Home Blog Page 9

১৪ ঘন্টায় তানজিমের রেকর্ড ভাঙলেন ফার্গুসন

0

আজ ভোরে নেপালের বিপক্ষে ৪ ওভার বল করে ২১টি ডট বল দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের কোটা পূর্ণ করার সময় সবচেয়ে বেশি ডট বল করার রেকর্ড গড়েছিলেন তানজিম হাসান সাকিব। ৪ ওভার বল করে ২১টি ডট দিয়ে তিনি শিকার করেন ৭ রানে ৪ উইকেট। বিশ্বকাপে তার সেই ডট বলের রেকর্ড স্থায়ী হয়েছে মাত্র ১৪ ঘন্টা। নিউজিল্যান্ডের বোলার লকি ফার্গুসন ৪ ওভার বল করে পুরো কোটার সবকটি বল ডট দিয়ে ভেঙে দিয়েছেন সাকিবের রেকর্ড। এই সময় তিনি শিকার করেন ৩টি উইকেট।

সোমবার (১৭ জুন) পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে চার ওভার বল করে চার ওভারই মেডেন দেন এই গতিতারকা। তার করা চার ওভার থেকে দুটো লেগ বাই ছাড়া কোনো রান আদায় করতে পারেনি পিএনজির ব্যাটাররা। এই দুই বাই রান অতিরিক্ত রানের খাতায় যোগ হয় বলে ফার্গুসনের নামের পাশে যোগ হয়নি কোনো রান। ফলে কানাডার অধিনায়ক সাদ বিন জাফরের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পুরো চার ওভার মেডেন দেওয়ার রেকর্ড গড়েন এই পেসার। আর বিশ্বকাপে প্রথম বোলার হিসেবে পুরো চার ওভারই মেডেন দেওয়া প্রথম বোলার এই কিউই পেসার।

পঞ্চম ওভারে বল করতে এসে প্রথম বলেই ফেরান পিএনজির অধিনায়ক আসাদ ভালাকে। স্লিপে ক্যাচ দেন ড্যারিল মিচেলকে। সেই ওভারে বাকি পাঁচ বল খেলেন শেশে বাও, তিনি নিতে পারেননি কোন রান। সপ্তম ওভারে আবারও উইলিয়ামসন বল তুলে দিলে আস্থার প্রতিদান দেন আরেকটি মেডেন ওভারে। এবারও ব্যাটার ছিলেন শেশে বাও। বারোতম ওভারে আরেকবার আক্রমণে এসে দ্বিতীয় বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন চার্লস আমিনিকে। তিনি খেলেন সেই ওভারে দুই বল। বাকি চার বল খেলে হিরি হিরি কোনো রান যোগ করতে ব্যর্থ হলে ফার্গুসন পেয়ে যান তৃতীয় মেডেন। চৌদ্দতম ওভারের দ্বিতীয় ওভারে চাদ সোপারকে বোল্ড করে নিজের তৃতীয় উইকেট শিকার করেন এই পেসার। পরের বলে লেগ বাইতে দুই রান পেলেও সেটি যায় অতিরিক্তের খাতায়। কিপলিন দোরিগা বাকি তিন বল খেলে ব্যর্থ হন একটি রানও নিতে। ফলে ইতিহাস গড়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম বোলার হিসেবে চারটি মেডেন তথা চব্বিশ বল ডট দেওয়ার রেকর্ড গড়েন লকি ফার্গুসন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে পানামার বিপক্ষে কানাডার অধিনায়ক সাদ বিন জাফর পানামার বিপক্ষে চারটি মেডেন দিয়ে শিকার করেন দুই উইকেট। সেটি ছিল আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনো বোলার প্রথম চার মেডেন ওভার করার রেকর্ড।

ফিলিস্তিনসহ সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

0

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিদেরকে ফিলিস্তিনসহ দেশের দারিদ্র পীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি দেশের বিত্তবান ও সচ্ছল ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কেউ যাতে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় সে লক্ষ্যে সমাজের দারিদ্র পীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ান।’

আজ বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা ভাষণে রাষ্ট্র প্রধান দেশবাসীকে ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনের গাজাসহ বিশ্বের অনেক স্থানে মানুষ অনাহারে, অর্ধাহারে, বিনা চিকিৎসায় ও স্বজনহারা বেদনায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের কথাও আমাদের ভাবতে হবে।’

সম্প্রতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রিমেলের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘অনেকেরই ইচ্ছা থাকলেও কোরবানি করতে পারছে না। ঘূর্ণিঝড়ে সহায়-সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।’

তাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে এবং ঈদের খুশিতে তারাও যাতে শরিক হতে পারে সে চেষ্টা চালাতে ও নির্দেশনা দেন মো. সাহাবুদ্দিন।

মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনি দেশ-বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ঈদ-উল-আযহা মানুষের মধ্যে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে এবং সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়।

তিনি বলেন, ‘হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবার মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেই। পশু কোরবানির সাথে সাথে যাতে আমরা অন্তরের কলুষতা, হিংসা, বিদ্বেষ পরিহার করতে পারি- মহান আল্লাহর দরবারে এ প্রার্থনা করছি।’

মশা-মাছি ও বিভিন্ন রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে কোরবানির পর বাড়ির আশে-পাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার ও তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি কোরবানির বর্জ্য সময়মতো সরিয়ে নিতে সিটি কর্পোরেশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।

এরআগে রাষ্ট্রপতি ও তার স্ত্রী ড. রেবেকা সুলতানা ঈদুল আজহা উপলক্ষে বঙ্গভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যরা এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সচিবরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্য, সিনিয়র রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিচারক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, কবি, লেখক, শিক্ষক এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

চামড়ার দাম কিছুটা বেড়েছে

0

গত কয়েক বছর কোরবানির ঈদে চামড়া নিয়ে কেঁদেছেন অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী। ফলে এবার কমেছে মৌসুমি ব্যবসায়ীর সংখ্যা। আবার আড়ৎদারের কাছে দাম পেতে শুরু করেছে কোরবানির গরুর চামড়া।

সোমবার (১৭ জুন) ঈদের দিন রাজধানীর পোস্তগোলায় দেখা গেছে, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে এসে ফিরছেন হাসিমুখে। তাদের একজন মো. আমির হোসেন।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. আমির হোসেন এক ট্রাক চামড়া নিয়ে এসেছেন পোস্তায়। এবার গরুর চামড়া বিক্রি করে হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়নি।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আমির হোসেন বলেন, ‘দাম ঠিক আছে। ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম দিতাছে। সাইজ যেইটা ভালো, সেটা আর একটি বেশি দিতাছে।’

আমির হোসেন ছাড়াও বেশ কয়েকজন মৌসুমি ব্যবসায়ী গরুর চামড়া বিক্রি করে প্রত্যাশিত দাম পেতে দেখা গেছে।

এদিকে, আড়ৎদারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এবার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। রাজধানী ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মাদরাসা থেকেই আসছে বেশির ভাগ চামড়া।

চামড়ার আকার ও অবস্থা দেখে দাম নির্ধারণ করছেন আড়ৎদাররা। সেক্ষেত্রে ছোট আকার ও কাটাছেঁড়া চামড়া কেনা হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় কেনা হচ্ছে মাঝারি আকারের চামড়া। বড় আকারের চামড়া কিনতে আড়ৎদাররা ৯০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত গুনছেন।

আড়ৎদার ও বিক্রেতাদের ভাষ্যমতে, এই দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি।

উল্লেখ্য, এবার সরকারিভাবেও চামড়ার দাম বাড়ানো হয়েছে৷ লবনযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। যা গত বছর ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

ঈদের পর লম্বা ছুটিতে যাচ্ছেন মোশাররফ করিম

0

সম্প্রতি ঈদের কাজ ও ঈদ পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মোশাররফ করিম। তিনি জানান, টানা কাজের জন্য বেশ ব্যস্ততার মাঝে আছেন এই অভিনেতা। কিন্তু তারপরও সবকিছু মানিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে মোশাররফ করিম বলেন, ‘এখন ঈদের জন্য টানা কাজ করে যেতে হচ্ছে। বিশ্রামের খুব একটা সময় পাই না। তবে কোরবানির ঈদের পর বড় একটা ছুটি নেব। তখন একটানা হয়তো ১০-১৫ দিন কাজে থাকব না। সময়টা নিজেকে দেব, পরিবারের সঙ্গেই থাকব।’

ঈদে ওটিটির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন মোশাররফ করিম। এ প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, ‘নুহাশ হুমায়ূনের সঙ্গে কাজ করলাম। কিছু কাজ বাকি আছে। কিন্তু কাজটি নিয়ে আমি খুবই আনন্দিত। সিরিজ ও সিনেমার কাজ করেছি। সামনে আরও কিছু করব। সময় হলেই সব জানাব।’

