Home Blog Page 3522

ফিরলেন শ্রীদেবী, মোমের মূর্তি হয়ে

0

এ যেন ফিরে এল মিস্টার ইন্ডিয়ার সেই শ্রীদেবী। ‘হাওয়া হাওয়াই’ গানে যেমনটি দেখা গিয়েছিল। ঝলমলে সোনালি রঙের পোশাকে, ঠিক সেই সাজে শ্রীদেবী ফিরলেন নিষ্প্রাণ, মোমের ভাস্কর্য হয়ে। জনপ্রিয় সেই গানে মোহময়ী এই অভিনেত্রী নাচিয়েছিলেন পুরো বলিউডকে। সিঙ্গাপুরে মাদাম তুসো জাদুঘরে সেই শ্রীদেবীর মোমের তৈরি ভাস্কর্যের উন্মোচনে তাই আবেগঘন হলো পরিবেশ। কাঁদলেন স্বজনেরা।

গত ১৩ আগস্ট শ্রীদেবীর জন্মদিনে মাদাম তুসো কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, বলিউডের এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে তারা। একটি মোমের ভাস্কর্য সংরক্ষণ করা হবে এই বিখ্যাত জাদুঘরে। সিঙ্গাপুরের মাদাম তুসো মিউজিয়ামে আজ বুধবার উন্মোচন হলো সেই ভাস্কর্য। এই উপলক্ষে সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বামী বনি কাপুর এবং কন্যা খুশি কাপুর ও জাহ্নবী কাপুর। শ্রীদেবীর এই মোমের ভাস্কর্যটি করা হয়েছিল আইকনিক ‘হাওয়া হাওয়াই’ গানের দৃশ্য থেকে। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ছবির সেই নাচের দৃশ্যটি দেখেননি এমন বলিউড দর্শক খুব কম আছেন।

অনুষ্ঠানের ভিডিও চিত্রে দেখা গেল, মায়ের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে এক মুহূর্ত কী যেন ভাবলেন জাহ্নবী কাপুর। ঠিক কি ভেবেছিলেন তিনি? সেটি একমাত্র তিনিই জানেন। আর জানেন অন্তর্যামী। তবে ভিডিও এবং স্থিরচিত্রে স্পষ্ট, মায়ের মূর্তির আঙুলে যেন আঙুল রাখলেন জাহ্নবী। আর সেই দৃশ্যটি দর্শকদের বেশ মনে ধরেছে। এ সময় পুরো পরিবার আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে। ভাস্কর্য উন্মোচন করার মুহূর্তে কেঁদে ওঠেন শ্রীদেবীর স্বামী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুর। ততক্ষণে চোখের কোণ ভিজে উঠেছে শ্রীদেবীর দুই কন্যা জাহ্নবী ও খুশির। এ সময় জাহ্নবী কাপুর তাঁর বাবার হাত চেপে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পায় এ অনুষ্ঠানের বেশ কিছু স্থিরচিত্র, যেখানে একটি ছবিতে দেখা যায়, আশির দশকের ‘মি. ইন্ডিয়া’ সিনেমার ‘হাওয়া হাওয়াই’ গানের দৃশ্যের শ্রীদেবী যেন সোনালি কাপড় ও মানানসই অলংকারে জীবন্ত দাঁড়িয়ে আছেন। পরের ছবিতে শ্রীদেবীর পরিবারের সব সদস্যকে একসঙ্গে দেখা যায়, সেখানে স্বামী ও দুই কন্যার মাঝে যেন আলো ছড়াচ্ছেন স্বয়ং শ্রীদেবী। উল্লেখ্য, ‘মি. ইন্ডিয়া’ ছবির প্রযোজক ছিলেন শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুর। আর ছবিটি পরিচালনা করেন শেখর কাপুর। অবশ্য তারও অনেক পরে শ্রীদেবীর সঙ্গে বিয়ে হয় বনির।

ভারতের তো বটেই, বাংলাদেশের অনেক দর্শকের কাছে শ্রীদেবী শুধু বলিউডের নায়িকা নন, শ্রীদেবী মানে নস্টালজিয়া। তামিলনাড়ুতে ১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন শ্রীদেবী। বাবা ছিলেন আইনজীবী। এক বোন ও দুই সৎভাই নিয়ে যৌথ পরিবারে দক্ষিণী আদর্শে বেড়ে ওঠা তাঁর। শিশুশিল্পী হিসেবে বলিউডে অভিষেক হয়। চিত্তাকর্ষক চোখ, রুপালি পর্দায় উপস্থিতি আর অভিনয় দক্ষতা তাঁকে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়। তিনি হিন্দি ছবির পাশাপাশি তামিল, তেলেগু ও মালায়ালম ছবিতে সমানতালে কাজ করেছেন। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। গেল বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান শ্রীদেবী।

