Home Blog Page 3574

প্রতিটি বাস-লঞ্চ টার্মিনাল ও ট্রেন স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করছে র‌্যাব : ডিজি

0

র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি বাস-লঞ্চ টার্মিনাল ও ট্রেন স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করছে র‌্যাব।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ঈদ উপলক্ষে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ঈদ নিরাপত্তার বিষয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, সামনেই আমাদের দু’টি বড় ইভেন্ট- ঈদুল আজহা ও ১৫ আগস্ট। ঈগের আগে, ঈদের দিন ও ঈদ পরবর্তী নিরাপত্তার বিষয়ে পৃথক পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার জন্য এবার অনেক সড়ক ও রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে কারণে যান চলাচলে কোথাও কোথাও ধীরগতি রয়েছে। যতটুকু সম্ভব ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছি আমরা।

এছাড়া কাশ্মীর ইস্যুতে বাংলাদেশে কেউ জলঘোলা করার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। আমাদের দেশে ‘আল্ট্রা-ইসলামিস্টের’ সংখ্যা খুব বেশি নয়। তারা ২৪ ঘণ্টাই আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।’

তিনি বলেন ‘যে বিষয়টা আমাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, সে বিষয় নিয়ে কোনো সুস্থ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ আমার দেশে জলঘোলা করার কোনো কারণ দেখি না। কেউ জলঘোলা করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্প্রতি র‌্যাব-৭’-এর সাবেক অধিনায়ক (সিও) হাসিনুর রহমান নিখোঁজের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক মানুষকেই তো খুঁজে পাওয়া যায় না। খুঁজে না পাওয়াটা শুধু বাংলাদেশে নয়, আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপেও মানুষ নিখোঁজ হয়। একজনকে খুঁজে না পাওয়া মানেই কোনো বাহিনীর ব্যর্থতা নয়। নিখোঁজ হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা জ্ঞাত রয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে কাজ করছি। যদি কারও কাছে কোনো তথ্য থাকে, তাহলে আমাদের জানাবেন।

তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহসহ গুরুত্বপূর্ণ সব ঈদগাহের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরায় মনিটরিং থাকছে। এছাড়া, ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে সুইপিং করা হবে।

