Home Blog Page 3521

চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৯ হাজার ৭৮৫ জন

0

চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরা ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৯ হাজার ৭৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী।

চলতি বছরের শুরু থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হয়েছেন ৭৩ হাজার ৫৬৫ জন। আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৯ হাজার ৭৮৫ জন। এ পর্যন্ত ৯৫ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। সারাদেশে বর্তমানে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৫৮৮ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৯৮৯ জন এবং ঢাকার বাহিরে ১ হাজার ৫৯৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (৩ সেপ্টম্বর সকাল ৮ টা থেকে ৪ সেপ্টম্বর সকাল ৮টা) পর্যন্ত নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাপসাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮২০ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৪৫ জন এবং ঢাকার বাহিরে ৪৭৫ জন। এ যাবত ডেঙ্গু রোগে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৭, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৪৯, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১৫, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ২২, বিএসএমএমইউতে ৮, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে ৩, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৬, সম্মলিত সামরিক হাসপাতালে ১৪ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ২৯ জন, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ৩ জন এবং নিটোরে ২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে (ঢাকা শহর ব্যতীত) ১১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫২ জন, খুলনা বিভাগে ১৪৭ জন, রংপুর বিভাগে ১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৭৮ জন, সিলেট বিভাগে ৮ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন।

আগামীকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

0

যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের বিপক্ষে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ দল। তবে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে কখনও আফগানদের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ খেলেনি টাইগাররা। ২০১৮ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগামীকাল প্রথমবারের মত টেস্ট ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট খেলতে নামছে নবরূপের এক বাংলাদেশ। নতুন প্রধান কোচ দক্ষিণ আফ্রিকা রাসেল ডোমিঙ্গোর অধীনে নতুনভাবে পথচলা শুরু হচ্ছে টাইগারদের। শুধুমাত্র প্রধান কোচই নয়, পেস ও স্পিন বোলিং কোচেও পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। তাই নতুন রুপে টেস্ট দিয়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের এই সফরের একমাত্র টেস্টটি।
ইংল্যান্ডের মাটিতে দ্বাদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপে অষ্টম স্থানে থেকে মিশন শেষ করে বাংলাদেশ। দলের ব্যর্থতার কারনে প্রধান স্টিভ রোডসের সাথে চুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিশ্বকাপ মিশন শেষ হবার ২১ দিন পরই ছিলো শ্রীলংকা সফর করে বাংলাদেশ। অন্তবর্তীকালীন প্রধান কোচ সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ সুজনের অধীনে লংকা সফরে তিন ম্যাচ ওয়ানে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পায় টাইগার দল।
বিশ্বকাপের পর থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে নামে বিসিবি। হাই-প্রোফাইল অনেক কোচই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু সব দিক বিবেচনা করে গত ১৭ আগস্ট দুই বছরের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার ডোমিঙ্গোকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় বিসিবি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজকে সামনে রেখে ২১ আগস্ট থেকে দলের দায়িত্বভার বুঝে নেন ডোমিঙ্গো। তার সাথে প্রথমবারের মত বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন প্রোটিয়াদের সাবেক পেসার ল্যাঙ্গাভেল্ড। ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে বহাল ছিলেন আরেক দক্ষিণ আফ্রিকান নিল ম্যাকেঞ্জি। আর ভারতের সুনীল যোশির পরিবর্তে নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও বাঁ-হাতি স্পিনার ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে বাংলাদেশের স্পিন কোচ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তাই নতুন কোচদের আগমনে এখন বাংলাদেশ দলের সাথে ‘নতুন’ শব্দটি যোগ হওয়াটা বাঞ্চনীয়।
শুধু কোচ নয়, ইনজুরি থেকে মুক্ত হয়ে নতুনভাবে নিয়মিত দলনেতাকেও পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। ২০১৮ সালের নভেম্বরে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে আঙ্গুলের চোটে পড়েন সাকিব আল হাসান। ফলে নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের সর্বশেষ সিরিজে দলের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি তিনি। ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সফরের পর মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব পান সাকিব। কিন্তু ইনজুরির কারনে দেশের মাটিতে শ্রীলংকা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে অধিনায়কত্ব হিসেবে মাঠে নামতে পারেননি সাকিব। অবশেষে এক সিরিজ পর বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে অধিনায়কত্ব করতে নামবেন তিনি।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৮টি ওয়ানডে ও ৪টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। তবে টেস্ট আঙ্গিনায় লড়াই করা হয়নি টাইগারদের। ওয়ানডে ও টি-২০তে হাড্ডাহড্ডি লড়াই করেছে দু’দল। ওয়ানডেতে ৫টিতে বাংলাদেশ, ৩টিতে আফগানিস্তান জয় পায়। টি-২০তে ১টিতে বাংলাদেশ, ৩টিতে আফগানরা জয় পায়। তাই টেস্টেও তুমুল লড়াইয়ে হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
অবশ্য টেস্ট ফরম্যাটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বহুগুনে এগিয়ে বাংলাদেশ। ২০০০ সালের নভেম্বরে টেস্ট আঙ্গিনায় পথ চলা শুরু হয় বাংলাদেশের। এখন অবধি ১১৪টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে টাইগাররা। কিন্তু অভিজ্ঞতার ভান্ডার ভরপুর হলেও, বাংলাদেশের জয় মাত্র ১৩টি, হার ৮৫টি।
বাংলাদেশের অভিষেকের ১৮ বছর পর টেস্ট মর্যাদা পায় আফগানিস্তান। ২০১৮ সালে টেস্ট মর্যাদা অর্জনের পর মাত্র ২টি টেস্ট খেলেছে আফগানরা। গেল বছরের জুনে ব্যাঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টেস্ট অভিষেক হয় আফগানিস্তানের। ঐ টেস্টে ইনিংস ও ২৬২ রানে হারে আফগানিস্তান। এরপর চলতি বছর মার্চে দেরাদুনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই জয়ের মুখ দেখে আফগানরা। ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান।
অবশ্য অভিজ্ঞতা, পরিসংখ্যান কোনটির উপরই নির্ভরশীল নয় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের মত প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেয়ার সামর্থ্য রাখে তারা। কারন সাম্প্রতিক সময়টা ভালো যাচ্ছে না বাংলাদেশের। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর শ্রীলংকার বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসে দাগ কেটে রেখেছে। এমনকি সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি সন্ত্রাসী হামলায় পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
তবে এসব তথ্য নিয়ে মাথা ঘামাতে চাইবে না নতুন বাংলাদেশ দল। কোচিং প্যানেলে নতুনদের আগমন বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে যাবে, সেটিরই অপেক্ষা। এছাড়া বিশ্বকাপের মঞ্চে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করা সাকিবের অর্ন্তভূক্তিতে চাঙ্গা এখন বাংলাদেশ দল।
তাই তো নতুন বাংলাদেশের শুরুটা জয় দিয়ে করতে চান ডোমিঙ্গো, ‘কেউ হারের জন্য খেলতে নামে না। জয় দিয়ে শুরু করতে পারলে দারুন হবে। বাংলাদেশের হয়ে এটি আমার প্রথম টেস্ট ম্যাচ। আমি দেখতে চাই প্রথম ম্যাচে দল কেমন পারফর্ম করে।’
বাংলাদেশ দল (সম্ভাব্য): সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম, মোমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিথুন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাইম হাসান, আবু জায়েদ রাহি, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন।
আফগানিস্তান দল (সম্ভাব্য): রশিদ খান (অধিনায়ক), আসগর আফগান, মোহাম্মদ নবী, ইহসানউল্লাহ জানাত, ইব্রাহিম জাদরান, রহমত শাহ, হাশমতউল্লাাহ শহিদি, ইকরাম আলি খিল, জহির খান, জাভেদ আহমাদি, আহমেদ শিরজাদ, ইয়ামিন আহমাদজাই, আফসার জাজাই, শাপুর জাদরান এবং কাইস আহমেদ।