৫ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে ডিএসইএক্স

0

টানা ছয় দিনেও চেহারা বদলায়নি পুঁজিবাজারের। সূচকের দরপতন অব্যাহত আছে। আজ বুধবার সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ২০ পয়েন্ট। নেমে এসেছে ৫ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে। অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৮৬ পয়েন্টে। এর আগে গত ২২ জুলাই সূচকটি ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে গিয়েছিল।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক (সিএএসপিআই) কমেছে ৮৯ পয়েন্ট।

আজ ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৭৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা, গতকালের চেয়ে যা কম। গতকাল লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৯৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার। হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩২টির। কমেছে ১৬৬টির। দর অপরিবর্তিত আছে ৫৩টির।

আজ লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো—মুন্নু সিরামিকস, স্টাইল ক্র্যাফট, রেনেটা, মুন্নু স্টাফলার, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ফরচুন, সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক ও আইটি কনসালট্যান্ট লিমিটেড।

দর বাড়ার শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো সি পার্ল, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড, ফোনেক্স ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড, কে অ্যান্ড কিউ, ফরচুন, সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, নাভানা সিএনজি, কপার টেক, ঢাকা ইনস্যুরেন্স ও আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড।

দর কমার শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো—রিলায়েন্স ওয়ান, গ্রামীণ ওয়ান স্কিম টু, সন্ধানী ইনস্যুরেন্স, আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড-১, আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইউনাইটেড এয়ার, মুন্নু সিরামিকস, আইসিবি এএমসিএল অগ্রণী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড ও প্রাইম ফার্স্ট আইসিবিএ।

অন্যদিকে সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর কমেছে ১২৯টির। বেড়েছে ৮৯টির। দর অপরিবর্তিত আছে ৩৩টির।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশীদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ লুটপাট অগ্নিসংযোগ

0

দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যিক রাজধানী জোহানেসবার্গে বিক্ষোভকারীরা বিদেশী মালিকানাধীন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ লুটপাট চালিয়েছে। এ সময় তারা বেশ কিছু গাড়ি, দোকান ও ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর পুলিশ কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীক গ্রেফতার করেছে।

সোমবার এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, কমপক্ষে ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তা ছাড়া এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো শহরজুড়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বার্তা সংস্থা নিউজ ২৪ জানায়, বিদেশীদের দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চলে যাওয়ার দাবিতে কয়েক দিন আগে জোহানেসবার্গের সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টে (সিবিডি) কয়েক শ’ লোক বিক্ষোভ মিছিল করে। ওই বিক্ষোভকারীরাই বিদেশী নাগরিকদের মালিকানাধীন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি। এ সময় তারা রাস্তার পাশে পার্কিং করা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ দিকে প্রাদেশিক কমিশনার ফেসবুকে এক বিবৃতিতে বলেন, অপরাধমূলক সুযোগ সন্ধানীদের দ্বারা বিদেশী নাগরিকদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও সহিংসতার নিন্দা জানায় পুলিশ।
সূত্রের খবরে জানা গেছে, জোহানেসবার্গ শহরের স্মল অ্যাস্টেট, ব্রিরি অ্যাস্টেট, জিপি অ্যাস্টেট, এমটিএন ট্যাক্সি র্যাংগস, ব্রি ট্যাক্সি র্যাঙ্ক, হিলব্রো, নিউটাউনসহ আশপাশের সব শহর যেমন মালভেন, প্রিমরোজ, বস্তুরাজ, থেমবিছা, জার্মিস্টন, রজেটন বিল, নিউক্যাসেল অভিবাসীদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে দিনভর হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না বা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা কম থাকায় এ হামলা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। মঙ্গলবার জোহানসবার্গ শহরের আশপাশের সব যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মালভেনের জুলিস অ্যাস্টেটে স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকরা নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে প্রায় ২০০ দোকান ১০০ গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া প্রিটোরিয়া শহর ও তার আশপাশের এলাকায় হামলা ও লুটপাট চলেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে হামলা ও লুটপাট, অগ্নিসংযোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ দিকে সোমবার সহিংসতার ঘটনায় নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিওফ্রে ওনিয়ামা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় নাইজেরিয়ার অভিবাসীদের ওপর সহিংস হামলার পর দেশটি তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

