Home Blog Page 3501

চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে চারশ মিটার দূরেও নিয়ন্ত্রণে ছিল বিক্রম

0

ল্যান্ডার বিক্রম নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল, বিক্রম চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে দুই দশমিক এক কিলোমিটার দূরে থাকা অবস্থায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অরবিটার এবং ইসরোর গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে সম্পর্ক বিছিন্ন হয়ে যায় ল্যান্ডার বিক্রমের।

তবে, গবেষণার পর ইসরো জানিয়েছে, চন্দ্রপৃষ্ঠের একেবারে কাছে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ল্যান্ডার। চন্দ্রপৃষ্ঠের চারশ মিটার দূরেও বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ইসরোর।

বিক্রমের সন্ধান পাওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে। কেন চন্দ্রযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলো তার, সেটা খুঁজে বের করার জন্য গবেষকদের একটি দলও গঠন করা হয়েছে।

সেই গবেষকদল রেখাচিত্র গবেষণার পর জানান, ইসরোর সঙ্গে ল্যান্ডারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র চারশ মিটার দূরে। সফলভাবে চাদের মাটির একেবারে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে পৌঁছে যায় বিক্রম।

শুক্রবার রাতে বিক্রমের সফট ল্যান্ডিংয়ের সময় দেখা যায়, দুই দশমিক এক কিলোমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে পৌঁছে গেছে ল্যান্ডার। ইসরোর দেখানো রেখাচিত্রতেই দেখা যায়, স্ক্রিনের উপর যে তিনটি রেখা ছিল তার ঠিক মাঝের রেখা বরাবর নিচে নামছে বিক্রম। ওই সময় বেশ কয়েক দফায় কমানো হয়েছে ল্যান্ডারের গতি। চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ল্যান্ডারের দূরত্ব যখন ৩-৫ কিলোমিটার, তখন মাঝের লালরেখা থেকে সামান্য দূরে সরে যায় বিক্রমের সবুজ রেখা।

তাতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। দুই দশমিক এক কিলোমিটার দূরত্বে আসার পর হঠাৎ মাঝের লাল রেখার থেকে অনেকটা নিচে নেমে যায় বিক্রমের সবুজ রেখা। তখনই নিয়ন্ত্রণ হারানো শুরু করে বিক্রম।

তার কয়েক সেকেন্ড পর একটা সবুজ বিন্দুর মতো অবস্থান দেখা যায় বিক্রমের। তারপর থেকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি চন্দ্রযানের ল্যান্ডারের। ওই বিন্দু পর্যন্ত ইসরোর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ল্যান্ডারের। পরে গবেষণা করে দেখা গেছে, ওই বিন্দুটির সঙ্গে চন্দ্রপৃষ্ঠের দূরত্ব মাত্র চারশ কিলোমিটার।

নতুন তথ্য সামনে আসার পর আবারো আশায় বুক বাঁধছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। কারণ, মাত্র চারশ মিটার উপর থেকে পড়ার পর বিক্রমের খুব একটা ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। সে কারণে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় বের হলেও হতে পারে।

দেশি মদ বিক্রির নতুন রেকর্ড গড়ল ভারতের তারাপীঠ

0

পুণ্যার্থীর সংখ্যা কমে গেলেও ভারতের তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যায় বেড়ে গেছে মদের বিক্রি। কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে গত ভছরের তুলনায় এবার মদ বিক্রি বেড়ে গেছে। জানা গেছে, এবার মদ বিক্রি বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটিতে। তবে বিয়ার ও দেশি মদ বেশি বিক্রি হয়েছে বলে আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

গত ২৯ ও ৩০ আগস্ট তারাপীঠে ছিল কৌশিকী অমাবস্যা। দুই দিনে তারাপীঠের ১৮টি দোকান থেকে মদ বিক্রি হয়েছে দুই কোটি এক লাখ ৬৫ হাজার ২৪৮ টাকার। যা গত বছরের তুলনায় ১৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬৪৮ টাকা বেশি।

আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা এগছে, এবার তারাপীঠে দু’দিন ছিল অমাবস্যা। ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ অমাবস্যা শুরু হয়। শেষ হয় পরের দিন বিকেল ৪ টার পর। প্রথম দিন রাত ২টা পর্যন্ত দোকান খুলে রাখা হয়। পর দিন রাত সাড়ে ১১টায় বন্ধ করা হয় সবগুলো দোকান। ওই দু’দিনে বিলেতি মদ বিক্রি হয়েছে ২৩ হাজার ৬১৪ লিটার।

