Home Blog Page 3568

কলকাতায় প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় নগরের রেড রোডে

0

কলকাতাসহ পুরো পশ্চিমবঙ্গে উদ্‌যাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা দেশের অগ্রগতি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। আজ সোমবার সকালে কলকাতায় প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় নগরের রেড রোডে।

আজ কলকাতার রেড রোডে লাখো মুসলিম নামাজ আদায় করেন। নামাজ পরিচালনা করেন, মওলানা কারি ফজলুর রহমান। রেড রোড ছাড়াও কলকাতায় আরও বেশ কটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় পার্ক সার্কাস ময়দান, নাখোদা মসজিদ, টিপু সুলতান মসজিদ, মেটিয়া ব্রুজ, খিদিরপুর, মল্লিকবাজার, রাজাবাজার, বেলগাছিয়া, আনোয়ার শাহ রোড, তপসিয়াসহ শহরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে।

নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরকে আলিঙ্গন করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিভিন্ন জামাতে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে বিশেষ মোনাজাতও করা হয়। রাজ্যের মানুষে মানুষে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয় প্রতিটি ঈদের জামাতে।

ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর শুভেচ্ছাবার্তায় বলেছেন, এই উৎসব সবার মধ্যে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক বোধ নিয়ে আসুক।

ঈদুল আজহায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর বার্তায় বলেছেন, সব ভাইবোনের প্রতি আমার রইল ঈদ শুভেচ্ছা।

শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা সাম্প্রদায়িক বন্ধন আরও দৃঢ় করার আহ্বান জানান। আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সেনোয়াল ও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও নিজ নিজ রাজ্যবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আজ কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঈদের নামাজের পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

কর্মস্থলে ফেরা ঈদযাত্রার মতোই স্বস্তিকর হবে : কাদের

0

ঈদে যাঁরা বাড়ি গেছেন, তাঁদের কর্মস্থলে ফেরা ঈদযাত্রার মতোই স্বস্তিকর হবে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ সোমবার নিজ জেলা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বড় রাজাপুর গ্রামের বাড়ির সামনের মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন কাদের। তারপর সেখানে থাকা সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের আজ বলেন, ঈদযাত্রার সময় নদীতে তীব্র স্রোত এবং ভারী বৃষ্টির জন্য চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। এরই মধ্যে সড়কে পশুবাহী গাড়ির জন্যও চলাচলে কোথাও কোথাও সমস্যা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বেশির ভাগ রুটই ভালো ছিল। শুধু ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপারে নলকা পর্যন্ত সমস্যা হয়েছে, তবে সেটা গতকাল ঈদের আগের দিন ছিল না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেষটা যার ভালো, সেটাই তার ভালো, শেষ পর্যন্ত মানুষ স্বস্তিতে ফিরেছে।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের দিনে এটাই আমাদের প্রার্থনা—বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশ থেকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির মূল উৎপাটন করা।’

আজ কাদেরের সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী, বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান।

নামাজ শেষ করে মন্ত্রী তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং স্থানীয় মুসল্লি ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সিঙ্গাপুরে ২ মাস ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৫ মে দেশে ফেরেন ওবায়দুল কাদের। অসুস্থ হওয়ার পর ৫ মাস ৬ দিন পর তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকায় এলেন এবার।

ডেঙ্গু থেকে মুক্তির দোয়া ঈদের জামাতে

0

প্রতিবছরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে হয়েছে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত। এতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে অংশ নেন। সকাল আটটায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

আবহাওয়া ভালো থাকায় ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে লাখো মুসল্লি ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন। আজকের জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান।

নামাজ শেষে মোনাজাতে বাংলাদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। মোনাজাতে ‘ডেঙ্গু বালা’ থেকে দেশের মানুষের মুক্তির জন্যও প্রার্থনা করা হয়।

মোনাজাতে ডেঙ্গুর কারণে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত ও যাঁরা এখনো অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়।

নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি করেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ঈদের ঢাকা ছিল এমনই ফাঁকা

