Home Blog Page 3500

লাদাখে লেকের ধারে ভারত ও চীনের সৈন্যদের মধ্যে আবারো সংঘর্ষ

0

ভারতের উত্তরতম প্রান্তে লাদাখের প্যাংগং হ্রদের তীরে বুধবার প্রায় সারাদিন ধরে ভারতীয় ও চীনা সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাত হয়েছে বলে দিল্লিতে সামরিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

তবে দিনের শেষে দুই দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের পর সেই বিরোধের অবসান হয়। এখন পরিস্থিতি সেখানে শান্ত বলেই জানা যাচ্ছে।

গত মাসের ৫ তারিখে ভারত সরকার লাদাখকে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করার পর এই প্রথম দুই দেশের সেনাবাহিনী কোনও মুখোমুখি সংঘাতে জড়াল।

এর আগেই লাদাখ অঞ্চলকে ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে বেইজিং।

লাদাখের যে প্যাংগং হ্রদের ধারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, সেটি দুদেশের বর্তমান সীমান্ত বরাবর অবস্থিত।

প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার লম্বা এই সুদীর্ঘ হ্রদটি চীনের তিব্বত থেকে ভারতের লাদাখ পর্যন্ত বিস্তৃত।

ভারত এই হ্রদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। প্যাংগং লেকের বাদবাকি অংশ রয়েছে চীনের নিয়ন্ত্রণে।

প্যাংগং হ্রদের তীর ঘেঁষে ও হ্রদের বুকেও দুদেশের সৈন্যরা পায়ে হেঁটে বা স্পিডবোটে নিয়মিত টহল দিয়ে থাকে।

দিল্লিতে ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’ পত্রিকা জানাচ্ছে, বুধবার সকালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যরা যখন লেকের ধারে রুটিন টহলদারি চালাচ্ছিল তখনই চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ফৌজ তাদের বাধা দেয়।

এর পরই দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, দুদেশের সেনাদের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়। দুপক্ষই বাড়তি ফৌজ চেয়ে পাঠায়, আর দফায় দফায় এই সংঘাত চলে বুধবার প্রায় সারাদিন ধরেই।

সন্ধ্যায় প্রতিনিধি-পর্যায়ের বৈঠকের পর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ‘ডিএসক্যালেট’ ও ‘ডিসএনগেজ’ করা সম্ভব হয়েছে বলে ভারতের সামরিক সূত্রগুলি জানিয়েছে।

ভারত ও চীনের মধ্যে লাদাখে যে ‘লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল’ (প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা) সীমান্তের কাজ করে, দুপক্ষের মধ্যে তার ব্যাখ্যার তারতম্যের কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি।

দুবছর আগে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসেও ভারত ও চীনের সেনারা প্যাংগং লেকের ধারে এক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল।

সেবারের ঘটনায় একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে, যাতে দেখা যায় দু’পক্ষের সেনারা পরস্পরকে লাথি ও ঘুষি মারছে বা এমনকি পাথরও ছুঁড়ছে।

সেদিন ছিল ভারতের স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগস্ট), আর তখন চীন-ভারত-ভুটানের সীমান্তে বিতর্কিত ডোকলাম উপত্যকায় দুদেশের সেনাদের মধ্যে উত্তেজনাও ছিল চরমে।

দুবছর আগের সেই ঘটনাতেও দুদেশের ব্রিগেডিয়ার পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

যে প্যাংগং হ্রদ নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে এত বিরোধ, সেটি ব্যাপক পরিচিতি পায় বলিউডে ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমাটির সুবাদে।

এই ব্লকবাস্টার মুভিটির ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যটির শ্যুটিং হয়েছিল প্যাংগং হ্রদের ধারে ভারতীয় অংশে।

এই পার্বত্য হ্রদটির গাঢ় নীল জলের সৌন্দর্য দেখতে হাজার হাজার ভারতীয় পর্যটক প্রতি বছর লাদাখে আসেন, আর ভারতীয় সেনার তত্ত্বাবধানেই তাদের লেকটি ঘুরে দেখানোর ব্যবস্থা করে হয়ে থাকে। বিবিসি

নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথে হাঁটার জন্য বিএনপি’র প্রতি তথ্যমন্ত্রীর আহ্বান

0

বিএনপিকে ভবিষ্যতে দানবীয় রূপ ধারণ করার পরিকল্পনা না করার জন্য আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনীতির পথে হাঁটুন, সেটিই সবার জন্য শুভ হবে এবং জনগণের জন্যও শুভ হবে। তিনি আজ মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন।

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মানব বন্ধন নয়, দানব বন্ধন করতে হবে এই হুমকির জবাবে মন্ত্রী বলেন, এই হুমকি অশুভ কোন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ বিএনপি অতীতেও দানবীয় রূপ ধারণ করেছিল। শতশত মানুষ তারা আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। সরকারি সম্পত্তি, বাস, ট্রেন, লঞ্চে আগুন দিয়েছে। তাই বিএনপির কাছে আমার আহ্বান তারা যেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনীতির পথে হাঁটেন।

পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে যাত্রীদের চাপ, যানবাহন চলাচলের গতি, সড়কের দৈর্ঘ্য, ডাস্ট ম্যানেজমেন্ট, স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য বৃহস্পতিবার স্থপতিদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রত্যক্ষ করার সময় শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য আপনাদের জনগণের সম্ভাব্য চাপ, যানবাহনের গতি, প্রকল্প এলাকাগুলোর সড়কের দৈর্ঘ্য ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা, ভূগর্ভস্থ নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা ও এ লক্ষ্যে পানি সংরক্ষণের জলাধার খননে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য স্থপতিদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের জন্য টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন ভবনগুলোতে কিছুটা খোলা জায়গা, নেচারাল ভেন্টিলেশন, বারান্দা ও আধুনিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা রাখার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা নির্মাণাধীন বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ও ভবনগুলোতে যথাযথ বর্জ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

তিনি প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর সব দিকের পরিবর্তে এক দিকে স্যুয়ারেজ লাইন নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি ভবনগুলোর হোলসেল নির্মাণ বন্ধে আইন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষর্থীদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধির পরিবর্তে আরো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘সরকার প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করছে।’

প্রধানমন্ত্রীর সামনে যে প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো হলোÑ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ঢাকার আজিমপুর সরকারি কলোনির মধ্যে বহুতল ফ্ল্যাট ভবন নির্মাণের সংশোধিত মাস্টার প্ল্যান এবং বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভার জন্য বড় পরিসর রেখে ২০তলা ভবন নির্মাণের একটি প্রকল্প।

অন্য দুটি প্রকল্প হচ্ছে- শেরেবাংলা নগরে বিশ্ববিখ্যাত প্রকৌশলী লুই আইকানের স্থাপত্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ৪৩ একর জমির উপর বহুতল ভবন নির্মাণ এবং রাজধানীর হাতিরঝিলে ২০তলা বহুমুখী ভবন নির্মাণ।

আজিমপুর বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৯২২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫টি ২০তলা ভবন নির্মাণ করা হবে।

গণপূর্ত বিভাগ ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ১৮০০, ১৫০০ এবং ১২৫০ বর্গফুট বিশিষ্ট ১ হাজার ১৪০ টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

এর পাশাপাশি এই প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে ৪৩ একর জায়গায় গণপূর্ত বিভাগ ১০তলা বিশিষ্ট ৫১ টি ভবনে ১০০০ এবং ১৮০০ বর্গফুটের ১ হাজার ৮৩৬ টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে। ৪ হাজার ৪৪৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

শের-ই-বাংলা নগরে বহুতল ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পে বিদেশি পরামর্শক হিসেবে স্থপতি লুই-আই কানের সহযোগি স্থপতি হেনরি উইলকোটের অন্তর্ভূক্তি অনুমোদন দিয়েছেন।

এছাড়া ৪২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সচিবালয়ে ২০তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মিত হচ্ছে। ভবনে দু’টি বেসমেন্ট রয়েছে এবং সেখানে মন্ত্রিসভা বৈঠকের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এছাড়া হাতিরঝিলে ৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে কার পার্কিংসহ সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন একটি বহুমুখী ভবন নির্মাণের প্রকল্প প্রত্যক্ষণের পর প্রধাপনমন্ত্রী পদ্মা অথবা যমুনা নদীর পাড়ে ২০তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণের পরামর্শ দেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী এস এম রেজাউল করিম, প্রধানমন্ত্রী মূখ্য সচিব নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