গত বছর বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ২৬৭ লিটার। অর্থাৎ, বিলেতি মদ বিক্রি এক হাজার ছয়শ ৫৩ লিটার কমেছে। সেদিক থেকে দেখলে বিয়ার বিক্রি বেড়েছে বেশ কিছুটা। এবার বিয়ার বিক্রি হয়েছে ১২ হাজার দু’শ পাঁচ লিটার। গত বছরে এর পরিমাণ ছিল হাজার নয়শ পাঁচ লিটার।

আবগারি দপ্তরের রামপুরহাট মহকুমা ডেপুটি কালেক্টর সুহৃদ রায় জানান, এ বছর বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে এক কোটি ৩৫ লাখ ৩০ হাজার ৬৬ টাকা। বিয়ার বিক্রি হয়েছে ২৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৪ টাকা। দেশি মদ বিক্রি হয়েছে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ১১৮ টাকার।

সুহৃদ বলেন, বিয়ার ও দেশি মদের দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় মানুষ সেদিকে বেশি ঝুঁকেছে।

‘আইসিসিতে তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ মিয়ানমার মেনে নেবে না’

0

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো মিয়ানমারের সেনাসদস্যদের বিচার আন্তর্জাতিক কোনো আদালতে করা হলে তা মিয়ানমার মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে সে দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুন।

আন্তর্জাতিক তদন্ত কাঠামো গুরুতর অপরাধে জড়ানো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিচারের অঙ্গীকার করলেও মিয়ানমার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুন এক বিবৃতিতে বলেন, তাঁর দেশ মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী মিশন, আন্তর্জাতিক স্বাধীন তদন্ত কাঠামো প্রত্যাখ্যান করেছে। মিয়ানমার সরকার নিজেই তার দেশে জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করতে আগ্রহী। আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) বা বাইরের কারো তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ মিয়ানমার মেনে নেবে না।

এর আগে গত সোমবার মিয়ানমারবিষয়ক আন্তর্জাতিক তদন্ত কাঠামোর প্রধান নিকোলাস কোমজিয়ান তাঁদের কর্মকাণ্ড নিয়ে মানবাধিকার পরিষদে প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে বলেছিলেন, ‘মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই—আমরা সব দেখছি। আমরা অপরাধের বিচার নিশ্চিত করব।’

এর পরদিনই মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মানবাধিকার পরিষদকে জানান, স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী মিশন, আন্তর্জাতিক স্বাধীন তদন্ত কাঠামো সৃষ্টি করা—এগুলো জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের এখতিয়ারের বাইরে। মিয়ানমারের গণতন্ত্র, শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এগুলো কোনো কাজে আসবে না। এসব কাঠামো ও মিশন সৃষ্টি করে বিপুল অর্থ অপচয় করা হচ্ছে।

পশ্চিমতীর দখলের পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর, সতর্ক করল জাতিসংঘ

0

মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের জর্ডান উপত্যকা দখলের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহুর এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস। নেতানিয়াহুর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ

জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, এমন পদক্ষেপ যদি বাস্তবায়ন করা হয়ে তবে তারা আন্তর্জাতিক আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন হবে। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনে তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর ঠিক সাত দিন আগে মার্কিন সমর্থন নিয়ে জর্ডান উপত্যকা দখলের অঙ্গীকার করেন নেতানিয়াহু।

মঙ্গলবার এক টেলিভিশন ভাষণে নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলে তার সরকার এ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া পশ্চিম তীরের সব এলাকায় ইহুদি বসতি স্থাপন নিশ্চিত করা হবে। তবে এর আগে এ বিষয়ে ইসরায়েলের নির্ভরযোগ্য মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরামর্শ নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, জর্ডান উপত্যকা ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এমন একটি এলাকা, যেখানে ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি এবং ১১ হাজার অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীর বসবাস। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের ৩০ ভাগ এলাকা নিয়ে উত্তর ডেড সি ও জর্ডান উপত্যকা গঠিত।

সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিতে জর্ডান উপত্যকার গুরুত্ব কতটা