মোশাররফ করিম ১৯৯৯ সালে এক পর্বের নাটক ‘অতিথি’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে ছোট পর্দায় আগমন করেন। ২০০৪ সালে আমজাদ হোসেন রচিত উপন্যাস অবলম্বনে তৌকির আহমেদ নির্মিত ’জয়যাত্রা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সিনেমা জগতে পা রাখেন মোশাররফ করিম।

২০২১ সালে টলিউড অভিনেতা ও নির্মাতা ব্রাত্য বসু পরিচালিত ‘ডিকশনারি’ ছবিতে অভিনয় করে টালিগঞ্জে যাত্রা শুরু করেন মোশাররফ করিম। চলতি বছর মুক্তি পাওয়া একই পরিচালকের ‘হুব্বা’ চলচ্চিত্রে কাজ করে আলোচনায় আসেন তিনি।

রাজধানীতে কোরবানি দিতে গিয়ে আহত ২০০

0

রাজধানীতে কোরবানি করতে গিয়ে গরুর লাথি ও গুঁতা খেয়ে হাত ও পায়ের হাড় ভেঙে আহত হয়েছেন অনেকে। আবার অনেকের হাত-পায়ের রগ কেটে গেছে। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন এসেছেন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (নিটোর) চিকিৎসা নিতে। চিকিৎসা দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার (১৭ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানি করতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ডেমরার মুক্তার হোসেন, সকাল ৯টার সময় জবাইকারী ব্যক্তি গরুর গলায় পোচ দিতে গিয়ে তার হাতের ওপর ছুরি চালিয়ে দিয়েছেন। এতে তার ডান হাতের রগ কেটে গেছে। দ্রুত অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে অসহায় হয়ে পড়েছেন।

মুক্তার হোসেন বলেন, ঢাকা মেডিকেল থেকে বলা হয়েছে সেখানে রগের কাজ করা হচ্ছে না। রগের সেলাই দেয়া হচ্ছে না। পঙ্গু হাসপাতাল থেকে বলেছে-সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় লাগবে। এখন কোথায় যাবো কী করবো?

মৌসুমি কসাই মোয়াজ্জেম হোসেন এসেছেন মুন্সিগঞ্জ থেকে। গরু কোরবানি করতে গিয়ে লাথি খেয়ে তার ডান পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। জরুরি বিভাগে কাতরাচ্ছেন তিনি। মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গরুর লাথিতে ডান পা ভেঙে একদম পায়ের হাড্ডি বের হয়ে গেছে।

মিরপুর-১ নম্বর থেকে এসেছেন সেলিম মিয়া। গরুর গুঁতা খেয়ে পাঁজরের হাড় ভেঙেছে তার। জরুরি বিভাগে হুইল ট্রলিতে কাতরাচ্ছেন এই বয়ষ্ক মানুষ। সেলিম মিয়ার স্ত্রী বলেন, গরু জবাই দেয়ার সময় লাফ দিয়েছে। গরুর পায়ের লাথি খেয়ে ছিটকে পড়ে কোমরের হাড় ভেঙেছে।

সিএনজি অটোরিকশাচালক তামিম। বাড়তি লাভের আশায় গরুর চামড়া ছিলতে গিয়ে হাতে পোচ লেগেছে তার। ডান হাতের কবজি কেটে হাসপাতালে তিনি। এর পাশেই কাতরাচ্ছেন বাবুল মিয়া। তিনি মুগদা থেকে এসেছেন। তিনি বলেন, কসাই গরু জবাই করতে গিয়ে বাম পায়ে পোচ মারছে।

কোরবানির গরু জবাই করার সময় ছুরির আঘাতে হাতের রগ কেটে গেছে রাজধানীর আজিমপুরের যুবক মনোয়ারের। তার ডান হাতের ৪০ শতাংশ কেটে দুই ভাগ হয়ে গেছে।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (নিটোর) চিকিৎসক গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল থেকে ২০০ রোগীর চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ গরুর শিঙের আঘাত পেয়েছেন, আবার কেউ বা ছুরি চালাতে গিয়ে আঙুল কেটে ফেলেছেন। এ রকমই বেশি। কেউ আবার গরুর গুঁতা খেয়ে হাত-পা ভেঙেছেন।

এবার যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলেন নেতানিয়াহু

0

ছয় সদস্যকে নিয়ে গঠিত যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ইসরায়েলি এই নেতা রাজনৈতিক নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠক করে সোমবার (১৭ জুন) তিনি এ ঘোষণা দেন। খবর আল জাজিরা

