Home Blog Page 3531

পুতুলের পায়ে প্লাস্টার করে শিশুর ভাঙা পায়ের চিকিৎসা!

0

খাট থেকে পড়ে মাত্র ১১ মাসের শিশু জিকরা মালিকের পা ভেঙেছে। কিন্তু ডাক্তার প্লাস্টার করলেন তার পুতুলের পায়ে! ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির লোক নায়েক হাসপাতালে। ওই হাসপাতালের অর্থোপেডিক ব্লকের ১৬ নম্বর বেডে জিকরা মালিকের পা প্লাস্টার করে ট্রাকশনে ঝুলানো। আর পাশেই শুয়ে আছে তার খেলার বন্ধু পুতুল। তারও পা একইভাবে ঝুলানো!

এ ব্যাপারে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, একটু অভাবনীয় ব্যাপার হলেও এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক। জিকরা মালিক খাট থেকে পড়ে গিয়ে তার পা ভেঙে ফেলে। কিন্তু চিকিৎসার জন্য কিছুতেই রাজি করানো যাচ্ছিল না তাকে।

এদিকে তার আর্জি, বন্ধুর পা তার মতো করে বেঁধে না দিলে নাকি কিছুতেই চিকিৎসা নিবে না সে। তাই বাধ্য হয়েই ডাক্তাররা জিকরারের সঙ্গে তার পুতুল বন্ধু পুরোদস্তুর সুস্থ ‘পরি’র চিকিৎসাও করিয়েছেন। এখন দুই বন্ধু হাসপাতালের বিছনায় পাশাপাশি দিব্যি দিন কাটাচ্ছে!

এ ব্যাপারে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, হাসপাতালের বেডে দেখা যায়, জিকরারের পা ঝুলানো অবস্থায় নিজেই ফিডিং বোতল ধরে খাচ্ছে। পাশে শুয়ে তারই সাইজের পরি। তারও পা ঝুলানো। তবে তার মুখে ফিডিং বোতলটা নেই শুধু।

এ বিষয়ে হাসপাতালের ডাক্তারেরা জানান, থাইয়ের হাড় ভেঙেছে জিকরারের। সেটা সারাতে প্রয়োজন হলো ট্রাকশনের। কিন্তু ভয় ও ব্যথায় শিশুটি কিছুতেই পায়ে প্লাস্টার করতে দিচ্ছিল না। তখন বাধ্য হয়ে ওকে ভোলাতে ওর পুতুলের পায়ে প্রথমে প্লাস্টার করে ট্রাকশন দেন তারা। পরিকে ওভাবে দেখে আশ্বস্ত হয়ে তারপর জিকরা পায়ে প্লাস্টার বাঁধতে দেয়।

এ সময় জিকরার মা ফারিন জানিয়েছেন, বাড়িতে পাঁচ সেকেন্ডও চুপ করে বসে না জিকরা। এদিকে ডাক্তারেরা বলেছিলেন পা সোজা না রাখলে কোনোদিন পা ঠিক হবে না। অগত্যা নিরুপায় হয়ে সবাই তাকে জোর করে নিয়ে আসে হাসপাতালে। সেখানেও প্রথমে কিছুতেই থাকবে না সে। কিন্তু পরি আসতেই বদলে যায় পরিস্থিতি। জিকরা খুশি মনে পুতুল বন্ধুকে নিয়ে হাসপাতালের বেডে দিব্যি শুয়ে আছে!

জিকরার সঙ্গে তাঁর পুতুলের ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।

‘এখন আমার কী হবে’- আসামে নাগরিকত্ব হারানো গৃহবধু

0

গৌহাটির গৃহবধু জমিরন পারভীন। পরিবারের মধ্যে একমাত্র তিনিই বাদ পড়েছেন চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা থেকে। শনিবার দুপুরে যখন জানতে পারেন, চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা বা এনআরসিতে তার নাম নেই, আতঙ্কে আর অনিশ্চয়তায় মুষড়ে পড়েছেন জমিরন। স্বামী আজম আলী মৃধা এবং শ্বশুর বাড়ির অন্যান্যরা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। ৮-৯ বছরের একমাত্র ছেলে বাচ্চাটি উদ্বিগ্ন হয়ে মাকে দেখছে।