0

ঈদ মানেই ফাঁকা ঢাকা। আর দশটি দিনের মতো সড়কে নেই কোনো যানজট, যা আক্ষরিক অর্থেই দুঃসহ। সুপার মার্কেট, বিপণিবিতান, ফুটপাত—কোথাও নেই মানুষের ভিড় বা জটলা। কারণ, রাজধানীর ঢাকার বেশির ভাগ মানুষ যে গ্রামে চলে গেছে, ঈদ উদ্‌যাপন করতে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানুষ মূলত গত বৃহস্পতিবার থেকেই ঘরমুখী হতে থাকে। এর কারণ এবারের ঈদের দিনের আগে এক দিনের বদলে তিন দিনের ছুটি মিলে যাওয়া।

কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবু ধরে নেওয়া হয়, প্রতিবারই ঈদের সময়ে ঢাকা থেকে অর্ধেকের বেশি মানুষ গ্রামে চলে যায়। যাওয়ার বাহন বাস, ট্রেন ও লঞ্চ। কেউ কেউ আজকাল আকাশপথেও বাড়ি যান। রাজধানী শহর ছেড়ে যাওয়ার এই স্রোত অব্যাহত ছিল গতকাল রোববার পর্যন্ত।

ঢাকা ছেড়ে গ্রামে যাওয়া যাত্রীদের এবার যে ভোগান্তি সইতে হয়েছে, তা অতীতে খুব কমই দেখা গেছে। উল্লেখ করার মতো ছিল রেলের শিডিউল বিপর্যয়। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে একাধিক ট্রেন নির্ধারিত সময়ের ১২ ঘণ্টা পরও ছেড়ে যেতে পারেনি। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গে ছেড়ে যাওয়া অনেক বাস সকালে যাত্রা করে যমুনা সেতু পর্যন্ত যেতেই সময় নিয়েছে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। তবু বাড়ি যেতে হবে। এ যে নাড়ির টান।

আজ কোনো ট্রেন চলেনি। তবে গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার কিছু বাস ছেড়ে গেছে নির্ধারিত গন্তব্যে। পরিবহন অফিসগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উল্লেখযোগ্য আসন ফাঁকা রেখেই এসব বাস ঢাকা ছেড়ে গেছে।

কিছু মানুষের বাড়ি ছুটে যাওয়ার এই সুবাদে ঢাকায় বসবাস করা মানুষ কয়েক দিনের জন্য পেয়ে গেছে স্বস্তির ঢাকা। ঈদের আমেজের কারণে ঢাকার সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল করতে খুব বেশি দেখা যায়নি, অনেকটাই ফাঁকা ফাঁকা। প্রতিদিনের মতো সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, শাহবাগ, ফার্মগেট, নিউ মার্কেট, আসাদগেট, মহাখালী বা রাজধানীর অন্য ব্যস্ততম এলাকাগুলোয় দেখা যায়নি কোনো যানজট।

আমিনবাজার থেকে বাস এসে কারওয়ান বাজার নামেন এক যাত্রী। তিনি বলেন, কারওয়ান বাজারে আসতে তাঁর সময় লেগেছে মাত্র ২০ মিনিট। অন্যদিন, এই দূরত্ব পার হতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা বা তারও বেশি।

রিকশাচালক আখতার হোসেন বাড়ি যাননি। সুযোগ বুঝে আয়েশ করে রিকশা চালাচ্ছেন। তিনি জানান, সকাল থেকে সাতটা থেকে দুপুর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তিনি যাত্রী নিয়ে রাজধানীর গুলিস্তান, নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে বেড়িয়েছেন। অন্য সময়ে তিনি এমনটা কল্পনাও করতে পারেন না। অন্য সময়ের চেয়ে আজ তাঁর আয়ও বেশি হয়েছে।

আখতার হোসেন বলেন, তাঁর গ্রামের বাড়ি সিলেটে। এক সপ্তাহ পর সবাই যখন গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরে আসবে, তখন তিনি এক সপ্তাহের জন্য গ্রামে বেড়াতে যাবেন।

বর্জ্য অপসারণে করপোরেশনের ৩ হাজার ৭০০ শ্রমিক কাজ করছেন

0

কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণে আজ সোমবার সকাল থেকে কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। নগরের মূল সড়ক ও অলিগলি থেকে বর্জ্য সরিয়ে নিচ্ছেন করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। বর্জ্য অপসারণে করপোরেশনের ৩ হাজার ৭০০ শ্রমিক কাজ করছেন।

