Home Blog Page 3548

অনিচ্ছার কারণেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যায়নি : ওবায়দুল কাদের

0

রোহিঙ্গাদেরকে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে সরকারের কোনো কূটনৈতিক ব্যর্থতা নেই দাবি করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজেদের অনিচ্ছার কারণেই দ্বিতীয় দফায় তারিখ ঘোষণা করেও তাদের পাঠানো সম্ভব হয়নি।

দুই বছর আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে নির্ধারিত তারিখ ছিল ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার। কিন্তু রোহিঙ্গাদের কেউ ফেরত যেতে রাজি না হওয়ায় শুরু হয়নি প্রত্যাবসন প্রক্রিয়া। এর আগেও একবার এভাবে তারিখ ঘোষণা করেও শুরু হয়নি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।

দ্বিতীয় দফায়ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে না পারাকে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন ওবায়দুল কাদের। বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় তাকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে সাংবাদিকরা লিখিত প্রশ্ন করেন।

জবাবে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের একটা দল ফেরত যাওয়ার কথা, ফেরত যায়নি তাদের অনিচ্ছায়। যেদেশে তারা ফিরে যাবে, আপন দেশে। সেখানে তাদের পরিবেশ, সংস্থান, নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এসব বিষয় তাদের মাথায় ছিল, থাকাটাই স্বাভাবিক। এখানে কূটনৈতিক ব্যর্থতার কোনো বিষয় নেই।’

রিজভীর অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের পাশে আজ সবাই। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ থেকে শুরু করে যে দেশেই, যে ফোরামেই গেছেন তিনি এ বিষয়টাকে সামনে নিয়ে এসেছেন। সর্বশেষ চীনে গিয়েও তিনি এ বিষয়টাকে সর্বশেষে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কূটনীতি একটা চলমান বিষয়, হুট করে ব্যর্থতা কূটনীতির মধ্যে বলা যায় না। আমাদের প্রয়াস অব্যাহত আছে। আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নাই। অব্যাহত প্রয়াস একদিন সফলতা নিয়ে আসবে, এটা আমরা বিশ্বাস করি।’

কাদের বলেন, ‘১১ লাখ বিদেশির জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে শেখ হাসিনা এত উদারতার পরিচয় দিয়েছিলেন, যার প্রশংসা করেনি পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নাই। আমরা যদি সেদিন তাদের আশ্রয় না দিতাম তাহলে কী বলতো? আজকে ১১ লাখ মানুষ একদিন সফলতা আসবে। মিয়ানমারের ওপর সারা দুনিয়ার চাপ বেড়েই চলছে, কাজেই এখানে আমাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতা নেই, এটাই কূটনৈতিক সফলতা। তবে সবকিছু নির্ভর করে মিয়ানমারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ওপর। সারা দুনিয়া থেকে যে চাপ আসছে আমরা বিশ্বাস করি এই সমস্যার সমাধান একদিন হবে, হতেই হবে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হাল ছেড়ে দিইনি, হাল ছেড়ে দেব না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা, তিনি মাথা নত করার লোক নন, হাল ছেড়ে দেয়ার লোকও নন। মানবতার মা সারা দুনিয়ায় স্বীকৃত।’

বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সমিতির মহাসচিব প্রফেসর ড. এম কামরুজ্জামান।

আর নেই অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ

0

ভারতীয় উপমহাদেশে বাম রাজনীতির অন্যতম পুরোধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাম প্রগতিশীল আন্দোলনের পথিকৃৎ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আর নেই ( ইন্নালিল্লাহে…. রাজিউন)। আজ সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার হয়েছিল ৯৭ বছর।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পরিতোষ দেবনাথ। তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, আজ রাত ৭টা ৪৯ মিনিটে মোজাফফর আহমদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই তিনি রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের ছয়জন উপদেষ্টার মধ্যে একজন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধে তার ভূমিকা অবিস্মরণীয়।

১৯২২ সালে জন্ম নেওয়া এই ব্যক্তিত্ব ১৯৩৭ সালে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। রাজনীতি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লোভনীয় চাকরি ছেড়েছেন। তিনি যখন ঢাকা কলেজের শিক্ষক তখন থাকতেন আজমপুরে আট/ আই কলোনির বাসাতেই। সেখানেই ভাষা আন্দোলনকে সংগঠিত করার মিটিং হয়েছিল।