স্থপতি বিভাগের সদ্য বিদায়ী স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস স্থপতি বিভাগের সহকারি স্থপতি সৈয়দা শাকিলা বিনতে আলম পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বাসস

জিডিপিতে সিঙ্গাপুর-হংকংকে ছাড়ালো বাংলাদেশ

0

জিডিপিতে সিঙ্গাপুর ও হংকংকে ছাড়ালো বাংলাদেশ। এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ এখন ১৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি’র ‘এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সূচক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে প্রতিটি দেশের মোট জিডিপির হিসাব দিয়েছে এডিবি।

সে হিসেব অনুযায়ী ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মোট ৭০ হাজার ৪শ’ ১৬ কোটি ডলারের সমপরিমাণ পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত।

দেশে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ৩৫ হাজার

0

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব বীর মুক্তিযোদ্ধার তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেইজ তৈরি করে বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ তালিকার বাইরে যদি কোনো মুক্তিযোদ্ধা থেকে থাকেন তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এটি সম্পন্ন হলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬৭ জন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রতœা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, ১৯৭১ সালে ৯ মাসব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধে সারাদেশে ৩০ লাখ গণশহীদদের শনাক্ত করা এখনো সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে এ লক্ষ্যে সরকার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

তিনি জানান, এ তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে মোট ৫ হাজার ৭৯৫ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম-ঠিকানা সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য ওয়েবসাইটে রয়েছে। এর মধ্যে শহীদ বেসামরিক গেজেটভুক্ত ২ হাজার ৯২২ জন, সশস্ত্র বাহিনী শহীদ ১ হাজার ৬২৮, শহীদ বিজিবি ৮৩২ জন এবং শহীদ পুলিশ ৪১৩ জন।

সরকারি দলের সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানান, দেশে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দুজন। তবে গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৩২২ জন।

সরকার দলীয় সদস্য মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২০ হাজার সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হবে।

তিনি জানান, ৪৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সারা দেশে ২৮১টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হবে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সারাদেশে বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে ৭০ দশমিক ৪৬ একর জমি ও প্রধান কার্যালয়সহ ১৭টি প্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে ঢাকায় ২৭ দশমিক ১৭ একর, গাজীপুরে ৫ দশমিক ৫৫ একর, নারায়ণগঞ্জে ৪ দশমিক ৬৪ একর এবং চট্টগ্রামে ৩৩ একর জমি রয়েছে।

জিডি ও পুলিশ ভেরিফিকেশন অনলাইনে আসছে শিগগিরই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0

খুব শিগগিরই ঢাকা ও ময়মনসিংহ মেট্রোপলিটন পুলিশ অনলাইনে জেনারেল ডায়েরি (জিডি) ব্যবস্থা চালু করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এতে ঘরে বসেই অনলাইনে জিডি করতে পারবেন নাগরিকরা। এছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজও দ্রুত অনলাইনে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘ডিজিটাল কেইস ডায়েরি’-এর ওপর পর্যালোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের যা কিছু হারিয়ে যায়, যা কিছু এক্সিডেন্ট হয়, যা কিছু একটা দুর্ঘটনা ঘটে আমরা কিন্তু নিকটবর্তী থানায় একটি জিডি করার জন্য যাই। আমাদের যেতে আসতে একটা সময় লাগে। আমাদের অনেক সময় লেগে যায় জিডিটা ফর্মে আনতে। সেজন্য আমরা অনলাইন জিডির ব্যবস্থা করেছি। সেটার জন্য এক সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি খুব শিগগিরই কীভাবে বাস্তবায়ন করব সেটা আমাদের জানাবেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রথম পর্যায়ে শুধু লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড বা হারিয়ে গেছে- এই ধরনের যে জিডি করতে হয় সেটা দিয়ে যাত্রা শুরু করব। এজন্য প্রথমে ঢাকা এবং ময়মনসিংহ মেট্রোপলিটনে শুরু করব। তারপরে সারা বাংলাদেশে বিস্তৃত হবে।

পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজও অনলাইনে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সভায় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ারবাজারে আবার বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে

0

শেয়ারবাজারে গতকাল বুধবার আবার বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। ফলে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০১৬ সালের অবস্থানে ফিরে গেছে। এক দিনেই সূচকটি ৭৬ পয়েন্ট বা দেড় শতাংশ কমে নেমে এসেছে ৪ হাজার ৯৩৩ পয়েন্টে। গত প্রায় ৩৩ মাসের মধ্যে এটিই ডিএসইএক্সের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর ডিএসইএক্স সূচকটি ৪ হাজার ৯২৪ পয়েন্টের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকটি কাল ২১৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪০ শতাংশ কমেছে।

বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে তারল্যসংকট চলছে। কমে গেছে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগ। একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক মাসে প্রতিষ্ঠানগুলোর কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে কেবলই লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতিদিনই কমছে শেয়ারের দাম আর বাড়ছে লোকসানের পরিমাণ। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের সহযোগী এক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, গত এক মাসে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজেদের শতকোটি টাকার পত্রকোষ (পোর্টফোলিও) বিনিয়োগের বিপরীতে প্রায় ১০ কোটি টাকা লোকসান করেছে। লোকসানের বড় অংশই হয়েছে গ্রামীণফোনের শেয়ারের বিপরীতে।

বর্তমান বাজারে বড় ধরনের দরপতনের জন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট, কারসাজি, মানহীন কোম্পানির আইপিও, সুশাসনের ঘাটতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বাজারসংশ্লিষ্টদের দ্বন্দ্বকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাঁরা বলছেন, বাজারের বর্তমান নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমেছে। এর অংশ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেনের পদত্যাগ দাবিতে মতিঝিলে মানববন্ধনও করা হয়। সম্প্রতি বিএসইসির নির্দেশে আন্দোলনরত বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

বিএসইসির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২২ আগস্ট এ খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর ওই দিন সূচক বাড়ে। কিন্তু ২৮ আগস্ট বিএসইসি দাবি করে যে দুদকের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যানের অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে আবারও সূচকের পতন শুরু হয়। যদিও দুদকের পক্ষ থেকে এই তদন্তের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

জুনে চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর থেকে বাজারে টানা দরপতন চলছে। ফলে জুলাইয়ে ডিএসইএক্স সূচকটি কমে ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে আসে। এর কারণ অনুসন্ধানে বিএসইসির গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ১৩ জুন বাজেট ঘোষণার দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে প্রায় সাড়ে ৩২ হাজার কোটি টাকা। আর ১ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত মাত্র ৭ কার্যদিবসে বাজার মূলধন কমেছে ৯ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা।

টানা পতনে বাজারে যখন লেনদেনে খরা চলছে, তখন মানহীন কোম্পানিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন দিয়ে চলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর ফলে সেকেন্ডারি বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানান বাজারসংশ্লিষ্টরা।

তিন বছরে সর্বনিম্ন সূচক
বাজেট ঘোষণার পর থেকে বাজারে টানা দরপতন
এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চিড়

জানতে চাইলে ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, নতুন আইপিও শেয়ারের আবেদনের জন্যও অনেক বিনিয়োগকারী সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। কারণ, বেশ কিছুদিন ধরে সেকেন্ডারি বাজার থেকে কোনো মুনাফা করতে পারছিলেন না তাঁরা। এ কারণে লাভের আশায় বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ আইপিও শেয়ারের দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, বাজারে তারল্যসংকট, পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন, গ্রামীণফোনের সঙ্গে বিটিআরসির পাওনা নিয়ে দ্বন্দ্বও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

