Home Blog Page 3505

টেকনাফে পাহাড় ধসে ২ শিশু নিহত

0

কক্সবাজারে টেকনাফে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসে দুই শিশু মারা গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন।
আজ মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লান পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো- পল্লান পাড়ার রবিউল আলমের ছেলে মেহেদী হাসান (৯) ও মোহাম্মদ আলমের মেয়ে আলিফা (৫)।
টেকনাফ উপজেলা দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) কর্মকর্তা আবদুল মতিন জানান, টেকনাফের পুরান পল্লান পাড়ার মুহাম্মদ আলম ও রবিউল হাসান পাহাড়ের পাদদেশে বাড়ি করে বাস করছিলেন। সোমবার দিবাগত রাতে থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। মঙ্গলবার ভোররাতে বৃষ্টির তোড়ে তাদের বাড়ির ওপর অংশে থাকা পাহাড়টি ধসে পড়ে। এতে দুই বাড়ির দুই শিশু মাটিচাপায় ঘটনাস্থলে মারা যায়। বাকিদের মাটিচাপা থেকে বের করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
টেকনাফ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

হিন্দুদের প্রত্যাবাসন এগিয়ে নিতে তৎপর মিয়ানমার

0

মিয়ানমারের রাখাইনে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় দুই সপ্তাহ আগেও মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, ইমিগ্রেশন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আনাগোনায় সরব ছিল। কথা ছিল প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার সীমান্তে ঢুকলেই সেখানরা একটি ব্রিজের গোড়াতে অপেক্ষারত কর্মকর্তারা শরণার্থীদের গ্রহণ করবেন। কিন্তু দিনভর অপেক্ষা করেও কোনো রোহিঙ্গা না আসায় সব আয়োজন শেষ করে কর্মকর্তারা ফিরে যান।
গত শুক্রবার সেখানে বিবিসি বার্মিজ ভাষা বিভাগের এক সাংবাদিকের তোলা ভিডিওতে দেখা যায়, পুরো এলাকাই জনমানবশূন্য, নীরব। সীমান্ত সেতুটির ফটক তালাবদ্ধ।
কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, প্রত্যাবাসন নিয়ে ভেতরে ভেতরে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মিয়ানমার সরকার।
তবে তারা শুধু টেকনাফের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় থাকা কয়েকশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী শরণার্থীকে নেয়ার জন্যই এ তৎপরতা চালাচ্ছে।
বিবিসি বার্মিজ বিভাগের সম্পাদক সো উইন থান বলছেন, ‘এখানে মিয়ানমার সরকার মনে করছে, প্রত্যাবাসন না হওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ব্যর্থতা আছে। কারণ তাদের ফেরত পাঠানোর দায়িত্ব ছিলো বাংলাদেশের। মিয়ানমার সরকার বলছে, তারা ফেরত নেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু সেদিন একজনও ওপার থেকে আসেনি। তবে আমরা জানতে পেরেছি, মিয়ানমার সরকার এখন বাস্তুচ্যুত হিন্দুদের ফেরত আনা নিয়ে কাজ করছে।’
কিন্তু মিয়ানমার সরকার হিন্দু শরণার্থীদের ফেরত নিতে কেন আগ্রহী হচ্ছে- এমন প্রশ্নে উইন থান জানাচ্ছেন, ‘মুসলিম রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরতে ইচ্ছুক না হলেও হিন্দু শরণার্থীরা স্বেচ্ছায় ফিরতে চায়। আর মিয়ানমার সরকারও চায় প্রত্যাবাসন শুরু করতে।’