0

১৯৬৭ সালের ৬ দিনের যুদ্ধে জর্ডান উপত্যকার অধিকাংশ ইসরায়েলের সামরিক এবং প্রশাসনিক দখলে চলে যায়। ইসরায়েল বিপুলভাবে জয়ী হয় ওই যুদ্ধে।
তবে উর্বর কিন্তু অনুন্নত এই বিস্তৃত এলাকা যা পশ্চিম তীরের এক-চতুর্থাংশ, সেটিই ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ার কথা।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, নিরাপত্তার কারণে তারা এ উপত্যকা হাতছাড়া করতে রাজি নয়।
গত আগস্টে পুনরায় চালু হওয়া শান্তি আলোচনার বিষয়বস্তু গোপনীয় রাখা হয়েছে। বলা হচ্ছে এই উপত্যকার ভাগ্য কি দাঁড়ায় সে বিষয়টি এই আলোচনার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
যা নিয়ে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি মধ্যস্থতাকারীরা একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জোর সংগ্রাম চালাচ্ছেন।
জিফটলিকে ফিলিস্তিনি একটি পারিবারিক খামারে খেজুরের ফলন সংগ্রহ মাত্র শেষের দিকে। কিশোর-কিশোরীরা একটি উঁচু জায়গায় উঠে গাছ থেকে ঝাঁকুনি দিয়ে পাকা ফল পাড়ে আর বয়স্করা সেগুলো বাক্সে ভরে। এই খামারের মালিক হাযা ডারাগমা।
তিনি বলেছেন, ‘ইসরায়েলি দখলের কারণে আমার খেজুর উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইসরায়েলি কৃষক ফিলিস্তিনি কৃষকের চেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে। তার পানি এবং কাঁচামাল রয়েছে। সরকারি সেবা এবং বাজার সুবিধা পাচ্ছে সে। তার খেজুর ইউরোপের বাজারে বিক্রি করছে। আমরা রপ্তানি করতে পারছি না। তাই পশ্চিম তীরে আমরা খুব কম মূল্য পাচ্ছি।’
ইসরায়েল এবং পশ্চিম তীরের মধ্যকার সমস্ত ক্রসিং পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করে ইসরাইল, যা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে তাদের পণ্য সরাসরি রফতানি করার ক্ষেত্রে সার্বিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠা পেতে দিচ্ছে না।
অনেকেই তাদের উৎপাদিত পণ্য ইসরায়েলি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে অথবা কেবল পশ্চিম তীরের মধ্যেই ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হচ্ছে।
খামারি হাযার বাবা মাজিদের বয়স আশির ওপরে। তিনি ভূমি বাজেয়াপ্ত করার এবং ইসরায়েলি সামরিক জোনে পরিণত করার আগের দারুণ দিনগুলোর কথা স্মরণ করছিলেন, যখন তিনি জর্ডান নদীর তীরে শস্য চাষাবাদ করতেন।
অশীতিপর মাজিদ বলেন, ‘আমাদের প্রচুর জমি ছিল। এখন আমাদের হাতে সামান্য পরিমাণে আছে এবং তারা আমাদের আরও ঘিরে ধরেছে।’
প্রতিরক্ষা রেখা
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হয়, যদিও ইসরায়েল তা অস্বীকার করে আসছে। এই সীমান্ত এলাকায় প্রথম এই প্রতীরক্ষা রেখা স্থাপন করা হয় জাতীয় নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে। এখন এই উপত্যকা প্রায় নয় হাজার সেটলারের এবং ৫৬ হাজার ফিলিস্তিনির আবাসস্থল।
ডেভিড এলহায়ানি একটি আঞ্চলিক কাউন্সিলের প্রধান যিনি ২০টির বেশি বসতির প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি বলেন, ‘জর্ডান উপত্যকার মীমাংসার জন্য সরকার আমাদের পাঠিয়েছে। একজন ইহুদি হিসেবে আমি আপনাকে বলতে পারি আমরা কোন ঝুঁকি নিতে পারি না। জর্ডান উপত্যকা ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বের অধীনেই থাকতে হবে। আমি বাইবেল থেকে আমাদের দাবির বিষয়ে বলছি না। আমি বলছি নিরাপত্তার কথা। এখানে অবস্থানের মাধ্যমে আমরা তেল আবিব এবং ইসরায়েলের সব মানুষকে রক্ষা করছি। ইসরায়েল এবং আরব দেশগুলোর মধ্যে কিছু একটা ঘটবে, এটা হলো তার প্রতীরক্ষা রেখা।’
সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ইসরায়েলি সৈন্যদের দেখা যাবে টহল দিতে। মাইনের উপস্থিতি জানিয়ে সাইনপোস্টগুলোয় রয়েছে সতর্কবার্তা ।