নেতানিয়াহুর অতি ডানপন্থী জোটের অংশীদারগণ নতুন যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা গঠনের চাপ দিচ্ছেন। বেনি গ্যান্টজ যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাদের পর এ আবেদন আরও জোড়ালো হচ্ছে।

জাতীয়তাবাদি ধর্মীয় অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশের চাপ সত্ত্বেও গাজায় আরও অধিকা হামলা চালানোর দাবি জানিয়ে আসছে। এছাড়া তারা যুদ্ধকালীন নতুন মন্ত্রিসভা গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে।

তবে নেতানিয়াহু তাদের আবেদন প্রত্যাখান করেছে। গ্যান্টজের সঙ্গে যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার একটি চুক্তি ছিল। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করায় যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার প্রয়োজন নেই বলে জানান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য বলা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এখন গাজা যুদ্ধ নিয়ে মন্ত্রিদের একটি ছোট দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন। যাদের মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং কৌশলগত পররাষ্ট্রমন্ত্রী রন দারমার।

ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ১৫

0

পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জন হয়েছে। সোমবার (১৭ জুন) সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ফাঁসিদেওয়া রাঙ্গাপানি স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটিতে ধাক্কা দেওয়া মালগাড়ি চালক ও কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের গার্ডসহ ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৩০-৪০ জন। আহতদের উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কয়েক দিন ধরেই উত্তরবঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি চলছে। এই বৃষ্টির মধ্যেই নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে সোমবার সকালে নির্ধারিত সময়ে রওয়ানা দিয়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। নীচবাড়ি ও রাঙামাটি স্টেশনের মাঝে ঢুকতেই একটি মালগাড়ি পিছন দিক থেকে ট্রেনটিকে ধাক্কা মারে। আর তাতেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পেছন দিক থেকে পরপর দুটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে উলটে যায়। দুমড়েমুচড়ে গেছে অসংরক্ষিত কামরা। সেখানে আটকে পড়েছেন অসংখ্য যাত্রী।

এখনো কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের ট্রেনটির একটি কামরা মাল গাড়ির ইঞ্জিনের উপর বিপদজনকভাবে ঝুলে আছে। সেটি দ্রুততার সঙ্গে সরানোর কাজ চলছে। তাই বিপদ এড়াতে ওই এলাকা থেকে যাত্রী ও স্থানীয়দের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শিয়ালদহ স্টেশনে হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।

জানা গেছে, ভারতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হয়েছে। নিহত সবার পরিবারকে ১০ লাখ রুপি ও আহতদের আড়াই লাখ রুপি ও স্বল্প আহতদের ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ড থেকেও হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই ফান্ড থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি ও আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

এদিকে, এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বজনহারা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, রেল দুর্ঘটনায় যারা নিজেদের ভালোবাসার মানুষ হারিয়েছেন, সেই পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইলো। আমি প্রার্থনা করছি, আহতদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হোক। উদ্ধার কার্য চলছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘটনা স্থলে যাচ্ছেন।

যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশব্যাপী উদযাপিত পবিত্র ঈদুল আজহা

0

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা।

সোমবার (১৭ জুন) মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদের জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ অনুযায়ী পশু কোরবানি দেন। নামাজ শেষে মুসল্লিদের অনেকে কবরস্থানে গিয়ে মৃত বাবা-মাসহ স্বজনদের জন্য দোয়া করেন। চিরবিদায় নেয়া স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

ঈদুল-আজহা উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানদের আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

এবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৭টায়। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত ঈদের এই প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন।

উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ঈদগাহ ময়দান কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ঈদুল আজহার ১৯৭তম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল নয়টায়। ঈদ জামাতে লক্ষাধিক মুসল্লি অংশ নেয়। জামাতে ইমামতি করেন জেলা মারকাজ মসজিদের খতিব মাওলানা হিফজুর রহমান খান।

ঈদগাহ ময়দানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বিশিষ্টজনরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

প্রতিবছরের মতো এবারও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয়। শেষ জামাত হয় বেলা পৌনে ১১টায়।

এছাড়া সারাদেশে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভায় নিজ কর্মসূচি প্রণয়ন করে ঈদ উদযাপন করেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি গণমাধ্যমসমূহ যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে।

ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সকল হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহে যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছে।

কুরবানীকৃত পশুর রক্ত বা বর্জ্য পদার্থ দ্বারা যাতে পরিবেশ দুর্গন্ধময় না হয় সে- বিষয়ে সকল প্রকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

