Home Blog Page 3498

টেকঅফের পরেই হাইওয়ের ওপর ভেঙে পড়ল প্লেন!

0

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে হাইওয়ের ওপর ভেঙে পড়ল একটি ছোট বিমান। রাস্তার ওপর পড়ে প্লেনটি একটি গাড়িতে ধাক্কা মারে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন চার জন।

বৃহস্পতিবা সকালে ১১.৩০ নাগাদ এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রিন্স জর্জ’স কান্ট্রি দমকল বিভাগের মুখপাত্র মার্ক ব্র্যাডি। ইউএস ৫০ হাইওয়ের ধারেই ছোট্ট বিমানবন্দর। টেক অফের পরেই বিমানটি হাইওয়ের ওপরে এসে পড়ে। তারপরেই সামনের একটি গাড়িকে ধাক্কা মারে প্লেনটি।

গাড়ির দুই আরোহীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের আঘাত গুরুতর। অল্পবিস্তর আহত হয়েছেন বিমানের দুই যাত্রী। বিমানের পাইলট জুলিয়াস টলসনের একটি ব্যক্তিগত প্লেন। বিমানে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তুরস্কে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৪

0

তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দিয়ারবাকিরে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে চারজন গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ১৩ জন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিয়ারবাকিরের কুল্প জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রদেশের গভর্নর কার্যালয় থেকে এ ঘটনার জন্য কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টিকে (পিকেকে) দায়ী করা হয়েছে।

গ্রামবাসীদের নিয়ে একটি গাড়ি করে সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় আগে থেকেই পুঁতে রাখা ওই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একটি গাড়ি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।

পিকেকে এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পিকেকের সংবাদ সংস্থা এএনএফ এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা সাতজন বলে দাবি করেছে।

কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে মাদক কারবারি’ নিহত

0

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম সুজন (৩২)। তিনি মাদক কারবারি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার মোল্লাতেঘরিয়া ক্যানেলপাড়ায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশের উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) চার পুলিশ আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

নিহত সুজন মোল্লাতেঘরিয়া ক্যানেলপাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন বন্দুকযুদ্ধের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাত ২টার দিকে আমরা শুনতে পাই- ক্যানেলপাড়ায় দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে উভয়ের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ গুলি চলে। এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে খোঁজ নিয়ে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান ওসি।

নিহত সুজনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওমর ফারুক হত্যা মামলার আসামি দুই রোহিঙ্গা নিহত

0

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তারা হলেন হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি ব্লকের রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মো. আব্দুল করিম ও নেছার আহমেদ ওরফে নেছার ডাকাত। এরা দুজনই স্থানীয় যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার আসামি।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটেছে। এ সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, জাদিমুড়া এলাকায় দুই শীর্ষ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী অবস্থানের খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশ আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার পর ঘটনাস্থল তল্লাশি করে দুই জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ডেঙ্গুতে বরিশাল ও বান্দরবানে ২ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ৭৫০

0

গতকাল ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গতকাল সকালে সুরাইয়া আক্তার (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রী বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সুরাইয়া বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পশ্চিম হারিটানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে স্থানীয় পদ্মা গ্রামের মো. বাদল মুন্সির মেয়ে।

আমাদের বরিশাল অফিস শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেনের বরাত দিয়ে জানায়, সুরাইয়াকে মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গতকাল সকাল ৭টার দিকে সে মারা যায়।

বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উহলাচিং মারমার স্ত্রী ডমেচিং মারমা বেবি (৩৫) গতকাল সকালে চট্টগ্রামের সিএসসিআর হাসপাতালে মারা গেছেন।

গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয় ৭৫০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, গতকাল সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর মধ্যে ঢাকায় ৭৫০ জন এবং ঢাকার বাইরে ৫১৩ জন। অন্যদিকে ঢাকায় ওই একই সময় হাসপাতাল ছেড়েছে ৩১৬ জন এবং ঢাকার বাইরে হাসপাতাল ছেড়েছে ৫৭০ জন।

গত ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৯ হাজার ৩৬৭ জন। আর হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৬ হাজার ১৪১ জন। গতকাল সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল তিন হাজার ২৯ জন।