উইন থান নিশ্চিত করেছেন, গেল বৃহস্পতিবার মিয়ানমারে আসা জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে কী করছে মিয়ানমার?
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দফা প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ার এক সপ্তাহ পর প্রত্যাবাসনে কী কী বাধা আছে তা খতিয়ে দেখতে মিয়ানমারে যান জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন এস বার্গনার।
মূলত প্রত্যাবাসনে বাধা হিসেবে রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব না পাওয়া এবং নিরাপত্তা নিয়ে ভীতির যেসব কথা বলেছেন, সে বিষয়ে জাতিসংঘ দূতকে নতুন করে মিয়ানমার সরকার আশ্বস্ত করেছে বলেই খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গারা ফেরত গেলে তাদের অন্তবর্তীকালীন থাকার ব্যবস্থা প্রস্তুত আছে।
বিবিসি বার্মিজের তোলা ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তর রাখাইনে কাঁটাতারের বেষ্টনীর মধ্যে সারিবদ্ধ ভাবে রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য নতুন নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
মিয়ানমার সরকার বলছে, অন্তর্র্বতীকালীন এই আবাসন থেকেই পরে তাদের ধাপে ধাপে নিজ গ্রামে ফেরত নেয়া হবে।
যদিও বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের আশংকা অন্তর্র্বতীকালীন এসব ক্যাম্প হবে তাদের জন্য আরেক বন্দীশালা। এ ছাড়া ফেরার পর সরকার তাদের কতটা নিরাপত্তা দেবে তা নিয়েও সংশয় আছে রোহিঙ্গাদের।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি
নিরাপত্তা নিয়ে মিয়ানমার সরকার বারবার আশ্বস্ত করলেও মিয়ানমারের মানবাধিকার কর্মী নিকি ডায়মন্ড অবশ্য তা নিয়ে বেশ সন্দিহান।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, নিরাপত্তা এবং সক্ষমতা বিবেচনায় মিয়ানমার সরকার এখনো প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত নয়। সরকারের মন্ত্রীরা এটা করেছি, ওটা করেছি বলছে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে কী করা হয়েছে তা সরেজমিনে যাচাই করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর রাখাইনে এখনো স্থানীয় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি আর্মির লড়াই চলছে। পরিস্থিতি নিরাপদ নয়। এমনকি সংঘাতের ফলে অভ্যন্তরীণভাবে যে কয়েক হাজার লোক বাস্তচ্যুত হয়ে রাখাইনের ভেতরেই বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে, সরকার তাদেরকেই এখনো নিজ গ্রামে ফেরত আনতে পারেনি। সেখানে বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের কিভাবে ফেরত আনবে, থাকার ব্যবস্থা করবে আর নিরাপত্তা দেবে?’
নাগরিকত্ব ইস্যু
দুই দফায় প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের দাবি পূরণ না হওয়া। তবে মিয়ানমার সরকার নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে তাদের ভাষায় ‘যোগ্য’দের নাগরিকত্ব দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করছে।
বিবিসি বার্মিজের সম্পাদক সো উইন থান বলছেন, নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে বলেই তারা ধারণা করছেন। তিনি বলছেন, ‘সরকার ঘোষণা করেছে যে, উদ্বাস্তুরা ফিরলেই নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এটা হবে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী। এখানে বিভিন্ন গ্রামে যারা বাস করতেন, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের পারিবারিক নিবন্ধন রয়েছে। আবেদন পাওয়ার পর এসব ডকুমেন্টস ভেরিফিকেশন করা হবে। আইন অনুযায়ী আবেদনকারীরা কোয়ালিফাইড হলে তাদের ভেরিফিকেশন কার্ড দেয়া হবে। তারপর নাগরিকত্ব।’

তবে তিনি জানাচ্ছেন, এসব প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় নিয়ে নিতে পারে।
আবার একই সঙ্গে এখানে উদ্বেগেরও বিষয় আছে। কারণ, অতীতে ভেরিফিকেশন কার্ড পাওয়ার পরও নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট না দেয়ার অনেক উদাহারণ আছে।
রোহিঙ্গাদের মনোভাব
একদিকে নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস অন্যদিকে ফেরত যাবার পর প্রমাণসাপেক্ষে নাগরিকত্বের সুবিধায় কোনোমতেই ভরসা নেই রোহিঙ্গাদের।
কক্সবাজারের বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, তারা প্রত্যাবাসনের পরে নয়, বরং প্রত্যাবাসনের আগেই নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে চান।
মাঝি মোহাম্মদইসলাম বলছিলেন, ‘আমরা তো আগেই বলেছি যে, আমরা ফেরত যাবার আগেই নাগরিকত্ব চাই। কারণ ফেরত যাবার পরে আমাদের যে নাগরিকত্ব দেবে, তার নিশ্চয়তা নেই। আমাদের নাগরিকত্ব দিয়ে ফেরত নিলে আমরা নিজেরাই আমাদের গ্রামে গিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না।’
এদিকে প্রথম দফার মতো দ্বিতীয়বারেও প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়েছে।
ফেরত না যেতে রোহিঙ্গাদের উস্কানি দেয়া হচ্ছে বলে সন্দেহের কথা জানিয়েছে সরকার। বেশ কয়েকটি এনজিওর কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
যদিও প্রত্যাবাসনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ও রোহিঙ্গাদের দাবি পূরণের পুরোটাই নির্ভর করছে মিয়ানমারের ওপর।
মিয়ানমারের মানবাধিকার কর্মী নিকি ডায়মন্ড এক্ষেত্রে জোর দিয়েছেন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রোহিঙ্গা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও যুক্ত করতে। কিন্তু প্রত্যাবাসনের এ পর্যায়ে এসে নতুন করে সেটা কতটা সম্ভব তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।
খবর বিবিসি বাংলা

নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

0

দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ কথা বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি মৌসুমি বায়ু অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। লঘুচাপের প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। সারাদেশের দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী ৩ দিনে আবহাওয়া পরিস্থিতির সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি মৌসুমি বায়ু অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করে বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় বিরাজমান রয়েছে।
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে এবং আগামীকাল ঢাকায় সূর্যোদয় সকাল ৫টা ৪৩ মিনিটে।

ফুটবল ম্যাচে ভুল জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে তুলকালাম

0

প্যারিসে শনিবার ফ্রান্স ও আলবেনিয়ার মধ্যে এক ম্যাচের আগে আলবেনিয়ার জাতীয় সঙ্গীতের বদলে ছোট একটি দেশ অ্যান্ডোরার জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে দেওয়া হয়। ফরাসী প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ ক্ষমা চেয়েছেন আলবেনিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে।

প্যারিসে শনিবার ফ্রান্স ও আলবেনিয়ার মধ্যে এক ফুটবল ম্যাচের আগে একের পর এক স্পর্শকাতর ভুলের ঠেলা সামলাতে নাক গলাতে হয়েছে স্বয়ং ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁকে।

২০২০ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ালিফাইং ঐ ম্যাচের আগে প্রথা অনুযায়ী দুদেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজাতে গিয়ে আলবেনিয়ার বেলায় বাজিয়ে দেওয়া হয় ফ্রান্স ও স্পেনের সীমান্তবর্তী ছোট্ট ‌একটি দেশ অ্যান্ডোরার জাতীয় সঙ্গীত। ভুল সেখানেই থামেনি।

ক্ষুব্ধ আলবেনীয় ফ্যানদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করার সময় ঘোষক আলবেনিয়ার বদলে ‘আর্মেনিয়ান’ ফ্যানদের কাছে ক্ষমা চান, যদিও আর্মেনিয়া কোয়ালিফাইং এই গ্রুপেই নেই।

ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্যালারিতে আলবেনিয়ার ফ্যানরা, এবং সেই সাথে মাঠে তাদের খেলোয়াড়রা।

আলবেনীয় দল জানিয়ে দেয় ভুল শোধরানোর আগে তার মাঠে নামবেন না। ফলে, নতুন করে সঠিক জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে ম্যাচ শুরু করতে ১০ মিনিট দেরি হয়ে যায়।

খেলার মাঠের এই ভুল যাতে কূটনৈতিক সঙ্কট তৈরি না করে, সেজন্য সাথে সাথেই হস্তক্ষেপ করেছেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ।

আলেবেনিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে এই ভুলের জন্য ফ্রান্সের পক্ষ হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। ফরাসী প্রেসিডেন্টের এই ক্ষমা প্রার্থনার কথা জানিয়েছেন আলবেনিয়ার প্রেসিডেন্ট এডি রামা।

তিনি টুইট করেছেন মি ম্যাক্রঁ “আমাদের জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে ফরাসী ফুটবল ফেডারেশনের এই কেলেঙ্কারির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।”

ক্ষমা চেয়েছেন ফরাসী ফুটবল কোচ দিদিয়ের দেশম্পও। “এরকম ভুল হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়, কিন্তু তা হয়েছে।”

“আলবেনীয়দের আবেগ বোধগম্য। সে কারণে তাদের জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে তারপরেই ম্যাচ শুরু করা হয়েছে।”বিবিসি