আট বছর পর বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক

0

আট বছর পর বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের সচিব পর্যায়ের বৈঠক বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুইদেশের সীমান্ত দিয়ে বহমান নদীগুলো নিয়ে খুব ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী বয়ে গেছে। যার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৭টি নদীর পানির সুষম ব্যবহার নিয়ে উভয়পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার ও ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠক শেষে দুই দেশের সচিব গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য জানান।
বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্য দিয়ে বহমান অভিন্ন ৫৪ টি নদীর মধ্যে মনু, মুহুরী, খোয়াই, ফেনী, গোমতী, ধরলা, দুধকুমার এবং তিস্তা, এই ৭টি নদীর পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উভয়পক্ষ। এ ছাড়া পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণে একটি যৌথ কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিগত ১৯৯৬ সালে গঙ্গাচুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ এই অংশ থেকে ন্যায্য পানির হিস্যা পাচ্ছে। এই চুক্তিটি যেহেতু অনেক বছর আগে হয়েছে তাই গঙ্গার পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য নতুন করে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা আবারও যাচাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য যৌথভাবে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সচিব জানান, দুই দেশের ৫৪টি নদীর মধ্যে ৭টি নদী নিয়ে ঢাকা-নয়া দিল্লি যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নদীগুলো হচ্ছে মনু, মুহুরী, খোয়াই, ফেনী, গোমতী, ধরলা, দুধকুমার এবং তিস্তা। এই নদীগুলোর পানি অন্তবর্তীকালীন ব্যবহারের জন্য একটি কাঠামো প্রণয়নে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং বলেন, বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ‘গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির আওতায় প্রাপ্ত পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে যৌথভাবে সমীক্ষা ও বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে ভারতীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা’ শীর্ষক এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতের কোনো আপত্তি নেই। এ প্রকল্পের শর্তাবলি (টার্মস অব রেফারেন্স) ঠিক করার জন্য আমরা একটি যৌথ কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটি আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।
তিনি আরও বলেন, দীঘ ৮ বছর বিরতির পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। তবে এর মধ্যে মন্ত্রী বা অন্য পর্যায়ের বৈঠক অবশ্য হয়েছে। এই যাত্রা এখন থেকে অব্যাহত থাকবে। খুব শিগগির এই বিষয়ে মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং জানান, যৌথ নদী কমিশনের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে ঢাকার পক্ষে ছয়টি প্রস্তাব এবং নয়াদিল্লির মধ্যে চারটি প্রস্তাব ছিল।
ঢাকার ছয়টি প্রস্তাব হচ্ছে— গঙ্গা নদীর পানি বণ্টনচুক্তির আওতায় প্রাপ্ত পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে যৌথভাবে সমীক্ষা ও বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে ভারতীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা; অন্যান্য অভিন্ন নদী যেমন—মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বণ্টন চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন; আপারা সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্পের ইনটেক চ্যানেলের (রহিমপুর খাল) অবশিষ্ট অংশের খনন কাজ বাস্তবায়ন; বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা সম্প্রসারণ; বাংলাদেশের আখাউড়ায় সিঅ্যান্ডবি খাল ও জাজি নদীতে দূষণ এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর অববাহিকাভিত্তিক পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা।
অন্যদিকে, নয়াদিল্লির প্রস্তাবগুলো হচ্ছে— মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা বা জলঢাকা এবং দুধকুমার বা তরসা ছয়টি আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টন; পশ্চিম বাংলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন নদীতে শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ কমে যাওয়া;ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি উত্তোলনের মাধ্যমে ত্রিপুরার সাবরুম শহরে ‘ড্রিংকিং ওয়াটার সাপ্লাই স্কি’ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশের চিনিকল থেকে নির্গত তরল বর্জ্য দ্বারা পশ্চিম বাংলার মাথাভাঙা-চূর্ণী নদী দূষণ ।

ঈদুল আযহা সামনে রেখে শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ট্রেন

0

ঈদুল আজহা সামনে রেখে শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ট্রেন। ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে আজ শুক্রবার রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। গত দুই দিন ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের উঠতে দেখা না গেলেও আজ তা দেখা গেছে।
সকাল ৮টার দিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ভোর ৬টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তখনো তা প্লাটফর্মে এসে পৌঁছায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনটি ৮টা ২৫ মিনিটে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যাবে।
এদিকে উত্তরবঙ্গগামী ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ৩ ঘণ্টা বিলম্বে সাড়ে ৯টার দিকে ছেড়ে যাবে বলে জানিয়েছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ। এটি সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল।
এ ছাড়া সকাল ৮টায় চিলাহাটির উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’। কিন্তু তা সে সময় পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছায়নি। ৩৭টি রুটের মধ্যে দু-একটি বাদে সবগুলো ট্রেনই বিলম্বে ছাড়া শুরু করেছে, এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়েছে।
শুক্রবার সকাল ৮টায় কমলাপুর স্টেশনের বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মে দেরি হওয়া ট্রেনের যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি যাওয়ার জন্য চরম উৎকণ্ঠা নিয়ে তাদের অপেক্ষা করছেন তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবারও উত্তরবঙ্গের সবকটি ট্রেন দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরি করে স্টেশন ছেড়েছে সেগুলোই আজ আরও বেশি বিলম্বে ছাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেহেতু ওই ট্রেনগুলোই ঈদমুখী মানুষকে গন্তব্যে নামিয়ে দিয়ে এসে আবার ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে রওনা দেবে, ফলে বিলম্ব এড়ানো এখন মুশকিল হয়ে পড়েছে।
ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে আজ শুক্রবার ৩৭টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে ৩৪টি হচ্ছে নিয়মিত আন্তঃনগর ট্রেন আর তিনটি হচ্ছে ঈদ স্পেশাল।
গত দুই দিনে যাত্রীদের নিরাপদে ট্রেনে করে ঘরে ফিরতে দেখা গেলেও আজ শুক্রবার সকালে ভেতরে ও ছাদে সমান পরিমাণ যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যেতে দেখা যায় জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেসকে।
কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, শুক্রবার যাত্রীদের চাপ বেশি। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সবাই বাড়ি ফিরতে চায়। ট্রেনের শিডিউল ঠিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

