Home Blog Page 3516

মাহাথিরের সঙ্গে বৈঠকে জাকির নায়েককে ফেরানোর প্রসঙ্গ তুললেন মোদি

0

রাশিয়া ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামে যোগ দেওয়ার আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই বৈঠকে উঠে আসে জাকির নায়েক প্রসঙ্গ।

ভারত থেকে পালিয়ে গিয়ে মালয়েশিয়ায় পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেছেন জাকির নায়েক। সেখানেই বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাকে ভারতে ফেরানোর জন্য অনেক আগে থেকেই মালয়েশিয়াকে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়ে আসছিল ভারত। কিন্তু মালয়েশিয়া বরাবরই সেই প্রস্তাব এড়িয়ে গেছে। এবার সুযোগ পেয়ে মোদি সরাসরি মহাথিরের সঙ্গে জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণের বিষয়ে কথা বলেন।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখেল জানান, দুই দেশই এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। জাকির নায়েকের বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা আলোচনা চালিয়ে যাবেন। ভারত থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে মালয়েশিয়াতেই রয়েছেন জাকির নায়েক। সেখানেও প্রায় একঘরে দশা তার।

জাকির নায়েক ইসলাম নিয়ে আলোচনা সভায় একাধিক উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ভারত তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান জাকির‌। ২০১৬ সালে মালয়েশিয়া গিয়ে বাসা বেঁধেছেন তিনি। সেখানেও একের পর এক সভা করে উসকানিমূলক বক্তব্য পেশ করতে শুরু করেন জাকির‌। সেখানে বসবাসকারী হিন্দু এবং বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে উষ্কানি মূলক কথা বলার অভিযোগ ওঠে জাকিরের বিরুদ্ধে। অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কায় মালয়েশিয়া সরকারও তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাহাথির‌। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের দ্রুত উন্নতি কামনা করেছেন তিনি। কারণ ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রথম ফোনটা ইমরান মালয়েশিয়াকেই করেছিলেন। এছাড়াও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরো মজবুত করার লক্ষ্যে একে অপরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

বোরখা নিয়ে মন্তব্য, বরিস জনসনকে একহাত নিলেন ব্রিটেনের শিখ সাংসদ, হাততালি পার্লামেন্টে

0

ব্রেক্সিট নিয়ে যখন তুলকালাম চলছে, পার্লামেন্ট থেকে রাজপথে, সেই সময় বরিস জনসনকে জাতিগত বিদ্বেষের কারণে তুলোধুনো করলেন, ব্রিটেনের শিখ সাংসদ তন্মনজিত সিং দেশি।

রাতারাতি ব্রিটেনের টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য তন্মনজিত সিং দেশি। মুসলিম নারীদের নিয়ে অতীতে ‘অবমাননাকর ও বর্ণবাদী’ মন্তব্য করার কারণে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার হাউজ অব কমন্সে তিনি জনসনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করে কথা বলেন। এ সময় তাকে বার বার অভিনন্দন জানানো হচ্ছিল পার্লামেন্টের ভিতর থেকে। তন্মনজিত সিং বিরোধী লেবার দল থেকে স্লাউ এলাকার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

তন্মনজিত সিং অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে ব্রিটিশ একটি খবরের কাগজে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন একটি নিবন্ধ বা কলাম লেখেন। তাতে তিনি বোরকাপরা মুসলিম নারীদের ‘ব্যাংক ডাকাত’ ও ‘লেটারবক্সের’ সঙ্গে তুলনা করেন।