এটিএম শামসুজ্জামানের জন্মদিন আজ

0

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপকার ও গল্পকার এটিএম শামসুজ্জামানের জন্মদিন আজ। ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে গুণী এ শিল্পী জন্মগ্রহণ করেন।
এটিএম শামসুজ্জামান অভিনয়ের জন্য পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক।
এটিএম শামসুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার ভোলাকোটের বড় বাড়ি আর ঢাকায় থাকতেন দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার পগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহীর লোকনাথ হাই স্কুলে।
পগোজ স্কুলে তার বন্ধু ছিল আরেক অভিনেতা প্রবীর মিত্র। ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট হাই স্কুল থেকে। তার পর জগন্নাথ কলেজ ভর্তি হন।
পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে এটিএম শামসুজ্জামান সবার বড়।
১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর বিষকন্যা চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন। প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন জলছবি চলচ্চিত্রের জন্য। ছবির পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা, এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুকের চলচ্চিত্রে অভিষেক।
এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন তিনি। প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করলেও ১৯৬৫ সালে অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় আগমন তার। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের নয়নমণি চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি।
১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত দায়ী কে? চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তিনি রেদওয়ান রনি পরিচালিত চোরাবালিতে অভিনয় করেন ও শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

রোহিঙ্গাদের গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়ে নির্মাণ হচ্ছে সরকারি স্থাপনা

0

মিয়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গাদের সব গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে পুলিশ ব্যারাক, সরকারি ভবন ও শরণার্থী ক্যাম্প নির্মাণ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
স্যাটেলাইট চিত্র থেকে বিবিসি জানতে সমর্থ হয়েছে, কমপক্ষে চারটি রোহিঙ্গা গ্রামকে পুরোপুরি সরকারি অবকাঠামোতে রূপান্তর করা হয়েছে।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়ে আগস্টে ফের ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের (শুদ্ধি অভিযান) ঘোষণা দেয় মিয়ানমার।
রিগনভিত্তিক মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ইউরো এশিয়া রিভিউ ২০১৮ সালের মার্চের শুরুতে জানায়, ২০১৭ সালে শেষ থেকে মিয়ানমার সরকার ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কমপক্ষে ৪৫৫টি গ্রামের সব অবকাঠামো ও ফসলের ক্ষেত ধ্বংস করে দিয়েছে। জানুয়ারিতে অ্যামনেস্টির সবশেষ গবেষণায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বহু গ্রাম জ্বালিয়ে ও বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার আলামত উঠে এসেছিল।
ফেব্রুয়ারিতে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দাবি করে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী অর্ধশতাধিক গ্রাম বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ওই বছর মার্চের শুরুতে নতুন করে অ্যামনেস্টির দেওয়া বিবৃতি থেকে অন্তত ৩টি সামরিক ঘাঁটি ও রাস্তাঘাট নির্মাণ চলমান থাকার কথা জানা যায়।
এবার বিবিসির প্রতিবেদনেও গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের প্রমাণ উঠে এলো।
২০১৭ সালে রাখাইনে সেনাবাহিনীর কথিত শুদ্ধি অভিযান শুরুর কিছু দিন পরেই মিয়ানমার সরকারের তত্ত্বাবধানে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের মতো করে বিবিসির সাংবাদিকও সেখানে যান। তখন কর্মকর্তারা রাখাইন রাজ্যের ওই গ্রামগুলোতে ভবন নির্মাণের বিষয়টি অস্বীকার করেন। সেখানে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। পুলিশি নজরদারির বাইরে সেখানকার মানুষের সাক্ষাৎকার ও চিত্র গ্রহণে সাংবাদিকদের অনুমতি ছিল না।
বিবিসি তাদের নতুন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই সরকারি সফরে গিয়েও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে জাতিগতভাবে নির্মূলের স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তারা। তবে এ ব্যাপারে সরকারি কর্তৃপক্ষ বিবিসির সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি।
রোহিঙ্গা গ্রামের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করেছে অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা ধারণা করছে, ২০১৭ সালে ক্ষতিগ্রস্ত কমপক্ষে ৪০ ভাগ রোহিঙ্গা গ্রাম সম্পূর্ণরুপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটাকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। তবে সেনাবাহিনীর ওই বড় আকারের হত্যাকে অস্বীকার করেছে মিয়ানমার।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। উগ্র বৌদ্ধবাদকে ব্যবহার করে সেখানকার সেনাবাহিনী ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে স্থাপন করেছে সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের চিহ্ন। ছড়িয়েছে বিদ্বেষ। ৮২-তে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতার কাল শুরু হয় রোহিঙ্গাদের। এর পর কখনও মলিন হয়ে যাওয়া কোনো নিবন্ধনপত্র, কখনও নীলচে সবুজ রঙের রশিদ, কখনও ভোটার স্বীকৃতির হোয়াইট কার্ড, কখনও আবার ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ কিংবা এনভিসি নামের রং-বেরঙের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষকে।
২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর একটি প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। তবে সেই থেকে এখন পর্যন্ত একজন মানুষেরও প্রত্যাবাসন করা হয়নি। গত মাসে নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।