মাইওয়ানের মিনিস্টার ফ্রিজ কারখানায় আগুন

0

গাজীপুরে মাইওয়ানের মিনিস্টার ফ্রিজ তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ৭টার দিকে সিটি করপোরেশনের ধীরাশ্রম এলাকায় অবস্থিত কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

খবর পেয়ে জয়দেবপুর ও টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, ধীরাশ্রম এলাকায় মাইওয়ানের মিনিস্টার ফ্রিজ তৈরি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে জয়দেবপুর ও টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। তিনি বলেন, আগুন কারখানার ছয়তলায় গুদামে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সূত্রপাত জানা যায়নি।

শুরু হলো ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ কার্যক্রম। পরীক্ষা চলবে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের মোট ৫৬টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। এ বছর ‘গ’ ইউনিটে এক হাজার ২৫০টি আসনের বিপরীতে ২৯ হাজার ৫৮ জন ভর্তীচ্ছু আবেদন করেছেন। আর চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের সাধারণ জ্ঞান অংশের ভর্তি পরীক্ষা আগামীকাল শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চারুকলা অনুষদসহ ক্যাম্পাসের ১৯টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। এই ইউনিটে ১৩৫টি আসনের বিপরীতে ১৬ হাজার একজন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

এ বছরই প্রথম ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষাও দিতে হচ্ছে। মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে এমসিকিউয়ের জন্য ৭৫ নম্বর, আর লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ নম্বর। ৯০ মিনিটের পরীক্ষায় এমসিকিউ অংশের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪০ মিনিট। তবে চ-ইউনিটে ৫০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য এক ঘণ্টা এবং ৭০ নম্বরের অংকন পরীক্ষায় ৯০ মিনিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে প্রার্থীকে নৈর্ব্যক্তিক অংশে ৩০ এবং লিখিত অংশে ১২ নম্বরসহ মোট ৪৮ নম্বর পেতে হবে। বিষয়ভিত্তিকভাবেও পরীক্ষার্থীদের পাস করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের admission.eis.du.ac.bd ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে ভর্তি পরীক্ষার সিট-প্ল্যান।

৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাৎঃ রমেক অধ্যক্ষসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. নুরুল ইসলাম ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিকের মালিক জাহের উদ্দিন সরকারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক ডা. মো. ফেরদৌস রহমান বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পূর্বানুমোদন ব্যতীত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারি যন্ত্র ও সরঞ্জামাদি ক্রয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে এসব যন্ত্রাদি ক্রয়ে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩০০ টাকা লোপাটের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. মো. নূর ইসলাম ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- রংপুর মেডিকেল কলেজের সহাকারী অধ্যাপক ডা. মো. সারোয়াত হোসেন, বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির (৫/ বি তোপখানা রোড) স্বত্বাধিকারী ডা. মো. জাহের উদ্দিন সরকার, আ. সাত্তার সরকার (জাহের উদ্দিনের আত্মীয়), জাহের উদ্দিনের ছেলে আহসান হাবিব এবং ইউনিভার্সেল ট্রেড কর্পোরেশনের (দিনাজপুর) স্বত্বাধিকারী আসাদুর রহমান।

দুদক রংপুর সমন্বিত কার্যালয়ে এ মামলার আবেদন করা হয়। দণ্ডবিধি ৪০৯/৪২০/৪৬৮/ ৪৭১/১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় এ মামলা করা হয়।