সড়ক-মহাসড়কে কোনো যানজট নেই

0

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সড়ক-মহাসড়কে কোনো যানজট নেই। কিন্তু নদীতে অতিরিক্ত স্রোতের কারণে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ জন্য সেখানে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, ঈদযাত্রা যেন স্বস্তিদায়ক হয়। এ জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ এখনো আমি পাইনি। তবে বেশি ভাড়া নেওয়ার সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, এডিশ মশা মানুষের চেয়ে শক্তিশালী নয়। যা আমরা মোকাবেলা করতে পারব না। এর থেকেও বড় বড় চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবেলা করেছি।

ভয়ঙ্কর বন্যা পরিস্থিতি ভারতের উত্তর কর্নাটয়

0

টানা ১০ দিনের বৃষ্টিতে ভয়ঙ্কর বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ভারতের উত্তর কর্নাটকে। ‌বন্যার পানি থেকে রক্ষা পেতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা আমগাছে কাটালেন এক দম্পতি।

ঘটনাটি ঘটে বেলাগাভি শহর থেকে কিছুটা দূরের কাবালাপুর গ্রামে। কর্ণাটকের প্রায় ৮২ হাজার ২০৭ হেক্টর জমি এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গেছে প্রায় ১৬২ গ্রাম।

কাবালাপুর গ্রামের পরিস্থিতিও একই। ভেসে গেছে সেখানকার ঘরবাড়ি। গত সোমবার কাবালাপুর গ্রামের একটি খামার বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলেন কাদাপ্পা ও রত্নাভা নামে ওই দম্পতি। পরের দিন সকালেই তারা বুঝতে পারেন যে ওই এলাকায় ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। পানিরর উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করলে তারা বাড়ির ছাদে উঠে আসেন। বন্যার পানির উচ্চতা বেড়ে প্রায় ৮–১০ ফুট হতেই আর কোনো রাস্তা না পেয়ে গাছে উঠতে বাধ্য হন তারা।

তাদের উদ্ধারের করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। কিন্তু পানির স্রোত এতটাই বেশি ছিল যে উদ্ধারকারী দল ওই অঞ্চলে পৌঁছাতেই পারেনি। তারপর দমকল বাহিনীর একটি উদ্ধারকারী দলকে পাঠানো হয়।

উদ্ধারকার্যে ওই অঞ্চলের মৎস্যজীবিদের সাহায্য নিতে গিয়ে তারাও ভেসে যান স্রোতে। সহকারী কমিশনার কবিতা যোগাপ্পানাভার জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে ওই দম্পতিকে পাহাড়ের কাছে অবস্থিত বল্লারি নালার খামার বাড়িতে যেতে বারণ করা হয়েছিল। তারা শোনেননি। মঙ্গলবার সকাল ১১ টা থেকে তারা গাছে চড়ে থেকেছেন। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়।

পিটার্সবার্গে একজন নারীকে ছুরিকাঘাতে

0

পেনসিলভানিয়ার পিটার্সবার্গে একজন নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে এবং আরেক নারী এ ঘটনায় আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক বহু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, সেখানকার এক বাসস্ট্যান্ডের যাত্রী ছাউনিতে একজন নারী ঘুমিয়েছিলেন। একজন পুলিশ সদস্য বিষয়টি দেখতে পান।

