Home Blog Page 65

ঈদযাত্রায় মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ে ডিএমপি’র নির্দেশনা

0

ঈদযাত্রায় মোটরসাইকেলে যারা দূরপাল্লার যাত্রী থাকবেন তাদের চলাচলে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। যাত্রাকালীন তাদের হেলমেট পরিধান করতে হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মুনিবুর রহমান।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত এই পুলিশ কমিশনার বলেন, ঝুঁকি পরিহার করতে মোটরসাইকেল যাত্রীদের অতিরিক্ত মালামাল বহন না করার জন্য আহ্বান জানানো যাচ্ছে। দূরপাল্লার যাত্রার ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে দুইয়ের অধিক যাত্রী না উঠার জন্য বলা হয়েছে।

মুনিবুর রহমান জানান, যারা নিজ গাড়িযোগে অথবা মোটরসাইকেলে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার যাত্রায় অংশীদার হবেন তারা নিজ নিজ মালিকানাধীন যানবাহনের ফিটনেসের বিষয়টি নিশ্চিত করে নেবেন। যাত্রাকালে নিজ নিজ ব্যক্তি মালিকানাধীন যানবাহনের প্রয়োজনীয় কাগজ ও নথিপত্র অবশ্যই যানবাহনে সুরক্ষিত থাকতে হবে।

ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি যেন রাস্তায় নামতে না পারে এ বিষয়ে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ নজর রাখছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

মুনিবুর রহমান বলেন, এবার ঈদে রাজধানী ছাড়তে পারে এক থেকে সোয়া কোটি মানুষ। তাদের যাত্রা ও ফিরে আসা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে দরকারি সব ধরনের কাজ করছে পুলিশ। বাসের ট্রিপগুলো ঠিকঠাক রাখতে চলার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা করতে দেওয়া হবে না।

যাত্রীদের কোনোভাবেই রাস্তায় না দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ট্রাফিকের এই অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার পয়েন্টগুলো যানজটমুক্ত রাখতে এবার নতুন কিছু কৌশল নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই ঈদে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেসব রাস্তায় মেরামত চলছে সেসব জায়গা চিহ্নিত করে অস্থায়ী বিকল্প রাস্তা করা হয়েছে।

এছাড়া ঈদের আগে মার্কেটের আশপাশে গাড়ি চালানো ও পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে পুলিশের আলাদা নির্দেশনা মানতে অনুরোধ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, টার্মিনালের ভেতর থেকে বাসে যাত্রী ওঠানামার কাজ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই টার্মিনাল থেকে বের হয়ে রাস্তায় যাত্রী নামানো যাবে না। গণপরিবহনগুলো নির্ধারিত সংখ্যার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করবে না। বিশেষ করে ছাদে কোনো যাত্রী নেওয়া যাবে না। দূরপাল্লার গণপরিবহনগুলো মহানগরীর মধ্যে যাত্রী ওঠা-নামার কাজ করবে না। এক্ষেত্রে গেটলক পদ্ধতি অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

এবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান

0

শক্তিশালী ভূমিকম্পে তাইওয়ান বিপর্যস্ত হওয়ার পরের দিনই কেঁপে উঠল জাপান।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে দেশটিতে ভূমিকম্প আঘাত হানে।

দেশটির আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী এটি ৬ মাত্রার ভূমিকম্প ছিল। এতে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চল যেন একটি ধাক্কা খেল। তবে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। তাই সতর্কতাও জারি করা হয়নি।

এ সত্ত্বেও দেশটিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ, দেশটি এমনিতেই ভূমিকম্পপ্রবণ। এ ছাড়া একবার ভূমিকম্পের পর একই দিন আবারও ছোট-বড় কম্পনের আশঙ্কা থাকে।

এর আগের দিন বুধবার (৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত হয় তাইওয়ান। দেশটির পূর্ব উপকূলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এ ভূমিকম্প আঘাত আনে। এরপর আরও কয়েক ডজন বার তাইওয়ানের ভূমি কেঁপে (আফটারশক) উঠে।

এদিকে জাপানের আবহাওয়া সংস্থার বরাতে জাপান টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ইওয়াতে, মিয়াগি ও ফুকুশিমা অঞ্চল কেঁপে উঠে। জাপানের ভূমিকম্পের তীব্রতার স্কেলে তা ছিল ৪-এর ঘরে।