দেশের ৩৪টি টিভি চ্যানেলের জন্য ১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

0

দেশের সকল টিভি চ্যানেল আগামী ১ অক্টোবর থেকে দেশের প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ (বিএস) এর ফিড ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করবে।

বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) এর চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ আজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১ অক্টোবর দেশের ৩৪ টি টিভি চ্যানেলের সবকটিতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১) এর সেবা অনুষ্ঠানিকভাবে চালু করবেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি স্থানীয় চ্যানেলগুলো বিএস-১ এর মাধ্যমে তাদের সম্প্রচার কার্যক্রম সফল ভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে। আরো ১৫ টি টিভি চ্যানেল শিগগির তাদের সঙ্গে যোগ দিবে।

ড. মাহমুদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই বিএস-১ এর ৪০ শতাংশ সক্ষমতা বিক্রি করে দিয়েছি। আগামী দিনগুলোতে বাকি সক্ষমতা বিক্রি হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বেসরকারি টিভি চ্যানেল মালিক এসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধি দল গত ২৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। তারা বলেন, আগামী ১ অক্টোবর বিএস-১ এর মাধ্যমে তারা সকল বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্তরিক ভাবে কাজ করছেন।
পাশাপাশি, বিসিএসসিএল টিভি চ্যানেল মালিকদের খরচ কমিয়ে আনতে আর্থস্টেশনের পরিবর্তে গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে সকল টিভি চ্যানেল সংযুক্ত করেছে।

ফরাসি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস গত বছরের নভেম্বরে বিএস-১ এর নিয়ন্ত্রন কর্তৃত্ব বিসিএসসিএল-এর কাছে হস্তান্তর করে। ২০১৮ সালের ১২ মে ফ্লোরিডা থেকে এটি মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়।

দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) চ্যাম্পিয়ন ২০১৮ সম্প্রচারের মাধ্যমে প্রথম বিএস-১ এর সফল সম্প্রচার করা হয়।

বিসিএসসিএল প্রতিবেশী চারটি দেশসহ ৬টি দেশে বিএস-১ এর সংযোগ বাজারজাত ও বিক্রয় করার জন্য আন্তর্জাতিক কনসালটেন্সি ফার্ম থাইকমকে ভাড়া করেছে। এই থাই ফার্মটি বর্তমানে বিশটি দেশে কাজ করছে। ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা ব্যায়ে বিএস-১ উৎক্ষেপণ করা হয় এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর ৭ বছরের মধ্যে এটি ব্রেক ইভেন্ট পয়েন্টে পৌঁছুবে।

