Home Blog Page 3539

সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ডিএমপির নতুন কমিশনার

0

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

নতুন সিআইডি প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে।

এছাড়া এসবিতে দায়িত্বরত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মাহবুব হোসেন ও বিশ্বাস আফজাল হোসেনকে পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের কথা জানানো হয়।

ভারতীয় অর্থনীতি বাঁচাতে রিজার্ভ ব্যাংকের উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক

0

অর্থনৈতিক সংকটের হাত থেকে বাঁচাতে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক তার বাড়তি সঞ্চয় কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস দেশের বেহাল অর্থনীতি নিয়ে অবিলম্বে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। ওই দলের নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, এটা হলো ডাক্তারখানা থেকে ব্যান্ডএইড চুরি করে ক্ষত ঢাকার চেষ্টার মতো একটি কাজ।
রাহুল বলেছেন, দেশের অর্থনীতির দফারফা করে নরেন্দ্র মোদির সরকার এখন রিজার্ভ ব্যাংকের জমানো টাকায় ভাগ বসিয়েছে। এভাবে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোষাগারে থাবা বসিয়ে সরকার পরিস্থিতির সামাল দিতে পারবে না।
রিজার্ভ ব্যাংকের বাড়তি সঞ্চয়ের টাকায় কোষাগার ঘাটতির সামাল দেওয়া নিয়ে বিতর্ক চলছিল বেশ কিছুকাল ধরেই। কিন্তু পূর্বতন গভর্নররা এভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। রঘুরাম রাজনের সঙ্গে এ নিয়ে বিজেপি সরকারের বনেনি। বাধ্য হয়ে মেয়াদ ফুরোলে তিনি পড়াশোনার জগতে ফিরে যান। পরবর্তী গভর্নর উর্জিত প্যাটেলও রাজি ছিলেন না। তাঁর ডেপুটি ভিরাল আচারিয়াও এই দাবি না মেনে পদত্যাগ করেন। তাঁদেরও আগে দুই গভর্নর ডি সুব্বারাও এবং ওয়াই ভি রেড্ডিও অরাজি ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আমলাশাহি থেকে টেনে এনে মোদি সরকার রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর করেন শক্তিকান্ত দাসকে। তিনি সাবেক গভর্নর বিমল জালানের নেতৃত্বে যে কমিটি গঠন করেন, তারই সুপারিশমতো সরকারকে বাড়তি অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রিজার্ভ ব্যাংক তার বাড়তি সঞ্চয় থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি রুপি সরকারকে দেয়। আজ সকালেই এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারকে একহাত নেন রাহুল। টুইট করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী দেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে এনেছেন। পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে হাত বাড়িয়েছেন রিজার্ভ ব্যাংকের সঞ্চয়ে। কিন্তু এতে লাভ হবে না। এটা ডাক্তারখানা থেকে ব্যান্ডএইড চুরি করে ক্ষত ঢাকার মতো। পরে কংগ্রেস দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারকে তুলোধোনো করেন কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা। দেশের বেহাল অর্থনীতি নিয়ে তিনি অবিলম্বে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান।
রিজার্ভ ব্যাংক যে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫১ কোটি টাকা সরকারকে দিচ্ছে, তার মধ্যে ১ কোটি ২৩ লাখ ৪১৪ কোটি যাবে ব্যাংকের উদ্বৃত্ত সঞ্চয় থেকে, বাকি ৫২ হাজার ৬৩৭ কোটি ঝুঁকির মোকাবিলায় তুলে রাখা বরাদ্দ থেকে। ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ থেকে আগেই দেওয়া হয়েছে ২৮ হাজার কোটি রুপি।
ভারতের অর্থনীতির হাল এই মুহূর্তে বেশ নাজুক। গাড়িশিল্পে প্রবল মন্দা। একের পর এক গাড়ি তৈরির কারখানা কর্মী ছাঁটাই করছে। মন্দা ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প ও কৃষি উৎপাদনেও। গ্রামীণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এতটাই কমে গেছে যে পার্লের মতো বিস্কুটশিল্প, যারা মাত্র পাঁচ রুপিতে এক প্যাকেট বিস্কুট বিক্রি করে, তারা ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। নগদের জোগান কমে যাওয়ায় গৃহনির্মাণ ও অন্যান্য শিল্প মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে। দেশের প্রবৃদ্ধির হার নিম্নগামী। কোষাগার ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে হু হু করে। জনমুখী কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে। ডলারের তুলনায় রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে ৪ শতাংশের বেশি। বেকারত্ব বাড়ছে। এ অবস্থায় ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি রুপির বাড়তি পাওনা সরকারের কাছে বাড়তি অক্সিজেনের মতো। কিন্তু অর্থনীতির এই মন্দাভাব তাতে কাটানো সম্ভব হবে কি না, জল্পনা শুরু হয়েছে তা নিয়েই।
রিজার্ভ ব্যাংকের ভাঁড়ার থেকে রাজকোষ ঘাটতি মেটাতে আগেও টাকা দেওয়া হয়েছে। ২০১৩ সালে যার পরিমাণ ছিল ৩৩ হাজার ১০ কোটি রুপি, ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৫ হাজার ৮৭৬ কোটি। ২০১৭ সালে তা ৩০ হাজার ৬৫৯ কোটিতে নেমে এলেও ২০১৮ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজার কোটি। এবার ২০১৯ সালে তা তিন গুণের বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটিতে। পরিস্থিতির সামাল দিয়ে সরকারকে বাঁচাতে এ সিদ্ধান্ত অভূতপূর্ব। ব্যাংকের মোট আমানতের অন্তত সাড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ বাস্তবে মজুত রাখতে হয়, যাকে ব্যাংকিং পরিভাষায় বলা হয় ‘রিয়েলাইজড ইক্যুইটি’। কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সেই মজুত সবচেয়ে কম অবস্থায় এসে দাঁড়াল। যার ফলে তার আন্তর্জাতিক রেটিং কমে গেছে। দেশের অর্থনীতি কোন তলানিতে পৌঁছেছে, এটা তারই প্রমাণ।