ভূত ভয় পান না ‘ভূতপরী’ জয়া আহসান

0

অভিনয়ের দক্ষতা দিয়ে দুই বাংলার দর্শকদের মধ্যে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন জয়া আহসান। একেরপর এক ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে আভির্ভাব ঘটছে তার। সম্প্রতি কলকাতায় ‘ভূতপরী’ নামের নতুন একটি ছবিতে শুটিং এর কাজ শুরু করছেন জয়া। ছবিটিতে দর্শকরা তাকে ভূত এবং পরী দুই রুপেই দেখতে পারবেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভূতপরী সিনেমার শুটিংয়ের একটি ছবি পোস্ট করেছেন জয়। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘লালমাটি, কালিকাপুর গ্রাম ও ভূত পরীর বনলতা’।
ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে জানায়, বোলপুর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রাম কালিকাপুর। গ্রামের মধ্যে বিশাল বাড়ি। সাড়ে তিন শ বছর আগে জমিদার পরমানন্দ রায় বাড়িটি তৈরি করেন। জমিদারবাড়ির সেই জৌলুশ আর নেই। চুন–সুরকি খসে পড়েছে। উঁকি মারছে ইট–কাঠ–পাথর। এই বাড়িতেই ‘ভূত পরী’ ছবির শুটিং হচ্ছে।
দিনের আলোয় সাদা শাড়িতে জয়া বসে আছেন এক গ্রামের লাল মাটি ছুঁয়ে। শুটিং করতে গিয়ে এমন নিবিড় গ্রামে গিয়ে প্রকৃতির প্রেমে পড়ে গেছেন জয়া। শুটিংয়ের জন্য বেশকিছুদিন সেখানেই থাকতে হচ্ছে। পাখির কিচির মিচিরে ঘুম ভাঙছে, চোখ মেললেই দেখতে পাচ্ছেন সাঁওতাল রমনীদের হেঁটে যাওয়া।
ছবিটিতে জয়া আহসানের চরিত্রের নাম বনলতা। ছবিটি যেহেতু ভুতের তাই জয়া আহসান ভূত বিশ্বাস করেন কিনা জানতে চাইলে বললেন, আলোয় যেমন জীবজন্তু, মানুষ, গাছপালা থাকে; তেমনি অন্ধকারেও এমন কিছু থাকে, যারা কাউকে বিরক্ত করে না। মানুষের সঙ্গে সহাবস্থান করে। এটা বিশ্বাস করতে কোনো অসুবিধা নেই।’ আর ভয় নিয়ে বললেন, ‘ভয় ব্যাপারটা কেটে গেছে। আগে সাপখোপে ভয় পেতাম, এখন তা–ও পাই না।
ছবিটির গল্পে দেখা যাবে, ১৯৪৭ সালে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাক্রমে ২০১৯-এ এসে একটি ছোট্ট ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়। ওই ছেলেটির সাহায্যেই নিজের মৃত্যুর কথা জানতে পারে সেই ভূতপরী। তবে এই মৃত্যুর মধ্যেই রয়েছে অন্য রহস্য। কারণ, তার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না, তাকে খুন করা হয়েছিল। পরে সেই ছোট ছেলেটি ভূতপরীকে তার খুনির কাছে পৌঁছে দেবে। এমনই রহস্য ভরা গল্প নিয়ে এগিয়ে যাবে চিত্রনাট্য।
ছবিটি পরিচালনা করছেন সৌকর্য ঘোষাল এবং প্রযোজনা করছে সুরিন্দর ফিল্মস। এতে জয়া ছাড়াও আরও অভিনয় করবেন ঋত্বিক চক্রবর্তী, বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়, সুদীপা চক্রবর্তী, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল ঢাকায়