ফিলিস্তিনিদের দ্বারা পশ্চিম তীরের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যবহৃত হতে পারে জর্ডানের একমাত্র ক্রসিং অ্যালেনবাই ব্রিজের নিয়ন্ত্রণও ইসরায়েলি সীমান্ত-রক্ষা কর্তৃপক্ষের হাতে।
অর্থনৈতিক তাৎপর্য
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তি আলোচনার তথ্যের অনুপস্থিতি থাকলেও তা দুপক্ষের নেতাদের জর্ডান উপত্যকা সম্পর্কে তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থাকে টলাতে পারেনি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার অন্যতম পূর্বসূরি ইৎজাক রবিনের অক্টোবর মাসে হত্যাকান্ডের বার্ষিকী উপলক্ষে পার্লামেন্ট বৈঠকে বলেছেন, ‘আমাদের শক্তি আমাদের অস্তিত্ব এবং শান্তির জন্য নিশ্চয়তা…এর জন্য প্রয়োজন জর্ডান উপত্যকায় একটি নিরাপত্তা সীমান্ত, যেমনটা রবিন তার সর্বশেষ ভাষণে বলেছিলেন।’
অতীতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস একটি নতুন পুলিশ একাডেমিতে সদ্য স্নাতক পাস শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছিলেন- ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সীমানা, মৃত সাগর থেকে শুরু করে জর্ডান উপত্যকা এবং মধ্য উচ্চভূমি হয়ে উত্তর ইসরাইলের বিসান হয়ে ফিলিস্তিনি-জর্ডানি সীমান্ত এবং তেমনই বহাল থাকবে।’
প্রধান ফিলিস্তিনি মধ্যস্থতাকারী সায়েব এরেকাত, এই উপত্যকার অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে বিদেশি কূটনীতিক এবং সাংবাদিকদের উপত্যকায় একটি ভ্রমণে নিয়ে যান।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে হিসাব দেখানো হয়েছে যে, দক্ষিণাঞ্চলীয় ডেড সি বা মৃত সাগরের খনিজ সম্পদকে কাজে লাগাতে পারলে ফিলিস্তিনি অর্থনীতি এক বছরে ৯১৮ মিলিয়ন ডলার বেড়ে যাবে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অংশে কৃষিজমি এবং পানি সম্পদের আরও অধিকার পেলে তারা বছরে আরও ৭০৪ মিলিয়ন ডলার যোগ করতে পারবে।
জর্ডান উপত্যকা অঞ্চলটি সবচেয়ে বড় একক অংশ নিয়ে তৈরি যা ‘সি অঞ্চল’ হিসেবে পরিচিত-ইসরায়েলের এই অংশে ১৯৯৩ সালে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তির অধীনে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি ঝুলে আছে।
মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার একজন প্রতিনিধিত্বকারী টনি ব্লেয়ার বলেন, ‘সি অঞ্চলে, যে অঞ্চলটি পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশ, ফিলিস্তিনিরা তার উন্নয়নে ধাপে ধাপে সক্ষমতা অর্জন করেছে।’
তিনি বলেন, ‘জর্ডান উপত্যকায় প্রচুর উর্বর কৃষি জমি রয়েছে। খোলাখুলি-ভাবে এটা প্রত্যক্ষ করা কঠিন যে, ভবিষ্যতে আপনি এমন একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র পেতে চলেছেন যার অন্তর্গত এটি নেই।’
ব্লেয়ার বিধিনিষেধ শিথিল করার জন্য চাপ দিচ্ছেন, যার মধ্যে অ্যালেনবাই ব্রিজ খোলা রাখার সময় বাড়ানোর কথাও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যেটা আমরা করার চেষ্টা করছি তা হল, আমি মনে করি, এমনকি চূড়ান্ত সমঝোতার আগে, প্যালেস্টাইনের পক্ষে একটি অনুভূতি দেয়া যে বিশ্ব বদলে যাচ্ছে এবং তারা তাদের সামনে সত্যিকারের একটি রাষ্ট্র আবির্ভূত হতে দেখবে।’
একইভাবে ইসরায়েলিদের জন্য অবশ্যই নিরাপত্তার উদ্বেগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা
অতীতের শান্তি আলোচনায় বলা হয়েছিল, জর্ডান উপত্যকায় অল্পকিছু ইসরাইলি নাগরিকের সমন্বয়ে সতর্কতা কেন্দ্র স্থাপনের অস্থায়ী চুক্তি হয়েছে। যদিও মিস্টার নেতানিয়াহু এখন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে আরও শক্তিশালী উপস্থিতির পক্ষে বলেছেন। 