ফুকুশিমা উপকূলের প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভূগর্ভে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল।

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ৩৩ হাজার ছুঁইছঁই

0

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩৩ হাজার ছুঁই ছুঁই করছে। আহতের সংখ্যাটাও ৭৫ হাজারের বেশি।

বৃহস্পতিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ৯৭৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭৫ হাজার ৫৭৭ ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ২৪ হাজারের বেশি।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস বলছে, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকায় ২ হাজার ৯২২টি গণহত্যা চালিয়েছে। এর জেরে গাজায় মোট ১৪ হাজার ৫০০ শিশু এবং ৯ হাজার ৫৬০ জন নারী নিহত হয়েছেন।

এছাড়া আরও ৭ হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন এবং ইসরায়েলি হামলায় ৭৫ হাজার ৫৭৭ জন আহত হয়েছেন।

গত বছরের ৭ অক্টোবর সীমান্ত ভেঙে ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। ওই হামলার প্রতিশোধ নিতে সেদিন থেকেই গাজায় আকাশপথে হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল। পরে স্থল অভিযানও শুরু করে দেশটি।

ইসরায়েলি হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলায় পুরো গাজা ভূখণ্ড প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

মেসিবিহীন মায়ামির বিপক্ষে মন্টেরির জয়

0

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে মেসিবিহীন ইন্টার মায়ামি। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) মন্টেরির বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল তারা। ইনজুরির কারণে মায়ামির জার্সিতে শেষ কয়েকটি ম্যাচ মাঠে নামা হয়নি মেসির। বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলারকে ছাড়া জয়ের দেখা পায়নি তার দলও। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে মন্টেরির কাছে ২-১ গোলে হেরেছে মায়ামি।

ম্যাচে প্রথম গোলের দেখা পায় মায়ামি। সুয়ারেজ, বুস্কেটস, ডেভিড রুইজরা দলকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন। ম্যাচের ১৯ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। টমাস অ্যাভিলেস গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন রবার্ট টেইলর।

দ্বিতীয়ার্ধে মায়ামির কঠিন পরীক্ষা নেয় মন্টেরি। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে রুইজ লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় মায়ামি। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে সমতায় ফেরে মন্টেরি, ক্লাবটির পক্ষে গোল করেন মেজার। ম্যাচ যখন ড্র হওয়ার পথে ঠিক তখনই জয়সূচক গোলের দেখা পায় মন্টেরি।

নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে জর্জ রদ্রিগেজ মন্টেরিকে লিড এনে দেন। শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে পড়ার পর আর সমতায় ফিরতে পারেনি মায়ামি। ফলে প্রথম লেগে ২-১ গোলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা। আগামী ১১ এপ্রিল দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হবে এই দুই দল।

প্রত্যক্ষ রাজনীতির ইতি টানলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং

0

ভারতের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে অবসর নিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। সেই সাঙ্গে রাজ্যসভায় তার ৩৩ বছরের দীর্ঘ সংসদীয়, রাজনৈতিক সময়ের ইতি টানলেন ৯১ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনৈতিকবিদ।

প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে তাকে আর দেখা যাবে না।

কংগ্রেসের সিনিয়র এই নেতা ভারতের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেনি। সরাসরি রাজ্যসভায় জিতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন মনমোহন সিং। এর আগের এমনই দুই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী এবং ইন্দর কুমার গুজরাল।

পাঞ্জাব এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্নাতক তিনি। ১৯৯১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসীমা রাওয়ের মন্ত্রিসভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। মনমোহন যখন অর্থমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তখন ভারত অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করছিল। সে সময় ভারতীয় অর্থনীতিকে সমাজবাদী অর্থনীতি থেকে মুক্ত পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে পরিবর্তিত করার সিদ্ধান্ত নেন মনমোহন।

১৯৯১ সালের অক্টোবরে আসাম থেকে প্রথম রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ১৯৯৫, ২০০১, ২০০৭ এবং ২০১৩ সালে পরপর পাঁচবার আসাম থেকে রাজ্যসভায় সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হন তিনি, সেই মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল।

তবে এরই মাঝে গত ১৯৯৯ সালে দক্ষিণ দিল্লি আসন থেকে কংগ্রেসের হয়ে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ের মুখ দেখেননি তিনি। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ কেন্দ্রে বিজেপি সরকার থাকাকালীন সময়ে রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন তিনি।