করপোরেশন সূত্র জানায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণের জন্য নগরের ৪১টি ওয়ার্ডকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। চারজন কাউন্সিলর এই কাজ তদারকি করছেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় নগরের এনায়েত বাজার ওয়ার্ডের চৈতন্য গলিতে সরেজমিনে দেখা যায়, মুসল্লিরা নামাজ শেষে বাড়ির সামনে ও রাস্তার ওপর গরু-ছাগল কোরবানি দেন। গরু-ছাগলের নাড়িভুঁড়ি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়। পরে করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ভ্যান ও টমটমে করে তা ডাস্টবিনে রেখে আসেন। ওখান থেকে এসব বর্জ্য ট্রাকে করে করপোরেশনের বর্জ্যাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

নগরের এম এম আলী সড়কে দেখা যায়, বিভিন্ন ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা ভবনের সামনের সড়কে পশু জবাই দেন। ভবনের পানির পাইপ দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করে দেন বাসিন্দারা। আর নাড়িভুঁড়ি ডাস্টবিনে ফেলে দেন।

এম এম আলী সড়কের একটি বহুতল ভবনের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্ধারিত স্থানে গরু নিয়ে যাওয়া এবং আবার জবাই করার পর এর মাংস বাসায় নিয়ে আসা—এতে কিছুটা ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই বাসার সামনে কোরবানি দিয়ে দেন। নিজেরাই ওই স্থান পরিষ্কার করে দিচ্ছেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নগরের প্রায় সাড়ে তিন শ জায়গা কোরবানির জন্য নির্ধারণ করে দেয় সিটি করপোরেশন। তবে এসব স্থানে কোরবানি দিতে নগরবাসীর তেমন সাড়া মেলেনি। তার চেয়ে মানুষ নিজেদের বাসাবাড়ি বা সামনের সড়কে পশু কোরবানি দিয়েছেন।

নগরের আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, জামালখান, আসকারদীঘি, কাজীর দেউড়ি, ব্যাটারি গলি, মেহেদীবাগ, এম এম আলী রোড, হিলভিউ আবাসিক এলাকা, বেবি সুপার মার্কেট ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা ঘুরে এই দৃশ্য দেখা যায়।

করপোরেশনের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মেহেদীবাগের মো. আলাউদ্দিন।

সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) সুদীপ বসাক প্রথম আলোকে বলেন, কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের ২৮২টি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব গাড়ি সকাল নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার মধ্যে নির্ধারিত ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে মূল সড়ক ও অলিগলি থেকে ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত শতভাগ বর্জ্য অপসারণ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কাজ চলবে।

করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম বলেন, এবার নগরে প্রায় ২ লাখ গরু ও ৫০ হাজার ছাগল কোরবানি দেওয়া হতে পারে। স্বাভাবিক সময়ে নগর থেকে আড়াই হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হলেও ঈদুল আজহায় এর পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ছয় হাজার টনে। তবে বিকেল পাঁচটার মধ্যে নগরের প্রধান ও মূল সড়ক থেকে পশুর বর্জ্য সরিয়ে নেওয়া হবে। আর রাত ১২টার মধ্যে অলিগলির বর্জ্যও সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন

0

টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ায় জনগণকে তাদের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আমার ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছেন। আপনারা আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আমি নিশ্চিতভাবে সে বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিদান দেব। আমরা দেশকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাব।’

বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে এবং যাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে বসাতে পেরেছি। সামনের দিকের এ অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে কেউ যেন খাটো করে দেখতে না পারে, এ জন্য তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নতি হচ্ছে। মানুষের আয় বেড়েছে। দেশ থেকে দারিদ্র্য হ্রাস পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।’

আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

0

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘এবারের ঈদুল আজহা এমন একটা সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন দেশব্যাপী ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। কোরবানির পর বর্জ্য যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলে এডিস মশার উপদ্রব আরও বেড়ে যেতে পারে।’

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আজ সোমবার বঙ্গভবনে এক শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। ঈদের আনন্দ যাতে অন্যের জন্য বিষাদের কারণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নিজেরা সচেতন হলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিজ দায়িত্বে কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে এবং বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’ কোরবানি মানুষকে ত্যাগের পাশাপাশি ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দেয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কোরবানির মর্ম অনুধাবন করে সমাজে শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় আমাদের সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বানভাসি মানুষ নানা প্রতিকূলতার মাঝে দিনাতিপাত করছে। বিরূপ পরিবেশের কারণে তারা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বানভাসি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সামর্থ্যবান সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