জিওস্টেশনারি স্লটের ১১৯.১ পূর্বে অবস্থিত বিএস-১ সার্ক দেশ সমূহ এবং ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান এবং কাজাকস্তানের কিছু অংশ কাভার করবে। ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল, এবং ভুটান পুরোপুরি কাভার করবে। ফলে ব্যবসার জন্য এই ছয়টি দেশ বেছে নেয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী

0

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং মধ্যম আয়ের দেশ হতে এগিয়ে নিতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। তবে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হতে এগিয়ে নিতে বন্দরের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।’

তথ্যমন্ত্রী আজ সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বন্দর উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভায় এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিক। তাই তিনি টার্মিনাল নির্মাণ করছেন। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মিত হচ্ছে। লালদিয়ায় কাজ শুরু হয়েছে। বন্দরের যা সক্ষমতা তা আরো বাড়ানোর প্রয়োজন। এতে করেই আমদানি-রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হবে।

ড. হাছান,বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নতির সঙ্গে শুধু সমগ্র দেশের উন্নয়ন জড়িত, তা নয়। এ বন্দরের উন্নতির সঙ্গে পুরো রিজিয়নের উন্নতি নির্ভর করে। বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হচ্ছে। বন্দর তালিকায় ৬ ধাপ এগিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৭০ থেকে বন্দর তালিকায় ৬৪ তে এসেছে। এ উন্নয়ন কয়েক শতাব্দী থেকে যাত্রা শুরু করে। অঞ্চল উন্নয়ন ছাড়া যেমন দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তেমনি আমদানি-রপ্তানি ছাড়াও দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন,
আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সমুদ্র বন্দরগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৫০ এ নিয়ে যেতে কাজ করছে সরকার। চলতি বছর ৬ ধাপ এগিয়ে লয়েড লিস্টে বন্দরের অবস্থান ৬৪। বন্দরকে আরো আধুনিক করতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ওয়াসিকা আয়েশা খাঁন, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ, কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, শেখ হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম প্রমূখ। বাসস

ক্রিকেটের সবচেয়ে ‘বিপজ্জনক’ চাকরিটা যাঁর

0

চট্টগ্রামে এসেই বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। গত দুদিন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না। ক্রাচে ভর দিয়েই অ্যান্ডি মোলস অনুশীলন করাচ্ছেন, উইকেট দেখছেন।

আফগানিস্তান দলের কোচকে দেখে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের কিউরেটর জাহিদ রেজার মনে পড়ে বাংলাদেশ দলের প্রয়াত কোচ এডি বারলোকে, ‘‘মোলসের সঙ্গে এডি বারলোর অনেক মিল। বারলো যেভাবে আমাদের জাতীয় দল থেকে শুরু করে ক্রিকেটের ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করত, মোলস ঠিক একই কাজ করছে আফগানিস্তানে। জাতীয় দল, বয়সভিত্তিক কিংবা একাডেমি—সব দল ওর অধীনে। কদিন আগে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে যে আফগানরা সিরিজ জিতল, সেটিতে বড় অবদান কিন্তু এই মোলসের।’’

আফগান ব্যাটসম্যানদের ‘মাথা গরম’ বলে যে ‘সুনাম’ আছে সেটি বেশ বদলাতে পেরেছেন মোলস। বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে অহেতুক শট খেলার প্রবণতা কমিয়েছেন। চট্টগ্রামে কদিন আগে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে যে কটা ম্যাচে জিতেছে, প্রতিটিতে দেখা গেছে আফগান ব্যাটসম্যানরা বেশির ভাগ সময়েই সোজা ব্যাটে খেলেছেন। বল মাটিতে রাখার চেষ্টা করেছেন। ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। স্কিলে অনেক বদল এসেছে আফগানিস্তানের ক্রিকেটারদের, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের—পাঁচ বছর ধরে আফগানিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত মোলসের তৃপ্তি এটাই, ‘স্কিল নিয়ে অনেক কাজ করছি। বোঝানোর চেষ্টা করছি কোন সংস্করণে কীভাবে খেলতে হয়। টি-টোয়েন্টিতে আক্রমণাত্মক হতে হয়। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে পরিস্থিতি বুঝে রক্ষণাত্মক, কখনো আক্রমণাত্মক হতে হয়। আর বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে দায়িত্ব নিতে হয়। অনেক ধারাবাহিক হতে হয়। লম্বা জুটি গড়তে হয়।’

একটা নবীন টেস্ট-খেলুড়ে দেশের খেলোয়াড়দের মানসিকতায় দ্রুত পরিবর্তন আনা মোটেও সহজ নয়। মোলসের জন্য সহজ ছিল না আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চাকরিটা বেছে নেওয়াও। প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক ‘টেলিগ্রাফ’ তাঁকে নিয়ে একবার একটা প্রতিবেদন করেছিল এ শিরোনামে: ‘অ্যান্ডি মোলস ক্রিকেটের সবচেয়ে ভয়ংকর চাকরিটা করছেন।’ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে যখন আফগানদের ব্যাটিং কোচ হওয়ার প্রস্তাব পান ইংলিশ কাউন্টি দল ওয়ারউইকশায়ারের সাবেক এ ওপেনার, পরিবার কিংবা কাছের বন্ধুদের প্রশ্ন ছিল, ‘তুমি কি নিশ্চিত? এটা তো যুদ্ধ প্রবণ অঞ্চল।’

