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা- এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বাজেট নিয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৫ বছর আগের সঙ্গে উন্নয়ন-অর্জনে এখনকার বাংলাদেশের আকাশ-পাতাল পার্থক্য। বিএনপি বড় বড় কথা বলে। অর্থ পাচার, কালো টাকা, দেশকে গিলে ফেলার কথা বলে। তাদের সবশেষ বাজেট ছিল ৬৮ হাজার কোটি টাকা। সাইফুর রহমানকে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে দৌড়াতে হয়েছিল। আমাদের কোনো অর্থমন্ত্রীকে বাজেট পূর্ববর্তী সময়ে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে দৌড়াতে হয়নি। পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, যাদের নেতারা দুর্নীতিবাজ, তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেবে এটা বছরের সেরা জোক।

এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এবারের বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত, স্মার্ট বাংলাদেশের অঙ্গীকার। মূল লক্ষ্য চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সংকট দূর করা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে দেশের অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে উচ্চ গতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়া।

তিনি বলেন, এই বাজেট পরিমিত, বাস্তবসম্মত, গণমুখী, সাহসী, নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ভারসাম্যমূলক বাজেট উপহার দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সংকট থাকা সত্ত্বেও গত দেড় দশকে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ এখন বাংলাদেশ। শুধু ডাল-ভাতে নয়, দেশ এখন পুষ্টি উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ।

মূল্যস্ফীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, সুদের হার বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং টাকার মান কমে যাওয়া- এ চতুর্মুখী চাপ আমাদের অর্থনীতিতে সৃষ্টি করে ডলার সংকট ও মূল্যস্ফীতি। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো মূল্যস্ফীতি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে সক্ষম হলেও এখনো তাদের কাঙ্ক্ষিত ২ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়নি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। একই সময়ে দেশে গড় মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ শতাংশের বেশি হারে। মূল্যস্ফীতি এবং মজুরি বৃদ্ধির মধ্যে ২ শতাংশের একটা ফারাক রয়েছে।

কাদের বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ৪০ শতাংশ লোককে দারিদ্র্যসীমার নিচে রেখে গেছে। শেখ হাসিনা সরকার ১৮ শতাংশে আর অতিদরিদ্র ৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। বাংলাদেশে এখন শুধু ডালে ভাতে নয়, পুষ্টি উন্নয়নে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, সুজিত রায় নন্দী, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরায়েলের সেনাবাহিনী

0

গাজায় শিশুদের ওপর হামলার কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। গাজায় ইহুদিবাদী সেনাদের হামলায় হাজার হাজার শিশু নিহত হওয়ার জেরে এই সিদ্ধান্ত নিল সংস্থাটি। গতকাল শুক্রবার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ আরদান।

জাতিসংঘে ইসরায়েলের এই রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ‘জাতিসংঘ শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অপরাধীদের তালিকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে যুক্ত করা হয়েছে।

গিলাদ এরদান আরও জানান, তাকে শুক্রবার এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ‘এই পদক্ষেপ জাতিসংঘের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে।’

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি ইসরায়েলকে এই অপরাধের জবাবদিহি করার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে নেবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলে জাতিসংঘের বার্ষিক ‘চিল্ড্রেন ইন আর্মড কনফ্লিক্ট’ প্রতিবেদনে ইসরায়েলের তালিকাভুক্তির বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি যাতে ফাঁস না হয়, সে জন্য এমনটা করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি আগামী ১৪ জুন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।

জাতিসংঘের এই তালিকায় সৌদি আরব, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, সিরিয়া ও সোমালিয়ার নাম রয়েছে। এ ছাড়া ইসলামিক স্টেট (আইএস), আল-শাবাব, তালেবান, আল-কায়েদার মতো সংগঠনও আছে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, জাতিসংঘ নিজেকে ‘ইতিহাসের কালো তালিকায়’ যুক্ত করেছে এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘বিশ্বের সবচেয়ে নৈতিক সেনাবাহিনী।’ তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর ইসরায়েলি সেনাদের ‘লজ্জার তালিকায়’ যোগ করাকে সঠিক পদক্ষেপ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এ ছাড়া জাতিসংঘের ‘কালো তালিকা’ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।

তিনি বলেছেন, মানবাধিকার সংগঠনগুলো শিশুদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আক্রমণ দীর্ঘদিন ধরেই পর্যবেক্ষণ করে আসছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি-জেনারেল বলেছেন, ‘ইসরায়েলের ১৫ হাজার শিশুকে হত্যা করে নিয়ে এই লজ্জাজনক তালিকায় যোগ হওয়া দরকার ছিল না। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের পরিসংখ্যান অনুসারে আমরা জেনেছি অক্টোবরের শুরু থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১৫ হাজার ৫০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।’

এদিকে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে করা হতাহতের অনুপাত সংশোধিত করা হয়েছে। সেখানে মোট মৃত্যুর মধ্যে নারী ও শিশু ৬৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫২ শতাংশ বলা হয়েছে। ইসরায়েল বলেছে, এই হ্রাস দেখিয়েছে জাতিসংঘ হামাসের মিথ্যা তথ্যের ওপর নির্ভর করছিল।

তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা এখন হামাস পরিচালিত সরকারি মিডিয়া অফিসের (জিএমও) পরিবর্তে গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করছে। এদিকে জিএমও বলছে, ইসরায়েলি হামলায় ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে আরো বলেছে, গাজার প্রতি ১০ ফিলিস্তিনি শিশুর ৯ জনই ‘ভয়াবহ খাদ্য সংকটে’ রয়েছে। ক্ষুধা, পিপাসা এবং মারাত্মক অপুষ্টির কারণে অনেক ফিলিস্তিনি শিশু মারা গেছে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা গত সপ্তাহে জানিয়েছে, গাজার প্রতি পাঁচ শিশুর চারজনই প্রতি তিন দিনে অন্তত এক দিন ‘পুরো দিন না খেয়ে থাকে।’

গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে বাস্তুচ্যুত লোকে ভরা কেন্দ্রীয় গাজার একটি স্কুলে বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হামলায় ১৪ শিশু নিহত হয়েছে।

হামলার পর ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) সংস্থাটি বলেছে, ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৭০ জন মৃত ব্যক্তিকে আনা হয় এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়। এদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। গত মাসেও একটি ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরের কাছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি শিবিরে আগুন ধরে যায়। তখন শিশুসহ ৪৫ জন নিহত হয়। এ ঘটনা বিশ্বব্যাপী ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আশা করেনি।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় প্রয়োজনীয় সাহায্য বিলম্বে প্রবেশের অভিযোগও আনা হয়েছে। তারা ফিলিস্তিনিদের বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, ওষুধের পাশাপাশি জ্বালানি থেকে বঞ্চিত করছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো জাতিসংঘের সংস্থাগুলো এবং মানবিক সংস্থাগুলোকে সাহায্য বিতরণে ব্যর্থ বলে তাদের অভিযুক্ত করে ইসরায়েল।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা উনরওয়া মুখপাত্র জুলিয়েট তোমা বলেন, ‘অপুষ্টি ও পানিশূন্যতার কারণে গাজার শিশুরা মারা যাচ্ছে।’
খবর বিবিসি

বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পূর্ব বাংলার মানুষের মাঝে স্বাধীনতার পক্ষে মনন তৈরী করার জন্যই বঙ্গবন্ধু ছয় দফা ঘোষণা করেছিলেন। ছয় দফার পক্ষে মানুষ ব্যাপক সাড়া দেন। বঙ্গবন্ধু ছয় দফা নিয়ে সারাদেশ ঘুরে বেড়ান, যেখানেই বক্তব্য দেন সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হতো। ৬৯’এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভ করেন। মুক্তি পাবার পর আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবার প্রস্তাব দেন বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

তিনি বলেন, ৬৯’এর গণঅভ্যুত্থানের পর ছয় দফার উপর ভিত্তি করেই দেশে সাধারণ নির্বাচন হয়। জনগণ ছয় দফার পক্ষেই ভোট দেয়। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান ন্যাশনাল এসেম্বিলিতে মেজরিটি পার্টির নেতা নির্বাচিত হন। এরপর ক্ষমতা হস্তান্তরে যখন বাহানা করা হচ্ছিল তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ছয়দফা যখন ঘোষণা করেছিলাম তখন এটি আওয়ামী লীগ কিংবা শেখ মুজিবের দফা ছিল, নির্বাচনের পর এটি জনগণের দফায় পরিণত হয়েছে। জণগণই ছয় দফার পক্ষে রায় দিয়েছে। আমি ছয় দফার বাইরে কোন আপোস করতে পারব না।

শুক্রবার (৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাঙালির মুক্তি সনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস স্মরণে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু যদি আপোস করতেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া নয়, বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি। সেই কারণে প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দিয়ে তিনি স্বাধীনতার লক্ষ্যেই এগিয়ে যান। ১৯৪৭সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হবার পর একবছরের মাথায় বঙ্গবন্ধু অনুধাবন করতে সক্ষম হন পাকিস্তান রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে বাঙালিদের মুক্তি নিহিত নাই। ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের বক্তব্যে তিনি পক্ষান্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিশ্বের ২৭টি দেশকে পেছনে ফেলে বর্তমানে বাংলাদেশ পৃথিবীর ৩৩তম অর্থনীতির দেশ, ১৫বছর আগে ছিল পৃথিবীর ৬০তম অর্থনীতির দেশ। এই ২৭ দেশের মধ্যে মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরও আছে। জিডিপির আকারে আমরা তাদেরকেও অতিক্রম করেছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শি নেতৃত্ব ও চিন্তা এবং কঠোর পরিশ্রমের কারণেই এগুলো সম্ভবপর হয়েছে।