স্বামী-সন্তান এবং শ্বশুর বাড়ির সবারই চূড়ান্ত তালিকায় নাম রয়েছে। বাবার পরিবারের সবাই তালিকায় রয়েছেন। বাদ পড়েছেন একমাত্র তিনি। জমিরন বলেন, ‘খসড়া তালিকায় নাম না ওঠার পর সব সমস্ত কাগজপত্র দিয়ে আপিল করেছিলাম। কিন্তু তারপরও নাম নেই। জানিনা এখন আমার কী হবে।’

জমিরনের জন্ম আসামের বড়পেটায়। কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রবেশপত্রে জমিরনের বাবার নামের বানান ভুল লেখা হয়েছিল বলেই এই পরিণতি। তার বাবার নাম আতব আলী, কিন্তু পরীক্ষার প্রবেশপত্রে নাম লেখা হয় আতাবর আলী। আর এই দুই অক্ষরের ভুলেই চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছেন এই নারীর। জমিরনের স্বামী জানালেন, তারা ট্রাইবুনালের আপিল করবেন। জমিরন পারভিন সহ আসামের ১৯ লাখেরও বেশী মানুষের নাম চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক পঞ্জী বা এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে।

এখন এই ১৯ লাখ বাংলাভাষী মানুষের কী হবে?

এখনই তারা রাষ্ট্রহীন হচ্ছেন না। বাদ পড়া এই মানুষদের আপিলের জন্য ১২০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে তৈরি ট্রাইবুনাল ছাড়াও তারা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টেও আপিল করতে পারবেন। তবে ভারতের সমস্ত আদালতগুলো এমনিতেই সারা বছরই মামলার চাপে পর্যুদস্ত। ফলে আদালতে গিয়ে দীর্ঘ, জটিল এবং ব্যয়বহুল আপিল প্রক্রিয়ার সুবিধা কতজন নিতে পারবেন তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বিস্তার সন্দেহ রয়েছ।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র, অল্প শিক্ষিত বা নিরক্ষর মানুষগুলোর জন্য এই আপিল প্রক্রিয়ায় ঢোকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ফলে যারা আপিলে অসফল হবেন বা এই প্রক্রিয়াতে ঢুকবেনই না, তারা রাষ্ট্রবিহীন হয়ে পড়বেন – সেই সম্ভাবনাই প্রবল।

ট্রাইবুনালের প্রতি আস্থার অভাব
আসামের লেখিকা সঙ্গিতা বড়ুয়া পিশারডি বলেন, ‘যাদের নাম চূড়ান্ত তালিকাতে নেই তারা অত্যন্ত শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন যে তাদের এখন কী হবে। তার প্রধান কারণ ফরেনার্স ট্রাইবুনালের ভাবমূর্তি ভালো না, মানুষের আস্থা নেই। ফলে সেখানে গিয়ে আদৌ কাজ হবে কিনা তা নিয়ে বহু মানুষ সন্দিহান।’

নাগরিকত্ব নির্ধারণে আসামে, এখন এ ধরনের ২০০টি বিশেষ আদালত বা ট্রাইবুনাল রয়েছে যেগুলোর অধিকাংশই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর। অক্টোবরের মধ্যে এ ধরণের ট্রাইবুনালের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০০০। এসব আদালতের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের বিস্তর অভিযোগ রয়েছ। তাদের কাজের মধ্যে কোনো ধারাবাহিকতাও নেই। সবচেয়ে বড় কথা প্রমাণের সমস্ত দায় বর্তায় বিদেশি হিসাবে চিহ্নিত ব্যক্তির ওপর। লাখ লাখ দরিদ্র, নিরক্ষর মানুষের কাছে সবকিছুর লিখিত রেকর্ডও নেই।