ওই সময় আরেক ব্যক্তি সেই নারীর পাশে হাজির হয়ে আনুমানিক ১১ টা ৩০ মিনিট নাগাদ তার সঙ্গে কথোপকথন শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই নারীকে ছুরিকাঘাত করেন।

পুলিশ সদস্য তৎক্ষণাৎ ওই ব্যক্তিকে প্রতিহত করে ভুক্তভোগী নারীকে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। প্রথম নারী হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। আর দ্বিতীয় আরেকজন নারী হিজাব পরিহিত ছিলেন। তার আঘাত গুরুতর নয় বলে জানা গেছে।

পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অবশ্য ওই দুই ঘটনার সঙ্গে ধর্ম কিংবা সন্ত্রাসের যোগসূত্র খুঁজে পায়নি। এটা একেবারেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে পিটার্সবার্গ পুলিশ।

এ ঘটনায় পিটার্সবার্গ পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত কয়েকদিনে ভারতে গুগল সার্চে সব কিছু ছাপিয়ে উঠেছে ‘কাশ্মীরি গার্ল’ ও ‘ম্যারি কাশ্মীরি গার্ল’

0

গত কয়েকদিনে ভারতে গুগল সার্চে সব কিছু ছাপিয়ে উঠেছে কাশ্মীর। আরও স্পষ্ট করে বললে কাশ্মীরি মেয়ে। ভারতে গুগল সার্চের সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়েছে ‘কাশ্মীরি গার্ল’ শব্দটি। এরপরই ‘ম্যারি কাশ্মীরি গার্ল’ সার্চ হয়েছে।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের উদযাপনের অনুষ্ঠানে বিজেপির নেতার কাশ্মীরি মেয়েকে বিয়ের আহ্বানের পরই গুগলে ‘কাশ্মীরি গার্ল’ ও ‘ম্যারি কাশ্মীরি গার্ল’ সার্চ শুরু হয়।

গুগল ট্রেন্ড অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ‘কাশ্মীরি গার্লস’ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছেন ১০০ শতাংশ সাক্ষরের রাজ্য কেরালা থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ঝাড়খন্ড। এরপরে রয়েছে হিমাচল প্রদেশ। সেই তালিকায় ১৬ নম্বর স্থানে আছে পশ্চিমবঙ্গ। ‘ম্যারি কাশ্মীরি গার্ল’ এবং ‘কাশ্মীরি গার্লস’এর সার্চ বেড়ে যায় গত মঙ্গলবার। এতে দেখা যায়, ‘ম্যারি কাশ্মীরি গার্ল’ শীর্ষক সার্চে শীর্ষে ছিল দিল্লি। পর্যায়ক্রমে এর পরের অবস্থান মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকের। এই দুই রাজ্যের মানুষ হুমড়ি খেয়ে খুঁজছেন কাশ্মীরি মেয়েদের বিয়ের তথ্য। কাশ্মীরে জমি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে সবচেয়ে বেশি সার্চ ‘বাই ল্যান্ড ইন কাশ্মীর’ এসেছে ঝাড়খন্ড থেকে। এরপরে রয়েছে দিল্লি ও হরিয়ানা। কিভাবে কাশ্মীরে জমি কেনা যায় সে বিষয়ে ‘হাউ টু বাই ল্যান্ড ইন কাশ্মীর’ শীর্ষক সার্চ সবচেয়ে বেশি হয়েছে হরিয়ানা থেকে। এর পরে রয়েছে উত্তর প্রদেশ ও মহারাষ্ট্র। তবে দিল্লির বেশির ভাগ মানুষ লাদাখে জমি কেনাতেই বেশি আগ্রহী।