প্রায় চার হাজার বছর আগে মহান আল্লাহ্ পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইবরাহিম (আ.) নিজ পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) কে কোরবানি করার উদ্যত হন। কিন্তু পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্ রাব্বুল আ’লামিনের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়।

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকেন।

আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য মহান আল্লাহ্ কোরবানি ওয়াজিব বা অপরিহার্য করে দিয়েছেন। এজন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোরবানি করাই এ দিনের উত্তম ইবাদত। সেই ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় আজ দিনের শুরুতেই মসজিদে সমবেত হন এবং ঈদুল আজহার দু’রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন। নামাজের খুতবায় খতিব কোরবানির তাৎপর্য তুলে ধরেন।

জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হলেও পরের দুই দিনও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সামর্থবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ফরজ হলেও ঈদের আনন্দ থেকে দরিদ্র-দুঃস্থরাও বঞ্চিত হননি। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির সমুদয় অর্থ এবং কোরবানি দেওয়া পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ তাদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া হয়।

শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে লাখো মানুষের ঢল

0

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়ায় কঠোর নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণভাবে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ছিল ঈদুল আজহার ১৯৭তম জামাত। এতে জেলা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখো মুসল্লি অংশ নেয়। আজ সোমবার (১৭ জুন) সকাল ৯টায় শুরু হয় জামাত।

এতে ইমামতি করেন জেলা শহরের মার্কাস মসজিদের ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমান খান।

নামাজ শেষে মোনাজাতে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ, ফিলিস্তিন জনগোষ্ঠীর আত্মমর্যাদা ও তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন-গণহত্যা থেকে রক্ষায় দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি, মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য-ভ্রাতৃত্ব ও দেশের সুখ-সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা কামনা করা হয়। তা ছাড়া মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, সেই সব শহীদের আত্মার শান্তি কামনাসহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য দোয়া করা হয়।

জামাত শুরু হয় সকাল ৯টায়। কিন্তু ঈদুল আজহার ত্যাগের আদর্শ ও স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভের আশায় ভোর থেকে জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা আসতে থাকে শোলাকিয়ায়। কেউ গাড়িতে চড়ে, কেউ ইজি বাইকে, কেউ সাইকেলে, কেউ বা হেঁটে। চারদিক থেকে আসা মানুষের ঢল যেন মিশে যায় শোলাকিয়া মাঠে।

জামাত শুরুর আগেই হাজার হাজার মুসল্লির পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে ঈদগাহ মাঠ। এ সময় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জামাতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান, পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিকসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়।

শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি জানায়, এ ঈদে কোরবানির ব্যস্ততা থাকায় সাধারণত ঈদুল ফিতরের মতো লোকসমাগম হয় না। এর পরও ঐতিহ্য ও সুনামের টানে বিভিন্ন এলাকার লাখো মুসল্লি জামাতে অংশ নিয়েছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকলেও ২০১৬ সালে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতের সময় জঙ্গি হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে এবারও বাড়তি নিরপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় মাঠে। ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের কাছে পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে পুলিশের দুই সদস্য, স্থানীয় এক নারী ও এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন।
ঈদের জামাতকে ঘিরে নজিরবিহীন কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় শোলাকিয়া ও আশাপাশের এলাকা। তিন স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হয়ে মুসল্লিদের ঢুকতে হয় ঈদগাহ মাঠে। প্রত্যেক মুসল্লির দেহ তল্লাশি করেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।

জানা গেছে, জামাত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে মাঠে দুই প্লাটুন বিজিবি, হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। তা ছাড়া এখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। সাদা পোশাকে নজরদারি করেছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ছিল নিরাপত্তাচৌকি। বসানো হয় সিসি ক্যামেরাও।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেছেন, ‘ঈদুল ফিতরের তুলনায় লোকসমাগম কম হলেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা মুসল্লিদের নিরপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তা ছাড়া মাঠে তৎপর ছিল বেশ কয়েকটি মেডিক্যাল টিম। স্বেচ্ছাসেবকরা মুসল্লিদের নানাভাবে সহযোগিতা করে।’

ঈদ জামাতে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। এর একটি ট্রেন ভোর পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে এবং অপর ট্রেনটি সকাল ৬টায় ভৈরব থেকে ছেড়ে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি নিয়ে কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়া মাঠের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।

শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঈদের জামাত সফল করতে জেলা প্রশাসন পৌরসভার সহযোগিতায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে জামাত সম্পন্ন হয়েছে। প্রচুর মুসল্লি অংশ নিয়েছেন জামাতে। প্রকৃতপক্ষে শোলাকিয়ার ঐতিহ্য ও সুনাম মুসল্লিদের টেনে আনে এখানে।