আফগানদের দুর্দান্ত লেগ স্পিনার পাওয়ার রহস্য
টেস্ট খেলছে ১৯ বছর হলো, এখনো একজন ভালো মানের লেগ স্পিনার পায়নি বাংলাদেশ। অথচ এ আফগানিস্তান দলেই আছে তিনজন রিস্ট স্পিনার। আফগানিস্তানের কোচ অ্যান্ডি মোলস জানালেন একাধিক রিস্ট স্পিনার পাওয়ার রহস্য, ‘আফগানিস্তানে এমন অনেক বোলার আছে। আমাদের সিস্টেমেই এখন ১০-১৫ জন রিস্ট স্পিনার বোলার আছে। সবাইকে মূল দলে জায়গা দিতে পারছি না, কিন্তু আমাদের আছে। চায়নাম্যানই (বাঁহাতি লেগ স্পিন) আছে তিন-চারজন। খুদে বোলাররা সবাই রশিদকে (খান) অনুকরণ করে। আফগানিস্তান জুড়েই এমন অসংখ্য বোলার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। রশিদ স্পিন বোলারদের মধ্যে একটা প্যাশন তৈরি করেছে বিশেষ করে লেগ স্পিনে। খুদে ক্রিকেটাররা তার মতো হতে চায়। তারা তাদের আইডলকে কপি করতে চাই। বাংলাদেশে লেগ স্পিনার নেই কিন্তু ভালো বাঁহাতি স্পিনার আছে। সবাই বোধ হয় সাকিব (আল হাসান) হতে চায়। খুদে ক্রিকেটাররা আইডলকে কপি করতে চায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ভালো ফাস্ট বোলার পেয়েছে এভাবেই।’
কোচিং তাঁর প্যাশন, তাঁর ভালোবাসা। ‘কঠিনেরে ভালোবাসিলাম’ মন্ত্রেই মোলস আফগানিস্তানে কাটিয়ে দিলেন পাঁচটা বছর। আফগানিস্তানের কোচ হিসেবে কাজ করার সেই অভিজ্ঞতা বলছিলেন ৫৮ বছর বয়সী মোলস, ‘কাজটা এত কঠিন নয়। এটা দেখি উদীয়মান একটা দেশের চাকরি হিসেবে। শুরুতে যখন দুই সপ্তাহের জন্য ব্যাটিং পরামর্শক হয়ে সেখানে গেলাম, খেলোয়াড়দের প্যাশন আমাকে মুগ্ধ করল। তবে পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন ছিল খুবই। এখানে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড অনেক সহায়তা করেছে। বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান নিরাপত্তাবাহিনী থেকে এসেছেন বলে তিনি নিরাপত্তার ব্যাপারটা খুব ভালো জানেন। তবে হ্যাঁ, যদি বাইরে যে সমস্যা আছে, তাতে অনেক ঝুঁকি আছে। আপনাকে সেটি সামলে চলতে হবে।’

কাজের সূত্রে বছরের তিন থেকে চার মাস তাঁকে থাকতে হয় কাবুলে। এ সময়ে তিনি থাকেন হোটেলে। আট-দশজন নিরাপত্তাবাহিনী সদস্য তাঁকে জিপে করে মাঠে নিয়ে যান, আবার হোটেলে নিয়ে আসেন। এত নিরাপত্তার মধ্যেও কাবুল মাঝেমধ্যে কেঁপে ওঠে বোমার শব্দে। কেঁদে ওঠে রক্তাক্ত মানুষের আর্তনাদে। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের বাতাসে বারুদের গন্ধ, অস্ত্রের ঝনঝনানি আর তালেবানি হুমকি তো আছেই। একজন সাবেক ইংলিশ ব্যাটসম্যান, একজন ব্রিটিশ নাগরিক, যিনি প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করেছেন নিউজিল্যান্ড, কেনিয়া, স্কটল্যান্ড ও হংকংয়ের হয়ে—চাইলে তো এই ঝুঁকির চাকরি এড়িয়েও যেতে পারতেন।

কেন এড়িয়ে যাননি, সেটি সবিস্তারে ব্যাখ্যা দিলেন মোলস, ‘সত্যি বলতে কী আপনি যখন সেখানে থাকবেন শুধু সংবাদমাধ্যমেই বোমা বিস্ফোরণের খবর পাবেন। আফগানিস্তানে প্রতিদিন বোমা বিস্ফোরণ হয় না। গত পাঁচ বছর ধরে তো সেখানে আছি, নিজ চোখে কখনো এমন ঘটনা দেখিনি। তবে আপনারা দেখছেন প্রতি মাসে সেখানে বোমা বিস্ফোরণ হচ্ছে। ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকলেই শুধু এটা দেখতে পাবেন। তবে একটা জিনিস বলতে পারি, আফগানিস্তানের মানুষ ক্রিকেটকে অনেক ভালোবাসে, ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টদের অনেক সম্মান করে। এমনকি তালেবানরাও ক্রিকেট অনেক পছন্দ করে। তারা কখনো ক্রিকেট বা ক্রিকেট দলের ওপর আক্রমণ করবে না। তারা জানে একমাত্র ক্রিকেটেই তাদের সুখবর এনে দেয়।’