গত মঙ্গলবার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার উদযাপনের অনুষ্ঠানে উত্তর প্রদেশের মোজফফরনগরের বিজেপির বিধায়ক বিক্রম সাইনি কাশ্মীরি মেয়েকে বিয়ের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এবার আমাদের দলের কর্মীরা সুন্দরী কাশ্মীরি নারীদের বিয়ে করতে পারবেন। আর কোনোও বাধা রইল না। যারা অবিবাহিত তারা তো এবার কাশ্মীরে বিয়ে করতে পারবেন। এখন আর কোনোও সমস্যা নেই। যদি কাশ্মীরের কোনোও মেয়ে উত্তরপ্রদেশের ছেলেকে বিয়ে করলে নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যেত। ভারত ও কাশ্মীরের নাগরিকত্ব আলাদা ছিল। আর এখানকার মুসলিম পুরুষদেরও আনন্দ করা উচিত। ওখানকার মেয়েদের বিয়ে করুন। তিনি হিন্দু বা মুসলমান যেই হোন। এ নিয়ে সারা দেশের আনন্দ করা উচিত।’

বিক্রম সাইনির বক্তব্যর পরই ভারতজুড়ে যেন এক ‘রোগ’ ছড়িয়ে পড়েছে। কাশ্মীরি মেয়েদের বিয়ে করার পরিকল্পনা, হানিমুন ও ভিডিওতে সবলাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওয়াল। নেটিজেনরা টুইট করে বলছেন, কাশ্মীরি মেয়েদের বিয়ে করতে তারা প্রস্তুত।

আসলে কাশ্মীরি মেয়েদের বাইরের রাজ্যে বিয়ে করা নিষিদ্ধ কোনও দিনই ছিল না। বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত জম্মু-কাশ্মীরের মেয়েরা তাঁদের রাজ্যের বাইরে বিয়ে করতেই পারতেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে বিয়ের পরে তাঁরা বাবার বাড়ির যেকোনো সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন। জম্মু-কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হয়ে গেলে বঞ্চিত হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায়। নিজের রাজ্যের বাইরে বিয়ে হলেও কাশ্মীরি মেয়েরা বাবার সূত্রে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন।

কিন্তু গুগলে ভারতের সার্চের বর্তমান ধারাকে কার্যত ‘অবমাননাকর’ বলছেন অনেক ভারতীয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সয়লাব কাশ্মীরের জমি আর মেয়েদের খোঁজার ব্যাপারটি। অনেকেই বলছেন, স্মার্টফোন হাতে নিয়ে এই ধরনের গুগল সার্চ যারা করছেন, তারা আসলে হরিণের চামড়া গায়ে দেওয়া নেকড়ে। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস ও নিউজ এইটিন

টালিউড তারকা শতাব্দী রায়কে জেরা

0

সারদা মামলায় ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কর্মকর্তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তৃণমূল সাংসদ এবং টালিউড তারকা শতাব্দী রায়কে জেরা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি ইডি দপ্তরে গেলে সারদার চিটফান্ড থেকে টাকা নেওয়ার মামলায় তাঁর সম্পৃক্ত থাকা বা না থাকার সমর্থনে বেশ কিছু নথি চান সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, ২৯ লাখ রুপি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ইডিকে চিঠি লেখার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শতাব্দীর আইনজীবী। শতাব্দী রায় এবার নিয়ে তিনবার তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাংসদ হন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম আসনে। তাঁর বিরুদ্ধে সারদার অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সারদার ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ৪২ লাখ রুপি নেন তিনি। যদিও বিভিন্ন কর কাটার পর তাঁর হাতে আসে ২৯ লাখ রুপি। ২৯ জুলাই ইডিকে তিনি জানিয়ে দেন, সারদার কাছ থেকে নেওয়া টাকা তিনি ফিরিয়ে দিতে চান। এ লক্ষ্যে তিনি ইডির কর্মকর্তাদের চিঠিও দিয়েছেন।