গ্রামীণফোনে বেশি লোকসান

পাওনা আদায় নিয়ে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সঙ্গে দ্বন্দ্বে গত প্রায় সাড়ে চার মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে ১১২ টাকা। প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পাওনা দাবি পরিশোধের জন্য বিটিআরসি কোম্পানিটিকে প্রথম চিঠি দেয় ২ এপ্রিল। এরপর থেকে বাজারে এর শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে। ১ এপ্রিল ডিএসইতে গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম ছিল ৪১৭ টাকা। গতকাল দিন শেষে তা কমে নেমে এসেছে ৩০৫ টাকায়। এ কোম্পানির শেয়ারে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগ বেশি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্চেন্ট ব্যাংকার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণফোনের দরপতনের ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে। মাসের পর মাস পাওনা আদায়ে বিটিআরসির সঙ্গে গ্রামীণফোনের দ্বন্দ্বের বিষয়টি জিইয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা।

বিএসইসির সঙ্গে বাজারসংশ্লিষ্টদের দ্বন্দ্ব

সাম্প্রতিক সময়ে মানহীন বেশ কয়েকটি কোম্পানির আইপিও এবং তালিকাভুক্তি নিয়ে ডিএসইর সঙ্গে বিএসইসির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হয়ে ওঠে। আর্থিক প্রতিবেদনে নানা অসংগতির কারণে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে তালিকাভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। এরপর কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করতে বিভিন্ন মহল থেকে ডিএসইর ওপর চাপ তৈরি করা হয়। একপর্যায়ে বিএসইসির নির্দেশে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিতে বাধ্য হয় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ডিএসইর পর্ষদের সিদ্ধান্তের পরও সংস্থাটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমানকে পুনর্নিয়োগ দেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এসব ঘটনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে ডিএসইর বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে।

এর বাইরে বিএসইসি সাম্প্রতিক সময়ে যেসব মানহীন কোম্পানির আইপিও অনুমোদন করেছে, তা নিয়েও মতবিরোধ আছে ডিএসইর। বিএসইসির সঙ্গে একাধিক বৈঠকে ডিএসইর পক্ষ থেকে মানহীন কোম্পানির আইপিও প্রসঙ্গ তোলা হলেও বিএসইসির পক্ষ থেকে এ প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলতেও অপারগতা জানানো হয়। এসব নিয়ে ভেতরে-ভেতরে দুই সংস্থার দ্বন্দ্ব কেবল বেড়েই চলেছে।

বাজার পরিস্থিতি

ঢাকার বাজারে গতকাল লেনদেন হওয়া ৩৫৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৮৮টি বা ৮২ শতাংশেরই দরপতন ঘটেছে। দাম বেড়েছে মাত্র ৩৭টি বা ১০ শতাংশের। বড় ধরনের দরপতনের মধ্যে গতকাল লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিন শেষে ঢাকার বাজারে লেনদেন হয় ৫০২ কোটি টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ৯৫ কোটি টাকা বেশি। দরপতনের বাজারেও অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে নিম্নমানের স্বল্প মূলধনি কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারসাজি ছাড়া এসব শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। ঢাকার বাজারে গতকাল মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল ন্যাশনাল টিউবস। সাড়ে ৩১ কোটি টাকার মূলধনের এ কোম্পানির শেয়ারের দাম গত চার দিনে ৩২ টাকা বা সাড়ে ২৬ শতাংশ বেড়েছে। আর ২ কোটি টাকার মূলধনের কোম্পানি মুন্নু জুট স্টাফলারের শেয়ারের দাম ১১ দিনে বেড়েছে ৭১১ টাকা বা ৫৪ শতাংশ। সাড়ে ৬ কোটি টাকার মূলধনের কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের দাম এক মাসে ১১৩ টাকা বা ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। ৫ কোটি টাকার মূলধনের কোম্পানি স্টাইল ক্র্যাফটের দাম ১১ কার্যদিবসে ১৯৯ টাকা বা ২৮ শতাংশ বেড়েছে। অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়লেও এসব কোম্পানির বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে বাজারে বিনিয়োগকারীদের চরম আস্থার সংকট বিরাজ করছে। বাজারে সুশাসনের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। কারসাজির ঘটনাও ঘটছে। আবার একের পর এক মানহীন কোম্পানি বাজারে আসছে। বছরের পর বছর এ ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করায় ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চিড় ধরেছে।

বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেল কয়লাবোঝাই জাহাজ

0

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার বঙ্গোপসাগরে কয়লাবাহী একটি লাইটার জাহাজ ডুবে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাহাজটির ১০ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনজনের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, হিরা পার্বত-৮ নামের ছোট জাহাজটি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে ডুবে গেছে। পতেঙ্গা লাইট হাউস থেকে সাড়ে ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে সাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