এমন তুলনার কঠোর সমালোচনা করেন তন্মনজিত সিং। পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তিনি দৃপ্তকণ্ঠে বলেন, যদি আমি মাথায় পাগড়ি পরি, আপনি যদি ক্রস পরেন, যদি অন্য কেউ কিপ্পা বা স্কালক্যাপ পরেন, কোনো নারী যদি হিজাব বা বোরকা পরেন তাহলে এর অর্থ কি এটাই যে, এই হাউজের সদস্যরা আমাদের বাহ্যিক এই উপস্থাপনা নিয়ে অবমাননাকর এবং বিভক্তি সৃষ্টিকারী মন্তব্য করবেন? অল্প বয়স থেকেই আমাদের অনেকে শুনে আসছি আমাদেরকে ডাকা হয় ‘তাওয়েল হেড’ বা ‘তালেবান’ অথবা আমরা এসেছি বঙ্গো বঙ্গো ল্যান্ড (আফ্রিকার মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশকে এ নামে ডাকা হয় ) থেকে। আমাদেরকে এসব সহ্য করতে হয়েছে এবং এর মুখোমুখি হই। দুর্বল (ভালনারেবল) মুসলিম নারীদের যখন বর্ণনা করা হয় এভাবে যে, তারা দেখতে ব্যাংক ডাকাত বা চিঠির বাক্সের মতো, তখন তারা এরই মধ্যে মানসিক যে আঘাত ও কষ্ট অনুভব করেছেন, তার জন্য আমরা তাদের প্রশংসা করতে পারি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান তার নিজের দল কনজারভেটিভ পার্টির ভেতরে ইসলামভীতির বিষয়ে তদন্ত করার জন্য। তন্মনজিত সিংয়ের ভাষায়, লজ্জার আড়ালে লুকানো অথবা হোয়াইটওয়াশ তদন্তের আড়ালে যাওয়ার পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী কখন চূড়ান্তভাবে তার অবমাননাকর ও বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন? বর্ণবাদী মন্তব্য ঘৃণাপ্রসূত অপরাধকে উস্কে দেয়ায় ভূমিকা রাখে। তাঁর নিজের দলের ভিতরে ক্রমবর্ধমান হারে এমন ঘটনা ঘটছে।

তন্মনজিত সিংয়ের বক্তব্যের সময় বার বার হাউজ অব কমন্সে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছিল। তাঁর এ বক্তব্যকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু মানুষ শেয়ার দেন। এমনকি বিরোধী দল লেবার নেতা জেরেমি করবিনও তা শেয়ার করেন। তবে জবাবে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ক্ষমা বা দুঃখ প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈচিত্রে ভরা মন্ত্রীপরিষদ নিয়ে তিনি গর্বিত। তিনি আরো বলেন, কনজারভেটিভ সত্যিকার অর্থে আধুনিক ব্রিটেনকে প্রতিফলিত করে।

মন্ত্রী বাইক চালাচ্ছেন হেলমেট ছাড়া, মাত্র ২০০ টাকা জরিমানা করল ট্রাফিক পুলিশ

0

হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোর অপরাধে এবার জরিমানা দিতে হলো ভারতের রাজস্থান সরকারের এক মন্ত্রীকে। মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের মন্ত্রীসভায় কয়লা ও গো-পালন দপ্তরের মন্ত্রী প্রমোদ জৈন ভায়া। গত ৩ সেপ্টেম্বর স্ত্রীকে নিয়ে বারান জেলা দিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রতাপ চক এলাকা পার করার সময় টহলরত ট্রাফিক পুলিশ বাইক থামাতে বলেন মন্ত্রীকে। হেলমেট না থাকার জন্য ২০০ টাকা জরিমানা দিতে হয় প্রমোদকে। তিনি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেছেন, অভিযোগ ছিল এমনই। তবে প্রশ্ন উঠেছে, মন্ত্রী বলেই কি মাত্র ২০০ টাকা জরিমানা দিতে পার পেয়ে গেলেন প্রমোদ।

