করোনার ধাক্কায় সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও। লকডাউনের জেরে দেশটিতে একের পর লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, লকডাউনের কারণে কম্পানিগুলোর আয় ৩০ শতাংশ বা তার বেশি কমে গেলে কর্মীদের বেতন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। সে ক্ষেত্রে ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ এর তালিকাভুক্ত শীর্ষ ১০০টি কম্পানির মধ্যে ২৭টিই কর্মীদের বেতন ঝুঁকিতে পড়বে।
বহুজাতিক সংস্থা Deloitte-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এমনটাই বলা দাবি করা হয়েছে। ২৭টি সংস্থায় এরই মধ্যে কর্মী ছাঁটাই প্রায় নিশ্চিত বলেও জানাচ্ছে Deloitte।
জানা গেছে, যেকোনো ক্ষেত্রেই এখন চাহিদা তুলনামূলক কম। ফলে জোগানের প্রয়োজনও নেই। ভারতজুড়ে বহু সংস্থা রয়েছে যারা এই দুঃসময়ে লোকসানে মুখোমুখি। সেইসব সংস্থাগুলোও কর্মীদের বেতন দিতে সমস্যায় পড়বে। তবে ভারতের সেরা ২৭টি সংস্থার এমন দুরাবস্থা অবশ্য উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে বহু মানুষের চাকরি নিয়ে টানাটানি হবে, সে ইঙ্গিত আগেই দিয়েছে ভারতীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। করোনা পরিস্থিতিতে কর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই রাস্তা যেকোনো সংস্থাকে নিজে থেকেই খুঁজে নিতে হবে বলে জানিয়েছে Deloitte.
ভারতে লকডাউনের কারণে শুধুমাত্র এপ্রিল মাসে ৯.৮ লক্ষ কোটি রুপির GVA ক্ষতি হবে বলে জানা গেছে। করোনার থাবায় ২০২১ আর্থিক বর্ষে দেশের ১২.১ লক্ষ কোটি রুপি ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল SBI Ecowrap। প্রতিটি ক্ষেত্রে যেকোনো সংস্থা এখন লোকসানের মুখে দাঁড়িয়ে। ভারতে কলকারখানা থেকে শুরু করে বিমান চলাচল, সবই বন্ধ। দেশটির আর্থিক প্রগতির চাকা যেন থমকে গেছে।