অঘোষিত জাপান সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফ এখন এক অঘোষিত সফরে জাপানে অবস্থান করছেন। সফরের কারণ সম্পর্কে কোনো পক্ষ থেকেই কিছু জানানো হয়নি। তবে জাপানের সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, পারস্য উপসাগর এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রশমনে জাপানকে জড়িত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তাঁর এই অনির্ধারিত সফর। গত কয়েক দিনে তিনি একইভাবে ফ্রান্স ও চীন সফর করেন।
ফ্রান্সে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন এক সময়ে উপস্থিতি হন, যখন দেশটিতে সাতটি অগ্রসর রাষ্ট্রের জোট জি-৭ এর নেতারা নিয়মিত বার্ষিক সম্মেলনে মিলিত হয়েছিলেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের ঠিক পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ে কিছুটা নরম সুরে কথা বলতে শুরু করেন। তাই অনেকেই মনে করেছেন, সফর অঘোষিত হলেও এ সম্পর্কে আগে থেকেই ট্রাম্প অবহিত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা হয়তো হয়ে থাকবে।
ফ্রান্স সফর শেষ করে জাভাদ জারিফ গিয়েছিলেন বেইজিং, যেখানে তিনি পারস্য উপসাগর পরিস্থিতি নিয়ে চীনের সমর্থন প্রত্যাশা করেন। চীন সফর শেষ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার সকালে জাপানে এসে পৌঁছান। জাপানে এখন আফ্রিকার উন্নয়ন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে মহাদেশের বিভিন্ন দেশের নেতারা সমবেত হয়েছেন। পরোক্ষে এঁদের সমর্থন প্রত্যাশাও ঠিক এই সময়ে তাঁর জাপান সফরের অন্য একটি উদ্দেশ্য হতে পারে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটা নিশ্চিত করতে চান যে, জাপান যেন উপসাগর সমস্যা নিয়ে নিজস্ব অবস্থান থেকে সরে না যায়। যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে ওয়াশিংটনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানালেও জাপান সেই ডাকে সাড়া দেয়নি। ফলে ইরান চাইছে জাপান যেন সেই অবস্থান ধরে রাখে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ সন্ধ্যায় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনোর সঙ্গে প্রায় ৫০ মিনিট বৈঠক করেছেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে উপসাগর অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সার্বিকভাবে স্থিতিশীল করে তোলা নিয়ে মতামত বিনিময় করেন। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ইরানি প্রতিপক্ষকে বলেছেন পরিস্থিতি শান্ত করে আনায় সম্ভাব্য সর্বোত্তম ভূমিকা জাপান পালন করবে।
তবে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন ইরানের সঙ্গে ছয়টি পরমাণু শক্তির অধিকারী রাষ্ট্রের ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি সমর্থন করে তাঁর দেশ। সে জন্য জাপান মনে করে চুক্তির শর্তাবলি ইরানের মেনে চলা উচিত এবং বিলম্ব না করে পরমাণু চুক্তির প্রতি রাষ্ট্রের অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার অবস্থানে ফিরে গিয়ে পারমাণবিক চুক্তির প্রতি অবজ্ঞা-প্রদর্শন করা হতে পারে, সেরকম কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা। দুই মন্ত্রী এ ছাড়া অঞ্চলের উত্তেজনা হ্রাস এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে তুলতে জাপান ও ইরানের মধ্যেকার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতেও সম্মত হয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগামীকাল বুধবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