কীভাবে বুঝবেন আপনার সন্তান গ্যাং কালচারে জড়িত

0

ঘটনা এক:
ঢাকার একজন বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন লক্ষ্য করছিলেন যে, তার ছেলেটির আচরণ সম্প্রতি বেশ বদলে গেছে।
”সে ঠিক সময়ে বাসায় ফেরে না। স্কুল শেষ করেও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে চলে যায়, আসে অনেক রাতে। ওর মায়ের কাছে বেশি হাতখরচের টাকার জন্য বায়না করে।”
”আমি ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকি, বাসায় সময় কত দিতে পারি? কিন্তু স্কুল থেকে অভিযোগ আসার পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারি, আরো কয়েকজন ছেলের সঙ্গে মিলে অন্য একজনকে মারধর করেছে। এটা জেনে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।”
ঘটনা দুই:
ফরিদপুরের একজন বাসিন্দা গত ১০ বছর ধরে সৌদি আরবে চাকরি করেন। গ্রামের বাড়িতে তার স্ত্রী তার দুই সন্তান থাকে। কিছুদিন আগে স্কুল পড়ুয়া ছেলেটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য কান্নাকাটি শুরু করলে, স্ত্রীর চাপে তিনি সেটি কেনার জন্য টাকাও পাঠান।
কয়েকদিন পরে সেই মোটরসাইকেল নিয়ে অন্য বন্ধুদের সঙ্গে মিলে ছিনতাই করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে, এখন জামিন হলেও মামলা চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার স্ত্রী বলছিলেন, ”ছেলে যখন যা চেয়েছে, সব কিনে দিয়েছি। কোন বায়না বাকী রাখি নাই। কিন্তু সে যে এই কাজ করবে কল্পনাও করি নাই। অন্য খারাপ ছেলেদের পাল্লায় পড়ে সে নষ্ট হয়েছে।”
বাংলাদেশে ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় কিশোরদের মধ্যে গ্যাং বা দলবদ্ধভাবে নানা ধরণের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
গত ৮ই সেপ্টেম্বর পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারি কিশোর গ্যাং কালচার গড়ে উঠতে না পারে, সে ব্যাপারে পুলিশ সুপারদের তৎপর থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
ঢাকা, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় এ ধরণের কিশোর গ্যাংয়ের কারণে কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মারধর, চুরি, ছিনতাই, ইভ টিজিং, মাদক ব্যবসা, মেয়েদের উত্যক্ত করার মতো অভিযোগও রয়েছে এসব গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে।
সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক মোঃ সোহেল রানা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাং-এর দৌরাত্ম রোধে কাজ করছে পুলিশ। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এ ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি।
গত কয়েকদিন ঢাকা চট্টগ্রাম মিলিয়ে সারা দেশে এরকম কিশোর গ্যাং-এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ১০০ কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এসব গ্যাং সদস্যদের মধ্যে অনেক নামীদামী স্কুলের শিক্ষার্থী, ধনী ও শিক্ষিত পরিবারের সন্তানরাও জড়িয়ে পড়েছে। অথচ সন্তানদের এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে অভিভাবকদের কোন ধারণাই ছিল না।
কেন গ্যাং সংস্কৃতিতে জড়িত হয়ে পড়ছে কিশোররা?
পুলিশ ও সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা, অ্যাডভেঞ্চার বা ক্ষমতা দেখানোর লোভ, মাদক, বন্ধুদের পাল্লা পড়াসহ নানা কারণে কিশোর গ্যাং গুলো তৈরি হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড.তানিয়া রহমান বলছেন, বর্তমান সময়ের ব্যস্ততার কারণে অনেক বাবা-মা সন্তানদের ঠিকমতো সময় দিতে পারেন না। এমনকি সন্তান কি করছেন, কোথায় যাচ্ছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, তাদের চাহিদা কী, এসব সম্পর্কেও তারা কোন খোঁজ রাখেন না।
”ফলে এই সন্তানরা বন্ধুদের কাছে আশ্রয় খোঁজে, তাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করে। সেখানে তারা একই ধরণের মানসিকতা খুঁজে পায়, সাপোর্ট পায়। এভাবেই তাদের ছোট ছোট দল তৈরি হয়।”
তিনি জানান, পরে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়ে বা রাজনৈতিক বড়ভাইয়ের স্বার্থে এই কিশোররা জড়িত হতে থাকে। অনেক সময় এলাকায় আধিপত্য দেখানো, সবার সামনে নিজেকে জাহির করার লোভ থেকে তারা নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িত হয়ে পড়ে।
”দেখা যায়, ক্লাসের একজন বন্ধু কোন গ্যাংয়ের সদস্য হলে আরেকজনকে সেখানে সদস্য হতে প্রভাবিত করে। এ ধরণের ছেলেদের অন্যরা একটু ভয় পায়। ফলে সেটা তাদের মধ্যে এক ধরণের ক্ষমতার মনোভাব তৈরি হয়। ফলে তারা গ্যাংয়ের সঙ্গে আরো ভালোভাবে জড়িয়ে পড়ে।”
”পরে মাদক বা নিজেদের খরচ জোগাড় করতে তারা নানা অপরাধ করা শুরু করে। এরপর আর বেরিয়ে আসতে পারে না।” বলছেন অধ্যাপক তানিয়া রহমান।
অনেক সময় নিজেদের দল ভারি করতে প্রথম দিকে বিনামূল্যে মাদক সরবরাহ করে শিক্ষার্থীদের আসক্ত করে তোলা হয়। পরে তাদের গ্যাংয়ের সদস্য করে নেয়া হয়।