১ সেপ্টেম্বর থেকেই মোটর-ভেহিকেলস অ্যাক্টে ট্রাফিক আইন আরও কড়া করা হয়েছে। যদিও রাজস্থান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশিকা এ বিষয়ে জারি করা হয়নি। রাজস্থানে ট্রাফিকের ক্ষেত্রে এখনো পুরনো নিয়মই চালু রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেছেন, জরিমানার টাকা বাড়লেও এত টাকা তার প্রশাসন জনসাধারণের থেকে নেবে না। তবে গেহলটের মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে কিন্তু ২০০ টাকা জরিমানা দিতে হল হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোর অপরাধে। যদিও জরিমানার অঙ্কটা বেশ কম। যেখানে সম্প্রতি কেন্দ্র ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে জরিমানার টাকা দ্বিগুণ করে দিয়েছে।

জিম্বাবুয়ের সাবেক রাষ্ট্রপতি রবার্ট মুগাবে মারা গেছেন

0

জিম্বাবুয়ের সাবেক রাষ্ট্রপতি রবার্ট মুগাবে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গত এপ্রিল থেকেই স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যার কারণে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মুগাবে।

মুগাবের পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মুগাবের পুরো নাম রবার্ট গ্যাব্রিয়েল মুগাবে। জন্ম ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৪ সালে। ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর রবার্ট মুগাবে ৩৭ বছর শাসনের পরে একটি সেনা অভ্যুত্থানের পর জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

শ্বেতাঙ্গ শাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। এছাড়া জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবেও মর্যাদা পেয়েছিলেন তিনি।

১৯৮০ সালে তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আরোহণ করেন মুগাবে। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৮৭ সাল থেকে রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হিসেবে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশকে ব্লাঙ্ক চেক দিয়ে যত খুশি টাকা নিতে বলল বিশ্বব্যাংক

0

দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশের সঙ্গে সেই বিশ্বব্যাংকের আচরণে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। সংস্থাটি এবার বাংলাদেশ ফাঁকা চেক (ব্লাঙ্ক চেক) দিয়ে যত খুশি টাকার অঙ্ক বসাতে বলেছে।

এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ‘ব্লাঙ্ক চেক’ দিয়েছে। তারা বলেছে, তোমাদের প্রয়োজন মতো টাকার অঙ্ক লিখে নাও। বাংলাদেশে অর্থায়নের ক্ষেত্রে আর কোনো লুকোচুরি থাকবে না।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নিজ কার্যালয়ে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ-ভুটান) মার্সি টেম্বনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে প্রকল্প তৈরি ও অর্থায়নে প্রস্তুত। আমাদের যত অর্থেরই প্রয়োজন হোক তারা তা দিতে প্রস্তুত। আমরা সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে কাজে লাগাতে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শও নেব।

দেশে ৮৮ শতাংশ ব্লু ইকোনমি (সমুদ্র অর্থনীতি) কাজে লাগানোর সুযোগ আছে। সংস্থাটি এ খাতে কাজ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

ডেল্টা প্ল্যানের বিষয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, নেদারল্যান্ডসের পাশাপাশি ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক পাশে থাকবে। এ খাতে অর্থ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা দেবে তারা। ফলে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে। ডেল্টা প্ল্যানে ভারত আসতে চাইলে স্বাগত জানাব।

সড়ক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেবে। বাংলাদেশের সড়ক উন্নয়নে যত টাকার প্রয়োজন তত টাকা দেবে সংস্থাটি। সড়কে বাস-বে (যাত্রী ওঠা-নামার জায়গা বা স্টপেজ), সড়কের পাশে চালকদের জন্য বিশ্রামাগারসহ নানা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এসব দেখে প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক।

নতুন আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় নতুন প্যাকেজ ঘোষণা করবে সংস্থাটি। বাংলাদেশের বিষয়ে সংস্থাটির ইতিবাচক ধারণা হয়েছে। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্থাটি অর্থায়ন করতে উন্মুখ।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, ‘আমি বাংলাদেশকে নিজেই চিনে নিয়েছি। সুন্দরবন ছাড়া বাংলাদেশের সব স্থানে ঘুরেছি। বাংলাদেশের অবকাঠামোগত সুবিধাসহ আর্থিক বিষয়ে ব্যাপক উন্নত হয়েছে। তিনি বলেন, নদী, পানি ও ব্লু ইকোনমিতে বাংলাদেশকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। মূলত আমি বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে ব্র্যান্ডিং করতে এসেছি। ব্লু-ইকোনমির ৮৮ শতাংশ কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আসলে কে?