প্রথম মেয়াদে ২০০৪ থেকে ২০০৯ এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন সিং।

ভারতের অর্থনৈতিক উদারীকরণের স্থপতি এবং ২০০৮ সালে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তিকে সফল রূপ দেওয়া ড. মনমোহন সিং-এর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার দেশের অর্থনৈতিক সংকটমোচন, দরিদ্র চাষিদের ঋণ মওকুফ, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ও শিল্পমুখী অর্থনীতি এবং কর ব্যবস্থার দিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করে।

ভারতের মতো একটি হিন্দু প্রধান দেশে প্রথম অহিন্দু ও শিখ ধর্মালম্বী প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তার ভদ্রতা ও অমায়িক ব্যবহারের জন্য পরিচিত ছিলেন। ১৯৮২ সালে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত এই পদে আসীন ছিলেন। সেসময় ভারতের অর্থমন্ত্রী ছিলেন প্রণব মুখার্জি। স্বভাবতই প্রণব মুখার্জিকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতেন মনমোহন সিং। কিন্তু এরপর যখন ভারতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট’ (ইউপিএ) ক্ষমতায় আসে, সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন মনমোহন সিং। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পরও মুখার্জিকে ‘স্যার’ বলেই সম্বোধন করতেন। যাতে প্রচণ্ড বিব্রত বোধ করতেন মুখার্জি। একসময় সিং’কে জোর করে ‘স্যার’ বলা বন্ধ করিয়েছিলেন তিনি।

৩৩ বছরের বর্ণময় সাংসদ জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর সাবেক কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পি চিদাম্বরম (সেসময় ইউপিএ মন্ত্রিসভায় সিং অর্থমন্ত্রী ছিলেন) জানান, ড, মনমোহন সিং ৩৩ বছর আগে একটা মেষ শাবকের মতো রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তিনি যখন বুধবার(৩ এপ্রিল) রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ করে বেরিয়ে যাচ্ছেন, তখন সাংসদ, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তার কাজ ও কৃতিত্ব বহু বছর ধরে সিংহের গর্জনের মতো অনুরণিত হবে। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ ছিল যে আমি বহু বছর ধরে ড. মনমোহন সিং এর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।

মনমোহন সিংয়ের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের অভিমত, একটা যুগের অবসান হল। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, মনমোহন সিং সবসময় মধ্যবিত্ত এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী যুবকদের কাছে একজন ‘হিরো’ (নায়ক) হয়ে থাকবেন। কারণ আপনি হলেন শিল্পপতি এবং উদ্যোক্তাদের একজন নেতা এবং পথপ্রদর্শক এবং আপনার অর্থনৈতিক নীতির কারণেই দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন অসংখ্য মানুষ। তিনি আরো লেখেন, আপনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পরেও, আমি আশা করবো দেশের নাগরিকদের সাথে কথা বলার মধ্যে দিয়ে আপনি জ্ঞানের শিখা প্রজ্বলিত করে রাখবেন। আমি আপনার শান্তি, স্বাস্থ্য এবং সুখ কামনা করি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১০ বছরের কার্যকালের মেয়াদে একটা নড়বড়ে জোট পরিচালনা করেছিলেন সিং। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরেই সেই চুক্তির বিরোধিতা করে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয় বামেরা। কিন্তু ২০০৯ সালে সিপিআই(এম) নেতা সীতারাম ইয়েচুরির নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল যখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান তখন আফসোস করে ইয়েচুরিকে উদ্দেশ্য করে সিং বলেছিলেন ‘আমি আপনার পরামর্শ মিস করছি’।

রাজ্যসভা থেকে মনমোহন সিং-এর অবসর নেওয়ার পর সেই ইয়েচুরি জানিয়েছেন, রাজ্যসভায় সিং যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন আমি সেসময় সংসদে প্রবেশ করি। তিনি অত্যন্ত সুপঠিত এবং তার যুক্তিগুলো তথ্য এবং জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে ছিল। ২০১৮ সালে নোট বাতিল হওয়ার পর আমি তখন এই ইস্যুতে সংসদে বক্তব্য রাখছিলাম। সিং তখন বলেছিলেন যে নোটবাতিলের ফলে জিডিপি ২ শতাংশ হ্রাস পাবে। পরবর্তীতে তার সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়েছিল।