আবার বন্ধ হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান আকাশপথ

0

ভারতের জন্য আবারও আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ করতে যাচ্ছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। দেশটির একজন মন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেছেন, দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ভারতীয় ফ্লাইটগুলোর পাকিস্তানি আকাশপথ ব্যবহারে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের চিন্তাভাবনা করছে। তিনি মঙ্গলবার এই টুইট বার্তায় এ কথা জানান।
ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের জন্য ব্যবহৃত পাকিস্তানি স্থলপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বৈধ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে। ভারতের কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এই টুইট বার্তায় লেখেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুরু করেছেন আমরা শেষ করব।
এর আগে মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তথ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফেরদৌস আশিক আওয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীরের জনগণকে সহায়তার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
৫ আগস্ট ভারতের বর্তমান বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে দ্বিখণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। রাজ্যটিকে দ্বিখণ্ডিত করে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সৃষ্টির সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে ১৯৪৭ সালে কাশ্মীরকে সংযুক্তকরণের সময় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তাও ভেঙে দেওয়া হলো। ভারতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশটির হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করে পাকিস্তান। নয়াদিল্লির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করার সিদ্ধান্ত জানায় তারা। কাশ্মীর নিয়ে বৈঠক আয়োজনের জন্য তারা নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে রেল, ট্রেন ও বাস যোগাযোগ পাকিস্তান বন্ধ করে দিয়েছে। ভারত অবশ্য জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পদক্ষেপকে একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে বিবেচনা করছে। তাদের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে ‘বাস্তবতা মেনে নেওয়ার’ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তথ্যসূত্র: ডন ও এনডিটিভি।

গণপিটুনি রুখতে পশ্চিমবঙ্গে এবার বিশেষ আইন

0

ভারতের মণিপুর ও রাজস্থান রাজ্যে গণপিটুনি রুখতে বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এবার পশ্চিমবঙ্গেও চালু হতে চলেছে গণপিটুনি বিরোধী আইন।
গণপিটুনির ঘটনায় কেউ নিহত হলে দোষী ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাবাস এবং মোটা অংকের জরিমানা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
আদালত জানিয়েছে, গণপিটুনিতে কেউ আহত হলে দোষী ব্যাক্তির তিন বছরের কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা শুধু ৩ বছরের জেল অথবা সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা জরিমানা হবে। গণপ্রহারে যদি কেউ গুরুতর আহত হন, সেক্ষেত্রে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন লক্ষ টাকা জরিমানা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সেইসঙ্গে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা শুধু যাবজ্জীবন কারাবাসের বিধি ধার্য করা হয়েছে। এমন ঘটনায় যদি কেউ নিহত হন বা খুন করার জন্য মারা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রে জরিমানা বেড়ে সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ টাকা এবং বা অথবা সারা জীবন কারাবাসের শাস্তি হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৭ জুলাই ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গণপিটুনির শাস্তিবিধান সংবলিত রায় দিয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে সব রাজ্যকে আইন তৈরির নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। আদালতের নির্দেশ মানার বিষয়ে পথিকৃৎ হয় মণিপুর। ২০১৮ সালেই রাজ্যের এক এমবিএ স্নাতক মুসলিম যুবক গণপ্রহারে মারা যাওয়ার পরে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে। তার জেরে বছরের শেষে গণপিটুনি বিরোধী বিল পাশ করে মণিপুর বিধানসভা।
মণিপুরের পরে গণপিটুনি আইন পাশ করে রাজস্থান। গত ৫ অগস্ট বিরোধী বিজেপি শিবিরের তুমুল আপত্তি সত্ত্বেও বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয় রাজস্থান গণপিটুনি বিরোধী আইন, ২০১৯। এই আইনে গণপ্রহারে কেউ নিহত হলে দোষী ব্যক্তিদের প্রত্যেকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১-৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করার বিধান রয়েছে। এবার সেই পথেই পা বাড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