0

বাংলাদেশে জাতীয় পার্টির সদ্য প্রয়াত নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ ও ভাই জিএম কাদের দুজনেই নিজেকে দলটির চেয়ারম্যান বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

সকালে একটি সংবাদ সম্মেলন করে দলটির একাংশ জেনারেল এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদকে তাদের দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করে।

এর কয়েক ঘণ্টা পরে দলটির আরেক অংশ জিএম কাদেরকে তাদের বৈধ চেয়ারম্যান বলে দাবি করে।

জিএম কাদের জেনারেল এরশাদের মৃত্যুর পর থেকে দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এসব ঘোষণায় দলটি আবারও ভাঙনের মুখে পড়েছে বলে এর নেতাকর্মীদের অনেকে বলেছেন।

এই দুই শীর্ষ নেতাই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হতে চেয়ে সংসদে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন।

রওশন এরশাদের ঘোষণা

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করে দলটির একাংশের নেতারা রওশন এরশাদকে চেয়ারম্যান ঘোষণার পাশাপাশি তাদের আরেকজন শীর্ষ নেতা জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যানের পদে থেকে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়েছেন।

এই সংবাদ সম্মেলনে রওশন এরশাদও বক্তব্য রেখেছেন। তিনি জাতীয় পার্টির ঐক্য ধরে জন্য নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানান।

তিনি বলেছেন, “এরশাদ সাহেব তিল তিল করে এই পার্টিটাকে গড়ে তুলেছেন। এর ঐক্য আমরা ধরে রাখবো।”

“তাই আমি সবাইকে বলবো, আসুন আমরা পার্টির ঐক্য অটুট রাখি। পুরনো যারা পার্টি ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের আমরা বলবো, আপনারা ফিরে আসুন। মান-অভিমান নিয়ে থাকবেন না। আসুন আমরা একসাথে পার্টি করি।”

জাতীয় পার্টির যে অংশটি রওশন এরশাদের গুলশানের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে নেতৃত্ব নিয়ে এসব ঘোষণা দেন, তাদের মধ্যে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এই অংশটি মশিউর রহমান রাঙাকেই তাদের পার্টির মহাসচিব হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

তবে মি: রাঙা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে গত কয়েকদিন ধরে জিএম কাদেরের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেছে।

জিএম কাদের সংবাদ সম্মেলন

এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই জিএম কাদের পাল্টা একটি সংবাদ সম্মেলনে আসেন।

সেখানে তিনি বলেছেন, ”দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এবং দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, সে হিসাবেই তিনি বৈধভাবে পার্টির চেয়ারম্যান রয়েছেন।”

জাতীয় পার্টি ভেঙ্গে গেল কিনা বা বিভক্ত হলো কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ”কেউ ঘোষণা দিলেই পার্টি ভাগ হয়ে যায় না।”

এ সময় দলে জিয়াউদ্দিন বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেনারেল এরশাদের মৃত্যুর পর থেকেই দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন মি. কাদের।

সেই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করেও জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা দ্বন্দ্বের বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আসে।

জেনারেল এরশাদ বেঁচে থাকতেই তাঁর দল জাতীয় পার্টি বিভিন্ন সময় কয়েক ভাগে ভাগ হয়েছিল। এখন পারিবারিক এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে দলটিতে বিভক্তি আবারও দৃশ্যমান হচ্ছে। বিবিসি