মনমোহন সিং ছাড়াও ২ ও ৩ এপ্রিল একাধিক সাংসদ রাজ্যসভা থেকে অবসর নিয়েছেন। যাদের মধ্যে অন্যতম কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিংভি, বিজেপি নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকড়, বিহারের সাবেক উপ মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেতা সুশীল কুমার মোদি, বিজেপির অনিল বালুনি, সমাজবাদী পার্টির জয়া বচ্চন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী রাজিব চন্দ্রশেখর, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ মন্ত্রী নারায়ন রানে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলিধরণ, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এল মুরুগাণ প্রমুখ।

এদের মধ্যে অশ্বিনী বৈষ্ণব ও মুরুগাণকে পরবর্তী আরেকটি মেয়াদের জন্য রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে বিজেপি। অন্যদিকে জয়া বচ্চনকে আরেকটি মেয়াদে রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে সমাজবাদী পার্টি।

সবার চূড়ায় আর্জেন্টিনা, পিছিয়েছে বাংলাদেশ

0

ফিফা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ণ রেখেছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তাদের পূর্বের অবস্থান ধরে রাখলেও পিছিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া সেরা দশে পরিবর্তন এসেছে তিনটি জায়গায়। উন্নতি হয়েছে বেলজিয়াম এবং পর্তুগালের।

আজ (বৃহস্পতিবার) হালনাগাদকৃত র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ অভিভাবক সংস্থা ফিফা।

২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর গত বছরের এপ্রিলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে টপকে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠে আসে আর্জেন্টিনা। এরপর থেকেই শীর্ষে আছে লিওনেল মেসির দল। দ্বিতীয়স্থান ধরে রেখেছে ফ্রান্স। তবে ইংল্যান্ডকে চারে ঠেলে তিনে উঠে এসেছে বেলজিয়াম। পাঁচেই আছে ব্রাজিল।

সেরা দশে একধাপ উন্নতি হয়েছে পর্তুগালের। নেদারল্যান্ডসকে সাতে ঠেলে ছয়ে উঠে এসেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। সেরা দশের বাকি তিন জায়গা স্পেন, ইতালি ও ক্রোয়েশিয়ার।

এদিকে, সবশেষ ফিফা উইন্ডোতে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের দুটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। প্রথম লেগে ৫-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছে জামাল ভূঁইয়ারা। আর তার ছাপ পড়েছে র‌্যাংকিংয়েও। ১৮৩ থেকে ১৮৪তে নেমে গেছে হাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যরা।

এর আগে, গেল বছরের অক্টোবরে ১৮৩তে উঠেছিল বাংলাদেশ। এরপর টানা ছয় মাস ধরে রাখে সেই অবস্থান। ফিলিস্তিনের বিপক্ষে টানা দুই হারে এক ধাপ অবনমন হলো বাংলাদেশের।

রুমায় সোনালী ব্যাংকের ভল্ট ভাঙতে পারেনি সন্ত্রাসীরা : সিআইডি

0

বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনায় সন্ত্রাসীরা ভল্ট ভাঙতে পারেনি বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত দল-সিআইডি।

বুধবার কক্সবাজার থেকে তদন্তে যাওয়া সিআইডির এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

সিআইডির চট্টগ্রাম রেঞ্জের কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ নেওয়াজ খালেদ জানান, কক্সবাজার থেকে ক্রাইম সিনের দুটি তদন্ত দল ব্যাংকের সব আলামত সংগ্রহ করেছে। ভল্টের সব টাকা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখানে ভল্টে যে টাকা রাখা হয়েছে মোট এক কোটি ৫৯ লাখ টাকা ৪৬ হাজার। ভল্টে সব টাকাই আছে। ভল্ট ভাঙতে পারেনি। অক্ষতই আছে। একটা ভল্টে দুটো চাবি ছিলো।

মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি সশস্ত্র দল রুমাতে সোনালী ব্যাংকে হামলা চালায়।

সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে ১৪টি অস্ত্র লুট করে এবং সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নিজাম উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার দুপুরে থানচিতে সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে হামলা চালিয়ে ডাকাতি করেছে পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। সেখানে ব্যাপক গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলি চালাতে চালাতে ব্যাংক দুটির শাখায় প্রবেশ করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

ব্যাংকে ডাকাতির সঙ্গে পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফ সন্ত্রাসীরা জড়িত বলে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ধরতে এবং অপহৃত ম্যানেজারকে উদ্ধারে যৌথ অভিযানে নেমেছে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সংগঠনটি একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল চায়। যা ‘কুকি-চিন রাজ্যে’ নামে পরিচিত হবে। যেখানে চাকমা,মারমা ও ত্রিপুরারা থাকবে না। থাকবে বম, খিয়াং, পাংখুয়া, লুসাই, খুমি ও ম্রোরা।

পাহাড়ে তাদের আস্তানায় জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কীয়ার সদস্যরা সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছিলো বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এর আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলো।

সেই আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত বছর অভিযান চালিয়ে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কীয়া ও কেএনএফের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

কেএনএফ সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা মারমার নেতৃত্বে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা’ কমিটি গঠন করা হয় গত বছরের মে মাসে। ওই কমিটির সঙ্গে ৫ মার্চ দ্বিতীয় দফা বৈঠক হয় বেথেলপাড়ায়। রুমার উপজেলা পরিষদ বেথেলপাড়ার কাছেই অবস্থিত।

রুমা শাখার সোনালী ব্যাংকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা হামলা চালিয়ে কর্মচারী-কর্মকর্তাদের পকেট ও ড্রয়ারে থাকা টাকা নিয়ে যায়। বুধবার পর্যন্ত ওই শাখার ব্যবস্থাপকের কোনো সন্ধান মেলেনি।

ব্যাংক ডাকাতির পর বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি ব্যাংকের পাশাপাশি পাশের মসজিদও পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

থানচি শাখার কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার হ্লা সুই থোয়াই মারমা জানান, তার শাখা ব্যাংক থেকে মোট আড়াই লাখ টাকা খোয়া গেছে। তাছাড়া সোনালী ব্যাংকের শাখা থেকে ১৫ লাখ খোয়া গেছে বলে জানিয়েছে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন।

উড়ে গেল অ্যাস্টন ভিলা

0

ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকিট প্রত্যাশী অ্যাস্টন ভিলাকে উড়িয়ে নিজেদের শিরোপার দৌড়ে রাখল ম্যানচেস্টার সিটি। এ জয়ের ফলে ৩০ ম্যাচ শেষে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে সিটিজেনরা, দুইয়ে থাকা লিভারপুলের পয়েন্টও ৬৭। ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার শীর্ষে আর্সেনাল। ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে অ্যাস্টন ভিলা আছে চারে।

বুধবার (৩ এপ্রিল) উনাই এমেরির দলকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে সিটি। ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি একটি গোল করেছেন রদ্রি। ভিলার একমাত্র গোলটি জন ডুরানের।

নিজেদের মাঠে ১১ মিনিটেই রদ্রির গোলে এগিয়ে যায় ম্যানচেস্টার সিটি। ২০ মিনিটে সমতায় ফিরে অ্যাস্টন ভিলা। ব্যবধান ২-১ করে বিরতিতে যায় স্বাগতিক দল। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তের ওই গোলটি ফোডেনের। ৬২ মিনিটে জোড়া গোল পূর্ণ করেন ফোডেন। তাকে গোলে সহায়তা করেন রদ্রি। এর ৭ মিনিট পর হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ২৩ বছর বয়সী ইংলিশ ফুটবলার। প্রিমিয়ার লিগে এটা তার তৃতীয় হ্যাটট্রিক।

বয়স ২৪ হওয়ার আগে প্রিমিয়ার লিগে ফোডেনের চেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক করেছেন আর মাত্র চারজন। বয়স ২৪ হওয়ার আগে রবি ফাওলার ও মাইকেল ওয়েন দুজনই ৭টি করে হ্যাটট্রিক করেছেন, হ্যারি কেন ৬ ও আরলিং হলান্ড করেছেন ৫ হ্যাটট্রিক।

ফের হোয়াটসঅ্যাপ-ইনস্টাগ্রাম বিভ্রাটের অভিযোগ

0

জনপ্রিয় মেসেজিং ও আইপি সেবা প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো গ্রাহক। বুধবার (৩ এপ্রিল) তারা এই সমস্যায় পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন।

বুধবার (৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টার দিকে অনলাইনে বিভিন্ন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ওপর নজরদারি করা সংস্থা ডাউন ডিটেক্টরের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