সাকিবকে পেছনে ফেললেন স্টোকস

0

অ্যাশেজের তৃতীয় টেস্ট জয়ে ভূমিকা রেখেছেন বেন স্টোকস। তার অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংসটিকে অনেকেই বলছেন টেস্টের সর্বকালের সেরা চতুর্থ ইনিংসের একটি।অ্যাশেজ বীরত্বের পর টেস্ট অলরাউন্ডারদের র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি হয়েছে ইংলিশ অলরাউন্ডারের। সাকিব আল হাসানকে টপকে জায়গা করে নিয়েছেন দুইয়ে।

১৩৫ রানের পাশাপাশি টেস্টে ৪ উইকেটে নিয়েছেন স্টোকস। এমন ভূমিকায় ব্যাটসম্যানদের র‌্যাংকিংয়েও প্রভাব পড়েছে স্টোকসের। ১৩ ধাপ এগিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ১৩ নম্বরে।

অলরাউন্ডারদের র‌্যাংকিংয়ে স্টোকস এগিয়েছেন দুই ধাপ। একই সঙ্গে ক্যারিয়ার হাই রেটিং পয়েন্টও অর্জন করেছেন। দুই নম্বরে থাকা স্টোকসের সংগ্রহ ৪১১ পয়েন্ট। শীর্ষে আছেন জেসন হোল্ডার, তার পয়েন্ট ৪৩৩। আর তিনে নেমে যাওয়া সাকিব আল হাসানের সংগ্রহ ৩৯৯ পয়েন্ট।

অপর দিকে সবে মাত্র টেস্টে অভিষেক হয়েছে জোফরা আর্চারের। তৃতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছেন প্রথমবারের মতো। নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে এমনটি করে দেখালেন তিনি। তাতে ৪০ ধাপ এগিয়ে আর্চার জায়গা করে নিয়েছেন ৪৩তম স্থানে।

অপর দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের বিশাল জয় এসেছে জসপ্রিত বুমরাহর বোলিং তোপেই। ৯ ধাপ এগিয়ে টেস্ট বোলারদের র‌্যাংকিংয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ৭ নম্বরে। একই সঙ্গে অর্জন করেছেন ক্যারিয়ার সেরা পয়েন্টও। অ্যান্টিগায় দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৭ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার জশ হ্যাজলউডও এগিয়েছেন র‌্যাংকিংয়ে। হেডিংলিতে ৯ উইকেট নিয়ে তিন ধাপ এগিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তার অবস্থান ১২ তে।

একনেকে বৈঠকে ৫ হাজার ৪৯৪ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২টি প্রকল্প অনুমোদন

0

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ৫ হাজার ৪৯৪ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে (জিওবি) ৫ হাজার ৪১৬ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ ৭৮ কোটি টাকা। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।

একনেকের বৈঠকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘বেনাপোল স্থলবন্দরে কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণ’ প্রকল্প। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘আলীকদম-জালানিপাড়া-কুরুকপাতা-পোয়ামুহুরী সড়ক (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প, ‘টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তোলার জন্য চারটি জাতীয় মহাসড়কের পাশে পণ্যবাহী গাড়িচালকদের জন্য পার্কিং সুবিধা সংবলিত বিশ্রামাগার স্থাপন’ প্রকল্প, ‘বড়তাকিয়া (আবুতোরাব) থেকে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়ক নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প এবং ‘খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খুলনা শহরাংশ (৪.০০ কিলোমিটার) চার লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘উত্তরা এলাকায় পয়ঃশোধনাগার নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ’ প্রকল্প এবং ‘ইসিবি চত্বর হতে মিরপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং কালশি মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন’ প্রকল্প। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘পুকুর পুনঃখনন ও ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচে ব্যবহার’ প্রকল্প। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজ ও ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপন মানিকগঞ্জ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ‘বেগম আমিনা মনসুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা অঙ্গ-২ পর্যায় (আইএফএমসি-২)’ প্রকল্প।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সভায় অংশ নেন।