তিনি সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, তার পরিচিত একটি পরিবারের সন্তান ঢাকার একটি নামী স্কুলের ছাত্র, কিন্তু কয়েকদিন ধরে স্কুলে যেতে চাইছিল না।
তার বাবা-মা জোর করার পর সে জানায়, সে আর ওই স্কুলে পড়তে চায় না। কারণ সেখানে ওপরের ক্লাসের কয়েকজন ছাত্র তাকে জোর করে মাদক নিতে বলে। না হলে তাকে মারধর করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা বলেন, তারাও এ ধরণের ঘটনা শুনেছেন, কিন্তু তারাও অসহায়।
পরে ওই স্কুলটি পরিবর্তন করে ওই পরিবারটি।
সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, কিশোরদের গ্যাংয়ে জড়িত হওয়া ঠেকাতে অভিভাবকরাই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন।
অধ্যাপক তানিয়া রহমান বলছেন, সন্তানের চলাফেরা, আচরণের দিকে লক্ষ্য রাখলেই বুঝতে পারা যাবে যে, সে আসলে কোন গ্যাং বা মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কিনা।
”হয়তো সন্তানটি সময়মতো বাসায় ফিরছে না। ঠিকমতো খাচ্ছে না বা ঘুমাচ্ছে না। হয়তো বাসায় ফিরে নিজের ভেতর গুটিয়ে থাকছে। অতিরিক্ত টাকা দাবি করছে। বাসায় বন্ধুদের নিয়ে বেশি আড্ডা দিচ্ছে।”
”কাপড়চোপড়ের ধরণ পাল্টে যাচ্ছে। হয়তো হাতে বা কানে নানা ধরণের অলংকার ব্যবহার শুরু করেছে। কথাবার্তা বা আচরণে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এসব লক্ষণ দেখা গেলেই সন্তানের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে।” বলছেন অধ্যাপক তানিয়া রহমান।
তিনি বলছেন, বর্তমানে অনেক পরিবারে বাবা-মা দুজনেই কাজ করেন, ফলে সন্তান কি করে, কার সঙ্গে মেশে, সেটা ঠিকভাবে খোঁজ রাখেন না। কিন্তু সন্তানের ওপর সবসময়ে নজর রাখা খুব জরুরি। বিশেষ করে কাদের সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, টাকা কোথায় খরচ করছে, ঠিক সময়ে বাসায় ফিরছে কিনা, ইত্যাদি নজরে রাখা উচিত।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক (মনোরোগ) মেখলা সরকার বলছেন, ”সন্তানের আচরণের দিকে লক্ষ্য রাখলেই বোঝা সম্ভব যে, তার মধ্যে আসলে কোন পরিবর্তন হচ্ছে কিনা? সে কোন গ্যাং বা মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কিনা? কারণ এ রকম কিছু ঘটছে তার আচরণে, অভ্যাসে অবশ্যই পরিবর্তন আসবে। প্রথম দিকে সেটা সনাক্ত করা গেলে খুব সহজেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।”
তিনি বলছেন, এ রকম ঘটনায় ছেলেমেয়ের টাকার চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে তার বাসায় ফেরার সময়সূচীরও ঠিক থাকে না। এই দুইটি বিষয় দেখা গেলেই সতর্ক হওয়া উচিত।
কীভাবে ফেরাবেন সন্তানকে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান গ্যাং এর সদস্য জানতে পারলেই আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। বরং পারিবারিক কিছু উদ্যোগের মাধ্যমেই এ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক তানিয়া রহমান বলছেন, ”অভিভাবকদের জন্য সন্তানকে সময় দেয়া জরুরি। তাদের সঙ্গে আস্থার, বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।”
”আমাদের সংস্কৃতিতে পশ্চিমা অনেক কিছু ঢুকে গেছে। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াচ্ছি, বিদেশি কেতায় চলছি, সুতরাং সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেই স্বাভাবিকতা নিয়ে আসতে হবে। যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি করাটা জরুরি।”
তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন, সন্তানের স্কুলে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, কাদের সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, সেটা নিয়মিতভাবে নজরে রাখা উচিত।
এছাড়া সন্তানদের হাতখরচ দেয়ার ব্যাপারেও সতর্ক থাকা উচিত, যেন সেটা অতিরিক্ত না হয়।
মনোরোগবিদ অধ্যাপক মেখলা সরকার বলছেন, ”সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতে হবে। তাকে বকাঝকা নয়, বরং তার কথা শুনতে হবে। কেন সে গ্যাং এর সাথে জড়িত হয়েছে সেটা বোঝা দরকার। সন্তানের চাহিদার ব্যাপারটি বুঝতে হবে।”
তিনি বলছেন, অনেক পরিবারে বাবা-মার সঙ্গে সন্তানের দূরত্ব থাকে। আমরা দেখেছি, এ ধরণের পরিবারের সন্তানরাই মাদক বা গ্যাং জাতীয় ঘটনাগুলোয় বেশি জড়িয়ে পড়ে। সেই দূরত্ব কাটাতে অভিভাবকদেরই উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলছেন, অনেক বাচ্চার মধ্যে আচরণগত ক্রুটি থাকে। এ কারণেও অনেকে গ্যাং এর সদস্য হতে পারে। এক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানীদের সহায়তা নিতে হবে।
তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন, এরকম ঘটনায় সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে পরিবেশের পরিবর্তন। যেমন ওই এলাকা থেকে দূরের অন্য এলাকায় চলে যাওয়া, স্কুল-কলেজ বদলে ফেলা ভালো। সেক্ষেত্রে সন্তানের জন্য সমস্যাটি কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে। বিবিসি