বিদেশীদের দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চলে যাওয়ার জন্য জুলু রাজা গুডউইল যোযেলিথিনির কথিত আহ্বানের পর বিদেশীরা স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়ে আসছে। দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলসহ মহাদেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অর্থনৈতিক অভিবাসীদের একটি প্রধান গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকা। কাজের সন্ধানে প্রতিবেশী লেসোথো, মোজাম্বিক ও জিম্বাবুয়ে থেকে অনেক লোক এখানে আসেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার এই অস্থিরতা শুরু হয়েছিল যখন জোহানেসবার্গের সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টের (সিবিডি) একটি পুরাতন ভবনে আগুন লেগে সেটি ধসে পড়ে এবং কমপক্ষে তিনজন মারা যান। এ ঘটনার পরপরই সহিংসতা দু’টি পূর্ব শহরতলী এবং কার্যনির্বাহী রাজধানী প্রিটোরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে স্থানীয় গণমাধ্যম দোকানে অগ্নিসংযোগের খবর জানায়। মূলত সিবিডি, অর্থনৈতিক অভিবাসী ঘেরা একটি কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক অঞ্চল।

এ দিকে সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকার নিজস্ব সম্প্রদায়ের বাইরের অধিবাসীদের তাড়াতে একটি উসকানিমূলক বুকলেট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।
সিসনকে পিপলস ফোরাম নামে পরিচিত একটি গ্রুপ এই বুকলেট ছড়িয়ে দেয়ার পেছনে কাজ করেছে। এতে তারা অভিযোগ করেছে যে, বিদেশীরা তাদের দেশে এসে মাদক বিক্রি করছে এবং চাকরি ছিনিয়ে নিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃহত্তর জোহানসবার্গ অঞ্চলে বিদেশীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত সহিংসতার ঘটনাকে উসকে দিতে এই দু’টি ইস্যুকে তারা ব্যবহার করছে।

প্রধান বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স পার্টি বলেছে, এই ঘটনাগুলো একটি ব্যর্থ অর্থনীতির কারণে ঘটছে, যেখানে ১০ কোটিরও বেশি দক্ষিণ আফ্রিকান কাজ খুঁজে পাচ্ছে না। ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস এবং গণতান্ত্রিক জোট উভয়ই এসব ঘটনার জন্য বিদেশভীতিকে দুষছে।

জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে স্পিকারকে চিঠি

0

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নিয়োগ দিতে জাতীয় পার্টি থেকে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) বিকালে জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের নেতৃত্বে কয়েকজন সংসদ সদস্য জিএম কাদেরের স্বাক্ষরিত চিঠি স্পিকারের দফতরে গিয়ে পৌঁছে দেন।

জাতীয় পার্টির চিঠিটি পাওয়ার বিষয়টি স্পিকারের একান্ত সচিব কামাল বিল্লাহ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

চিঠির সঙ্গে দলটির ১৫ জন সংসদ সদস্যের সম্মতিপত্রও সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘মহান জাতীয় সংসদে বর্তমানে জাতীয় পার্টির প্রধান বিরোধী দল হিসেবে রয়েছে। আপনি নিশ্চয় অবগত আছেন যে আমাদের দলের চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলের নেতা বিগত ১৪ জুলাই ২০১৯ তারিখে ইন্তেকাল করেছেন।

ফলে মহান জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়ামের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং পার্টির সংসদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যরা, বিরোধী দলের নেতা হিসেবে ১৮ লালমনিরহাট-০৩ থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত আমি গোলাম মোহাম্মাদ কাদেরকে মহান সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার জন্য প্রস্তাব করছে।

অতএব উপরোক্ত বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম এবং পার্টির সংসদীয় দলের মনোনীত সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে আমাকে নিয়োগ দানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।’

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

তবে গত এপ্রিলে অসুস্থকালীন অবস্থায় এরশাদ তার ভাই জিএম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেন।

প্রয়াত এ রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর পর এক সংবাদ সম্মেলনে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরের নাম ঘোষণা করা হয়। সেদিন দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, মৃত্যুর আগে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এ সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছেন।

সংসদে এখন সংরক্ষিতসহ ২৫টি আসন আছে জাতীয় পার্টির। এর মধ্যে দলের এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন হবে। এরশাদের স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদ বর্তমানে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার পদে আছেন।

এদিকে চিঠিটির বিষয়ে জাতীয় পার্টির কোনো নেতা থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে দলটির অন্যতম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী কোনো বক্তব্য দেননি।

তবে পার্টির মহাসচিব ও দলের চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা চিঠি দেয়ার বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাংসদ শরীফুল ইসলাম জিন্নাহ।

প্রসঙ্গত সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা মন্ত্রী এবং উপনেতা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতার নিয়োগ দেন স্পিকার।

রংপুর-৩ উপনির্বাচন: দলীয় মনোনয়ন ফরম নিলেন সাদ এরশাদ

0

রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদ। মঙ্গলবার দুপুরে পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতী, লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, সফিকুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এমপিসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। ফরম নেয়ার পর গণমাধ্যমকর্মীদের সাদ এরশাদ বলেন, ‘বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাই।

দল মনোনয়ন দিলে রংপুর তথা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতির বাইরে কখনই ছিলাম না। ছোটবেলা থেকে রাজনীতি দেখে এসেছি। আমি রাজনীতির ‘সাফারারও’ ছোটবেলাতে হয়েছি। পাঁচ বছর বয়সে হাজত খেটেছি। সম্ভবত এত কম বয়সে আর কাউকে (রাজনৈতিক কারণে) কারাগারে যেতে হয়নি।’

রংপুরে তার প্রার্থিতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হচ্ছে- এটিকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে সাদ এরশাদ বলেন, ‘বড় দলে মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকেই থাকতে পারেন। অনেকের পছন্দের প্রার্থী থাকতে পারে। এটা বড় সমস্যা নয়। সময়মতো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’

মা রওশন এরশাদের গাড়ি করে বনানী অফিসে আসেন সাদ। গাড়ি থেকে নেমে সোজা দ্বিতীয় তলায় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন। দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তিনি কোলাকুলি করেন।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে এর আগে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর ও রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির। ৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন ফরম উত্তোলনকারীদের সাক্ষাৎকার নেবে পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ড।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৫ অক্টোবর ভোটগ্রহণ করা হবে। মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর। যাচাই-বাছাই ১১ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ১৬ সেপ্টেম্বর। রংপুর সদর উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন নিয়ে গঠিত এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৩১০ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৭৬২ জন।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হয়। এ নির্বাচনে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়ে এরশাদ জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান পান ৫৩ হাজার ৮৯ ভোট। এবারও ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

তাজিয়া শোক মিছিলে পাইক অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

0

শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া শোক মিছিলে পাইক অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম (বার), পিপিএম। সেই সাথে তাজিয়া শোক মিছিলে ডিএমপি’র পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আজ (০৪ সেপ্টেম্বর’১৯) সকাল ১১ টায় ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে এক সমন্বয় সভায় একথা বলেন তিনি। এসময় উক্ত সভায় ডিএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারের বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ শিয়া সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানা যায়, আগামী ০৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ২ টায় আঞ্জুমানে হায়দারীর আয়োজনে হোসাইনী দালান ইমামবাড়া থেকে শোকমিছিলের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র আশুরা উদযাপন শুরু হবে। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে ১০ সেপ্টেম্বর আশুরা পালন শেষ হবে।
উক্ত সমন্বয় সভায় আশুরার শোকমিছিল আয়োজক কর্তৃপক্ষের প্রতি নিন্মোক্ত দিক নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।
১। শোক মিছিলের মির্ধারিত রুট ও সময়সীমা (নির্ধারিত সময়ে শুরু ও শেষ) মেনে চলতে হবে।
২। তাজিয়া শোক মিছিলে কোন পাইক যাতে অংশগ্রহণ করতে না পারে সে বিষয়টি আয়োজক সংস্থা নিশ্চিত করবেন।
৩। তাজিয়া শোক মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের নিশান এর উচ্চতা ১২ ফুট এর বেশী হবে না।
৪। তাজিয়া শোক মিছিল ও অন্যান্য অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আয়োজক সংস্থা প্রতিটি সমবেত স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও মনিটরিং এর ব্যবস্থা করবেন।
৫। আয়োজক সংস্থা পর্যাপ্ত সংখ্যক আইডি কার্ডসহ সেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং যাচাই বাছাইয়ের জন্য ছবিসহ তালিকা সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনার এর অফিসে প্রেরণ করবেন।
৬। তাজিয়া শোক মিছিলে সকল প্রকার ধারালো অস্ত্র, ধাতব পদার্থ, দাহ্য পদার্থ, ব্যাগ, পোটলা, লাঠি, ছোঁড়া, চাকু, তরবারি/তলোয়ার, বর্শা, বল্লব এবং আতশবাজির ব্যবহার নিষিদ্ধ। পোশাকের সাথেও এগুলো ব্যবহার করা যাবে না।
৭। শোক মিছিল চলাকালীন সময়ে রাস্তার মাঝে বিভিন্ন অলি গলি থেকে আগত লোকদের মিছিলে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। মিছিলে অংশগ্রহণ করতে হলে মিছিল শুরুর স্থানে যেতে হবে।
৮। শোক মিছিল শুরুর স্থানে প্রবেশের আগে সকলকে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও হাত দিয়ে দেহ তল্লাশী করে ঢুকতে দিতে হবে। তল্লাশী ব্যতীত কোন অবস্থায় কাউকে মিছিলে ঢুকতে দেয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী রাখতে হবে।
৯। শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইমামবাড়া ও শোক মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সমাবেত স্থান ও এর আশপাশের সমস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। সন্ধ্যার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
১০। শোক মিছিলে উচ্চমাত্রার শব্দ তৈরি করার ঢাক-ঢোল, বাদ্য যন্ত্র, পিএ সেট ব্যবহার করা যাবে না।
১১। শোক মিছিল চলাকালীন সময়ে মিছিলের মধ্যে কোন গ্যাপ সৃষ্টি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
১২। তাজিয়া মিছিলে পাঞ্জা মেলানোর সময় শক্তি প্রয়োগ করে ভীতিকর পরিস্থিতি ও অনাকাঙ্খিত ঘটনা তৈরি করা যাবে না।
১৩। শোক মিছিল ও আশুরা কেন্দ্রিক অনুষ্ঠানে কাউকে চাদর গায়ে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না।

গ্যাস সংকটের মধ্যে গ্যাস রফতানি কতটা যৌক্তিক

0

দেশের সমুদ্রে পাওয়া গ্যাস বিদেশি সংস্থাগুলোকে উত্তোলন করে তা রফতানি করার সুযোগ করে দিয়েছে সরকার।
মন্ত্রিসভা কমিটির অর্থনৈতিক বিভাগ সম্প্রতি নতুন এই অফ-শোর প্রোডাকশন শেয়ারিং মডেল ২০১৯-এর অনুমোদন দেয়।
২০০৮ সালেও এ উৎপাদন বণ্টন চুক্তি করা হয়েছিল যেটা ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ২০১২ সালে বাতিল হয়ে যায়।
বাংলাদেশ যখন গ্যাস সংকটে ভুগছে তখন দেশের ভেতরে সক্ষমতা তৈরির পরিবর্তে গ্যাস রফতানির অনুমোদন দেয়া দেশের স্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন তেল-গ্যাস রক্ষা আন্দোলনের সমর্থক মির্জা তসলিমা সুলতানা।
তসলিমা সুলতানা বলেন, ‘আমাদের গ্যাসের দাম কয়েকদিন পর পর বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করে আনা হচ্ছে। এমন অবস্থায় কেন গ্যাস রপ্তানির কথা আসবে?’
তিনি জানান, বাংলাদেশে গ্যাসের মজুদ দিন দিন ফুরিয়ে আসছে। যার কারণে ভবিষ্যতে সমুদ্রের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে।
কিন্তু ভবিষ্যতের এ মজুদ সংরক্ষণ না করে রফতানির সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ বলে মনে করছেন তিনি।
তসলিমা সুলতানা বলেন, ‘বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এ গ্যাস উত্তোলনের জন্য দেশের ভেতরেই সরকার প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে পারে, অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারে। ততদিনে সমুদ্রের নিচের গ্যাস তো আর উড়ে যাবে না।’
মির্জা তসলিমার এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
তিনি জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের চাহিদা পূরণের আগ পর্যন্ত কোনো গ্যাস রফতানি করা হবে না। নতুন অফ-শোর উৎপাদন বণ্টন চুক্তির মডেলে বলা আছে যে গ্যাস উত্তোলনের পর সবার আগে পেট্রোবাংলাকে গ্যাস কেনার প্রস্তাব দেয়া হবে। পেট্রোবাংলা না কিনলে তখনই তা রফতানি করা হবে। কাজেই এ সিদ্ধান্তে দেশ লাভবান হবে।
প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমাদের গ্যাসের শর্টেজ আছে বলেই আমরা ইমপোর্ট করছি। এখন ভবিষ্যতে যদি সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যায় তা হলে আমদানিটা কমে আসবে। তখন সমুদ্রের গ্যাসটা আমরা কিনব। এখন আমাদের চাহিদা পূরণ করার পর যদি অতিরিক্ত থাকে তাহলে সেটাই এক্সপোর্ট করা হবে। এতে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে।’
দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা থেকে শুরু করে ছোট-বড় শিল্প এমনকি গৃহস্থালি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গ্যাসের এ অতিরিক্ত চাহিদা মোতাবেক বাংলাদেশে যে পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করা হয় সেটি পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ ক্ষেত্রে সমুদ্রে গ্যাসের উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানোর ওপর তারা জোর দেন।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় চিহ্নিত ২৬টি ব্লকের মধ্যে মাত্র চারটি ব্লকে গ্যাস উত্তোলনের কাজ চলছে। বাকি ২২টি ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নির্ভর করতে হবে বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর।
এ বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গ্যাস রফতানির সুযোগ রাখা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ তামিম।
তিনি বলেন, ‘যে কোনো ব্যবসায় যদি আপনি বিনিয়োগ করেন তা হলে আপনার লক্ষ্য থাকবে বিনিয়োগ খরচ তুলে নেয়া। এরপর প্রফিট করা। না হলে তো কেউ বিনিয়োগ করবে না। বিদেশি কোম্পানিগুলোর কথাও তাই। তাদের কাছে এটা ব্যবসা। এখন এই সুযোগ যদি আমরা তাদেরকে না দেই তা হলে তো তারা বিনিয়োগ করবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর এখানে আরেকটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, তারা যদি গ্যাসক্ষেত্র পায় তা হলেই বাংলাদেশ বিনিয়োগের অর্থ শেয়ার করবে। কিছু যদি পাওয়া না যায় সেটার ক্ষতির ভাগ বাংলাদেশকে নিতে হবে না। তো এখানে আমার মনে হয় না যে হারানোর কিছু আছে।’
তিনি জানান, গ্যাস উত্তোলনের পর বাংলাদেশ তাদের চাহিদামতো গ্যাস কিনতে পারবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে যদি বলা হয় যে আগামী ৫ বছর আমার গ্যাস কেনার ক্ষমতা নাই বা গ্যাসের প্রয়োজন নাই। অথবা গ্যাসের দাম এত বেড়ে যাচ্ছে যে ওই মুহূর্তে হয়তো কিনতে পারছেনা। তখন বলা হচ্ছে যে তারা সেই গ্যাস রফতানি করতে পারবে।
বর্তমানে গ্যাসের যে সংকট চলছে সেটা দূর করতে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে রফতানির এ সুযোগ করে দেয়া সরকারের যৌক্তিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন তামিম।
তবে, চুক্তিতে বাংলাদেশের হিস্যা কতোটুকু হবে। প্রফিট গ্যাসের কতটুকু অংশ বাংলাদেশ পাবে এবং কেমন দামে বাংলাদেশ কিনবে সে বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত হয়ে সামনে আসার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞের মতে, বাংলাদেশে এখন প্রতিদিন ১ হাজার মিলিয়ন কিউবিক ফুট গ্যাসের ঘাটতি আছে। সামনে এটা আরও বাড়বে। এর মধ্যে মেঘনাঘাটে ৭১৮ মেগাওয়াটের যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি করা হয়েছে সেখানে জ্বালানি চাহিদা মেটানো হবে পেট্রোবাংলার গ্যাস থেকে। রবিবার ভারতের রিলায়েন্স পাওয়ারের সাথে এই চুক্তি করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড- পিডিবি।
চরম সংকটেও এই গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ-কেন্দ্র নির্মাণ প্রক্রিয়াকে দেশের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন তেল-গ্যাস রক্ষার আন্দোলনকারীরা।

কূটনীতিকদের কাছে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছি: ড. কামাল