0

ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নিতে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল আজ সোমবার সকালে ঢাকায় পা রেখেছে।
ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা জেগেছিল। বোর্ডের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে গত জুলাইয়ে আইসিসি জিম্বাবুয়ের সদস্যপদ স্থগিত করেছে। জিম্বাবুয়ের কোনো দল আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে না। তবে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বা অন্য টুর্নামেন্টে খেলতে বাধা নেই। তবুও জিম্বাবুয়ের বাংলাদেশে আসা নিয়ে দেখা দিয়েছিল শঙ্কা।
শেষ পর্যন্ত সব শঙ্কা উড়িয়ে বাংলাদেশে আসতে সম্মত হয় তারা। সোমবার সকালে জিম্বাবুয়ে দলকে বহনকারী বিমান ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে হোটেল সোনারগাঁওয়ে।
১৩ সেপ্টেম্বর মিরপুরে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচ দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের পর্দা উঠবে। পরদিনই জিম্বাবুয়ের ম্যাচ ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় দল আফগানিস্তানের বিপক্ষে। মূল মঞ্চে মাঠে নামার আগে জিম্বাবুয়ে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে। ম্যাচটি হবে ফতুল্লায়।
শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে স্পিন অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজাকে ছাড়া বাংলাদেশে এসেছে জিম্বাবুয়ে। শুধু বাংলাদেশের মাটিতে আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজেই নয়, সিঙ্গাপুর সফরেও জিম্বাবুয়ে দলে নেই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত রাজা। স্বাগতিক সিঙ্গাপুর ও নেপালকে নিয়ে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নেবে দলটি।
শেষবারের মতো আন্তর্জাতিক সফরে এলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। ৩৬ বছর বয়সী মাসাকাদজা ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যাচ্ছেন। সিরিজের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর হারারেতে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবসরের ঘোষণা দেন মাসাকাদজা।

রংপুরের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে : ওবায়দুল কাদের

0

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রংপুরের উপনির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করছে, এ জন্য তাদের স্বাগত জানাই। এটি রাজনীতির জন্য ভালো দিক। যদিও তারা অতীতে অনেকগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করছি। নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয় এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের টঙ্গীতে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের চলমান কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মহাসড়কে টোল আদায় নিয়ে বিএনপির সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তা তো রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। এই টাকাটা কোত্থেকে আসবে। সরকার বারবার নতুন রাস্তা করবে। সেই রাস্তা যারা ব্যবহার করবে তাদের দায় দায়িত্ব নেই? বিএনপি কোনো মহাসড়ক, ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল এগুলো কিছুই করেনি। এগুলো সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাও নেই। পথিবীর অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা তাদের জানা থাকলেও তারা চোখ থাকতে অন্ধ হয়ে আছে।
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে সিটি মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, ঢাকা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজউদ্দিন খান, গাজীপুর সওজ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