মাশরাফিকে সংসদ থেকে নোটিশ

0

বাংলাদেশ জাতীয় দলের (ওডিআই) অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। গত ১৮ বছর ধরে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ক্রিকেট খেলে আসছেন তিনি। তার হাত ধরে বদলে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ক্রিকেটার ছাড়াও তার আরও একটি পরিচয় হলো তিনি নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হন মাশরাফি। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন উপস্থিত না থাকার কারণে মাশরাফিকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে সংসদ থেকে।

জানা গেছে, বাজেট অধিবেশন হলো জাতীয় সংসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। আর এই বাজেট অধিবেশন চলাকালীন একদিনও সংসদে উপস্থিত হননি নড়াইল-২ আসনের সাংসদ মাশরাফি। সংসদের এই দীর্ঘ অধিবেশন ২১ কার্যদিবস চললেও তিনিসহ মোট তিন এমপি সংসদে যান নি বলে জানা গেছে সংসদ সূত্রে। উপস্থিত না হওয়া তিন সংসদ সদস্যের দুজন আওয়ামী লীগের এবং একজন জাতীয় পার্টির।

সূত্র জানায়, চলমান একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন গত ১১ জুন শুরু হয়ে ১১ জুলাই পর্যন্ত চলে। এর মধ্যে সংসদ অধিবেশনে মোট ২১টি বৈঠক দিবস ছিল। অধিবেশনকালে সদস্যদের উপস্থিতির গড় ছিল ২৫৯ জন। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উপস্থিতি ছিল যথাক্রমে ৩০৬ জন (১৩ জুন) এবং ১৫৯ জন (২২ জুন)।

অধিবেশনে আওয়ামী লীগের মাশরাফি বিন মুর্তজা (৯৪ নড়াইল-২), বেগম সিমিন হোসেন রিমি (১৯৭ গাজীপুর-৪) এবং জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ সর্বমোট তিনজন অনুপস্থিত ছিলেন।

মূলত সে সময় ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলার কারণে সংসদে যেতে পারেননি মাশরাফি। অন্য দুজন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। গেল ১৪ জুলাই বার্ধক্যজনিত কারণে জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যু হয়।

সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া গণমাধ্যমে বলেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা আমাদের জাতীয় বীর। তিনি বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বিশ্বে উজ্জ্বল করেছেন। তিনি কেন সংসদে যান নি, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। সে সময় ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলায় তিনি সংসদে যেতে পারেননি। খেলার কারণে দেশের বাইরে ছিলেন মাশরাফি।

কোচ হয়ে আর্জেন্টিনায় ফিরছেন ম্যারাডোনা

0

নিজ দেশে কোচ হয়ে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। জাতীয় দল না হলেও তার ইচ্ছা পূরণের পথে! ইএসপিএন এফসি জানাচ্ছে, আর্জেন্টিনার প্রথম বিভাগের দল জিমনেশিয়া ওয়াই ইএসগ্রিমা লা প্লাটার সঙ্গে ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তির কথা প্রায় পাকা হওয়ার পথে।

বুধবার ক্লাবটির সঙ্গে আলোচনা সেরেছেন ম্যারাডোনা। তার আইনজীবী মাতিয়াস মরলা ইএসপিএনকে নিশ্চিত করেছেন, চুক্তির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজই শেষ। বৃহস্পতিবারের মধ্যে হয়ে যাবে বাকিটুকু।

তবে টুইটারে চুক্তির বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে গেছেন ম্যারাডোনা। লিখেছেন, ‘ভক্তদের আশা নিয়ে আমি খেলতে চাই না। আমি কারও সঙ্গে দেখা করিনি।’

কিন্তু মরলার একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে জিমনেশিয়ার ভক্তদের ম্যারাডোনা সরাসরি বলছেন, ‘আমার একটা অস্ত্রোপচার হয়েছে। জিমনেশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছে। তবে তাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।’

‘তাদের যে জিনিসটা আমার ভালো লেগেছে তা হল, অর্জন যেমনই হোক তারা ম্যারাডোনা ভক্ত। এটা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।’