হোসেনপুরের সিদলা গ্রামে থেকে শোলাকিয়ার জামাতে এসেছেন এরশাদ উদ্দিন (৬০)। তিনি বলেন, ‘অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল, শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করব। এবার আমার আশা পূর্ণ হয়েছে। হাজারো মুসল্লির সঙ্গে নামাজ অংশ নিয়ে অনেক শান্তি পেয়েছি। ইচ্ছে ছিল আমার দুই সন্তানকে নিয়ে আসার। কিন্তু কোরবানির কাজকর্মের জন্য তাদের রেখে এসেছি। আগামীতে ছেলেদের নিয়ে জামাতে অংশ নেওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।’

তাড়াইলের শাহবাগ গ্রাম থেকে সাইকেল চালিয়ে শোলাকিয়ায় এসেছেন মো. কাঞ্চন ভূঁইয়া (৫৫)। তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে জঙ্গি হামলার দিন মাঠে ছিলাম আমি। সেদিন খুব ভয় পেয়েছিলাম। ভয় পেলেও মাঠ ছেড়ে যাইনি। জামাত শেষে বিকল্প পথে বাড়ি ফিরেছি। যত দিন বেঁচে আছি ঈদের জামাতটি এখানে পড়তে চাই।’

করিমগঞ্জ সদরের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ৩০ বছর ধরে ঈদের নামাজটি শোলাকিয়ায় আদায় করেন। করোনার কারণে মাঝের দুই বছর আসা হয়নি। তিনি বলেন, ‘শোলাকিয়ায় ঐতিহ্যবাহী একটি মাঠ। এখানে ঈদের নামাজ পড়লে অন্য রকম একটা অনুভূতি কাজ করে। একটা শান্তির আবহ তৈরি হয় শরীর-মনে। মূলত এই অনুভূতির টানেই বারবার এখানে আসি।’

তাদের মতো আরো কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, মুসল্লিদের বিশ্বাস, বেশি লোক একসাথে নামাজ আদায় করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। এই বিশ্বাসে এ জেলাসহ সারা দেশ থেকে লোকজন শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করতে আসেন।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ বলেন, ‘আমরা জানি ঈদের দিনে দূর-দূরান্তের লোকজন আসে, তাই তাদের যেন কোনো কষ্ট না হয়, সেভাবে আতিথ্য দেওয়া হয়েছে।’

রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর পাঁচ মিনিট আগে তিনটি, তিন মিনিট আগে দুটি এবং এক মিনিট আগে একটি বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুড়ে নামাজের জন্য মুসল্লিদের সংকেত দেওয়া হয়।

শোলাকিয়ার ঈদগাহের যাত্রা শুরু হয় ১৭৫০ সালে। তবে ১৮২৮ সালে প্রথম আনুমানিক সোয়া লাখ লোক শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তখন থেকে এই ঈদগাহসহ পুরো এলাকার নামকরণ হয় ‘শোলাকিয়া’।

যুদ্ধাহত-শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারে ফলমূল-মিষ্টান্ন পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

0

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যুদ্ধাহত ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ফলমূল ও মিষ্টান্ন পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (১৭ জুন) সকালে মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ.বি.এম. সরওয়ার-ই-আলম সরকার এসব পৌঁছে দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা বক্তব্য রাখেন। এরপর বক্তব্য রাখেন, এ.বি.এম. সরওয়ার-ই-আলম সরকার। বক্তব্য শেষে মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১ এর বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে পাঠানো ফলমূল ও মিষ্টান্ন মুক্তিযোদ্ধাগণের হাতে তুলে দেয়া হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা মুক্তিযোদ্ধারা মূল্যায়ন তো করেনি বরং নানাভাবে তাদের হয়রানি করেছে এবং অসম্মানিত করেছে। এটা করেই স্বৈরশাসকরা থেমে যায়নি, তারা ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে এদেশের গৌরবময় ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে।

তারা আরও উল্লেখ করেন, জাতির পিতার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ফিরিয়ে এনেছেন। সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক সম্মানের স্থানে আসীন করেছেন। যার ফলে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে তারা সবচেয়ে সন্তুষ্ট আছেন বলে তারা মনে করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে বিশ্বের দরবারে বিজয়ী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সকল মাপকাঠি পূর্ণ করেছেন। সামনের দিনগুলোতে তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধশালী এবং স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।