তার বলে গতি আছে বেশ। এ মুহূর্তে দেশের অন্যতম দ্রুত গতির পেসার তাসকিন। গতি দিয়েই কখনো কখনো প্রতিপক্ষ শিবিরে কাঁপন ধরিয়ে দন এ পেসার। সঙ্গে সুইংয়ের মিশেলটাও আছে; কিন্তু কাটার আর স্লোয়ারে তত দক্ষ নন তাসকিন আহমেদ।
মোস্তাফিজ যেমন স্লোয়ার ও কাটার দিয়ে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানকে কাবু করে ফেলেন, তার স্লোয়ারে বোকা বনে যান অনেক নামী উইলোবাজও। তার কাটারে হরহামেশাই বিব্রত হন ব্যাটসম্যানরা।
কিন্তু তেমন দুটি ধারালো ও কার্যকর অস্ত্র নেই তাসকিন আহমেদের। সেই না থাকা ‘অস্ত্র’ শিখে নেয়ার প্রাণপন চেষ্টা তাসকিনের মধ্যে।
আজ অগ্রজপ্রতিম মাশরাফির সঙ্গে এক সেশন কেটেছে তাসকিনের। মাশরাফির কাছ থেকে স্লোয়ারের কৌশলটা শেখার মিশন শুরু করেছেন তাসকিন। তবে স্লোয়ার শিখতে গিয়ে তিনি বুঝলেন, এই কম্ম তার নয়।
তাসকিনের অকপট স্বীকারোক্তি, তিনি মোস্তাফিজ নন। মোস্তাফিজ কাটারটা খুব ভাল ছুঁড়তে পারে। তাই তার নাম কাটার মাস্টার। স্লোয়ার ডেলিভারি শেখার কথা শুনে আবার ভাববেন না যে তাসকিন বুঝি গতি কমিয়ে ফেলার চিন্তা ভাবনাও শুরু করেছেন।
মোটেই তেমন নয়। তাসকিন জোরে বল করতে খুব পছন্দ করেন। জোরে বোলিং করাটা তার খুব প্রিয়। তার সাথে কোনরকম আপোষ করতে নারাজ এই পেসার বলেই ফেলেছেন, ‘পেসের সঙ্গে আমার কোন কম্প্রোমাইজ নাই।’
তবে অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন, ‘আমি মোস্তাফিজ হতে পারব না। মোস্তাফিজ কাটার মাস্টার। আমি পেসের সঙ্গে একটু স্লোয়ার যোগ করছি আরকি। মোস্তাফিজের মতো কাটার আমি পারব না। আমার পেসের সঙ্গে, সুইংয়ে আগের চেয়ে বেটার কাটার যদি করতে পারি তাহলে একটা অপশন বাড়বে। ইট ক্যান বি অ্যা মাই গুড ওয়েপন।’
কাটার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাসকিনের মূল্যায়ন, তিনি আগেও কাটার ছুঁড়েছেন। তবে তার কার্যকরিতা কম ছিল। কোথায় ঘাটতি ছিল তা জানিয়ে তাসকিন বলে ওঠেন, ‘আমি কাটার আগেও করতাম। আমারটা একটু সোজা যেত, কম ঘুরত। স্লোয়ারটা কি আসলে সেইম অ্যাকশনে একটু পেস কমে গ্রিপ করা। সেটাই চেষ্টা করছি।’
মাশরাফির কাছ থেকে শিখছেন। তবে সেটা নিজের ইচ্ছার ওপর। সেটা জানিয়ে তাসকিন বলেন, ‘আমার শক্তি যেটা পেস বাউন্স এটার সঙ্গে ওটা যোগ হলে আরেকটা বিকল্প হতে পারে। মাশরাফি ভাই বলেছেন, যদি ভাল লাগে তাহলে চেষ্টা করবা। হয়ত একটু সময় লাগবে। যদি শিখতে পারি আমার মনে হয় ভাল হবে।’
তাসকিন আরও বলেন, ‘আগে তো মিরপুরের উইকেটেও আমার কাটার ধরত না। এখন একটু ধরছে। আরও অনুশীলন করব, আরও আত্মবিশ্বাসী হবো। হয়ত ভাল হবে।’