তিনি বলেন, আপনরা জানেন ২০১৪ ও ১৮ সালে সঙ্কট তৈরী করা হয়েছে। ২০২৪সালেও সঙ্কট তৈরির অপচেষ্ঠা ছিল। কিন্তু সমস্ত সঙ্কট ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কারণে আওয়ামী লীগ আজকে পরপর চারবার রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেইকারণে তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেচে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের সকলস্তরের নেতাকর্মীদের চোখ কান সবসময় খাড়া রাখতে হবে।

দেশে বুদ্ধিজীবি কয়েক প্রকার উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটা হচ্ছে সত্যিকারের বিশেষজ্ঞ, আরেকটা হচ্ছে বিশেষ কারণে অজ্ঞ বিশেষজ্ঞ, আরেকটা হচ্ছে সব বিষয়ে বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ। কেউ পড়েছেন আইন তিনি অর্থনীতি কিংবা পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, কেউ পড়েছেন অর্থনীতি উনি আবার তেল গ্যাসের বিশেষজ্ঞ। এই কদিন দেখবেন এই বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে টেলিভিশনের পর্দা গরম হয়ে যাচ্ছে। তারা এবং বিএনপি-জামাত বলতে শুরু করেছে এই বাজেট জনগণের কোন কল্যাণে আসবে না।

ড. হাছান মাহমুদ বিএনপি-জামাত ও কতিপয় বুদ্ধিজীবিদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, বাজেট জনগণের কল্যাণে যদি না আসে, তাহলে গত ১৫ বছরে দারিদ্রতা ৪০শতাংশ থেকে নেমে ১৮.৭ শতাংশে কেমনে আসল ? আর অতিদারিদ্র্য ২২ শতাংশ ছিল, সেখান থেকে ৫.৭ শতাংশ কিভাবে নেমে এসেছে ? এটি সম্ভবপর হয়েছে বাজেট বাস্তবায়নের কারণেই। এরা আসলে চোখ থাকতেও অন্ধ কান থাকতেও বধির। ওদের চোখ এবং কান যেন মহান আল্লাহ ঠিক করে দেন সেই প্রার্থনা করি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসময় বলেন, ক্ষমতার হালুয়া রুটির ভাগ-বাঁটোয়ারার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ যারা বিএনপি দল গঠন করেছিলেন, ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী ২ বছর ও একাধারে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের চার মেয়াদসহ ২২ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা তাদের পক্ষে এখন আর সহ্য হচ্ছেনা। এমনকি তারা সরকারের কোন উন্নয়ন অগ্রগতিও সহ্য করতে পারছে না। সেই কারণে তারা এখন নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সংসদে ৭ লক্ষ ৮৯ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজেট ঘোষণা হয়েছে। গত ১৫বছরে বাজেটের অংক সাড়ে ১১গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোন একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার বৃদ্ধি পাওয়া মানে সেই ব্যেবসা প্রতিষ্ঠান ভালো চলছে। দেশের বাজেটের আকার যখন বৃদ্ধি পায় তখন বুঝতে হবে দেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে। বিএনপি জামাত বাজেট ঘোষণার আগেই বিবৃতি রেডি করে রাখে। গত ১৫বছরের তাদের বিবৃতি-বক্তব্য যদি দেখেন তখন হুবহু মিল খুঁজে পাবেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, সহ-সভাপতি এডভোকেট ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি নোমান আল মাহমুদ, কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু প্রমুখ।

কালো টাকা সাদা করার উদ্যোগ কেন, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা ফিরিয়ে আনতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে বাজেটে। কমানো হয়েছে অনেক নিত্য ও জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসের দামও।

শুক্রবার (৭ জুন) ছয় দফা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, একটি গোষ্ঠী রয়েছে তাদের কোনো কিছুতেই ভালো লাগে না। এই গোষ্ঠীর দিকে কান না দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, তার দল ও সরকারের একমাত্র শক্তিই হচ্ছে দেশের জনগণ। এসময় দলীয় নেতা কর্মীদেরকে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশও দেন তিনি।

আলোচনা সভায় পাকিস্তানিদের বিভিন্ন সামরিক বেসামরিক ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্র নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি জানান, কিছু নামীদামী নেতা থাকলেও একমাত্র বঙ্গবন্ধুকেই এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল তাদের দেশের চেয়ে পাকিস্তানের প্রতি এই দরদ ছিল বেশি। তাই বঙ্গবন্ধুর শাসন আমল ছাড়া এখন পর্যন্ত ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির রেখা স্পর্শ করতে পারেনি বাংলাদেশ- যোগ করেন শেখ হাসিনা।

এসময় রিজার্ভ কত আছে তার দিকে না তাকিয়ে মানুষের নিত্য প্রয়োজন মেটানোই ছিল সরকারের একমাত্র লক্ষ্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের নানান সংকটের ধাক্কা এখনো দেশের অর্থনীতিতে রয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকার নিম্ন আয়ের মানুষকে বিনামূল্যে খাবার দিচ্ছে। অস্বচ্ছ যারা তাদেরকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করে সরকারের সহযোগিতা করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।