লাইটার জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল জানায়, আয়োনিক স্পিরিট নামের একটি বড় জাহাজ থেকে কয়লা নিয়ে কর্ণফুলী নদীর ১৫ নম্বর ঘাটের দিকে ফিরছিল জাহাজটি। সাগরে থাকা অবস্থায় উত্তাল ঢেউয়ের মুখে পড়ে জাহাজটি ডুবে যায়।

লাইটার জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নবী আলম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই তাঁরা নৌবাহিনীকে জানিয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন নাবিককে উদ্ধার করার খবর পেয়েছেন তাঁরা। তিনজন নাবিক নিখোঁজ। নৌবাহিনী জাহাজ নিয়ে সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

বিএনপির মহাসড়ক তৈরির অভিজ্ঞতা নেই: কাদের

0

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মহাসড়ক তৈরি করার কোনো অভিজ্ঞতা বিএনপির নেই। তাই মহাসড়কে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলটি মিথ্যাচার করছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় চার লেনের কোনো রাস্তাই ছিল না।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে সেতু ভবনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। পদ্মা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, অন্যান্য দেশে যে টোল আদায় হয় এটা বিএনপি জেনেও না জানার ভান করছে। রাস্তা করতে হলে তো রাস্তা ব্যবহার উপযোগী রাখতে হয়, রাস্তার তো রক্ষাবেক্ষণ আছে। তিনি বলেন, মহাসড়ক করার কোনো অভিজ্ঞতা তো বিএনপির নেই। যখন ক্ষমতায় ছিল তখন চার লেনের কোনো রাস্তাই ছিল না। পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল এ সব তারা স্বপ্নেও দেখে নি। এ দেশে সড়ক অবকাঠামোর যে উন্নয়ন হয়েছে, এ সবের বিষয় তাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।

বিএনপির আন্দোলনের হুমকিতে কীভাবে দেখছেন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ আন্দোলনে ভয় পায় না। আওয়ামী লীগ আন্দোলন মোকাবিলা করেই ক্ষমতায় এসেছে। আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আন্দোলনের নামে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা করলে সমোচিত জবাব দেওয়া হবে।

রংপুর-৩ আসন আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেবে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, রংপুরের আসনটি আসলে জোটের নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় পার্টির ছিল। জোটগত সিট বণ্টনে এটা জাতীয় পার্টির ছিল। এখন যদি জোটগতভাবে আমাদের কাছে আসনটি চান এবং বলেন আসনটা আমাদের দেওয়া হোক। তখন আমরা বিবেচনা করব।

মানুষই বহন করতে পারবে এমন অ্যান্টি ট্যাঙ্ক মিসাইল পরীক্ষা ভারতের

0

ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাত শক্ত করতে বহনযোগ্য শক্তিশালী অ্যান্টি ট্যাঙ্ক মিসাইলের সফল পরীক্ষা করল দেশটি। আজ বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলের কুর্নুল জেলার একটি ফায়ারিং রেঞ্জ থেকে এই পরীক্ষা করে ভারত। এই অ্যান্টি ট্যাঙ্ক মিসাইলটি মানুষের বহনযোগ্য হওয়ায়, খুব সহজেই এটিকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে এএনআই।

এই মিসাইলে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যাতে রাডারের মত দ্রুত নিশানা স্থির করা যাবে। এটি থার্ড জেনারেশন মিসাইল। এতে উচ্চ মাত্রার বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতা রয়েছে।

এর আগে গত মাসেই অত্যাধুনিক মিসাইলের পরীক্ষা করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ওড়িশা উপকূল থেকে দু-দুটি মিসাইলের পরীক্ষা করে ভারত। মাটি থেকে আকাশে শত্রু ধ্বংস করতে এই মিসাইলগুলোর পরীক্ষা করা হয়েছে। খুব দ্রুত এই মিসাইলগুলো শত্রুকে ধ্বংস করতে সক্ষম বলেও জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, মিসাইলগুলো আকাশে রাখা কল্পিত শত্রুকে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।