সভায় এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারে আনতে ‘কমিশন হবে’

0

তিনি বলেছেন, সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। কমিশনের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত হলে বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার ‘শোকের মাস, ষড়যন্ত্রের মাস অগাস্ট’ শিরোনামে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা এই কমিশন ইনশাল্লাহ গঠন করবই। এই কমিশনটা কিন্তু অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে।… আমি মনে করি এই কমিশনটা শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা ছিল তাদেরকে বের করার জন্যই করা উচিত।”

মুক্তিযুদ্ধের চার বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য; আইন করে বিচারের পথও রুদ্ধ করে দেওয়া হয়।

সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বিচারের পথ খোলে; মামলার পর বিচার শুরু হলেও বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর ফের শ্লথ হয়ে যায় মামলার গতি।

আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করে।

কিন্তু পেছনের ষড়যন্ত্রকারীরা ওই মামলায় বিচারের আওতায় না আসায় তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় প্রসিকিউশনের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আজকের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও জিয়াউর রহমান যে জড়িত ছিলেন সে বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ আমাদের কাছে এসেছিল। কিন্তু তারা মারা যাওয়ায়, আইনে সুযোগ না থাকায়, আসামির তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়।”

কিন্তু দেশের মানুষ ও মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্ম ওই হত্যাকাণ্ডের ‘পেছনের খলনায়কদের’ বিচার ও চিহ্নিত করার উদ্যোগ চায় মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই কমিশন গঠনের দাবি ওঠানো সম্ভব হয়েছে। আমরাও কমিশন গঠনের দাবি ওঠানোর সাহস পেয়েছি। আজকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে যাওয়ার সময় এসেছে।

“হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা ছিল তাদেরকে চিহ্নিত করার সুযোগ পেয়েছি। আমরা সেই সুযোগ কী ছেড়ে দেব? আমরা সেই সুযোগ ছেড়ে দেব না।”

সম্ভাব্য ওই কমিশনের কাজের পরিধি এখনও ঠিক না হলেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিগগিরই এ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “নিয়ম মাফিক আমাদেরকে এই কমিশন গঠন করে কিছু ক্ষমতা দিতে হবে। সেই ক্ষমতা দেওয়ার আগেই মন্ত্রিপরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হবে যে, এই কমিশনের প্রধান কে থাকবেন, কমিশনের কাজ কী হবে এবং এই কমিশনকে কতদিন সময় দেওয়া হবে।

“আমি সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনা করব। তারপর এই কমিশন সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।”

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান অনুষ্ঠানে বলেন, “জাতির পিতা হত্যার দায় থেকে আমরা মুক্তি পেতে চাই। আমরা অর্ধেক দায় মুক্তি পেয়েছি। যারা হত্যায় সরাসরি অংশ নিয়েছে- শুধু সেই কাপুরুষদেরই বিচার চাই না, যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদেরও বিচার চাই। কলঙ্কিত অধ্যায় থেকে মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষার প্রহর গুণছি। কমিশন গঠন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার মাস্টারমাইন্ডদের বিচার করা হোক।”

সম্প্রীতি বাংলাদেশের আয়োজনে এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব।

অন্যদের মধ্যে সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান আলোচনায় অংশ নেন।

জাপানের শ্রমবাজারে যোগ হল বাংলাদেশও

0

জনসংখ্যা ক্রমাগত সঙ্কুচিত হওয়ার মুখে থাকা জাপান যেসব দেশ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কর্মী নিয়োগ করবে, সেই তালিকায় বাংলাদেশও যোগ হয়েছে।
মঙ্গলবার টোকিওতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তির পর বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি জানানো হয়।

আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৩ লাখ ৩৪ হাজার কর্মী নিয়োগে গত বছরের ডিসেম্বরে জাপানের পার্লামেন্টে বিল পাস হয়।