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে মোজাফফর আহমেদ দেবীদ্বার থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তদানীন্তন মুসলিম লীগের শিক্ষামন্ত্রী মফিজুল ইসলামকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে নজির সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। ১৯৫৭ সালে পূর্ব পাকিস্থানকে স্বায়ত্ত্বশাসিত করার প্রস্তাব করে তিনি অনেক রাঘব বোয়ালের রাজনীতিতে ধাক্কা দিয়েছিলেন। যদিও বা সেই প্রস্তাব পাশ হয়েছিল, তথাপি তখন সেটা খুব সহজ কথা ছিলনা। না বললেই নয়, পূর্ব পাকিস্থান গণপরিষদে তার প্রস্তাবের পক্ষে বক্তৃতা করে জোরালো সমর্থন দিয়েছিলেন, পরবর্তীকালে ইতিহাসের মহানায়ক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছয় দফা প্রথমদিকে যারা জোরালোভাবে সমর্থন করে এগিয়ে নিয়েছিলেন তাদের অন্যতম অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ।

১৯৬৮ সালে ন্যাপ দু`ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একভাগ মাওলানা ভাসানীর সঙ্গে থাকলেও অন্য অংশ অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের নেতৃত্বে আলাদা হয়ে যায়।

মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে তাজউদ্দিন আহমেদ ছয় জন বিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন। যেখানে মাওলানা ভাসানী, মণি সিং, মনোরঞ্জন ধরের মতো রাজনীতিবিদরা ছিলেন। তাদের অন্যতম কমরেড মোজাফফর আহমেদ। বাম সমর্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে তখন একটি বিশাল মুক্তিযোদ্ধাবাহিনীও গঠন করা হয়েছিল। তার নেতৃত্বও দিয়েছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিদেশে জনমত গঠন করতে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। তাকে তখন জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনে যোগ দিতেও হয়েছিল।

১৯৭৯ সালে তিনি পুনরায় দেবীদ্বার থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে `কুঁড়েঘর` মার্কায় প্রার্থী হন। `আমার নাম মোজাফফর, মার্কা আমার কুঁড়েঘর` এই স্লোগানে দোকানে দোকানে তাকে সহজ সরল ভাবে ভোট চাইতে দেখা যায়। যদিও বা পাতানো সেই নির্বাচনে তার প্রাপ্ত ভোট দেখানো হয়েছিল মাত্র ১ শতাংশ তথাপি বন্দুকের নলের দিকে বুক তাক করে করা সেই সাহসী রাজনীতি ইতিহাসে দাগ কেটে গেছে।

নিরিবিলি রাজনীতি করার সুযোগ তিনি কখনো পাননি। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান তার নামে হুলিয়া জারি করেন। তখন তার মাথার দাম হাঁকা হয়েছিল। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত বেশীর ভাগ সময় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নিহত হওয়ার পর তাকে আবার আত্মগোপনে যেতে হয়। শুধুমাত্র রিক্সাভাড়া পকেটে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে এরশাদ ক্ষমতায় এলে তাকে আবার আত্মগোপনে যেতে হয়। তার স্ত্রী আমিনা আহমেদ স্কুলে চাকরী করে সংসার চালাতেন।

জীবন সায়াহ্নে এসে বারিধারার পার্ক রোডে মেয়ের বাড়িতে থাকেন তিনি। গত ১৪ আগস্ট অধ্যাপক মোজাফফরকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন। ছিলেন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)। অবশেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে বিসিএস পরীক্ষায়

0

বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। যে সব স্থানে আমরা হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি সেসব স্থানে স্মৃতিফলক তৈরি করা হবে। যত জায়গায় বদ্ধভূমি আছে সেসব জায়গায় অন্য নকশায় স্মৃতিফলক হবে। ঢাকা শহর থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যেক সড়কের নামকরণ করা হবে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লা‌বের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সভার আয়োজন করে মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশন।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যারা গুলি করে হত্যা করেছে আমরা তাদের বিচার করেছি। কিন্তু যারা হুকুম দিয়ে হত্যা করেছে তাদের বিচার হয় নাই। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিমানবন্দরে মাঝে মাঝে সোনা চোরাচালান ধরা পড়ে। কারা ধরা পড়ে? যারা পড়াশোনা না করে শুধু তারাই ধরা পড়ে। দুবাই থেকে ঢাকায় যাদের নামে পাঠায় তারা কি কোনোদিন ধরা পড়ছে, ধরা পড়ে নাই। যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যার হুকুম দিয়েছে তাদের বিচার হয়নি।