কোচকে নিয়ে কী বলেন রশিদ খান
আজ সংবাদ সম্মেলন শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে আফগান অধিনায়ক রশিদ খান মোলসকে মূল্যায়ন করলেন এভাবে, ‘তিনি অনেক ভালো মানুষ। গত পাঁচ বছর ধরে আফগানিস্তানে আছে। তার সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা অনেক ভালো। ভীষণ ইতিবাচক মানুষ, খেলোয়াড়দের অনেক সমর্থন করে। তার চাহিদাও সীমিত। যার যা লাগবে সে ভীষণ সহায়তা করে।’
মোলস আসলে কাজ করেন অনূর্ধ্ব-১৯, ২৩ ও ‘এ’ দল নিয়ে। আফগানদের পাইপলাইন সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। সেখানে তিনি বেশ সফল। কদিন পর পর যে দুর্দান্ত সব বোলার দেখা যায় আফগানিস্তান দল, সেটি তাঁর সিস্টেম থেকেই আসে। জাতীয় দলের কোচ না থাকলে তাঁকে দিয়ে আপৎকালীন দায়িত্বটাও সারে আফগানিস্তান। ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে কবির খান বিদায় নিলে টুর্নামেন্টে আফগানদের কোচ ছিলেন মোলসই। ফিল সিমন্স চলে যাওয়ার পর এবার তিনি বাংলাদেশে এসেছেন একই দায়িত্ব নিয়ে।

আফগানরা প্রধান কোচ পেয়ে গেলে শেষে হয়ে যাবে তাঁর আফগানিস্তান-অধ্যায়। খুঁজতে হবে নতুন চাকরি। পেশাদার কোচ হিসেবে নতুন চাকরি, নতুন ঠিকানা হয়তো পেয়েও যাবেন। তবে যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে তাঁর সময়টা যে কেটেছে বেশ, দুপুরের উজ্জ্বল আলোয় তাঁর উজ্জ্বল হাসিটাই বলে দেয় তা, ‘ভীষণ উপভোগ করেছি আফগানিস্তানের অধ্যায়। খেলাটা নিয়ে তাদের তুমুল আগ্রহ ভালো লাগে। শুধু খেলেই না, এটা নিয়ে সারাক্ষণ কথা বলে, আলোচনা করে। নতুন আইডিয়া বের করে, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে। এসবই মুগ্ধ করেছে আমাকে।’

অস্ত্রোপচার করিয়েছেন, দাঁড়িয়ে কথা বলার উপায় ছিল না। ড্রেসিংরুমের সামনে বসেই কথা বললেন মোলস। এ অসুস্থতা নিয়ে মাঠে না এলেও চলত। তবুও এসেছেন। শুধু পেশাটার প্রতি গভীর নিবেদনই নয়, আফগানদের প্রতি তাঁর ভালোবাসাটাও যে কম নয়!

হাথুরুর কাছ থেকে শিখতে পারেন মিসবাহ

0

পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ ও প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে সফল হতে পারবেন মিসবাহ-উল হক? জবাবটা দেওয়ার সময় আসেনি। তবে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে থেকে শিক্ষা নিতে পারেন তিনি
বেশি দিন নয় মাত্র তিন বছর আগে পাকিস্তান দলের হেড কোচের দায়িত্বে ছিলেন ওয়াকার ইউনিস, মিসবাহ-উল হক অধিনায়ক। সময়ের পালাবদলে মিসবাহ এখন জাতীয় দলের হেড কোচ ও প্রধান নির্বাচক। আর ওয়াকার তাঁর অধীনে বোলিং কোচ। ক্রিকেট কখনো কখনো বড় নিষ্ঠুর—অন্তত ওয়াকার তা মনে করতেই পারেন। উল্টো ভাবতে পারেন মিসবাহ। পাকিস্তানের ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে সফল অধিনায়ক হতে পারেন বটে কিন্তু জাতীয় দলের কোচিং করানোর অনভিজ্ঞতা বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল। তবে মিসবাহকে বেছে নিতে বড় পর্যায়ে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতাকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিসবাহ শুধু কোচ-ই হননি দায়িত্ব পেলেন প্রধান নির্বাচকেরও। পিসিবির প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম খানের মতে, এই দ্বৈত ভূমিকায় মিসবাহ-ই ‘সবচেয়ে উপযুক্ত কারণ পাকিস্তান ক্রিকেটে চাহিদা সে জানে আর খেলাটি নিয়ে তার জ্ঞানও গভীর।’ তবে ভ্রুকুটি উঠেছে ইতিমধ্যেই। ভারতের ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে মনে করেন, মিসবাহর এ দ্বৈত ভূমিকার কারণে খেলোয়াড়েরা তার সঙ্গে সৎ থাকতে পারবে না।

বাংলাদেশ দলে একই সঙ্গে কোচ ও নির্বাচক হিসেবে কাজ করে বিতর্কিত হয়েছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তাঁর খবরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। খেলোয়াড়দের সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। শুধু তাই নয়, শ্রীলঙ্কা দলের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচক কমিটিতেও ছিলেন হাথুরুসিংহে। তখনো দল নির্বাচন করতে গিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও লাসিথ মালিঙ্গার মতো অভিজ্ঞদের ফিটনেসের কারণে বাদ দিয়ে সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন হাথুরুসিংহে। মিসবাহর কী হবে, তা সময়ই দেবে। আপাতত পাকিস্তান ক্রিকেট দলে ড্রেসিং রুমের পরিবেশটা মিসবাহ পাল্টে দিতে চান, ‘দলে ভীষণ প্রতিভাবান কিছু ক্রিকেটার আছে। আমি তাদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে চাই যেন বুদ্ধিদীপ্ত ও ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে পারে। আর সে জন্য ড্রেসিং রুমের পরিবেশ পাল্টাতে হবে তা বুঝতে পারছি, সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে ধারাবাহিক হতে এর বিকল্প নেই’— পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই বলেছেন মিসবাহ।