গত মাসে ইডি বা ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সারদা মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে চিঠি দেয়। দপ্তরে দেখা করার জন্য তাঁকে তলবও করে। কিন্তু এতে তিনি তেমন সাড়া দেননি। এরপর ২৯ জুলাই ফের চিঠি পাঠায় ইডি। সেই চিঠির জবাবে শতাব্দী রায় জানিয়ে দেন, সংসদ অধিবেশনের কারণে ৭ আগস্ট পর্যন্ত তিনি আসতে পারছেন না। এরপর তিনি হাজির হবেন ইডি দপ্তরে। একই সঙ্গে জানান, তিনি সারদার কাছ থেকে নেওয়া ২৯ লাখ রুপি ফিরিয়ে দিতে চান। অনুমতি মিললে তিনি ব্যাংক ডিডির মাধ্যমে সেই টাকা ফেরত দেবেন। এর আগে অমিতাভ বচ্চনও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন টাকা।

এর ধারাবাহিকতায় শতাব্দী রায় গতকাল বৃহস্পতিবার হাজির হন কলকাতার ইডি দপ্তরে। গতকাল শতাব্দী রায় ইডি দপ্তরে গেলে ইডির কর্মকর্তারা তাঁকে দেড় ঘণ্টা জেরা করে এই মামলায় তাঁর সম্পৃক্ত থাকা বা না থাকার সমর্থনে বেশ কিছু নথি চান। কিন্তু এখানে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ওঠেনি। বরং ইডির তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়ে দেন, তিনি ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সারদার অ্যাম্বাসাডর থাকাকালে ২১ দফায় সারদার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইডিকে শতাব্দী রায় আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক আমানত ও সম্পত্তির নানা নথি দিয়েছেন। এখন ওই সব নথি খতিয়ে দেখছে ইডি। এরপর প্রয়োজনে তাঁকে ফের তলব করা হবে।

ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে শতাব্দী রায় সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ইডি তদন্তের স্বার্থে আমার কাছে কিছু নথি চেয়েছিল, আমি তা দিয়েছি। তদন্তের স্বার্থে ইডি ডাকলে আবার আসব।’ আর শতাব্দীর আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামী জানান, টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য শতাব্দী রায় ইডিকে কোনো চিঠি দেননি।

শতাব্দীর সঙ্গে সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের সুসম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে তিনি সারদার ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গের দুটি চাঞ্চল্যকর আর্থিক দুর্নীতির মামলা সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ড মামলা। সারদার মামলাটি ছিল ২১ হাজার কোটি রুপির আর্থিক দুর্নীতির আর রোজভ্যালিরটি ছিল ৬০ হাজার কোটি রুপির আর্থিক দুর্নীতি মামলা। এই দুটি মামলায় জড়িয়ে পড়েন পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূলের কয়েকজন নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়ক, যার মধ্যে ছিলেন শতাব্দী রায়ও।

২০১৩ সালে ফাঁস হয় সারদার আর্থিক দুর্নীতির ঘটনা। এই ঘটনায় সেদিন গ্রেপ্তার হন সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন, পরিচালক দেবযানী মুখার্জি, সারদার মিডিয়া সেলের কর্ণধার ও সাংসদ কুণাল ঘোষ, তৃণমূল সাংসদ সৃঞ্জয় বোস, তৃণমূল বিধায়ক ও মন্ত্রী মদন মিত্র, কলকাতা পুলিশের সাবেক মহাপরিচালক রজত মজুমদার প্রমুখ। এই সারদা মামলায় সাড়ে ১৭ লাখ ক্ষুদ্র আমানতকারীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। পরে অবশ্য কুণাল ঘোষ, সৃঞ্জয় বোস, মদন মিত্ররা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।

২০১৫ সালের মার্চে ফাঁস হয় রোজভ্যালি আর্থিক দুর্নীতির কথা। অভিযোগ ওঠে, ক্ষুদ্র আমানতকারীদের বিনিয়োগকৃত ৬০ হাজার কোটি রুপি আত্মসাতের। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হন রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডু। আরও গ্রেপ্তার হন তৃণমূল সাংসদ ও অভিনেতা তাপস পাল এবং সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মামলায়ও উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত আছেন তাপস পাল ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সারদা ও রোজভ্যালির কর্ণধাররা এখনো কারাগারে। এ দুটি মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই ও ইডি।

জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অন্যান্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মতো হবে না

0

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলছেন, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অন্যান্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মতো হবে না। এখানে বিধানসভা থাকবে, নির্বাচন হবে, মুখ্যমন্ত্রী থাকবে, থাকবে মন্ত্রিসভাও। তিনি বলেছেন, ৩৭০ অনুচ্ছেদ স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি।

জাতির উদ্দেশে আজ বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া ভাষণে মোদি এসব কথা বলেন। গত সোমবার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করা হয়। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীর বিশেষ মর্যাদা হারায়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদি তাঁর ভাষণে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিলের পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাঁর সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে কাশ্মীরে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। সেখানে শিল্পায়ন, পর্যটন ও সরকারি-বেসরকারি ক্ষেত্রে প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

মোদি দাবি করেন, তাঁর সরকার কাশ্মীরের বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, বি আর আম্বেদকর, শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি, অটল বিহারি বাজপেয়ির মতো নেতাদের সঙ্গে কোটি কোটি ভারতীয়র স্বপ্ন পূরণ করেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। এই বিচ্ছিন্নতা ও সন্ত্রাসবাদের কারণে গত তিন দশকে কাশ্মীর অঞ্চলে ৪২ হাজার নিরীহ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

মোদি বলেন, তাদের এই সিদ্ধান্তের ফলে জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ ভারতের অন্যান্য নাগরিকের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে। তাদের সন্তানেরা শিক্ষায় এগিয়ে যাবে, নারী অধিকার সংরক্ষণ হবে। আগে জম্মু-কাশ্মীরের দেড় কোটি জনগণ ভারতীয় আইন থেকে কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিতে পারেনি।

লাদাখকে আলাদা অঞ্চল করার প্রসঙ্গে মোদি বলেন, পর্বত উচ্চতায় বসবাসরত ওই অঞ্চলের মানুষদের আলাদা সংস্কৃতি রয়েছে। সেখানে প্রচুর সম্পদ রয়েছে। সেখানে প্রচুর ওষধি গাছ-গাছরা জন্মায়, চাষ হয়। সেগুলো থেকে লাদাখের জনগণ প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবে। হারবাল চিকিৎসাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

মোদি তাঁর ভাষণে কাশ্মীর নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ভাবতে বলেন। তাঁর ভাষ্য, নৈসর্গিক এই অঞ্চল পর্যটন ও চলচ্চিত্রের জন্য বিশেষ আকর্ষণের স্থান হতে পারে। তিনি বলেন, আগে যখন কাশ্মীরের অবস্থা স্বাভাবিক ছিল তখন বলিউড মুভির জন্য পছন্দের জায়গা ছিল এটি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার কাশ্মীরে ঈদ উদ্‌যাপনের প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এমনকি যারা আসন্ন ঈদ পালনে জম্মু-কাশ্মীরে যেতে ইচ্ছুক, সরকার তাদেরও সহযোগিতা করছে।