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, জর্ডান উপত্যকায় নতুন একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরির জন্য মিস্টার নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা এবং সীমান্তে পাহারার জন্য আন্তর্জাতিক সৈন্য নিয়োজিত করতে তার প্রধান মধ্যস্থতাকারী তিযিপি লিভনির সমর্থিত একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
জেরুজালেম সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ডোর গোল্ড ‘আমাদের অভিজ্ঞতা বলে আন্তর্জাতিক বাহিনী এই কাজটা একেবারে করতে সক্ষম না।’
তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের অর্থনৈতিক সাফল্যের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা নেই এবং আমরা চুক্তিতে পৌঁছাতে পারি যাতে আমরা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় অংশ নিতে পারি। কে জানে সিরিয়ায় কি হতে চলেছে-হয়তো আমরা নতুন এক জিহাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমাদের পূর্বদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জন্য বর্তমানে এটাই দুশ্চিন্তার বড় কারণ।’
উত্তেজনা
জর্ডান উপত্যকায় অনেক বাসিন্দা-ইসরাইলি এবং ফিলিস্তিনি- দুপক্ষই যে, জানিয়েছেন শান্তি আলোচনা চললেও তারা উদ্বেগে-অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। নিয়মিত ঘটনাগুলো এসব অঞ্চলের ব্যাপক সংগ্রামকে তুলে ধরে। সেপ্টেম্বর মাসে ইসরায়েলি সেনা ফিলিস্তিনি গ্রাম কিরবাত আল মাখলুল ধ্বংস করে দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সেখানে নিবন্ধন-বিহীন নির্মাণকাজ চলছিল এবং ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট এই স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে করা এক রিট খারিজ করে দেয়।
যদিও এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দার মুখে পড়েছে। মানবাধিকার গ্রুপগুলো বলছে, জর্ডান উপত্যকার প্যালেস্টাইনিদের জন্য ভবন নির্মাণ অনুমোদন পাওয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার কারণ তাদের ভাষ্যমতে, বৈষম্যমূলক নীতি এ জন্য দায়ী। এ অভিযোগ অবশ্য ইসরায়েল দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
সরকারি একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, ‘যখন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়, সেটা বৈষম্যের জন্য নয়। প্রকৃতপক্ষে জর্ডান উপত্যকায় যথাযথ অনুরোধ করা হলে ফিলিস্তিনিদের ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়। (কিন্তু) জর্ডান উপত্যকা নিরাপত্তা-সংবেদনশীল এলাকা, যেহেতু এটা সীমান্ত এলাকা এবং এসব বিষয় কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণের জন্য অনুপযুক্ত।’
আবু আল আজাফা গ্রামটি এখন যে কোন সময় গুড়িয়ে দেয়া হতে পারে এমন আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা। একজন বয়স্ক নারী জামিলা আদেইস তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।
নিকটবর্তী মাসুয়া বসতি এলাকা দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা চায় না যে আমিরা এখানে থাকি। লাথি মেরে তারা আমাদের উৎখাত করে দিতে চায় এবং বসতি স্থাপনকারীদের এই জমি দিয়ে দিতে চায় যাতে করে তারা খেজুর গাছ চাষ করতে পারে।’
যদিও ফিলিস্তিনি শ্রমিকরা এসব বসতি নির্মাণে কাজ করছে, তবে সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে অস্বস্তিপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে।
এবং গত মাসে জর্ডান উপত্যকায় ব্রোশ হাবিকা সম্প্রদায়ের এক ইসরায়েলি সেটেলারের হত্যা এবং সন্দেহভাজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতারের পর উত্তেজনা কেবল আরও তীব্র হয়েছে।
খবর বিবিসি