ছয় মাস আগেও খেলোয়াড় হিসেবেই ব্যস্ত ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী মিসবাহ। পাঁচ মাস আগেও পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলেছেন পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল)। কোচ চেয়ে পিসিবি যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল, তাতে যোগ্যতা হিসেবে ন্যূনতম লেভেল ২-এর কথা বলা হয়েছে, সঙ্গে শীর্ষ স্থানীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে তিন বছর কাটানোর অভিজ্ঞতা। শর্তগুলোর মধ্যে এক ধরনের শিথিলতা ছিল বলেই এর আগে পূর্ব-অভিজ্ঞতা না থাকলেও মিসবাহর ভাগ্যে সহায় হয়েছে। তবে মিসবাহ ইসিবির লেভেল ২-এর কোচিং সনদ নিয়েছেন। পিসিবিরও লেভেল ২-এর সনদও আছে তাঁর। আর কোচ পদে আবেদন করেছিলেন সময়সীমার শেষ দিনে। সংবাদমাধ্যম তখন জানিয়েছিল, আগের কোচ মিকি আর্থারের সমান পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন মিসবাহ। পিসিবি তাতে রাজি হচ্ছিল না।
মিসবাহর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ আরেকজন হাথুরুসিংহে না হওয়াই।

চলছে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারদের ‘হরর শো’!

0

চলতি অ্যাশেজে মোটেও ভালো করতে পারছে না অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটি। এবার অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা তাদের জন্য ফিরিয়ে এনেছে ১৩১ বছর আগের স্মৃতিকে।
চলতি অ্যাশেজে আগের তিন টেস্ট ও আজ ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রথম ইনিংস মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট সাত ইনিংস ব্যাট করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনারেরা। তাঁদের রানসংখ্যা দেখে ( ৮, ২, ৭, ৮, ১৩, ৩, ১৬, ৫, ৬১, ৮, ১৯, ০, ০, ১৩) যেকোনো ‘হরর’ মুভি মনে পড়তে পারে। ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টেও এই ‘হরর শো’ পাল্টাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

ডেভিড ওয়ার্নারকে এখন স্টুয়ার্ট ব্রডের ‘বানি’ বললে মোটেও অত্যুক্তি হবে না। অস্ট্রেলিয়ার এ ওপেনার আজও শিকার হয়েছেন ব্রডের। রানের খাতা খোলার আগেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন জনি বেয়ারস্টোকে। অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটির এই ‘হরর শো’-তে ব্রডকে নিয়ে ওয়ার্নারের নিজস্ব প্রযোজনার ভূমিকা অসামান্য (!)।

এবার অ্যাশেজে সাত ইনিংস মিলিয়ে পাঁচবার ব্রডকে উইকেট দিয়েছেন তিনি। আর এ সাত ইনিংসে ওয়ার্নার ছয়বারই রান তোলায় দুই অঙ্কের পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এবার অ্যাশেজে সর্বোচ্চ আর তিন ইনিংস ব্যাট করার সুযোগ পাবেন ওয়ার্নার। এর মধ্যে মাত্র এক ইনিংসে দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছানোর আগে আউট হলেই ছুঁয়ে ফেলবেন মাইকেল আথার্টনকে। ১৯৯৭ সালে ছয় টেস্টের অ্যাশেজ সিরিজে ৭টি ইনিংসে ‘সিঙ্গেল ফিগার’-এ আউট হওয়ার রেকর্ডটি এখনো সাবেক এ ইংলিশ ওপেনারের দখলে।

শুধু ওয়ার্নার কেন, এই অ্যাশেজে তাঁর দুই ওপেনিং সতীর্থ ক্যামেরন ব্যানক্রফট ও মার্কাস হ্যারিসও ভালো করতে পারছেন না। ৮, ১৯ ও ১৩—এ হলো হ্যারিসের সংগ্রহ। ব্যানক্রফট দুই টেস্ট খেলে ৮, ৭, ১৩ ও ১৬। আর ওয়ার্নার খেলেছেন আগের তিন টেস্টেই—১, ৮, ৩, ৫, ৬১ এ ০। এ তিন ওপেনারের প্রতি ইনিংসের রানসংখ্যা লেখার শুরুতেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তাকালে একটা প্রশ্ন উঁকি দেবেই—অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনারেরা সবশেষ কবে এমন বাজে খেলেছেন?