সাংবাদিক রোহিনী মোহন আসামের একটি জেলায় এসব ট্রাইবুনালের ৫০০টিরও বেশি রায় বিশ্লেষণ করে দেখতে পান ৮২ শতাংশ অভিযুক্তকেই বিদেশি হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে । ৭৮ শতাংশ রায় হয়েছে অভিযুক্তের বক্তব্য না শুনেই। বলা বাহুল্য বিদেশি হিসাবে ঘোষিত এসব মানুষদের সিংহভাগই মুসলমান। তবে বাংলাভাষী হিন্দুর সংখ্যাও কম নয়। এমনকি মোহাম্মদ সানাউল্লাহ নামে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক এক সদস্য, যিনি তার কাজের জন্য পুরস্কৃত হয়েছিলেন, তাকে পর্যন্ত বিদেশি হিসাবে চিহ্নিত করে ১১ দিন আটকে রাখা হয়েছিল।

এই ‘বিদেশি’দের পরিণতি কী হবে?
তাদেরকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা হতে পারে। যে হাজার খানেক মানুষকে আসামে ইতিমধ্যেই বিদেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের বিভিন্ন কারাগারের ভেতর ৬টি আটক কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এখন একটি আলাদা আটক কেন্দ্র তৈরি করছে যেখানে ৩০০০ লোককে রাখা যাবে। রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি বার বার জোর দিয়ে বলেছে অবৈধ মুসলিম অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। তবে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় বলে দিয়েছে আসাম থেকে তারা একজনকেও গ্রহণ করবে না।

এটা আরেক রোহিঙ্গা সঙ্কট
অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের মত ভারতের আসামে বিশাল সংখ্যক রাষ্ট্রহীন মানুষ তৈরি হতে চলেছে। তাদের জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে কিনা তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো ইঙ্গিত নেই। সরকারি শিক্ষা বা স্বাস্থ্য সেবা তারা পাবেনা কিনা তাও নিশ্চিত নয়। সবচেয়ে বড় কথা, জমিজমা রাখতে পারবেন কিনা সেটাও অস্পষ্ট ।

একটা ধারণা রয়েছে যে রাষ্ট্রবিহীন হয়ে পড়া মানুষগুলোকে হয়তো কাজ করার পারমিট দেওয়া হতে পারে এবং কিছু মৌলিক অধিকার দেওয়া হতে পারে। তবে ভোটের অধিকার থাকবে না – এটা নিশ্চিত।

মুসলমানদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে চায় মোদি : ইমরান খান

0

কাশ্মীর নিয়ে প্রতিদিনই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এবার আসাম নিয়েও বিজেপি সরকারকে বিদ্রুপ করেছেন তিনি। শনিবার আসামে প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসির তালিকা। তা নিয়ে ইমরান খান একহাত নিলেন মোদি সরকারকে। তার অভিযোগ, এনআরসি করে মুসলিম সম্প্রদায়কে জাতিগতভাবে নির্মূল করতে চাইছে ভারত সরকার।

ইমরান খান এক টুইটে লেখেন, ভারত ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে খবর আসছে যে, মোদি সরকার কীভাবে মুসলিম সম্প্রদায়কে জাতিগতভাবে নির্মূল করতে চাইছে। সারাবিশ্বের কাছে অশনি সঙ্কেত দিচ্ছে মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত। এই টুইটের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টাও করেন।

ইমরান খানের অভিযোগ, মুসলিমদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার লক্ষ্যেই এনআরসির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ঠিক একইভাবে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এবার হলো এনআরসি। একের পর এক জাতিগত বিদ্বেষমূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আসামকে দ্বিতীয় কাশ্মীর তৈরি করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদীর ভারত। সে কারণে মুসলিমদের ওপর ছাঁটাই পর্ব চলছে। এনআরসি নিয়ে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের দাবি, তাদের কাছে যে রিপোর্ট রয়েছে তাতে জানা যাচ্ছে এনআরসি মূলত মুসলিমদের নিশানা করেই বানানো হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার নিয়ে সরব ছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। এবার তার সমালোচনার নকুন ইস্যু হয়ে উঠেছে আসামে এনআরসি।