চিকিৎসাধীন জোড়া লাগানো মাথার যমজ শিশু রাবেয়া-রোকেয়াকে দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

0

ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) চিকিৎসাধীন জোড়া লাগানো মাথার যমজ শিশু রাবেয়া-রোকেয়াকে দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রবিবার (১১ আগস্ট) সেখানে গিয়ে তিনি শিশু দু’টির সার্বিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি ইহসানুল করিম একথা জানান। খবর বাসস।

চিকিৎসার পর রাবেয়া ও রোকেয়ার মাথা আলাদা করা হয়েছে। এর আগে হাঙ্গেরিতে তাদের কয়েক দফা চিকিৎসার পর সিএমএইচে চূড়ান্ত অপারেশনের মাধ্যমে তাদের যুক্ত মাথা পৃথক করা হয়।

যমজ শিশু রাবেয়া-রোকেয়ার পুরো চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাবেয়া-রোকেয়ার বাড়ি পাবনার চাটমোহরে। তাদের বয়স সাড়ে তিনবছর।

পরে তিনি ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিনকে দেখতে যান। সেখানে কিছু সময় অতিবাহিত করেন তিনি। এসময় সেখানে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট তৌফিক নাওয়াজকে দেখতে যান এবং তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।

ঈদের প্রথম দিনের বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হবে

0

কোরবানির বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

রোববার (১২ আগস্ট) জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।

সাঈদ খোকন বলেন, “এরইমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের প্রথম দিনের বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনও কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করা হবে।”

তিনি জানান, জাতীয় ঈদগাহ মাঠে মশার ওষুধ ছেটানো হয়েছে। সোমবার আবারও ছেটানো হবে। এছাড়াও ময়দানের বৃষ্টির পানি নিষ্কশনের সার্বিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

ডেঙ্গু রোগে যারা আক্রান্ত ও মারা গেছেন তাদের জন্য ঈদের নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হবে জানিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের পরিবার ও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন তাদের সবার জন্য অনেক সমবেদনা রয়েছে।

ব্যাগে বর্জ্য ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিন, আমাদের কর্মীরা দ্রুততম সময়ে সেটি অপসারণ করবে

0

যেখানে-সেখানে কোরবানির বর্জ্য না ফেলার আহবান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম। একইসাথে তিনি সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান।

রবিবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর ভাষানটেক ও তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খেলার মাঠের পশুর হাট পরিদর্শনকালে এ আহবান জানান।

পশু কোরবানির বর্জ্য কোনভাবেই যাতে কেউ ড্রেনে বা ম্যানহোলে না ফেলে সেদিকে এলাকাবাসীকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা ডিএনসিসি’র সরবরাহকৃত ব্যাগে বর্জ্য ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিন, আমাদের কর্মীরা দ্রুততম সময়ে সেটি অপসারণ করবে।”

মেয়র বলেন, ড্রেন বা যত্রতত্র আবর্জনা ফেললে সেটি পরিষ্কার করা দুরূহ হয়ে পড়বে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য তা ক্ষতিকর হয়ে উঠবে। নিজেদের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে নিজেদের সচেতনতার কোন বিকল্প নেই বলেও মেয়র উল্লেখ করেন।

এদিকে, ডিএনসিসি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কোরবানির বর্জ্য অপসারণের জন্য বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আওতায় সংস্থার নিজস্ব ২ হাজার ৪০০ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৪৩৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করবে। এছাড়া আরো ১ হাজার ১০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও বাসা-বাড়ি থেকে ভ্যান সার্ভিসের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করার জন্য প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন শ্রমিক কোরবানির বর্জ্য অপসারণের জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে।

ঈদের দিন হতে কোরবানির পশুর বর্জ্য নিরবচ্ছিন্নভাবে অপসারণের জন্য ডাম্প ট্রাক ও খোলা ট্রাক ১৬৯টি, ভারি যান-যন্ত্রপাতি ২৮টি, পানির গাড়ি ১১টি, বেসরকারি ৮২টি এবং ভাড়ায় ১৪৮টি পিকআপভ্যানসহ মোট ৪৩৮টি গাড়ি নিয়োজিত থাকবে। কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্বারা যাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যে কুরবানির স্থানে ১০টি ওয়াটার বাউজার দিয়ে তরল জীবানুনাশক মিশ্রিত পানি স্প্রে করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।