আগাম জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, সরকার ও ব্যবসায়ীদের আগাম জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কোনো জাতির একার পক্ষে এটি করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী গৃহীত বেশ কিছু উদ্যোগের আবাসস্থল, যা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার লড়াইয়ে সম্মিলিতভাবে আমাদের টিকে থাকার জন্য একটি দিক নির্দেশনা দিয়েছে।’
আজ মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’-এর নেতাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কমিশনের একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, যদিও বাংলাদেশ অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে, তথাপি অনেক কাজ এখনো বাকি রয়ে গেছে। যে কারণে আমি ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের নতুন কার্যালয় খুলতে দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছি। এই নতুন অফিস বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন প্রচেষ্টা এবং ধারণার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে এবং সমন্বয় সাধন করতে সহায়তা করবে এবং আমরা এখন পর্যন্ত যতটা সফলভাবে এ পথ অতিক্রম করেছি তা থেকে শিক্ষা লাভ করতে এটি সারা বিশ্বের জন্য ওয়েব পোর্টাল হিসেবে কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোপরি, কোনো জাতিই এটি একা করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের সমগ্র বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’
কমিশনের নেতৃত্ব প্রদান করছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন। বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার প্রযুক্তিবিদ বিল গেটস এবং বিশ্ব ব্যাংকের সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাও কমিশনে রয়েছেন।
এ বছর জুলাই মাসে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’র প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ। বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ তথা রাজনিতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢাকার হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে দুই দিনব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বান কি-মুন এবং ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এই বৈঠকে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ঢাকা সফর করেন।
সফরকালীন তারা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন, কি করে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছে। তাদের সেই সফরের ফলেই গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকায় ’গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন’-এর নতুন অফিস খোলা হচ্ছে ।
গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন রিপোর্ট বিশ্বের ১০টিরও অধিক রাজধানী ও নগরী থেকে প্রকাশ করা হয়েছে, যার মূল শ্লোগান হচ্ছে ‘অ্যাডাপ্ট আওয়ার ওয়ার্ল্ড।’
রিপোর্টে বলা হয়েছে, জলবায়ুর প্রভাব ক্রমান্বয়ে সমগ্র বিশ্বের জনগণের জন্য জরুরী বাস্তবতা হিসেবে দেখা দিয়েছে, কোনরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ২০৩০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রায় ১০ কোটি জনগণকে দরিদ্র সীমার নীচে ঠেলে দেবে।
রিপোর্টে একটি সুনির্দিষ্ট রূপকল্পের কথা বলা হয়েছে। যার মাধ্যমে মূল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রসমূহকে আরো স্থিতিস্থাপক এবং উৎপানমুখী হিসেবে রূপান্তর ঘটানো যায়। কমিশন দেখেছে অভিযোজনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক আয় করা সম্ভব। সর্বপরি এই আয়ের পরিমাণ উন্নত স্থিতিস্থাপকতার ্েক্ষত্রে বেশি, লাভের এই হার ২ অনুপাত ১ থেকে ১০ অনুপাত ১ পর্যন্ত বা ক্ষেত্র বিশেষে আরো বেশি।
বিশ্লেষণে বলা জানানো হয়, ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার বিশ্বব্যাপী ৫টি স্থানে ২০২০ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে এতে ৭ ট্রিলিয়ন ডলার মোট মুনাফা অর্জিত হবে। এই ৫টি এলাকায় যে বিষয়গুলো অর্ন্তর্ভূক্ত থাকবে তা হচ্ছে-আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো, উন্নত শুষ্ক-ভূমির অবকাঠামো, ম্যানগ্রোভ সুরক্ষা এবং পানি সম্পদকে অধিক স্থিতিস্থাপক করতে বিনিয়োগ- মূলত বিশ্বব্যাপী অভিযোজন প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখতে যা প্রয়োজন এগুলো তারই অংশ।
জলবায়ুর অভিযোজন ‘ট্রিপল ইকোনমিক ডিভিডেন্ট’ও সরবরাহ করতে পারে, এটি ভবিষ্যতের ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে আনে, উদ্ভাবনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক খাতে ইতিবাচক অগ্রগতি সাধন করে এবং অন্যান্য সামাজিক এবং পরিবেশগত মুনাফাও সরবরাহ করে।
রিপোর্টে অভিযোজনের আহ্বান জানিয়ে সমাজে বিদ্যমান অসমতা দূর করা এবং অধিকসংখ্যক জনগণকে এর আওতাভুক্ত করা, বিশেষ করে সে সব জনগণ যারা জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবজনিত ঝুঁকির মুখে রয়েছে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা। বাস্তবতা হচ্ছে, যারা জলবায়ু পরবর্তনের শিকার হচ্ছে তারা মূলত এর জন্য দায়ী নয়, অভিযোজনকে একটি মানবিক এবং নৈতিক অপরিহার্য বিষয় করে তুলতে হবে।
রিপোর্টের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের চেয়ারম্যান বান কি-মুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কোন সীমানা রেখা রেখা নেই, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা, যা কেবল মাত্র বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘এটি এখন ক্রমান্বয়ে পরিস্কার হচ্ছে যে, বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যেই আমাদের পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে এবং আমাদের এর সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে।
কমিশন ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে এই সম্পর্কে বেশ কিছু ঘোষণা প্রদান করবে এবং অন্যান্য কার্যবিধিও তুলে ধরবে। যেগুলো এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় রূপান্তরগুলোর ক্ষেত্রে জাম্পস্টার্ট প্রযোজ্য। কিছু ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপগুলোর বিদ্যমান উদ্যোগগুলোতে রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তা জড়িত, অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা পরিবর্তনের জন্য নতুন জোট গঠনের দাবি করতে পারে।
২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদন দপ্তরে অনুষ্ঠেয় এবং নেদারল্যান্ডের সরকার আয়োজিত অপর এক অনুষ্ঠানে কমিশন এক বছরের জন্য একটি ‘ইয়ার অব অ্যাকশন’ ঘোষণা করবে।
ইয়ার অব অ্যাকশন এর ক্ষেত্রে অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে ২০২০ সালের অক্টোবরে নেদারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ‘ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন সম্মেলনে প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।