এরপর নিজেকে ফিট প্রমাণ করতে জিমনেশিয়া ভক্তদের সামনে হেঁটে বেড়িয়েছেন আর্জেন্টিনাকে ২০১০ বিশ্বকাপে কোচিং করানো ম্যারাডোনা। গত জুলাইয়ে ডান পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তারপর থেকেই আছেন বিশ্রামে।

‘কেউ কেউ বলে আমি নাকি হাঁটতে পারি না। তোমরা দেখো সবাই। তোমরাই বলো, আমি কোচ হওয়ার জন্য প্রস্তুত কিনা? তোমাদের সবাইকে আমার হৃদয়ে রাখবো।’

একবছর আগে মেক্সিকোর দ্বিতীয় বিভাগের দল দেরাদোস ডে সিনালোয়ার কোচ হন ম্যারাডোনা। দুবার দলকে তুলেছেন ফাইনালে এবং প্রতিবারই হেরেছেন। তবে হেরেও খুশি দলটি, কারণ একটা সময় ধুঁকতে থাকা দলটিকে বেশ পাল্টে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

পায়ের অস্ত্রোপচারের পর থেকে আপাতত দেশেই আছেন ম্যারাডোনা। মেক্সিকোতে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। এরইমধ্যে পেলেন কোচিংয়ের প্রস্তাবও। মেক্সিকোতে খুশি থাকলেও হয়ত দেশেই স্থায়ী হয়ার ইচ্ছাটা রয়েছে তার।

৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি সেপ্টেম্বরে

0

৪১তম বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে দুই হাজার ১৩৫ টি শূন্য ক্যাডার পদের জন্য চাহিদা পেয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সে অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। পিএসসির একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ ব্যাপারে পিএসসির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কলেজে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিশেষ বিসিএস আয়োজন করার কথা ওঠায় শুরুতে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। তবে সেটি হচ্ছে না। ইতিমধ্যে ৪১তম বিসিএসের চাহিদা পিএসসিসে পৌছেছে। সে অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার জোর প্রচেষ্টা চলছে।

অবশ্য কলেজগুলোয় শিক্ষক সংকটের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এজন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিশেষ বিসিএস আয়োজনের প্রস্তাব পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে। সে অনুযায়ী ৪১তম বিসিএস বিশেষ করার গুঞ্জন উঠেছিল। তবে ৪১তম বিসিএস বিশেষ করা হচ্ছে না বলে সূত্রটি জানিয়েছেন।

এর আগে ৩৯তম বিসিএস (ডাক্তার) বিশেষ ছিল। এছাড়া ৪০তম সাধারণ বিসিএস অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪১তম বিসিএসের শূন্য পদের চাহিদা আসায় সাধারণ বিসিএস আয়োজনের প্রস্ততি নিচ্ছে পিএসসি।

জানা গেছ, বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন করতে বিধিমালা সংশোধনসহ যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে বাড়তি সময় প্রয়োজন হয়। বিশেষ বিসিএস আয়োজনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসিতে চাহিদাপত্রও পাঠানো হয়। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসিতে কোনো চাহিদা না আসায় তা আলোর মুখ দেখেনি। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে এ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

তবে ৪১তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষায় ৮৯২জন শিক্ষক নিয়োগ পাবেন। যদিও সরকারি কলেজগুলোয় দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।

পিএসসির সূত্র জানিয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আগেই ৪১তম এই বিসিএসের শূন্য পদের চাহিদা জানিয়েছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন ক্যাডারের শূন্য পদ অনুযায়ী এ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৯ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসির কাছে ২ হাজার ১৩৫টি শূন্য পদের সংখ্যা জানিয়ে ৪১তম বিসিএসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছে। ৪১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে ৩২৩ জন, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২৫ জন এবং পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার পদে ১০০ জন নিয়োগ পাবেন।