মোজাম্মেল হক বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পাকিস্তানি দূতাবাস, আমেরিকান দূতাবাস সারারাত খোলা ছিল। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনি। খুনি না হলে, আত্মস্বীকৃত খুনি যারা ছিল তাদের বিদেশে পাঠিয়ে বড় বড় পদে পদায়ন করতেন না। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের জাতের বিচার না হয় এর জন্য ‘ইনডেমনিটি’ অধ্যাদেশ জারি করে বিচারের রাস্তা বন্ধ করেছিলেন। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু যে সংবিধান দিয়ে গিয়েছিলেন, সে সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দ বাদ দিয়ে আবার সেই পাকিস্তানি কায়দায় ধর্মীয় রাজনীতি সে চালু করে।

মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী গোলাম আযমকে বাংলাদেশে এনে নাগরিকত্ব দেয়। জামাত ইসলামের অনুমতি দেয়। এতে পরিষ্কার বুঝা যায়, সে বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের ইন্টারভিউতে বলে গেছে, জিয়ার সঙ্গে কী কথা হয়েছিল। এজন্য ট্রুথ কমিশন গঠন করে বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত খুনিদের খুঁজে বের করতে হবে এবং বিশ্ববাসীর সামনে এদের বিচার করতে হবে। এটা আজকের সময়ের দাবি। না হয় বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি পাবে না। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ তার কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সম্পন্ন করব।’

মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের সভাপতি গাজী মো. দেলোয়ার হোসেন সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশন সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মীমাংসা হবে

0

চলতি বছরের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ভারত সফরে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মীমাংসা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে প্রতিবেশি দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় উত্তীর্ণ হয়েছে। আমরা আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবো বলে আমি বিশ্বাস করি।

শুক্রবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলাশীর মোড়ে মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের সরকারের সময়ই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অক্টোবরে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লি সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সফরে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের আরো এক ধাপ উন্নয়ন হবে। অমীমাংসিত বিষয়গুলো মীমাংসার ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে যাব বলে আমি বিশ্বাস করি।

এসময় আওয়ামী লীগ সরকারকে সংখ্যালঘু বান্ধব সরকার দাবি করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার মাইনোরিটি বান্ধব সরকার। শেখ হাসিনার সরকার যতদিন আছে আপনাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। যখনই শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন আপনারা শান্তিতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো উদযাপন করতে পারেন এবং আপনারা নিরাপদ হন।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আপনাদের শত্রু বাংলাদেশের শত্রু। তারা সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। এ সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষবৃক্ষ উৎপাটনের জন্য কৃষ্ণের জন্মদিনে আপনাদের কাছে আমার আহ্বান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আপনারা শক্তিশালী করুন। আসুন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে আমরা প্রতিহত করি।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের সকলকে শুভেচ্ছাও জানান ওবায়দুল কাদের।

হজ্ব পালন শেষে মোট ৬৮ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ২৪ হাজার ৭৩৫ জন হাজি

0

সৌদি আরবে হজ পালন শেষে মোট ৬৮ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ২৪ হাজার ৭৩৫ জন হাজি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৯টি ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ৩৯টি ফ্লাইট রয়েছে।

এবার ৩৬৫টি ফ্লাইটে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) হজ হলে সৌদি আরব যান।

গত ১০ আগস্ট পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত ১৭ আগস্ট ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়।

হজ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ হজ অফিস মক্কার কনফারেন্স কক্ষে গতকাল ২২ আগস্ট রাতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে হজ প্রশাসনিক দলের সমন্বয় সভা হয়।

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব হাজিদের দেশে ফেরত আনার কথা রয়েছে।

মামলা প্রত্যাহারের দাবি পোশাক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে

0

পোশাক শ্রমিকদের মজুরি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ডিসেম্বর, জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁদের নামে যেসব মামলা দায়ের করা হয়েছে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশ থেকে মামলা প্রত্যাহারের এ দাবি জানান সংগঠনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন।

বিজিএমইএর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হোক। এজন্য সংশ্লিষ্ট মালিক, সরকার, প্রশাসন এবং বিজিএমইএর উদ্যোগ প্রয়োজন।

গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ৭ হাজার ৪৫৮ জন শ্রমিকের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১০৪টি কারখানা থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ১২ হাজার ৪৩৬ জন শ্রমিককে। গ্রেফতার করা ৭৫ জন শ্রমিক জামিন পেলেও প্রতিনিয়ত পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছে তারা। এর বাইরে নিহত একজন শ্রমিকের পরিবার এখন পর্যন্ত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পায়নি।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আরিফ আক্তার, কেন্দ্রীয় নেতা সাফিয়া পারভিন, আলেয়া বেগম প্রমুখ।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনে কাজে লাগাতে হবে

0

‘আবহমানকাল ধরে এ দেশে সকল ধর্মের অনুসারীরা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তাই আমাদের সুমহান ঐতিহ্য। জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনে এই ঐতিহ্য কাজে লাগাতে হবে।’

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আজ শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মানুষ সামাজিক জীব। তাই শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত না থেকে সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার ও কুসংস্কার দূর করতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘জন্মাষ্টমী উৎসবকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা ও আনন্দোৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর আবেদনকে একটি কল্যাণকামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগাতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি মানবিক সমাজ গঠনে পারস্পরিক সদ্ভাব ও শ্রদ্ধাবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সকল ধর্মেই পারিবারিক বন্ধনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পারিবারিক কাঠামোর বিবর্তন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ন ও আধুনিকায়নের ফলে মানুষের কর্মব্যস্ততা বাড়ছে। এতে পারিবারিক বন্ধন ক্রমান্বয়ে শিথিল হয়ে আসছে এবং ঘটছে নানা সহিংস ঘটনা।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতা এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য এ অবস্থা মোটেই কাম্য নয়।’

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আবহমানকাল থেকে এ দেশে সব ধর্মের অনুসারীরা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করে আসছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তাই আমাদের সুমহান ঐতিহ্য। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ঐতিহ্য অব্যাহত রেখে জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনে তা কাজে লাগানোর জন্য আমি দেশের সকল ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহ্বান জানাই।’

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, ভারতের হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ, রামকৃষ্ণ মঠের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ মহারাজ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ আরো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে

0

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ আরো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এ ইস্যুতে জাতিসংঘ দায় এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে ‘১৫ আগস্ট পরবর্তী অভিঘাত’ নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ কমিটির এক আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমাদের অবস্থানে আমরা একটু শক্ত হবো। আমরা চিন্তা করছি, একটি আন্তর্জাতিক কমিশন কাজে লাগানো হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক যেসব সংস্থা আছে আমরা তাদের বলছি, আপনারা আমাদের এখানে থেকে কোনো লাভ নেই। আপনারা রাখাইনে যান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মিয়ানমারকে আবার বলবো, তোমরা বারবার বলেছ, প্রতিশ্রুতি দিয়েছ। এখন তোমরা তোমাদের লোক নিয়ে যাও। যা যা করলে তারা যাবে তা করো।
রোহিঙ্গা ইস্যুটি জাতিসংঘ এড়াতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘ কোনোভাবেই এটা এড়াতে পারে না।

ইরান পাল্লা দেবে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে

0

নিজস্ব প্রযুক্তিতে বানানো ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এবং দূর-পাল্লার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদর্শন করেছে ইরান। ‘বাভার-৩৭৩’ নামে ওই ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘রাশিয়ার এস-৩০০’ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিযোগী বলে অভিহিত করছে ইরান।

গতকাল বৃহস্পতিবার ‘বাভার-৩৭৩’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায় জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প দিবস উপলক্ষে নতুন এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উন্মোচন করা হয়েছে।

দূরপাল্লার এ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৩০০ কিলোমিটারেরও অধিক দূরত্বে থাকা যুদ্ধবিমান বা লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত করতে পারে এবং ২০০ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা অবস্থায় লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির হাতামি।

রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে

0

বিতর্কিত ধর্ম প্রচারক ও ইসলামি বক্তা জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

২০১৬ সাল থেকে অর্থ-পাচার মামলা ও জঙ্গিবাদে উসকানির অভিযোগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করতে চাচ্ছে। কিন্তু গত তিন বছর ধরে তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মুম্বাইয়ের একটি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছে।

যাতে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। যদি এই পরোয়ানা জারি করা হয় তাহলে ইন্টারপোলের কাছে রেড এলার্ট নোটিশ জারির আহ্বান জানানো হবে। এর মধ্যদিয়ে উভয় দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাকে ভারতের হাতে তুলে দেয়ার দাবি জানানো হবে।

এর আগে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এ ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

তবে সম্প্রতি জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশি তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে তার মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হতে পারে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় যেকোনো ধরনের সমাবেশে তার বক্তৃতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।