ফেসবুকে থাকছে না লাইক অপশন

0

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। ভিডিও, ছবি এবং টেক্সট আকারে প্রতিদিনের আপডেট দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও এটি ব্যাপক জনপ্রিয়। আর প্রতিদিনের এসব আপডেটের মধ্যে মানুষ কোনটাকে বেশি পছন্দ করছে, তা জানার একটি উপায় হলো লাইক। অর্থাৎ যে পোস্টে সবচেয়ে বেশি লাইক হয়, ওই পোস্টটিই অন্যদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে বলে ধরে নেওয়া হয়। তবে ফেসবুকের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এ ফিচারটিই অবশেষে তুলে নেওয়া হচ্ছে।
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জেন ওয়ানচুন মেং-এর বরাত দিয়ে ভারতীয় প্রযুক্তি-বিষয়ক গণমাধ্যম গেজেটস নাউ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে লাইক অপশন তুলে নেওয়া হবে।
এমনকি ফেসবুকও নাকি এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে লাইক অপশন তুলে নেওয়া হচ্ছে। এতে যথাযথ সাড়া পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অপশন বন্ধ করে দেওয়া হবে।
পরীক্ষামূলকভাবে লাইক তুলে দেওয়ার সময় গ্রাহকদের পোস্টে অল্প কয়েকজনের লাইক দেখানো হবে। এ ছাড়া আর কিছুই দেখা যাবে না ওই পোস্টে। এমনকি সংশ্লিষ্ট পোস্টে সবমিলিয়ে কতজন লাইক দিয়েছেন সেটাও দেখতে পারবেন না গ্রাহকরা।
একজন গ্রাহক তার পোস্টের সঙ্গে অন্য কোনও গ্রাহকের পোস্টের যেন কোনও তুলনা করতে না পারেন, সেজন্য ফেসবুক থেকে লাইক তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের নিজেকে ‘ক্ষমতাবান’ ভাবার বিষয়টিও কমে আসবে।
ফেসবুক জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে লাইক তুলে দেওয়া নিয়ে কাজ করবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। তবে ঠিক কবে এটি শুরু হবে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি।