Home Blog Page 3533

অবরুদ্ধ কাশ্মীরে গিয়ে ইয়েচুরি নিজেও হোটেল থেকে বেরোতে পারলেন না

0

এখনো স্বাভাবিক হয়নি কাশ্মীরের পরিস্থিতি। এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। সিপিএম বিধায়ক ইউসুফ তারিগামির সঙ্গে দেখা করতে বৃহস্পতিবার সেখানে যান তিনি। শুক্রবার তিনি জানিয়ে দেন কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে পরিস্থিতি এখনো তেমন নয়।

গতকাল শুক্রবার ইয়েচুরি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে কাশ্মীরে কমরেড ইউসুফ তারিগামিকে দেখতে গিয়েছিলাম। শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে আমাকে এসকর্ট করে তারিগামির ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সারাদিন ছিলাম। নিরাপত্তাবাহিনী চেয়েছিল আমি দিল্লি ফিরে যাই। কিন্তু আমি তারিগামির চিকিৎসকের আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলাম যাতে আমি তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।’

উল্লেখ্য, ‘গত ৯ অগাস্ট শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসেন রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা। তাদের বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই দেয়নি নিরাপত্তা বাহিনী।’ এরপরই সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে সেখানে যান ইয়েচুরি। ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার পর সেখানকার পরিস্থিতিতে অসুস্থ তারিগামির শারীরিক অবস্থার অবনতি হবে বলে দাবি করেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক।

কাশ্মীরের পরিস্থিতি সম্পর্কে ইয়েচুরি বলেন, একটি গেস্ট হাউসে রাখা হয়েছিল আমাকে। চারদিক সিল করে রাখা হয়েছিল। তারিগামি তাঁর বাড়ি থেকে বেরোতে পারছিলেন না। আমিও গেস্টহাউস কারো সঙ্গে দেখা করতে পারছিলাম না। কাশ্মীরের পরিস্থিতি সম্পর্কে যা বলা হচ্ছে বাস্তব অবস্থা তেমন নয়।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ‘কলকাতা মডেল’ চালু হচ্ছে ব্যাংককে

0

আকাশপথে ড্রোন দিয়ে মহানগরীর বহুতল ও ঘিঞ্জি বসতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ‘কলকাতা মডেল’ চালু হচ্ছে ব্যাংককে। থাইল্যান্ডেও এবার থেকে ড্রোন দিয়েই আকাশপথে মশার লার্ভা ধ্বংস করার রাসায়নিক ছিঁটানো হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এশীয় জোনের সম্মেলনের পর গত সোমবার কলকাতাকে মডেল করে বিশ্বের একাধিক শহরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি গ্রহণের খবর জানানো হয়। বহুতল ভবন ও ঘিঞ্জি বসতিতে ড্রোন দিয়ে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেওয়ার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে রাসায়নিক স্প্রে করার কলকাতা মডেল শুনে ব্যাংককের মতো শহর তা গ্রহণ করছে।

ছয় বছর আগে ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন বন্ধ হয়েছে কলকাতায়। ব্যাংককে এখনো রাজনৈতিক স্বার্থে স্রেফ লোক দেখানো ফগার মেশিন চালু রয়েছে। তবে এখন থাইল্যান্ডেও মশা নিয়ন্ত্রণে ফগার মেশিন বন্ধের ভাবনা শুরু হয়েছে।

উল্টোদিকে সম্মেলনে গৃহীত ব্যাংককের স্ট্রিট ফুডের অনুকরণে কলকাতা পুরসভা এবার ফুটপাতের খাবারকে আরো ‘হাইজেনিক’ করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি মেয়র। স্ট্রিট ফুড হকারদের প্রশিক্ষণ শেষে গ্রেডে ভাগ করে খাবারের মান সংক্রান্ত শংসাপত্র দেবে পুরসভা।

কলকাতায় পা রেখেই ডেপুটি মেয়র চলে যান দক্ষিণ কলকাতার আলিপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে। কারণ, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা লাইব্রেরির কর্মীরা এ বছরও কয়েকজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। গতবছর একজন লাইব্রেরি কর্মী মারাও গেছেন।

কিন্তু দুষ্প্রাপ্য বইয়ের বিভাগে দীর্ঘদিনের জমে থাকা পানি এবং নালায় লার্ভা দেখতে পেয়ে চরম ক্ষুব্ধ হন পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতীন ঘোষ। লাইব্রেরির আবাসন চত্বরেও প্রচুর জঞ্জাল জমে থাকায় সেখানেও লার্ভা দেখতে পান পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। এরপর ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে লাইব্রেরির ডিরেক্টর, সিপিডব্লু-এর চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং নির্মণাধীন বাড়ির ঠিকাদারের বিরুদ্ধে পুরআইনের ৪০৬-এ ধারায় নোটিস জারির নির্দেশ দেন ডেপুটি মেয়র। ওই নোটিসের জেরে এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবে পুরসভা।

সাত দিনের মধ্যে যদি লাইব্রেরি পুরসভার গাইডলাইন মেনে ব্যবস্থা না নেয় তবে দায়িত্বে থাকা ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে। ডেপুটি মেয়রের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। এরপরই ডেপুটি মেয়র যান এসএসকেএম (পিজি) হাসপাতালে। সেখানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের কর্মসূচি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

ভারতের অর্থনীতিতে অশনি সঙ্কেত, চলতি ত্রৈমাসিকে জিডিপির রেকর্ড পতন

0

শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না। তার পরেও সত্য এড়ানো গেল না। ভারতের আর্থিক পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল বলে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতবাসীকে যা বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, শুক্রবার সেই তত্ত্ব থেকেই ঘুরে গেলেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কার্যত স্বীকার করলেন, আর্থিক বৃদ্ধির হার নিম্নমুখীই শুধু নয়, গত কয়েক বছরে কমেছে রেকর্ড পরিমাণ। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপির হার ছিল ছয় দশমিক আট শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে সেই হার পাঁচ দশমিক আট শতাংশ এবং চলতি ত্রৈমাসিকে তা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র পাঁচ শতাংশে। যার ফলে রীতিমতো অশনি সঙ্কেত দেখছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ।

ভারতের আর্থিক পরিস্থিতি ভালো, আর্থিক বৃদ্ধির হারও ভালো, কমছে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ, বাড়ছে অনাদায়ী ঋণ; অর্থনীতি নিয়ে এমনই নানা ভরসা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন দ্বিতীয়বার মোদি মন্ত্রিসভা গঠনের পর অন্যতম ভরসাযোগ্য অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

কিন্তু বাস্তব চিত্র যে অন্য, তা খানিকটা আঁচ করা গিয়েছিল এ সপ্তাহের গোড়ায়। রিজার্ভ ব্যাংক এক লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রকে অনুদান দেওয়ায় সেটা বোঝা যায়।

রাজকোষের প্রকৃত অবস্থা, সঙ্কেত আেএরা ছিল। গাড়িশিল্পের করুণ দশা, বিভিন্ন সংস্থা থেকে বৃহৎ সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই থেকেই একটু একটু করে স্পষ্ট হচ্ছিল, আর্থিক পরিস্থিতি মোটেই ভালো নয়। তার ওপর চলতি মাসের শুরুতেই রিজার্ভ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে রেপো রেট কমে যায়। তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও কমানো হয়। সাত থেকে কমিয়ে তা ছয় দশমিক আট শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়।

সম্প্রতি অর্থনৈতিক এক সমীক্ষায় ইঙ্গিত ছিল, চলতি ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার কমতে পারে সামান্য। কিন্তু পাঁচ দশমিক আট থেকে একেবারে হু হু করে পাঁচে নেমে যাওয়াটা অর্থনীতিবিদদের কাছেও বড়সড় ধাক্কার। এর আগে ২০১৩ সালে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার উদ্বেগজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছিল চার দশমিক তিন শতাংশে।

মোদির শাসনামলে ভারতের অর্থনীতির ছিদ্রগুলো চোখে পড়ছিল একটু একটু করে। অর্থনীতির নানা মারপ্যাঁচের কথা বলে পরিস্থিতি ততটা বেহাল নয় বলে বারবারই তুলে ধরার চেষ্টা করে গেছেন তখনকার অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তেমনটাই দাবি করেছিলেন। তাদেরর দেখানো পথেই পা বাড়িয়েছিলেন এখনকার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

তবে শুক্রবারের রিপোর্ট দেখে তিনি নিজেও স্বীকার করেন, পরিস্থিতি সত্যিই আশঙ্কাজনক। কীভাবে এই সমস্যা সমাধান করা যায়, মোদি সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে তা এক বড় চ্যালেঞ্জ তো বটেই।

আসামে কে নাগরিক, কে বহিরাগত; জানা যাবে রাত পোহালেই

0

রাত পোহালেই প্রকাশ করা হবে ভারতের আসামের নাগরিক তালিকা বা এনআরসি। কাদের নাম সেই তালিকায় থাকবে, আর কাদের নাম বাদ পড়বে? সেই শঙ্কা আর প্রত্যাশার দোলাচলে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন আসামবাসী।

প্রায় তিন দশমিক ২৯ কোটি মানুষ নাগরিক তালিকায় নাম নথিভুক্তের জন্য আবেদন করেছিলেন। ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল প্রায় ৪০ লাখ আবেদনকারীর নাম। চলতি বছরের ২৬ জুন এনআরসি তালিকা থেকে আরো এক দশমিক শূন্য তিন লাখ নাম বাদ পড়ে। অবশেষে শনিবার প্রকাশিত হচ্ছে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা।

এরই মধ্যে আসামজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সবসময় সতর্ক ভারতের সরকারি প্রশাসন। গুয়াহাটির সর্বত্র জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার আধাসামরিক জওয়ান ও পুলিশ।

অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যেই চার বছর আগে আসাম সরকার নাগরিক তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে। নাগরিক তালিকায় জায়গা পেতে হলে বাসিন্দাদের প্রমাণ করতে হবে তারা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে ওই রাজ্যে  গেছেন।

নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে বাসিন্দাদের। গত বছরের জানুয়ারিতে নাগরিক তালিকার প্রথম খসড়া প্রকাশ করা হয়। সেখানে আবেদন করেছিলেন তিন কোটি ২৯ লাখ মানুষ। অথচ এনআরসিতে নাম ওঠে এক কোটি ৮০ লাখ মানুষের। যা নিয়ে পরে তীব্র সমালোচনা ও বিক্ষোভ শুরু হয়।

তখন জুলাই মাসে সংশোধিত খসড়া নাগরিক তালিকা প্রকাশ পায়। নতুন তালিকায় দুই কোটি ৮৯ লাখ মানুষের নাম ওঠে, বাদ পড়েন উত্তর-পূর্ব আসামের প্রায় ৪২ লাখ বাসিন্দা।

পুরো রাজ্যে ‘সেবা কেন্দ্র’ তৈরি করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। যাদের ইন্টারনেট পরিষেবা নেই, তারা ওইসব কেন্দ্রে গিয়ে তালিকা দেখতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তালিকা থেকে প্রায় ৪১ লাখের বেশি আবেদনকারীর নাম বাদ পড়তে পারে।

তবে যাদের নাম বাদ পড়বে, তারা এখনই বিদেশি গণ্য হবেন না বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। তাদের আপিল করার জন্য ৬০ থেকে ১২০ দিন সময় দেওয়া হবে। আপিল আবেদনের শুনানির জন্য রাজ্যে অন্তত হাজার খানেক ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে। এরই মধ্যে প্রায় ১০০ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ ওই সংখ্যা দুই শতাধিক হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর মিলেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই বন্দি করা হবে না বলে জানিয়েছে আসাম সরকার।

ভারতের কলকাতার সিরিয়াল পাড়ায় বকেয়া না পেয়েই শুটিং শুরু

0

ভারতের কলকাতার সিরিয়াল পাড়ার খবর, প্রযোজক সুব্রত রায় আর তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সুব্রত রায় প্রোডাকশনসের কাছে ১৪ কোটি রুপি বকেয়া পাবেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা। কিন্তু কবে এবং কীভাবে এই বকেয়া পরিশোধ করা হবে, সে ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চিত হতে পারেননি। এ কারণেই শুটিং থেকে সবাই সরে দাঁড়ান। এর ফলে জি বাংলার ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ ও ‘সৌদামিনীর সংসার’ আর স্টার জলসার ‘দেবী চৌধুরাণী’ এবং আরও কয়েকটি সিরিয়ালের নিয়মিত সম্প্রচার থেমে যায়। দর্শকদের কাছে তা আড়াল করার জন্য ওই সময় সংশ্লিষ্ট সিরিয়ালের পুরোনো পর্ব কিংবা অন্য সিরিয়াল এক ঘণ্টা প্রচার করা হয়। কিন্তু তা সহজভাবে নিতে পারেননি সাধারণ দর্শক। ফলে এসব সিরিয়ালের টিআরপি দ্রুত হ্রাস পায়। সাত দিন প্রযোজক আর শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে ফিরে এসেছেন সবাই। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আবার শুটিং শুরু হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমকে অনেকেই বলেছেন, দর্শকদের কথা ভেবে তাঁরা শুটিং ফ্লোরে ফিরে এসেছেন।

বকেয়া আদায়ের জন্য প্রযোজক সুব্রত রায়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন আর্টিস্ট ফোরাম। শেষ পর্যন্ত তাদের বৈঠকে যুক্ত হয় কয়েকটি টিভি চ্যানেলের কর্তৃপক্ষ। চ্যানেলগুলো থেকে বকেয়া পরিশোধের ব্যাপারে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়। আলোচনার সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুলাই মাস পর্যন্ত সব বকেয়া আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। আগস্ট মাসের বকেয়া পরিশোধের শেষ সময় ২২ সেপ্টেম্বর। আর ১৮ অক্টোবরের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হবে।

আর্টিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট টিভি চ্যানেলগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা শিল্পীদের পাশে আছেন। বকেয়া পরিশোধের জন্য যে সময়সীমা চূড়ান্ত হয়েছে, সেই সময়ের মধ্যে যেন প্রযোজক সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ করেন, তা চ্যানেল কর্তৃপক্ষ খেয়াল রাখবে।’ এর আগে আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে সপ্তর্ষি রায় বলেছেন, ‘সমস্যা সমাধানের পথে।’

এদিকে ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কারস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস বলেছেন, ‘বকেয়া পারিশ্রমিকের বিষয়ে ফেডারেশনের কাছে কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। যাঁরা পারিশ্রমিক পাননি বলছেন, তাঁদের ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করছি।’ তবে পরিচালকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে বকেয়া পাওনা আদায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কারস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার কাছে তাঁরা লিখিত আবেদন করেছেন।

সুব্রত রায় প্রোডাকশনসের তিনটি সিরিয়াল হলো ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’, ‘দেবী চৌধুরাণী’ এবং ‘মা মনসা’। এ ছাড়া ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’ এবং ‘সৌদামিনীর সংসার’ সিরিয়াল দুটির সঙ্গে সুব্রত রায় জড়িত ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি সরে যান। এখন ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’ সিরিয়ালের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সুরিন্দর ফিল্মস আর ‘সৌদামিনীর সংসার’ সিরিয়ালের দায়িত্বে আছে ম্যাক্স এন্টারটেইনমেন্ট।

এর আগে ‘আমি সিরাজের বেগম’, ‘জয় বাবা লোকনাথ’, ‘মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য’, ‘খনার বচন’ ও ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’র ইউনিটে যে শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা কাজ করেছেন, তাঁরা সিরিয়ালগুলোর প্রযোজক রানা সরকার আর তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার কাছ থেকে পারিশ্রমিকের টাকা পাননি। এই পাঁচটি সিরিয়াল থেকে শিল্পীদের বকেয়া ছিল প্রায় তিন কোটি রুপি আর টেকনিশিয়ানদের পাঁচ কোটি রুপি। এই বকেয়া পারিশ্রমিকের কারণেই গত এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়ে যায় এই পাঁচ সিরিয়ালের কাজ। বকেয়া আদায়ের জন্য আর্টিস্টস ফোরাম ধর্মঘটের হুমকি দেয়। এরপর টিভি চ্যানেল আর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু বকেয়া পারিশ্রমিক আদায় করা সম্ভব হয়।

এবার বকেয়া পারিশ্রমিক আদায়ের জন্য গত শুক্রবার ভারতের বাংলা টিভি চ্যানেলে এ সময়ের জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’, ‘দেবী চৌধুরাণী’ আর ‘সৌদামিনীর সংসার’-এর শুটিং বন্ধ রাখা হয়। এই তিন সিরিয়ালের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সুব্রত রায় প্রোডাকশনস। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনেক দিন থেকেই শিল্পী ও কলাকুশলীদের পারিশ্রমিক বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে।

স্ত্রীর মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার

0

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকা থেকে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে নিউ ইস্কাটন রোডের টিনশেডের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। স্বামীর মারধরে তিনি মারা গেছেন বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন ওই নারীর স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

মারা যাওয়া গৃহবধূর নাম সাবিকুন নাহার (২৬)। আটক ব্যক্তির নাম কাজী মাসুদ। হাতিরঝিল থানা-পুলিশ তাঁকে আটক করেছে। স্বজনদের অভিযোগ, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে রাজি না হওয়ায় নাহারের ওপর নির্যাতন চালিয়েছনে তাঁর স্বামী মাসুদ। এই দম্পতির বাড়ি গোপালগঞ্জে।

সাবিকুন নাহারের মামাতো ভাই ইয়ামিন শেখ প্রথম আলোকে বলেন, নাহারদের আট থেকে দশ বছরের সংসার। তাঁরা নিজেদের পছন্দেই বিয়ে করেছিলেন। এই দম্পতির ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে ও চার বছরের এক মেয়ে আছে। মাসুদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক। সম্প্রতি তিনি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং দ্বিতীয় বিয়ের জন্য নাহারের কাছে অনুমতি চান। এতে নাহার সম্মতি না দেওয়া তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

ইয়ামিন জানান, গত মঙ্গলবার রাতে নাহার ও মাসুদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে নাহারকে মারধর করেন মাসুদ। প্রতিবেশীরা ঠেকাতে গেলেও মাসুদ উল্টো চড়াও হন। ওই মারধরে নাহার আহত হলে ওই দিন মধ্যরাতে তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে বুধবার দুপুরে নাহারকে বাসায় আনা হয়।

ইয়ামিন বলেন, এরপর বাসায় রেখে নাহারের চিকিৎসা চলছিল। আজ তাঁর অবস্থার অবনতি হলে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন পথেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে নাহারের লাশ বাসায় আনা হয়। এ সময় প্রতিবেশীসহ নাহারের স্বজনেরা পুলিশে খবর দেন।

ইয়ামিনের অভিযোগ, মাসুদের মারধরের কারণেই তাঁর বোন মারা গেছেন। ইয়ামিন বলেন, নাহারের দুই গোড়ালি ও হাঁটুতে আঘাত করা হয়েছিল। হাসপাতালে এসব স্থানে ব্যান্ডেজ করা হয়। নাহারের পরিবারের পক্ষ থেকে মাসুদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে ইয়ামিন জানান।

হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাকিল জোয়ারদার প্রথম আলোকে বলেন, তিন দিন আগে সাবিকুন নাহার নামে ওই গৃহবধূকে মারধর করা হয় বলে আশপাশের লোকজন থানায় অভিযোগ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, মারধরের পর তাঁকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আজ সকালে সাবিকুন নাহার সেখানে মারা যান। এরপর তাঁর লাশ বাসায় আনা হয়।

শাকিল জোয়ারদার বলেন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ওই খবর পেয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। লাশের সুরতহাল করা হবে। এ ছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে ওই গৃহবধূর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তাঁর স্বামীকে পুলিশ আটক করেছে।

এইচএসসি পরীক্ষা-২০২০ এর সময়সূচি প্রকাশ

0

২০২০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সময় সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৪ মে পর্যন্ত চলবে এইচএসসি পরীক্ষা। আর ৫ থেকে ১৩ মে’র মধ্যে এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

বুধবার (২৮ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর আধাঘণ্টা আগে শিক্ষার্থীদের হলে উপস্থিত থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মিন্নির জামিন মঞ্জুর তবে কথা বলা যাবে না মিডিয়ার সঙ্গে

0

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে দুই শর্তে স্থায়ী জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট। জামিন প্রশ্নে এক সপ্তাহ আগে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ রায় দেয়। জামিনের শর্তে হাই কোর্ট বলেছে, মিন্নি তার বাবার জিম্মায় থাকবেন এবং গণমাধ্যমের সামনে কোনো কথা বলতে পারবেন না। এ রায়ে মর্মাহত উল্লেখ করে নিয়মিত লিভ টু আপিল দাখিলের কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

এদিকে রায়ের পর্যবেক্ষণে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেনের বিষয়ে হাই কোর্ট বলেছে, মিন্নি দোষ স্বীকার করেছেন মর্মে যে বক্তব্য তিনি দিয়েছেন, তা শুধু অযাচিত, অনাকাক্সিক্ষত নয়, বরং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পরিপন্থী। তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত না দিলেও সময়মতো এসপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আইজিপিকে বলেছে আদালত। এ ছাড়া তদন্ত পর্যায়ে পুলিশের ব্রিফিং নিয়ে নীতিমালা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। গতকাল মিন্নির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন বাপ্পী। শুনানির সময় বরগুনার আদালতে মিন্নির আইনজীবী ও জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল বারী আসলামও হাই কোর্টে উপস্থিত ছিলেন।
মেয়ের জামিন হওয়ায় আদালতে উপস্থিত মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি খুব খুশি যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা যেগুলো করছে, এগুলো সব জনসমক্ষে প্রচার পেয়েছে।’ মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না রায়ের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিন্নির জামিন মঞ্জুর হয়েছে। তবে তার প্রতি একটা নির্দেশনা আছে। তিনি মিডিয়ার সামনে কথা বলতে পারবেন না।’ অন্যদিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারোয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, ‘এ রায়ে আমরা মর্মাহত। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত লিভ টু আপিল করবে।’ ২০ আগস্ট এক সপ্তাহের রুল জারি করে মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছিল হাই কোর্ট। ওই দিন একই সঙ্গে ২৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে সিডি (মামলার যাবতীয় নথি) নিয়ে হাই কোর্টে হাজির হতে বলে আদালত। সে আদেশ অনুসারে বুধবার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির কেস ডকেট নিয়ে আদালতে হাজির হন। পরে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করে হাই কোর্ট।

জামিনে হাই কোর্টের যেসব যুক্তি : মিন্নিকে জামিন দেওয়ার কারণ হিসেবে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘এজাহারে আসামির নাম উল্লেখ না থাকা, গ্রেফতারের আগে দীর্ঘ সময় মিন্নিকে পুলিশ লাইনসে আটক রাখা এবং গ্রেফতারের প্রক্রিয়া, আদালতে হাজির করে রিমান্ড শুনানির সময় তার আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ না পাওয়া, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ করার আগেই আসামির দোষ স্বীকার সম্পর্কিত জেলা পুলিশ সুপারের বক্তব্য, তদন্ত কর্মকর্তার মতে মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে, সুতরাং আসামি কর্তৃক তদন্ত প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ না থাকা, সর্বোপরি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারার ব্যতিক্রম, অর্থাৎ আসামি একজন নারী- এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে আমরা তাকে জামিন দেওয়া ন্যায়সংগত মনে করছি এবং জারি করা রুলটি আমরা যথাযথ ঘোষণা করলাম। তিনি তার বাবার জিম্মায় থাকবেন এবং মিডিয়ার সামনে কোনো কথা বলতে পারবেন না।’

এসপির বক্তব্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পরিপন্থী : মিন্নিকে গ্রেফতার এবং তার জবানবন্দি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা জামিন শুনানিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রায়ের পর্যবেক্ষণেও পুলিশ সুপারের আচরণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে আদালত। রায়ের পর্যবেক্ষণে হাই কোর্ট বলেছে, আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি রিমান্ডে থাকা অবস্থায় বরগুনা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মারুফ হোসেন গণমাধ্যমের সম্মুখীন হন। মিন্নি দোষ স্বীকার করেছেন মর্মে যে বক্তব্য তিনি দিয়েছেন, তা শুধু অযাচিত, অনাকাক্সিক্ষত নয়, বরং সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্তের পরিপন্থী। পরিস্থিতি ও বাস্তবতা যা-ই হোক না কেন, পুলিশ সুপারের মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে মারুফ হোসেন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিচারক। রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, (এসপি মারুফ হোসেন) একদিকে যেমন জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন, তেমনি তিনি (এসপি) তার দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, এটি দুঃখজনক এবং হতাশাজনক। উচ্চপর্যায়ের একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের কাজ প্রত্যাশিত বা কাম্য নয়। ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনে তিনি আরও সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেবেন- আদালতের এটাই কাম্য। রায়ে হাই কোর্ট বলেছে, মামলাটির তদন্তকাজ যেহেতু এখনো চলছে, সে কারণে এ মুহূর্তে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে আদালত বিরত থাকছে। তবে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসপির বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

গণমাধ্যমে বক্তব্য নিয়ে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ : মামলার তদন্ত পর্যায়ে তদন্তের অগ্রগতি বা গ্রেফতারদের বিষয়ে গণমাধ্যমে কতটুকু বিষয় প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে, সে বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রচারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, ইদানীং প্রায়শ লক্ষ করা যাচ্ছে যে, সংঘটিত আলোচিত ঘটনার তদন্তকালে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের বিষয়ে এবং তদন্ত সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিং করা হয়ে থাকে। গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজন বা অভিযুক্তদের কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়, যা অনেক প্রশ্নের উদ্রেক করে। যদিও বা এ বিষয়ে অত্র আদালতে একটি রায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। হাই কোর্ট বলেছে, ‘অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্ত বিষয়ে অতি উৎসাহ নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিতে দেখা যায়। এ কথা আমাদের সবারই মনে রাখতে হবে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত না হচ্ছে, ততক্ষণ বলা যাবে না সে অপরাধী বা অপরাধ করেছে।

তদন্ত বা বিচার পর্যায়ে এমনভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করা উচিত নয়, যেন মনে হয় অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধী। সে কারণে মামলার তদন্ত পর্যায়ে তদন্তের অগ্রগতি বা গ্রেফতারদের বিষয়ে গণমাধ্যমে কতটুকু বিষয় প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে, সে বিষয়ে একটি নীতিমালা করা বাঞ্ছনীয়। এই নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রচারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

পরিবারের সঙ্গে না থাকলেই ডিসিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা

0

কর্মক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্বামী ও সন্তানরা থাকেন না এমন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) তালিকা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ‘তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে’ বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন মিলনায়তনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বাংলাদেশে সামাজিক জবাবদিহি ও ইচ্ছামূলক গণতন্ত্রের পরিস্থিতি: বর্তমান গতিপ্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রতিবেদনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, এটা দেখা গেছে যে যেসব জেলায় ডিসিদের সন্তানরা পড়াশোনা করে না সেখানকার স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুণ ও মান তদারকি এবং যথাযথভাবে পরিচালনা করা হয় না।

তাই জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে যাতে পরিবার থাকে তা সরকার নিশ্চিত করতে চায় বলে জানান মন্ত্রী।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ক্যাম্পেইন ফর পপুলার অ্যাডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার, ডিএফআইডি বাংলাদেশের আনোয়ারুল হক প্রমুখ।

বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মির্জা এম হাসান।

তাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী হতে হবে। কারণ সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ১২৩ ধরনের সেবা মানুষকে দেওয়া হয়।

মন্ত্রী জানান, যেসব পৌরসভার কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না সেগুলোর মেয়রদের বিদেশ সফরে যেতে দেবে না তার মন্ত্রণালয়।

সকল মেডিকেল কোচিং বন্ধের নির্দেশ ১ সেপ্টেম্বর থেকে

0

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেড় মাসের জন্য রাজধানীসহ সারাদেশে মেডিকেল কোচিং সেন্টার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

আগামী ৪ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীন রাজধানীসহ সারাদেশের ১৯টি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের (২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এ পরীক্ষা নেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডাক্তার এ কে এম আহসান হাবীব জানান, মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা বরাবরই সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে সরকারের ঊর্ধ্বতন নীতিনির্ধারক রয়েছেন। বরাবরের মতো এবারও সরকারের সকল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, সতর্কতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে মেডিকেলে ভর্তির সকল কোচিং সেন্টার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এজন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সর্বদা সজাগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত ২৭ আগস্ট থেকে অনলাইনে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার আবেদনপত্র গ্রহণ শুরু হয়। প্রথম দুদিনে ৪৬ হাজার আবেদন জমা পড়ে। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনের গ্রহণ করা হবে।

আগামী ৪ অক্টোবর (শুক্রবার) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীসহ সারাদেশে লিখিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে সরকারি ৩৬টি মেডিকেল কলেজে মোট আসন সংখ্যা ৪ হাজার ৬৮টি। তার মধ্যে ৩ হাজার ৯৬৬টি সাধারণ আসন, ৮২টি মুক্তিযোদ্ধা ও ২০টি উপজাতি কোটা।

১০০ নম্বরের নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্নে পদার্থবিদ্যায় ২০, রসায়নবিদ্যা ২৫, জীববিজ্ঞান ৩০, ইংরেজি ১৫ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান ১০ নম্বর থাকবে।