প্রাথমিকভাবে আটটি দেশ ভিয়েতনাম, চীন, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, থাইল্যান্ড ও পূর্ব এশিয়ার অন্য একটি দেশের নাম এই তালিকায় ওঠে। এখন বাংলাদেশও সেই তালিকায় ঢুকল।

এই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের এপ্রিল থেকে কর্মীদের জন্য দুই ধরনের ভিসা ব্যবস্থা চালু করেছে জাপান।

বিদেশি কর্মী যাদের ন্যূনতম কারিগরি শিক্ষা রয়েছে, তারা ৫ বছরের জন্য কাজ করার সুযোগ পাবে। এই সময়ের মধ্যে তারা পরিবারের সদস্যদের জাপানে নিতে পারবে না।

আর যারা দক্ষ (গবেষক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী) কর্মী, তারা জাপানে যতদিন খুশি ততদিন থাকতে পারবেন। সেই সাথে তারা তাদের পরিবারের সদস্যদেরও জাপানে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা শিপলু জামান মঙ্গলবার বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে জাপানের বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাপানের জাতীয় পরিকল্পনা এজেন্সি এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

ওই স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সই করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহান; জাপানের পক্ষ থেকে দেশটির বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় অধীন ইমিগ্রেশন সার্ভিস এজেন্সির কমিশনার সোকো শাসাকি সই করেন।

এ বছরের মে মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টোকিও সফরের সময় জাপানে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে আলোচনা হয়। তখন জাপান বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছিল।

রৌনক জাহান বলেন, “জাপানের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দক্ষ কর্মী তৈরিতে বিভিন্ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছি আমরা। আজকের স্মারক সইয়ের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বড় আকারে জাপানের শ্রম বাজারে বাংলাদেশ সুযোগ পেল, যা দুই দেশের জন্য লাভজনক হবে।”
তিনি জানান, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সারাদেশে ২৬টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমে জাপানি ভাষায় ৪ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছে।

দূতাবাসের কর্মকর্তা শিপলু জামান বলেন, দুটি ক্যাটাগরিতে আগামী পাঁচ বছর কেয়ার ওয়ার্কার, বিল্ডিং ক্লিনিং ব্যবস্থাপনা, মেশিন পার্টস ইন্ডাস্ট্রিজ, ইলেকট্রিক, ইলেক্ট্রনিক্স, কন্সট্রাকশন, জাহাজ শিল্প, অটোমোবাইল, কৃষিসহ জাপানের ১৪টি খাতে বিশেষভাবে দক্ষ এবং জাপানি ভাষায় পারদর্শী কর্মীদের নিয়োগ দেবে জাপান।

প্রথম ক্যাটাগরিতে জাপানি ভাষার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবংনির্দিষ্ট কাজে দক্ষতা থাকলে পরিবার ছাড়া জাপানে পাঁচ বছর পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পাবেন। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে যাদের জাপানি ভাষা ও নির্দিষ্ট কাজে দক্ষতা প্রথম ক্যাটাগরির কর্মীদের চেয়ে বেশি, তারা পরিবারসহ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ করার সুযোগ পাবেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা, জাপানের পলিসি প্লানিং ডিভিশনের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফায়ারস দপ্তরের পরিচালক ইয়াসুয়াকি ইমাই, বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর এবং দুদেশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় কোটি মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে গেলেও জাপানে সরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ ছিল না। এখন সেই দুয়ার খুলল।

যুগ্ম সচিব জাহাঙ্গীর আলম টোকিও রওনা হওয়ার আগে বলেছিলেন, “আমরা জাপানে গিয়ে নিজেরাও সেখানে কেমন জনশক্তির চাহিদা রয়েছে সেগুলো যাচাই করব। জাপান আমাদের থেকে যেমন দক্ষ জনশক্তি চাইবে, আমরা চেষ্টা করব তাদের চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি রপ্তানি করতে। ”

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা) সভাপতি বেনজির আহমেদ বলেন, “জাপানে যেতে ইচ্ছুক একজনকে দক্ষ হিসেবে গড়ে উঠতে কমপক্ষে ৮ মাস লাগে। আমি বিশ্বাস করি, জাপান যেই ধরনের দক্ষ লোক চায়, আমরা তাদের সেটা দিতে পারব।”

চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কর্মী জাপানে পাঠাতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে যারা খেলতে চায় তাদের বিষয়ে সময় মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে

0

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে যারা খেলতে চায় তাদের বিষয়ে তথ্য আছে, সময় মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে পাড়ি জমানোর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে রোববার কক্সবাজারে সমাবেশ করে রোহিঙ্গারা। কয়েক লাখ রোহিঙ্গার ওই সমাবেশ নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে।

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুব মহিলা লীগের আয়োজনে শোক দিবসের আলোচনা সভায় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন ওবায়দুল কাদের।

এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী কাদের বলেন, “সব বিষয়ই আমাদের নলেজে আছে, রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য আমরা দিয়ে যাচ্ছি, আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি। তাদেরকে নিয়ে যারা খেলতে চায়, তাদেরকে নিয়ে নোংরা খেলা যারা করতে চায়, তাদের ব্যাপারেও আমাদের কাছে তথ্য আছে। সময় মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আছে এখানে সমস্যা আছে। এখানে বিদেশ থেকেও মদদ আছে, বাংলাদেশেও একটা মতলবী মহল আছে, যারা আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচনে ব্যর্থ, তাদের এখন ষড়যন্ত ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তারা একবার কোটা আন্দোলন একবার নিরাপদ সড়ক আন্দোলন।

“এই সব আন্দোলনকে পুঁজি করে তারা অতীতে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করেছে। এখন তারা রোহিঙ্গা ইস্যুকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বেছে নিয়ে এটাকে ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্রমূলক ফায়দা লোটা যায় কি না সেটাতো নিশ্চয় তাদের মাথায় আছে, তাদের সহযোগিতা থাকতে পারে।”

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, “মিয়ানমারও বন্ধুহীন দেশ, এ কথা ভাবার সুযোগ নেই। তাদেরও বন্ধু আছে, তাদেরও মিত্র আছে। কাজেই তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে যেমন অনাগ্রহ আছে, তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে তাদের উপর চাপও কিন্তু ক্রমাগত বাড়ছে।

“সাফল্য এখানে যে, পৃথিবীতে কোনো দেশ রোহিঙ্গাদের এত উদার, সীমান্ত খুলে দিয়ে আশ্রয় দেয়নি, যেটা শেখ হাসিনার বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়েছে। মানবতা-উদারতার দুয়র খুলে দিয়েছে। বিএনপি ছাড়া বিশ্বের কোনো দেশই এখানে শেখ হাসিনা সরকারের ব্যর্থতা আছে বা কোনো দোষ আছে, কোনো দুর্বলতা আছে- এমনটা কেউ বলেনি।

“সারা বিশ্ব প্রশংসা করছে। প্রশংসা তারাই করতে কুণ্ঠিত যারা রোহিঙ্গাদের সমস্যা থেকে ফায়দা তুলতে এ যাবৎ ব্যর্থ।”

রোহিঙ্গাদের বিষয়টি ফিলিস্তিনি সংকটে রূপ নেবে কি না সেই সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “এই বিষয়টা একেবারেই অযৌক্তিক বিষয়। এটার কোনো বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই। ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজ ভূমিতে আছে, রোহিঙ্গারা পরবাসী‍, বাংলাদেশ তো তাদের ভূমি না, কাজেই এটার সঙ্গে তুলনা হয় না।”

বাংলাদেশে এখন ‘ঘোর অমানিশা’ চলছে বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আসলে বাংলাদেশে অমানিশা চলছে, এটা দেশে-বিদেশে এ নিয়ে কারও কোনো মন্তব্য নেই। বাংলাদেশে যদি অমানিশা চলে তা হলে বিএনপিতে অমানিশা চলছে। তারা আজকে পথ হারিয়ে দিশেহারা পথিকের মত ছুটে বেড়াচ্ছে। যখন যেখানে যা খুশি তাই বলছে, প্রধানমন্ত্রীকে পর্যন্ত অশ্রাব্য ভষায় কথা বলছে।

“তাদের প্রতিনিধিরা এমন বিদ্বেষ প্রসূত কথাবার্তা বলে যা রাজনীতি বা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। কিন্তু কাউকে তো কোনো হুমকি দেওয়া হচ্ছে না, কাউকে তো এমন কথা বলার জন্য সভা-সমাবেশ করার জন্য কোন প্রকার হুমকির পরিবেশ সৃষ্টি করছে না সরকার।”