১৩১ বছর আগে। হ্যাঁ, প্রায় দেড় শতাব্দী আগে ‘ছাইভস্ম’ জয়ের এ লড়াইয়ে এবারের চেয়েও বাজে ব্যাট করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনারেরা। সে সিরিজের পর ওপেনিং জুটিতে এবারই এতটা বাজে শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার। ১৮৮৮ সালের সে অ্যাশেজ সিরিজ ছিল তিন টেস্টের। আর তাতে ছয় ইনিংস মিলিয়ে ওপেনিং জুটিতে অস্ট্রেলিয়ানদের ব্যাটিং গড় ছিল ৮! এবার এখন পর্যন্ত সাত ইনিংস মিলিয়ে তা ১৫.১৪। মাঝের এ সময়ে অ্যাশেজে ওপেনিং জুটিতে কখনো এত বাজে শুরু পায়নি অস্ট্রেলিয়া। এবারের জঘন্য শুরু ফিরিয়ে এনেছে ১৩১ বছর আগের সে স্মৃতি। অ্যাশেজে সব সিরিজ বিচারে এবার ওপেনিং জুটিতে তৃতীয় সর্বনিম্ন ব্যাটিং গড় অস্ট্রেলিয়ানদের।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটি ভেঙেছে প্রথম ওভারেই। আর দুই ওপেনার ফিরে গেছেন সপ্তম ওভারের মধ্যে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত ২ উইকেটে ৯৮ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। উইকেটে রয়েছেন দুই স্তম্ভ স্টিভ স্মিথ ও মার্নাস লাবুশানে। বৃষ্টি হানা দেওয়ায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মধ্যাহ্নভোজ শেষে খেলা মাঠে গড়ায়নি।

কালকির নতুন প্রেম!

0

আবার প্রেমে পড়েছেন কালকি কোচলিন। এখন প্রেমের সাগরে ভাসছেন তিনি। সমুদ্রসৈকতে মনের মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় পাওয়া গেছে বিটাউনের এই সুন্দরীকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমিকের সঙ্গে এক রোমান্টিক ছবি পোস্ট করে নিজের নতুন এই প্রেমের কথা স্বীকার করলেন কালকি; যদিও প্রেমিকের পরিচয় গোপন রেখেছেন। তবে জানা গেছে, কালকির এই মনের মানুষের নাম হর্ষবর্গ।

একসময় চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক অনুরাগ কাশ্যপের প্রেমে পড়েছিলেন কালকি। তাঁরা বিয়েও করেন। কিন্তু বিয়ের দুই বছর পর তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। এত দিন পর আবার মনের মানুষ খুঁজে পেয়েছেন কালকি। তাই কোনো রাখঢাক না করে প্রকাশ্যে তিনি নিজের ভালোবাসার কথা স্বীকার করেছেন। কালকি ইনস্টাগ্রামে প্রেমিক হর্ষবর্গের সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। ছবিতে তিনি ক্যাপশন দিয়েছেন ‘প্রতিদিন রোববার হয়, যখন আমি আমার প্রিয় কেভম্যানের (গুহামানব) সঙ্গে থাকি।’

জবাবে হর্ষবর্গ লিখেছেন, ‘কালকি, তুমি এখনই আমার মুখে এক বিশেষ হাসি একে দিয়েছ।’

কালকির পোস্ট করা ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। কালকির অনুরাগীরা এই নতুন প্রেমের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

২০০৯ সালে অনুরাগ কাশ্যপের ‘দেব ডি’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় কালকির। এই ছবির সেট থেকে কালকি আর অনুরাগের মধ্যে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এরপর ২০১১ সালে তাঁরা বিয়ে সেরে ফেলেন। কিন্তু নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাবে তাঁদের ডিভোর্স হয়ে যায়। এর মধ্যে অনুরাগের জীবনে এক সুন্দরী এসেছিলেন। তাঁদের প্রেমের খবর একসময় বিটাউনে উড়ে বেড়াত। তবে অনুরাগের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির অনেক দিন পর আবার মনের মানুষ খুঁজে পেলেন কালকি। এই বলিউড তারকাকে শেষ পর্দায় দেখা গেছে জোয়া আখতারের ‘গাল্লি বয়’ ছবিতে। এই ছবিতে আরও ছিলেন রণবীর সিং ও আলিয়া ভাট।

আরিয়ানার ৮৪ কোটি টাকার মামলা

0

মার্কিন সংগীতশিল্পী আরিয়ানা গ্রান্ডে মামলা ঠুকেছেন। ‘ফরএভার টুয়েন্টি ওয়ান’ আর ‘রাইলি রোজ ফ্যাশন’ ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠান দুটি নাকি তাঁর নাম, খ্যাতি আর ইমেজ ক্ষুণ্ন করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি অন্য মডেলকে আরিয়ানা গ্রান্ডের মতো সাজিয়ে নিজেদের পণ্যের বিজ্ঞাপনের ফটোশুট করেছে। শুধু তা-ই নয়, বছরের শুরুতে সেই ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাও চালিয়েছে। তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে।

নিউজ এইটিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানহানির সেই মামলায় আরিয়ানা ‘ফরএভার টুয়েন্টি ওয়ান’-এর কাছে ১ কোটি মার্কিন ডলার বা ৮৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ফলোয়ারের দিক থেকেও আরিয়ানা গ্রান্ডে ছাড়িয়ে গেছেন অনেক বড় তারকাকে। ইনস্টাগ্রামে ১৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ গ্র্যামিজয়ী এই শিল্পীকে ‘ফলো’ করেন। আর টুইটারে সেই সংখ্যা সাড়ে ৬ কোটি। ২৬ বছর বয়সী এই তারকার বিশালসংখ্যক ভক্তই ‘ফরএভার টুয়েন্টি ওয়ান’ আর ‘রাইলি রোজ’-এর ক্রেতা।