নেইমারকে কেনার দৌড়ে বার্সার সঙ্গে যোগ দিয়েছে রিয়ালও

0

নেইমারকে কিনতে চায় বার্সেলোনা এবং ব্রাজিলিয়ান তারকা নিজেও কাতালান ক্লাবে ফিরতে চান। এত দিন এ খবর শোনা গেলেও নতুন কথা জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম। রিয়াল মাদ্রিদও নাকি নেইমারকে কেনার দৌড়ে যোগ দিয়েছে। সে জন্য ১২০ মিলিয়ন ইউরোর সঙ্গে রিয়াল নাকি লুকা মদরিচকেও পিএসজিতে দিতে রাজি
দলবদলের এ মৌসুমে নেইমারকে নিয়ে নাটকের ডালপালা গজিয়ে যেন মহিরুহ বৃক্ষ হয়ে উঠছে! ব্রাজিলিয়ান তারকাকে কেনার দৌড়ে এত দিন শুধু বার্সেলোনার নামটাই জোরেশোরে উচ্চারিত হয়েছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্ত জানিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদও কিনতে চায় নেইমারকে। শুধু চায় বললে ভুল হবে, পিএসজি ফরোয়ার্ডকে কিনতে ক্লাবটি ১২০ মিলিয়ন ইউরোর সঙ্গে নাকি লুকা মদরিচকেও দিতে রাজি। অর্থাৎ ব্রাজিলিয়ান তারকাকে নিয়ে রিয়াল-বার্সা মুখোমুখি!

নেইমার মুখ ফুটে না বললেও নিজের কাজে কর্মে বুঝিয়ে দিচ্ছেন বার্সায় ফিরতে চান। ওদিকে কাতালান ক্লাবটিও তাঁকে কিনতে চায়। লিওনেল মেসির বয়স হচ্ছে, যে কারণে নেইমারকে ফিরিয়ে এনে মেসির জায়গায় তাঁকে প্রস্তুত করতে চায় ক্লাবটি। কিন্তু শুধু নেইমার আর বার্সেলোনা চাইলেই তো আর হবে না! পিএসজিকেও তো চাইতে হবে! এটা নিশ্চিত, নেইমারের ‘যাচ্ছি-যাব’ মানসিকতায় পিএসজির মালিক পক্ষও প্রচণ্ড বিরক্ত। কিন্তু তাই বলে নিজের দলের সবচেয়ে বড় রত্নকে তারা বার্সেলোনার কাছে ছেড়ে দেবে কেন? সেই বার্সা, যে বার্সার সঙ্গে দলবদল নিয়ে তাদের তিক্ততার শেষ নেই। এর আগে শোনা গিয়েছিল, বার্সা ছাড়া অন্য যেকোনো ক্লাবের কাছে নেইমারকে বিক্রি করতে প্রস্তুত পিএসজি। স্পোর্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী অনেকে ভেবে নিতে পারেন, সেই অন্য যেকোনো ক্লাবটি কি রিয়াল মাদ্রিদ?

সংবাদমাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুটি ক্লাব নেইমারকে নিয়ে ঐক্য মত্যে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ নেইমারকে দলে টানতে আগ্রহী, এ কথা জানা গিয়েছে আগেই। পেরেজ এ জন্য নাকি যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বাকি রয়েছে শুধু নেইমার রিয়ালে যেতে মুখ ফুটে ‘হ্যাঁ’ বলা, তাহলেই নাকি এ অভিযান শেষ করতে পারেন রিয়াল সভাপতি।

নেইমারকে কিনতে রিয়াল নাকি আগ্রহ প্রকাশ করেছে শেষ মুহূর্তে। এদিকে পিএসজিও বার্সার কাছে দলের সেরা খেলোয়াড়টিকে বেচতে রাজি নয়। ফরাসি ক্লাবটি তাই বার্সার বাইরে অন্য ক্লাবগুলোর কাছে ধরনা দিয়েছে। জুভেন্টাস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড না বলে দিলেও রিয়াল আগ্রহী বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। পেরেজ ইতিমধ্যেই নাকি নেইমারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে পাঁচ বছরের চুক্তির কথা বলেছেন এবং পিএসজিতে এ তারকা যে পরিমাণ পারিশ্রমিক পান তাঁকে সে অঙ্কের বেতনই দিতে রাজি রিয়াল সভাপতি। পিএসজিতে নেইমারের বাৎসরিক বেতন ৩৬.৮ মিলিয়ন ইউরো। তবে রিয়ালে যাওয়ার ব্যাপারে নেইমার এখনো কোনো সম্মতি দেননি।