করোনাভাইরাস শনাক্ত করার জন্য আবিষ্কার করা কিট ব্যবহার করতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা রিএজেন্ট আমদানির অনুমতি চেয়েছে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র। বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ রোগ পরীক্ষার সহজ ও স্বল্পমূল্যের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র। গতকাল বুধবার গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে কিটটি ব্যবহারে কাঁচামাল আনার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা গতকাল এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি দল ওই কিটের ব্যাপারে কথা বলতে আমাদের কাছে এসেছিল। এ ব্যাপারে কী করা যায়, সরকার ভাবছে।’
বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের চার চিকিৎসক নিহাদ আদনান, মোহাম্মদ রাশেদ জমিরউদ্দিন ও ফিরোজ আহমেদ এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। ২০০৩ সালে পৃথিবীজুড়ে সার্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে বিজন কুমার শীল সিঙ্গাপুর গবেষণাগারে কয়েকজন সহকারীকে নিয়ে সার্স ভাইরাস দ্রুত নির্ণয়ের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। বিজন কুমার গণবিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান বিজ্ঞানী।
নতুন উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে ৩৫০ টাকায় ১৫ মিনিটে করোনা শনাক্ত সম্ভব বলে জানিয়েছে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র।
গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্লাড গ্রুপ যে পদ্ধতিতে চিহ্নিত করা হয়, এটা মোটামুটি সে রকমের একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা যাবে। এটা করতে রিএজেন্ট লাগে। কেমিক্যাল রিএজেন্টগুলো সহজলভ্য নয়। এগুলো পাওয়া যায় সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে।
বিজন কুমার ও তাঁর দলের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে ৩৫০ টাকায় ১৫ মিনিটে করোনা শনাক্ত সম্ভব জানিয়ে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, ‘গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে মাত্র ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে করোনা শনাক্ত করা যাবে। এতে খরচ পড়বে তিন শ থেকে সাড়ে তিন শ টাকা। সরকার যদি এর ওপর ট্যাক্স-ভ্যাট আরোপ না করে, তাহলে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র দুই থেকে আড়াই শ টাকায় এটি বাজারজাত করতে পারবে বলে দাবি করেছে।