ডাউন ডিটেক্টর জানায়, হোয়াটঅ্যাপ ব্যবহারে সমস্যায় পড়েছেন এমন অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১২ হাজার ব্যবহারকারী। এছাড়া ভারতের ২০ হাজারের বেশি, যুক্তরাজ্যের প্রায় ৪৬ হাজার এবং ব্রাজিলের ৪২ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী হোয়াটঅ্যাপ ডাউনের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন।

এদিকে হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় চার হাজার ৮০০ ব্যবহারকারী ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে সমস্যার মুখোমুখী হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

তবে রয়টার্সের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্ল্যাটফর্মের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে গত ৫ মার্চ ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামে বিভ্রাট দেখা দেয়। বাংলাদেশ সময় ওইদিন রাত সোয়া ৯টার দিকে এসব প্ল্যাটফর্মে বিভ্রাট দেখা দেয়। এক ঘণ্টা পর ব্যবহারকারীরা পুনরায় ঢুকতে পারেন।

সবার জন্য স্বাস্থ্যের অধিকারকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আহবান সায়মা ওয়াজেদের

0

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ সবার জন্য স্বাস্থ্যের অধিকারকে বাস্তবে রুপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য মানবাধিকারের অধিকারকে এগিয়ে নিতে ডাব্লিউএইচও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে তিনি এই আহ্বান জানান।

আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই বছরের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হল ‘আমার স্বাস্থ্য, আমার অধিকার’ (মাই হেলথ, মাই রাইট)। বিশ্ব এখন রোগব্যাধি, বিপর্যয় থেকে সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ একাধিক সঙ্কটের মুখোমুখি। মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকার উপলব্ধি করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যের অধিকার উপলব্ধি করার অর্থ হল এমন পরিবেশ তৈরি করা যেখানে প্রত্যেকে সর্বত্র উচ্চমানের স্বাস্থ্য সুবিধা, পরিষেবা এবং পণ্যগুলোর সুযোগ গ্রহণ করতে পারে যা জনগণের চাহিদা, বোঝাপড়া এবং মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়।’

‘এটি অধিকারের একটি সম্পূর্ণ সেটকে বোঝায় যা মানুষকে স্বাস্থ্যকরভাবে বাঁচতে সক্ষম করে। যেমন শিক্ষা, নিরাপদ পানি এবং খাদ্য, পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত বাসস্থান, ভাল কর্মসংস্থান, পরিবেশগত অবস্থা এবং তথ্য-যা সুস্বাস্থ্যের অন্তর্নিহিত নির্ধারক।’

আঞ্চলিক পরিচালক জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যের অধিকার পূরণের জন্য, স্বাস্থ্য সেবা এবং অন্তর্নিহিত নির্ধারক উভয়ই উপলব্ধ, প্রাপ্তিযোগ্য, গ্রহণযোগ্য এবং পর্যাপ্ত মানের হওয়া উচিত।

সায়মা ওয়াজেদ বলেন, ‘মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সর্বোচ্চ অর্জনযোগ্য মান-অথবা স্বাস্থ্যের অধিকার বিশ্বব্যাপী এবং অঞ্চলে ‘হু’র মিশনের মূল বিষয়। এটা ডব্লিউএইচও-এর সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, ‘তবে, অগ্রগতি সত্ত্বেও, ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে সবার জন্য স্বাস্থ্যের অধিকারকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য আমাদের এখনও যথেষ্ট উপায় রয়েছে।’

ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যার প্রতিষ্ঠার ৭৬ তম বছর উদযাপন করার সাথে সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চল স্বাস্থ্যের অধিকারের বিষয়ে অনেক অর্জন দেখেছে এবং অনেক কিছু উদযাপন করতে পারে।

ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ সার্ভিস কভারেজ সূচক ২০১০ সালে ৪৭ থেকে ২০২১ সালে ৬২-তে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে মেডিকেল, ডাক্তার, নার্স এবং মিডওয়াইফদের গড় ঘনত্ব প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার ২৮.০৫ এ দাঁড়িয়েছে। যা ২০১৫ সালের পর থেকে ৩০.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই অঞ্চলটি ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হারের অনুপাত হ্রাস পেয়েছে ৬৮.৫%। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যু হার ২০০০ সালে প্রতি হাজারে জীবিত জন্মে ৮৪ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ২০২১ সালে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০০০ সালে নবজাতকের মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৪১ জন থেকে হ্রাস পেয়ে ২০২১ সালে দাঁড়িয়েছে ১৭ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ ২৫ শতাংশ এবং ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ৬২শতাংশ কমেছে।