0

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, কূটনীতিকদের কাছে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছি।

আজ বুধবার সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খানের গুলশানের বাসায় বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে আ স ম আবদুর রব জানান, তারা চায়ের দাওয়াতে এসেছিলেন। সেখানে সামাজিক, পারিবারিকসহ রাজনৈতিক আলোচনাও হয়েছে। তবে ঠিক কি বিষয়ে আলোচনা আর কূটনীতিকরা কি বলেছেন তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

বৈঠকে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে গণফোরামের ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসসির আ স ম রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

কূটনীতিকদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডসসহ অন্তত দশটি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। বৈঠকের বিষয়ে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে কিছু জানানো হয়নি।

আন্তর্জাতিক ২ এনজিও নিষিদ্ধ সারাদেশে

0

আন্তর্জাতিক এনজিও আদ্রা ও আল মারকাজুল ইসলামীকে সারাদেশে নিষিদ্ধ করেছে এনজিও ব্যুরো। গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশে আর্থিক সহায়তা এবং প্রত্যাবাসনবিরোধী প্রচারণার দায়ে এই এনজিও দুটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই দুই এনজিও’র ব্যাংকের সব লেনদেন বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠানো এনজিও ব্যুরো’র একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার জন্য বেশ কিছু এনজিও সংস্থার অপতৎপরতাকে দায়ী করা হয়। এছাড়া প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া গত ২৫ আগস্ট বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে রোহিঙ্গারা।
জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত চালানো হয়। এতে রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রত্যাবাসনবিরোধী উসকানির ইন্ধন এবং সমাবেশ আয়োজনের গোপন সহায়তার জন্য কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার অপতৎপরতার অভিযোগ পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন এনজিও ব্যুরোর সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়।
সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার জানিয়েছেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত আন্তর্জাতিক এনজিও ‘আদ্রা’ ও ‘আল-মারকাজুল ইসলামী’র বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের আর্থিক সহায়তা ও মহাসমাবেশে টি-শার্ট, গেঞ্জি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে তাদের শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্প নয়, সারাদেশের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এই দুটি এনজিও’র সব ধরনের ব্যাংক লেনদেন বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত মাসের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে মহাসমাবেশ করে উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া মাঠে। এসময় রোহিঙ্গারা সাদা টি-শার্ট ও গেঞ্জি গায়ে দিয়ে সমাবেশে জমায়েত হয়। এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে একসঙ্গে টি-শার্ট সরবরাহ করে আন্তর্জাতিক এনজিও আদ্রা ও আল-মারকাজুল ইসলামী।

নরসিংদীতে স্ত্রীর হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করে স্বামী গ্রেপ্তার

0

নরসিংদী শহরে ‘যৌতুক না দেওয়ায়’ স্ত্রীর হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে পুলিশ তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে।
জেলার পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার জানান, গ্রেপ্তারের পর বিষ্ণুচন্দ্র রায় নামে এই ব্যক্তি তার স্ত্রীর ডান হাত ছুরি দিয়ে কেটে বিচ্ছিন্ন করার কথা স্বীকার করেছেন।

বিষ্ণু শহরের বানিয়াছল এলাকার বাসিন্দা।

২৯ বছর বয়সী এই গৃহবধূকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাতটি জোড়া দেওয়া সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকের বরাতে পরিবার জানিয়েছে।

গৃহবধূর মা বলেন, “বিয়ের সময় বিষ্ণুকে যৌতুক দেওয়া হয়। বিয়ের পরও তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। তবু সে মঙ্গলবার রাতে আমার মেয়ের হাত কেটে ফেলে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে যায়। কিন্তু তার আগেই সে তার হাতটা কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
“তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাতটি জোড়া দেওয়া সম্ভব নয় বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।”

তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেছেন।

পুলিশ সুপার পরিবারের বরাতে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারে গৃহবধূকে রাতেই ঢাকায় নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে গৃহবধূর ভাই ও আত্মীয়-স্বজনরা বিষ্ণুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

“পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিষ্ণু তার স্ত্রীর ডান হাত ছুরি দিয়ে কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার কথা স্বীকার করেছেন।”

এ ব্যাপারে গৃহবধূর ভাই বাদী হয়ে নরসিংদী থানায় মামলা করেছেন বলে তিনি জানান।
নরসিংদী প্রতিনিধি