কারিগরি ত্রুটি, কাল আসছে না ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’

0

কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চতুর্থ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দেশে আসছে না। ত্রুটি সারাতে ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং।
বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, বৃহস্পতিবার উড়োজাহাজটি দেশে আসার কথা থাকলেও আসছে না। এটি ডেলিভারি দিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং। সেই হিসেবে ১৪ সেপ্টেম্বর দেশে আসবে রাজহংস।
লন্ডনে অবস্থানরত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চিফ অব ফ্লাইট সেফটি ও সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন শোয়েব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ক্যাপ্টেন শোয়েব চৌধুরী বলেছেন, সমস্যাটি ধরা পড়াতে ভালোই হয়েছে। ঢাকায় গিয়ে এ সমস্যা ধরা পড়লে এয়ারক্রাফটটি কিছুদিনের জন্য বসিয়ে রাখতে হতো। যদিও এটি বড় ধরনের কোনো সমস্যা নয়। বোরিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী এয়ারক্রাফট ডেলিভারি দেয়ার সময় তারা খুঁটিনাটি খুব ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করেন। যে কারণে এ ত্রুটি ধরা পড়েছে।
জানা গেছে, ১৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করবে রাজহংস। ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করার কথা রয়েছে রাজহংসের।
এদিকে ড্রিমলাইনার রাজহংস দেশে আসার পর পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেটি উদ্বোধনের কথা ছিল।
এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল বলেন, উদ্বোধনের দিন তারিখ স্থগিত করা হয়েছে এবং পরে প্রধানমন্ত্রী যখন সময় দেবেন উদ্বোধনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। ইতোমধ্যে চারটি নতুন বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ বিমানবহরে যুক্ত হয়েছে। চতুর্থ ও শেষটি আসছে ১৪ সেপ্টম্বর।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য চারটি ড্রিমলাইনারের নাম বাছাই করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এগুলো হলো-আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস।

জাপার কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ২১ ডিসেম্বর

0

আগামী ৩০ নভেম্বরের পরিবর্তে ২১ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেন, ৩০ নভেম্বর আইইবির অনুষ্ঠানস্থল ফাঁকা না থাকায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ২১ ডিসেম্বর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) পুরাতন ভবনের সেমিনার হলে ‌জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

জিএম কাদের বলেন, অক্টোবর মাসের মধ্যেই ছাত্র সমাজের কাউন্সিল করতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি হবে।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবে জাতীয় পার্টি। তরুণদের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে। আমরা ছাত্র সমাজকে পৃষ্ঠপোষকতা করব। তবে লেজুড়বৃত্তি করার জন্য নয়, লাঠিয়াল বাহিনী তৈরি করব না। ছাত্র সমাজকে এলাকার পাশাপাশি ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনীতি করতে হবে।

তিনি বলেন, অনেকেই বলেন, এরশাদ সাহেব নিজেই ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই ছাত্র সমাজের প্রয়োজনীয়তা পরে তিনি উপলব্ধি করেন।

তিনি আরো বলেন, তিনি যখন জেলে, তখন জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, এ নিয়ে যখন সিদ্ধান্তে আসতে পারছিল না, তখন জাতীয় ছাত্র সমাজ বলেছিল, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমরা নির্বাচনে যাব।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন জাপার মহাসচিব ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা। জাতীয় ছাত্র সমাজের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভা পরিচালনা করেন সদস্য সচিব ফয়সাল দিদার দিপু।

উল্লেখ্য, এর আগে আগামী ৩০ নভেম্বর জাপার জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ নিধারিত হয়েছিল।

সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান

0

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সরকারি অর্থের জিম্মাদারদের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আরো জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।

আজ বুধবার বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক মো. মুসলিম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে ৩৯তম অডিট রিপোর্ট পেশকালে তিনি একথা বলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

বিষয় ভিত্তিক রিপোর্ট তৈরির জন্য সিএজি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এ রিপোর্ট সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এতে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের স্বার্থ রক্ষিত থাকবে। ’

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি সিএজি ২০১৪-১৫ ও পূর্বের অর্থবছরের বার্ষিক রিপোর্টে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

১৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৫ হাজার ৫৩৯ কোটি ২২ লাখ টাকার ২৫টি বার্ষিক অডিট রিপোর্ট, ৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৬১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৯টি স্পেশাল অডিট রিপোর্ট রাষ্ট্রপতির পেশ করা হয়।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হচ্ছেন, ডেপুটি সিএজি (একান্টস এন্ড রিপোর্ট) মো. মাহবুবুল হক এবং অতিরিক্ত সিএজি (পার্লামেন্ট) এ কে এম হাসিবুর রহমান।

এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

ট্রেনে অবৈধ মালামাল বহন নিয়ন্ত্রণে স্ক্যানার বসানোর সুপারিশ

0

রেলের মাধ্যমে যাতে অস্ত্র, মাদকসহ অবৈধ মালামাল বহন করতে না পারে সে জন্য ঢাকার কমলাপুর, বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে এখনই স্ক্যানার মেশিন বসানের সুপারিশ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে রেলওয়ের সবধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ ও রেলকে আধুনিকীকরণের জন্য এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং সিস্টেম (ইআরপি) বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, আসাদুজ্জামান নূর, শফিকুল ইসলাম শিমুল, শফিকুল আজম খাঁন, মো. সাইফুজ্জামান, এইচ এম ইব্রাহিম, নাছিমুল আলম চৌধুরী, গাজী মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ ও নাদিরা ইয়াসমিন জলি অংশগ্রহণ করেন।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে ট্রেনে অবৈধ মালামাল পরিবহন প্রতিরোধ ও যাত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম স্টেশনে বডি স্ক্যানার এবং লাগেজ স্ক্যানার দ্রুত স্থাপনের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়াও কমিটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে দেশের সকল জেলা ও উপজেলা স্টেশনেও বডি স্ক্যানার এবং লাগেজ স্ক্যানার স্থাপনের সুপারিশ করে।

বৈঠকে সিলেটের কুলাউড়ায় সেতু থেকে বগি পড়ে গিয়ে রেল দুর্ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট কমিটিতে উত্থাপন করা হয়। ওই রিপোর্টে জানান হয়, এ দুর্ঘটনায় মোট ২৮ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৭ টাকার ক্ষতি হয়। দুর্ঘটনায় জন্য এসএসএই/ওয়ে কুলাউড়া মো. জুলহাস এবং মেট গ্যাং সাইফুল আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ সময় দুর্ঘটনারোধে ৭ দফা সুপারিশ করা হয়েছে।

বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও ম্যুরাল এবং সংক্ষিপ্ত জীবনী মার্বেল পাথরে লিপিবদ্ধ করে স্টেশনগুলোর দর্শনীয় স্থানে স্থাপনের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া গাজীপুরের ধীরাশ্রম কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ বিমানে যুক্ত হচ্ছে ‘রাজহংস’

0

বাংলাদেশ বিমানে যুক্ত হচ্ছে উড়োজাহাজ ‘রাজহংস’। এয়ারলাইন্সের বহরের যুক্ত হওয়া চতুর্থ ড্রিমলাইনারটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল ১১টায় ড্রিমলাইনারটি উদ্বোধন করবেন তিনি। এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে উড়োজাহাজটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

বিমান সূত্রে জানা যায়, শাহজালালে অবতরণের পর ড্রিমলাইনারটি ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হবে। উড়োজাহাজটি দেশে নিয়ে আসতে বর্তমানে এয়ারলাইন্সের একটি প্রতিনিধি দল সিয়াটলে বোয়িং কোম্পানির ডেলিভারি সেন্টারে রয়েছেন।

সূত্রে আরও জানা যায়, ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানি থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য চুক্তি করে বাংলাদেশ বিমান। এয়ারলাইন্সে ইতোমধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হয়েছে। এবার দেশে আসছে চতুর্থ ও শেষ উড়োজাহাজ ‘রাজহংস’। ‘রাজহংস’ বহরে যুক্ত হলে চুক্তির ১০টি উড়োজাহাজের সবকটি বুঝে পাবে বাংলাদেশ। ড্রিমলাইনারটি যুক্ত হলে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা হবে ১৬টি।

এ দিকে নতুন চারটি ড্রিমলাইনারের নাম পছন্দ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেগুলো হলো- আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস। এর আগে চারটি বিমানের নামও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া। সেগুলো হলো- পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত ও ময়ূরপঙ্খী।

উল্লেখ্য, উড়োজাহাজ রাজহংসের আসন সংখ্যা ২৭১টি। বিজনেস ক্লাস ২৪টি। অপরদিকে ইকোনমি ক্লাস ২৪৭টি। বিমান রাজহংসে অত্যাধুনিক সব সুবিধার পাশাপাশি যাত্রীরা যেসব সুবিধা পাবেন তার মধ্যে রয়েছে- ইন্টারনেট ও ফোন কলের সুবিধা।