স্বাস্থ্যের অধিকারের প্রতি বিশ্বব্যাপী প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এই অঞ্চলের প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলোর কভারেজের অভাব রয়েছে। সরকার গুলোর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ, যা স্বাস্থ্যের অধিকারকে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি হওয়া সত্বেও এটি অগ্রহণযোগ্যভাবে কম। যার ফলে চিকিৎসা ব্যয় বেশি হয়েছে। যার ফলে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে আর্থিক অসুবিধার সম্মুখীন পরিবারের অনুপাত বাড়ছে।

২০১৫ সালের তুলনায় ২০২১ সালে এই অঞ্চলে যক্ষায় মৃত্যুর হার ৮.৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। চারটি প্রধান রোগ- কার্ডিওভাসকুলার, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ থেকে ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সের মধ্যে মৃত্যু হার এখন ২১.৬ যা অগ্রহণযোগ্যভাবে উচ্চ হার।

দরিদ্রতম এবং ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধার সম্মুখীন হয়। প্রায়শই তাদের স্বাস্থ্য এবং সুস্থ্যতার জন্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। দরিদ্র জীবন মানের কারণে তাদের যতেœর অভাব তাদের বেশি রোগ এবং মৃত্যুর জন্য দায়ী।

আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, লিঙ্গ বৈষম্য অসংক্রামক স্বাস্থ্য অবস্থার নির্ণয় এবং চিকিৎসার ন্যায়সঙ্গত সুবিধাকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ- পুরুষদের তুলনায় রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যাওয়া মহিলাদের একটি উচ্চ অনুপাতের চিকিৎসা করা হয় না। এই রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ব্যবধান উচ্চ রক্তচাপের জন্যও দেখা যায়।

নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং একটি অগ্রাধিকার জনস্বাস্থ্য সমস্যা-ব্যাপক রয়ে গেছে। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন নারী তাদের জীবনে অন্তত একবার অন্তরঙ্গ সঙ্গীর সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন। যেখানে গ্রামীণ ও অশিক্ষিত মহিলারা এবং সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের লোকেরা উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চ ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।

অনেকে এখনও টিবি, এইচআইভি/এইডস, অক্ষমতা বা মানসিক অসুস্থতার মতো কিছু স্বাস্থ্যগত অবস্থার সাথে কলঙ্কের সম্মুখীন হতে হয়। তারা তাদের লিঙ্গ, শ্রেণী, জাতি, ধর্ম, যৌন উন্মাদনা বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বৈষম্যের শিকার হয়।

ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ বলেন, সাম্য এবং বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যের জন্য মানবাধিকার-ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির মূল বিষয় মানবাধিকার-ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করে অংশগ্রহণের নীতিকে মেনে চলতে হয়।

তিনি বলেন, ‘হিউম্যান রাইটস-ভিত্তিক পদ্ধতির সাথে জবাবদিহিতাও অবিচ্ছেদ্য: উদাহরণস্বরূপ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা বা তাদের চাহিদা পূরণের জন্য স্বাস্থ্য কর্মসূচির বিষয়ে প্রভাবিত গোষ্ঠী এবং সম্প্রদায়ের কাছে রিপোর্ট করা।’
আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও অন্যান্য মানবাধিকারের অধিকারকে সম্মান করা, রক্ষা করা এবং পূরণ করা এবং তাদের প্রগতিশীল উপলব্ধি নিশ্চিত করার জন্য সব সরকার এবং অন্যান্য কর্তাদের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতির কভারেজের ভিত্তিতে সরকারগুলোকে স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সার্বজনীন স্বাস্থ্যকে এগিয়ে নিতে হবে।’

ভাল আইনগুলো আরও কার্যকরভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সুরক্ষা করতে পারে, উন্নত পুষ্টি স্থূলতা এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, ন্যায্য এবং সমান কাজের পরিস্থিতি এবং আরও অনেক কিছুর ভিত্তি স্থাপন করতে পারে।

তিনি বলেন, সবার জন্য ভালো মানের স্বাস্থ্য সেবা আরও সহজলভ্য, গ্রহণযোগ্য করা দরকার।