ভারতের কেন্দ্র সরকারকে একাধিকবার এই ইস্যুতে ফ্যাসিস্ট, রেসিস্ট ও ন্যাৎসি আদর্শে চলা এক সরকার হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে পাকিস্তান। এনআরসি করে আসামে গণহত্যা চালাতে চাইছে কেন্দ্র বলে দাবি করেছেন ইমরান খান।

উল্লেখ্য, এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে আজ শনিবার। এরই মধ্যে জানা গেছে ১৯ দশমিক শূন্য ছয় লাখ মানুষ তালিকার বাইরে রয়েছে। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। প্রাথমিকভাবে ১০ দশমিক শূন্য ছয় লাখ তালিকার বাইরে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছিল।

তালিকায় রয়েছে তিন কোটি মানুষের নাম। যারা বৈধ নাগরিক বলে চিহ্নিত হয়েছেন। এর আগে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক তালিকার চূড়ান্ত তালিকায় ৪১ লাখেরও বেশি মানুষ নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

খসড়ার পর পূর্ণাঙ্গ তালিকায় দেখা গেল সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখে। তার পরেও এই লাখ লাখ আসামবাসী বিশেষ করে আসামে থাকা বাঙালিদের বড় অংশ এখন কী করবেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

রাজধানীতে বোমা হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত, ঢামেকে ভর্তি

0

রাজধানীর সাইন্স ল্যাবের এলাকায় পুলিশের ওপর বোমা হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে।

আহতরা হলেন- এএসআই শাহাবুদ্দিন (৩৫) ও কনস্টেবল আমিনুল (৪০)। তারা ঢামেকে চিকিৎসাধীন। শনিবার রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে এ ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে তারা ঢামেকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পাকিস্তান যেতে চায় না লঙ্কান ক্রিকেটাররা

0

শ্রীলঙ্কা দলের পাকিস্তান সফর নিয়ে আবারও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন সফরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় পাকিস্তান যেতে অনিচ্ছুক বলে জানা গেছে। পাকিস্তান সফরে তিনটি করে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে খেলবে শ্রীলঙ্কা দল। সফরে দুই ম্যাচের একটি টেস্ট সিরিজও রয়েছে।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে লংগার ভার্সনের ম্যাচ দুটিও পাকিস্তানে খেলার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে লঙ্কার বোর্ড তা প্রত্যাখ্যান করায় সেটি এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে।

পাকিস্তানের উর্দু নিউজ চ্যানেল ‘এক্সপ্রেস নিউজ’-এ প্রচারিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুই বোর্ডের দীর্ঘ আলোচনার পর এ সফর চুড়ান্ত করা হয়েছে। তবে লঙ্কান দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নিরোশান ডিকাভিলা এবং অল-রাউন্ডার থিসারা পেরেরা পাকিস্তান সফরে যেতে চান না। এই দুজন ছাড়া আরো কয়েকজন খেলোয়াড় পাকিস্তান যেতে চাচ্ছে না বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিকাভিলা এবং পেরেরা উভয়েই আগামী ৪ সেপ্টেম্বর-১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) খেলতে চান এবং এ জন্য তারা লঙ্কান বোর্ডের কাছে অনুমতিও চেয়েছেন। ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দল বহনকারী বাসে জঙ্গি হামলার পর থেকে বিশ্বের সকল ক্রিকেট দলই পাকিস্তান সফর থেকে বিরত আছে।

১৪০ কেজি ওজন নিয়েই ১ উইকেট, ২ ক্যাচ

0

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে গেল ৬ ফুট উচ্চতার ১৪০ কেজি ওজনের দীর্ঘদেহী ক্রিকেটার রাখিম কর্নওয়ালের। জামাইকার কিংস্টনের সাবাইনা পার্কে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে এই ক্যারিবিয়ান অল-রাউন্ডারই আলোচনার শীর্ষে। এমন ভারি শরীর নিয়ে তিনি কীভাবে টেস্টের মতো কঠিন ফরম্যাটে পারফর্ম করেন সেটাই যেন সবাই দেখতে এসেছিলেন। তাদের আশাহত করেননি কর্নওয়াল। অভিষেকেই তুলে নিলেন চেতেশ্বর পুজারার উইকেট। সঙ্গে দুটি দারুন ক্যাচ।

টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্যাপ্টেন জেসন হোল্ডার। তবে তার এই সিদ্ধান্ত খুব একটা কার্যকর হয়নি। ৫ উইকেট হারিয়ে প্রথম দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ ২৬৪ রান। কর্নওয়ালের অফ ব্রেক বুঝতে না পেরে উইকেট ছুড়ে দেন ‘টেস্ট স্পেশালিস্ট’ খ্যাত পুজারা। মায়াঙ্ক আগরওয়াল করেছেন হাফ-সেঞ্চুরি। অধিনায়ক বিরাট কোহলির সংগ্রহ ৭৬ রান। ভারী শরীর নিয়েও এদিন মোট ২৭ ওভার বোলিং করেছেন কর্নওয়াল।

হোল্ডারের বলে মায়াঙ্কের ক্যাচ ধরেন কর্নওয়াল। সেই সময় বিরাট কোহলির সঙ্গে বড় পার্টনারশিপ করার পথে এগোচ্ছিলেন মায়াঙ্ক। তখন ভারতীয় দল তিন উইকেট হারিয়ে ১১৫ রান করেছিল। কর্নওয়াল সেই সময় মায়াঙ্কের ক্যাচ না ধরলে বড় পার্টনারশিপ হতে পারত। এরপর চা বিরতি পর্যন্ত বিরাট ও রাহানে ভারতীয় ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। চা বিরতির ঠিক পরে রাহানে (২৪) আউট হন। রাখিম জীবনের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে ২৭ ওভার বোলিং করে ৬৯ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছেন।

পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর

0

বাংলাদেশের আকাশে আজ শনিবার ১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র মহররম মাস, হিজরি নতুন বর্ষ। সে হিসাবে ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সারা দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

সভায় তিনি জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪১ সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সে হিসাবে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর আশুরা পালিত হবে।

হিজরি সনের প্রথম মাস হচ্ছে মহররম। আশুরার দিন দেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকে। শিয়ারা বিশেষভাবে আশুরা পালন করে।

দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি নেতা-কর্মীকে জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে গড়ে তুলতে হয় তাহলে সত্যিকারভাবে তাঁর আদর্শ বুকে ধারণ করে তাঁর মত ত্যাগী কর্মী হিসেবে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আজ শনিবার বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে জাতির পিতার ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

জাতির পিতা তাঁর সারাটি জীবন কষ্ট সহ্য করেছেন এমনকি তাঁর জীবনটি পর্যন্ত মানুষের জন্য দিয়ে গেছেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, জাতির পিতা জনগণকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। আমাদের কথা কিন্তু বলেননি। বলেছেন বাংলার সাধারণ মানুষের কথা। কাজেই তিনি যাদের ভালোবাসতেন তাঁদের কল্যাণ করা সন্তান হিসেবে আমি এটাকে দায়িত্ব বলে মনে করি।

এ বিষয়টি মুজিব আদর্শের সৈনিক ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী প্রত্যেকেরও দায়িত্ব বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

সরকার প্রধান বলেন, আজকে আমাদের এটাই প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, জাতির পিতা এদেশের মানুষের কল্যাণে তাঁর সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন সেই মানুষের কল্যাণে কতটুকু আমরা কাজ করতে পারলাম, সেই হিসেব টাই আমাদের করতে হবে। কতটুকু আমরা দিতে পারলাম-সেটাই হবে একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ আমার বাবার হাতে গড়া। আমিও একদিন ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম। সেই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবেই আমার রাজনীতির হাতেখড়ি। সেখান থেকেই আমার যাত্রা।

তিনি বলেন, কাজেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের এইটুকুই বলবো চাওয়া পাওয়ার উর্ধ্বে উঠে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে আদর্শের সাথে নিজেকে গড়ে তুলবে। দেশের মানুষকে কিছু দিয়ে যাবে, যেন জাতির পিতার আত্মা শান্তি পায়।

অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব এবং ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের নিয়মিত প্রকাশনা ’মাতৃভূমি’র মোড়ক উন্মোচন করেন এবং ছাত্রলীগের মাসিক পত্রিকা ’জয় বাংলা’র ও মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতিগঠনে ছাত্রলীগের ভূমিকা নিয়ে একটি ৩ মিনিটের ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. জোবাইর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জিব চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেইন আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন সভায় সভাপত্বি করেন এবং এর সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সভা পরিচালনা করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক সহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আইন মানার সংস্কৃতির প্রয়োজন: ডিএমপি কমিশনার

0

ঢাকা মহানগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আইন মানার সংস্কৃতির প্রয়োজন। যে পথচারী যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হবে তাকে দুই ঘন্টা মটিভেট করতে ট্রাফিক বিভাগের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম (বার), পিপিএম।

শনিবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ আয়োজিত ‘ঢাকা মহানগরীর বাস ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে করনীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ডিএমপি কমিশনার হিসেবে আমি গত পৌনে পাঁচ বছরে বাস মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বার বার বসেছি। বেশকিছু সমস্যা চিহ্নিত করে আমরা সেগুলো থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজেছি। কিন্তু কাঙ্খিত ফলাফল পাইনি।

তিনি বলেন, সড়কগুলোতে ভৌত অবকাঠামের উন্নয়ন হলে অনেক পরিবর্তন চলে আসবে। ঢাকা আরিচা মহাসড়কে বিভিন্ন এলাকা খুবই দূর্ঘটনাপ্রবণ ছিলো। রোড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বেশ কিছু রাস্তার বাঁক সোজা করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ওই সড়কে ৯৫ ভাগ দূর্ঘটনা কমে গেছে। আমাদের মহানগরীর উপর দিয়ে দূরপাল্লার গাড়িগুলো যাতায়াত করে। কয়েকটা বাইপাস হওয়ার পর কিছুটা কমেছে। ঢাকার বাস টার্মিনালগুলো বাস ডিপোতে পরিণত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বাস ডিপো নগরীর বাইরে থাকার কথা। সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টর্মিনাল ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়া সময় এসেছে শহরের বাহিরে টার্মিনাল গুলো সরিয়ে নেয়া।

সড়কে বাস বে নেই উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাস বে না থাকার কারণে গাড়িগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়েই যাত্রী উঠানামা করছে। এ ক্ষেত্রে হাজারো জরিমানা করে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ১৬৭ টা বাসস্ট্যান্ড চিহ্নিত করেছে। ফুটপাত দিয়ে যেন মোটরসাইকেল চলাচল করতে না পারে সেজন্য মেটাল পিলার স্থাপন করেছে ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ।

অধিকাংশ মানুষের আইন না মানার প্রবনতার কারণে পুলিশের দ্বারা আইন প্রয়োগ সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মোবাইলে কথা বলে কিভাবে একজন সভ্য নাগরিক গাড়ি চালায়? রাস্তা পারাপারে ফুটপাথ, ওভারব্রীজ, আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার না করে পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির সামনে লাফ দিয়ে রাস্তা পারাপারে দূর্ঘটনা হলে এতে কোন ড্রাইভার দায়ী নয়। তাই আমাদের সকলের মধ্যেই আইন মানার সংস্কৃতি চালু করতে হবে।

ট্রাফিক প্রসিকিউশন ও জরিমানা আদায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হয়েছে জানিয়ে কমিশনার বলেন, আমরা বিনা কারণে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার ও সিগন্যাল অমান্য করছি কেন? রাস্তায় শৃংখলা ফেরাতে বিভিন্ন অপরাধে গাড়ি চালকদের প্রসিকিউশন দিয়ে প্রচুর পরিমাণে জরিমানা করছি। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ যেন রাজস্ব আদায়ের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এটি ঠিক নয়। গাড়ির মালিক-শ্রমিকদের মনে রাখতে হবে এটা শুধু ব্যবসা নয়, সেবা। পরিবহন ব্যবসায়ীদের সুনাম ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে হবে। যত্রতত্র গাড়ি না থামানো, গাড়ির দরজা বন্ধ রাখা, বিনা কারণে হর্ন না বাজানো, শুধু আন্তরিক হলেই এসব মেনে চলা যায়। আমরা সহযোগিতা করব কিন্তু মূল উদ্যোগটা মালিক-শ্রমিকদেরই নিতে হবে। কোন দূর্ঘটনা ঘটলে ফুটেজ দেখে যদি পথচারীর গাফিলতি পাওয়া যায়, তাহলে চালকের পাশাপাশি সেই দায় পথচারীকেও নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ পিপিএম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ। আলোচনা সভায় ডিএমপির ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ বাস মালিক-শ্রমিকরা ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