আরিয়ানা গ্রান্ডের অভিযোগ, দুটি প্রতিষ্ঠান মিলে তাঁর মতো চেহারার মডেলকে তাঁর মতো করে সাজিয়ে বিভিন্ন পণ্য পরিয়েছে। তারপর তার ছবি তুলেছে, ভিডিও করেছে। কমপক্ষে ৩০টি ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করেছে সেই প্রচারণায়। এমনকি সেই অডিও আর ভিডিওর সঙ্গে আবার আরিয়ানার সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘সেভেন রিংস’ গানের অডিও ও লিরিক ব্যবহার করেছে। ওই অডিও আর ভিডিওগুলো ‘ভৌতিক’ বলেছেন আরিয়ানা। আরিয়ানার আইনজীবী লস অ্যাঞ্জেলসের আদালতে মানহানি, কপিরাইট ও প্রচারণার অধিকার ভঙ্গের মামলা করেছেন।

এই মামলা নিয়ে ‘ফরএভার টুয়েন্টিওয়ান’-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা চলমান মামলা নিয়ে মন্তব্য করি না। আমরা আরিয়ানা গ্রান্ডের দারুণ ভক্ত। তাঁর লাইসেন্সিং কোম্পানির সঙ্গে আমরা গত দুই বছর কাজ করেছি। আশা করছি, এসব ভুল-বোঝাবুঝি কাটিয়ে আমরা একটা সমঝোতায় পৌঁছাব। আর ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করব।’

অন্যদিকে রাইলি রোজকে মঙ্গলবারে মেইল পাঠানো হলেও তারা কোনো উত্তর দেয়নি।

ফরএভার টুয়েন্টি ওয়ান প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৪ সালে। বিশ্বের ৫৭টি দেশে এর ৮১৫টি শাখা আছে। ‘ফোর্বস’ ম্যাগাজিন অনুসারে, তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মালিকের দুই মেয়ে লিন্ডা এবং অ্যাস্টার চ্যাং ২০১৭ সালে রাইলি রোজ প্রতিষ্ঠা করেন।

আদনান সামির ছেলের দেশ পাকিস্তান

0

আদনান সামিকে কে না চেনে! তিনি জন্মেছিলেন ইংল্যান্ডের লন্ডনে। সংগীতপ্রেমী মাত্রই জানেন, তিনি কত বড় শিল্পী। তিনি ভারতীয় ও পাশ্চাত্য—দুই ঘরানার গান গেয়েছেন। পিয়ানো বানানোতে তাঁর বিশেষ দক্ষতা আছে। বলা হয়, তিনি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত কি-বোর্ডবাদক। টাইমস অব ইন্ডিয়া তাঁকে ‘সুলতান অব মিউজিক’ নামে অভিহিত করেছে। তাঁর পৈতৃক নিবাস পাকিস্তানের জম্মু-কাশ্মীরে হলেও তিনি ভারতের নাগরিক।

আদনান সামি অনেক দিন পর খবরের শিরোনাম হয়ে এলেন। তবে গানের জন্য নয়, ছেলের বক্তব্যের কারণে। আদনান সামি আর তাঁর প্রথম স্ত্রী, পাকিস্তানের অভিনয়শিল্পী জেবা বখতিয়ারের ছেলে আজান সামি খান বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ভারত নয়, তাঁর দেশ পাকিস্তান।’ তিনি বলেন, ‘যাঁর জন্য আগে কখনোই এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলিনি, তিনি আমার বাবা। তাঁকে ভালোবাসি, সম্মান করি। তিনি নিজের দেশ হিসেবে ভারতকে বেছে নিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান করি।’

এরপর আজান বলেন, ‘কিন্তু আমি কোন দেশকে আমার ঘর বলব, সেটা একান্তই আমার সিদ্ধান্ত। আর আমি পাকিস্তানকেই আমার ক্যারিয়ার গড়ার জন্য বেছে নিয়েছি। আর পাকিস্তানের একজন নাগরিক হিসেবে আমি গর্বিত।’ যদিও ভারতে আজানের অসংখ্য ভালো বন্ধু রয়েছে। তিনি জীবনের একটা বড় অংশ কাটিয়েছেন ভারতে। বিশেষ করে ছেলেবেলা। কিন্তু পাকিস্তানের ইন্ডাস্ট্রিকেই তিনি নিজের পরিবার বলে মনে করেন। তাঁর সুখ, আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন—সব পাকিস্তানে।

বিবিসির ওই সাক্ষাৎকারে বাবা আদনান সামির রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়েও প্রশ্ন করা হয় আজান সামি খানকে। তবে উত্তর দিলেন কৌশলে। বললেন, ‘আমার বাবা আর আমার মধ্যে যে কথা হয়, তা বরং আমাদের মধ্যেই থাক। আমি মায়ের কাছে বড় হয়েছি। বাবা আর মায়ের একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, আছে। আমি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাবার সঙ্গে পরামর্শ করি। মাসের পর মাস আমাদের কথা হয় না, তবে যখন আমরা আড্ডা দিই, ওই সব মনে থাকে না। আমরা একজন আরেকজনকে বুঝতে পারি। তবে আমার মনে হয়, সন্তান হিসেবে বাবার রাজনৈতিক মতাদর্শের বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়।’