এছাড়া উল্লেখযোগ্য শূণ্য পদের মধ্যে রয়েছে— শুল্ক ও আবগারিতে ২৩টি, কর ক্যাডারে ৬০টি, আনসারে ২৩টি, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারের ২৫টি, সমবায় ক্যাডারের ৮টি, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদে ১২টি, তথ্য ক্যাডারে ৪৭টি, বিসিএস কৃষি ক্যাডারের ১৮৯টি, বাণিজ্য ক্যাডারের সহকারী নিয়ন্ত্রকের ৪টি, স্বাস্থ্য ক্যাডারের সহকারী সার্জন, ডেন্টাল সার্জনের ১৪০টি এবং সাধারণ শিক্ষায় ৮৯২টি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে

0

সফররত অষ্ট্রেলীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেরিজ পেইন বলেছেন, তার দেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি জোড়ালো সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

মেরিজ পেইন আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে এ আশ্বাস দেন।

আজ থেকে ঢাকায় শুরু হওয়া ৩য় আইওরা সমুদ্র অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগদানের জন্য তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

অষ্ট্রেলীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্বৃতি দিয়ে প্রেস সচিব জানান আমরা চাই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকরা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাক।

মেরিজ পেইন প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুয়সী প্রশংসা করেন।

অষ্ট্রেলিয়া মানবিক দিক বিবেচনায় আগামীতে আরো সহযোগিতা করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এই ইস্যুটির সংস্পর্শে থাকতে চাই।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে এসব জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রেস সচিব জানান শেখ হাসিনা বলেছেন , আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ করেছি এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে একটি চুক্তিতে উপনীত হয়েছি কিন্তু চুক্তির বাস্তবায়ন হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং তাদেরকে অবশ্যই নিজভ’মে ফিরিয়ে নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এটা আমাদের জন্য একটি বড় বোঝা। ইতোমধ্যেই কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে প্রায় এক লাখ নতুন শিশু জন্মলাভ করেছে।

শেখ হাসিনা অষ্ট্রেলীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, তাঁর সরকার রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য একটি দ্বীপের উন্নয়ন সাধন করেছে।

অষ্ট্রেলীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ভুয়সী প্রশংসা করেন।

ক্রিকেট প্রসঙ্গে কথা হলে মেরিজ পেইন, যিনি কিনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতই এই জনপ্রিয় খেলার একজন ভক্ত, তিনি বলেন, তাঁরা চান অস্ট্রেলীয় জাতীয় ক্রিকেট দল আগামী বছর বাংলাদেশ সফর করুক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড.একে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো.নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনার জুলিয়া নিবলেট এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ৩য় আইওরা সমুদ্র অর্থনীতি (ব্লু-ইকোনমি) বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগদানে আগত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানগণ একই হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

তাঁদেরকে প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানান বলে প্রেস সচিব উল্লেখ করেন।

কনফারেন্স উপলক্ষ্যে আগত প্রতিনিধি দলের প্রধানগণ বাংলাদেশের আতিথেয়তার ভূয়শী প্রশংসা করেন এবং বলেন, সকল অংশগ্রহণকারী দেশই এই সম্মেলনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে।

সম্মেলনের মূল অধিবেশনে একটি প্রানবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং তাঁরা বলেন, তাঁরা এই সম্মেলনের ঢাকা ঘোষণাকে সমর্থন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী আশবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই আইওরা সম্মেলন ফোরামে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। যেখানে সাধারণ মানুষ বৈরী আবহাওয়া তথা সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস এবং নদীর ভাঙ্গনের সঙ্গে বসবাস করে।

তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছি- সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করেছি, স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য পৃথক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি এবং নদী খনন করেছি যাতে করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, উপকূলে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ বন সৃজন এবং সবুজ বেষ্টনি গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে দেশে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তাঁর সরকারের গৃহিত বিভিন্ন বাস্তবধর্মী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড.একে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো.নজিবুর রহমান এবং পররাষ্ট্র সচিব মো.শহীদুল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।