হাজার হাজার মানুষ হত্যার জন্য আগে জাতির কাছে ক্ষমা চান

0

পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে ঘুমন্ত বাসযাত্রী, থেমে থাকা গাড়ির ঘুমন্ত চালক, অন্তঃসত্ত্বা মা, স্কুলফেরত শিশু-কিশোর, ইজতেমার মুসল্লিদের পুড়িয়ে মারাসহ দু’বারের শাসনামলে সহস্রাধিক মানুষ হত্যা আর চার হাজার গাড়ি পোড়ানোর জন্য বিএনপিকে আগে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

শনিবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা ও তার পরিবার, জাতীয় চারনেতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৩-১৪-১৫ সালে অবরোধের নামে ও নির্বাচন বানচালের হীন চক্রান্তে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে ঘুমন্ত বাসযাত্রী, থেমে থাকা গাড়ির ঘুমন্ত চালক, অন্তঃসত্ত্বা মা, স্কুলফেরত শিশু-কিশোর, ইজতেমার মুসল্লীকে পুড়িয়ে হত্যাসহ দু’বারের শাসনামলে বিএনপি সহস্রাধিক মানুষকে হত্যা করে, তারা চার হাজার গাড়ি ও ত্রিশটি লঞ্চ পোড়ায়, ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় তারা কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের বইসমেত ৫০০ স্কুলঘর পুড়িয়ে দেয়, পোড়া মানুষ আর পোড়া বইয়ের জন্য আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়েছিল। মীর্জা ফখরুল সাহেবদের বলবো, মীর্জা ফখরুলের ভারপ্রাপ্ত এবং পূর্ণ মহাসচিব দু’সময় মিলেই জাতির ওপর যে হত্যাযজ্ঞ তারা চালিয়েছেন, অন্যকথা বলার আগে এসব নির্মম অপরাধের জন্য বিএনপির উচিত আগে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া।’

‘শুধু তাই নয়, বিএনপি দলটিই জনগণের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যেমন বঙ্গবন্ধুহত্যার কুশীলব, হত্যাকারীদের রক্ষক ও পুরস্কারদানকারী, তেমনি ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে তিনি ১৬০০ সেনাসদস্যকে নির্বিচারে এমনকি কাউকে কাউকে ছুটি থেকে ডেকে এনে হত্যা করেছেন। তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে সহস্রাধিক আওয়ামী লীগ কর্মীহত্যা, ২০০৪ সালে প্রকাশ্য দিবালোকে বৃষ্টির মতো গ্রেনেড ছুঁড়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রাণনাশের অপচেষ্টা, জঙ্গিদের মদদ দিয়ে হত্যা-খুনের রাজনীতি কায়েম এবং পেট্রোলবোমা ছুঁড়ে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন।’

‘যাদের রাজনীতির মূলমন্ত্র হচ্ছে মানুষ হত্যা, সরকারের সমালোচনা করার অধিকারই তো তাদের থাকেনা’ উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুহত্যার নেপথ্য কুশীলবদের বিচারের জন্য একটি কমিশন এবং পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ ও সন্ত্রাসের হুকুমদাতাদেরও বিচারের জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা উচিত।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার জাকির আহমদের সভাপতিত্বে সাবেক মন্ত্রী অ্যাড মোঃ কামরুল ইসলাম এমপি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এমপি ও আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বিশেষ অতিথি এবং আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড বলরাম পোদ্দার, আকতার হোসেন, শাহাদাত হোসেন টয়েল, অরুণ সরকার রানা প্রমুখ আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য রাখেন।